খুঁজুন
শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৫ বৈশাখ, ১৪৩৩

সালথায় গভীর রাতে এএসআই আটক: পরকীয়ার অভিযোগে গণপিটুনি, ভাইরাল ভিডিও

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:০০ অপরাহ্ণ
সালথায় গভীর রাতে এএসআই আটক: পরকীয়ার অভিযোগে গণপিটুনি, ভাইরাল ভিডিও

ফরিদপুরের সালথায় গভীর রাতে মাদক মামলার আসামির বসতঘরে ঢুকে তার স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া করার সময় জনতার হাতে আটকের পর গণপিটুনী খেয়েছেন মো. ইমরান হাসান (৪০) নামে পুলিশের এক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই)। পরে সালথা থানার পুলিশ গিয়ে এএসআই ইমরানকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের বলিভদ্রদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আহত এএসআই ইমরান রামকান্তপুর ইউনিয়নের সহকারী বিট কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে ওই পুলিশ কর্মকর্তার দাবি তিনি আসামী ধরতে সেখানে গিয়েছিলেন। আর মাদক মামলার আসামির পরিবারের দাবি এটি পরকীয়ার ঘটনা। এএসআই ইমরানের আটকের ১ মিনিট ১৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

ওই ভিডিওতে দেখা যায়, এএসআই ইমরানের গায়ে পুলিশের পোশাক নেই। প্যান্ট ও টিশার্ট পড়া। তার মাথা কাপড় দিয়ে বাধা। মুখে রক্ত মাখা। গভীর রাতে নারীর ঘরে একা ঢুকে পরকীয়ার অভিযোগ তুলে কোনো এক ব্যক্তি তার গায়ে আঘাত করছেন। তখন এএসআই ইমরান বলতে শোনা যায়, তুই আমার ভাই না, মারিস কেন? পরে ইমরানের পকেট থেকে জন্ম নিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর প্যাকেট পাওয়া যায় বলে দাবি করেন ভিডিও ধারণকারী ওই ব্যক্তি।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বলিভদ্রদিয়া এলাকার মো. মেহেদী হাসান (২৮) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে সালথা ও পার্শ্ববর্তী বোয়ালমারী থানায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা রয়েছে। মাদক মামলার সুবাদে এএসআই ইমরান হাসান মাদক মামলার আসামি মেহেদী হাসানের বাড়িতে ঘনঘন যাওয়া আসা করতেন। যার প্রেক্ষিতে মেহেদীর স্ত্রীর সাথে পুলিশের এএসআই ইমরানের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে মাদক মামলার আসামি মেহেদী হাসানের বসতঘরে ঢুকে তার স্ত্রীর সাথে একা দেখা করতে গেলে এলাকার লোকজনের হাতে ধরা পড়ে মারধরের শিকার হন। পরবর্তীতে সালথা থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে এএসআই ইমরান হাসানকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এ বিষয় এএসআই ইমরান হাসানের দাবি তিনি মাদক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ধরতে সেখানে গিয়েছিলেন। তবে সাদা পোশাকে রাত তিনটার সময় আসামিকে একা ধরতে যাওয়ার ব্যাখা জানতে চাইলে তিনি নিরুত্তর থাকেন।

মাদক মামলার আসামি মেহেদী হাসান বলেন, আমি একটি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। ব্যবসায়িক কাজে আমি মাঝে মাঝে বাইরে থাকি। এই সুযোগে আমাদের ইউনিয়নে পুলিশের বিট অফিসার হিসেবে দায়িত্বে থাকা এএসআই ইমরান মাঝে মাঝে আমার বাড়িতে এসে আমার স্ত্রীকে কু-প্রস্তাব দেয়। একপর্যায় আমি আমার স্ত্রীর সঙ্গে এএসআই ইমরানের কুরুচিপূর্ণ কথোপথোনের অডিও রেকর্ড ও ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করি। এরই মধ্যে শুক্রবার গভীর রাতে ইমরান আমাদের ঘরে ঢুকলে এলাকাবাসী হাতেনাতে ইমরানকে আটক করে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, মাদক মামলার আসামি ধরতে গেলে মাদক ব্যবসায়ী মেহেদীর পরিবার তাকে আটক করে মারধর করে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। গভীর রাতে একা কেন মাদকের আসামি ধরতে গেলেন? এ প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে ওসি বলেন, কেন ওই এএসআই রাতের অধারে একা এবং পুলিশের পোশাক ছাড়া আসামির বাড়িতে গিয়েছিলেন, এ বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

কুরআন অবমাননার অভিযোগে ফরিদপুরে মানববন্ধন, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:০৫ অপরাহ্ণ
কুরআন অবমাননার অভিযোগে ফরিদপুরে মানববন্ধন, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি

পবিত্র কুরআন শরিফ অবমাননার অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। “সচেতন নাগরিকবৃন্দ, ফরিদপুর” ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন সামাজিক ও ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, আলফাডাঙ্গা উপজেলার প্রদীপ পাল নামীয় একটি ফেসবুক আইডি থেকে কুরআন শরিফ অবমাননাকর পোস্ট ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হয়েছে, যা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে এবং সমাজে উত্তেজনা ছড়ানোর আশঙ্কা তৈরি করেছে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ফরিদপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক কাজী রিয়াজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম রাকিবুল ইসলাম, সদস্য সচিব আশিকুর রহমান সজল, সালমান রহমান পিয়াল, সহ-মুখপাত্র মাশরাফি আফ্রিদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, ধর্মীয় মূল্যবোধ নিয়ে এমন অবমাননাকর কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা অবিলম্বে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি জোরদারের আহ্বান জানান।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে তাদের প্রতিবাদ জানান এবং সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় সকলকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান। বক্তারা আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে দায়িত্বশীলতা জরুরি, যাতে গুজব বা উসকানিমূলক তথ্য ছড়িয়ে সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি না হয়।

মানববন্ধন শেষে আন্দোলনকারীরা ফরিদপুরের পুলিশ সুপারের নিকট একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপিতে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানানো হয়।

ফরিদপুরে হামের উপসর্গে ৫ শিশুর মৃত্যু, ঝুঁকিতে শতাধিক শিশু

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৩৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে হামের উপসর্গে ৫ শিশুর মৃত্যু, ঝুঁকিতে শতাধিক শিশু

ফরিদপুরে হামের উপসর্গে একের পর এক শিশু মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। সর্বশেষ শনিবার (১৮ এপ্রিল) আট মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে জেলায় মোট মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৫ জনে। একই সময়ে আক্রান্তের সংখ্যাও আশঙ্কাজনক হারে দিনে দিনে বাড়ছে।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) ফরিদপুর সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ মৃত শিশু আবদুল্লাহ (৮ মাস) শহরের পশ্চিম আলীপুর এলাকার বাসিন্দা। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে শুক্রবার দিবাগত রা ২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর শহরের আলীপুর এলাকার আব্দুল্লাহ নামে শিশুটি হামের উপসর্গ নিয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হলেও রিপোর্ট এখনও পাওয়া যায়নি। তবে উপসর্গের ভিত্তিতে চিকিৎসকরা এটিকে ‘ক্লিনিক্যালি হামজনিত মৃত্যু’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

বর্তমানে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও সদর জেনারেল হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ৬৩ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছেন আরো ১৬ জন। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত মোট ৩৫৭ জন রোগী হামের চিকিৎসা নিয়েছেন। মৃতদের মধ্যে ফরিদপুর ছাড়াও গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও রাজবাড়ী জেলার শিশুরা রয়েছে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের দাবি, হামজনিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির ব্যাপারে ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। শনিবার সিভিল সার্জন কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। তবে শুধু জেলা ও উপজেলা হলরুমে সভা করেই স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। শনিবার পর্যন্ত ই্উনিয়ন বা ওয়ার্ড পর্যায়ে কোন সভা বা ক্যাম্পেইন করার কথা শুনতে পারেননি শিশুদের অভিভাবকরা। এমন অভিযোগ জানিয়েছেন কয়েকজন অভিভাবকরা।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান জানান, ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী সব শিশুকে টিকার আওতায় আনতে আগামী ২০ এপ্রিল থেকে ১০ মে পর্যন্ত দেশব্যাপী হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন পরিচালিত হবে।

তিনি বলেন, পূর্বে টিকা নেওয়া থাকলেও এই ক্যাম্পেইনে প্রতিটি শিশুকে অতিরিক্ত এক ডোজ টিকা দেওয়া হবে, যা তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরো বাড়াবে।

সিভিল সার্জন বলেন, হাম-রুবেলা প্রতিরোধে টিকার কোনো বিকল্প নেই। সকল অভিভাবককে শিশুদের নির্ধারিত কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে টিকা দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

ইউনিয়নের গ্রামঞ্চলে এখনো কোন ক্যাম্পেইন বা সভা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে সিভিল সার্জন বলেন, সময় কম পাওয়ায় এখনো গ্রামঞ্চলে ক্যাম্পেইন হয়নি। তবে জেলা ও উপজেলায় ক্যাম্পেইন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রচারের জন্য কোন সভা বা ক্যাম্পেইন হবে না, বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্য কর্মীরা প্রচারণা করবেন।

ফরিদপুরে ২০ এপ্রিল থেকে দেওয়া হবে হামের টিকা, চলবে ১০ মে পর্যন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৩৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ২০ এপ্রিল থেকে দেওয়া হবে হামের টিকা, চলবে ১০ মে পর্যন্ত

ফরিদপুরে হাম ও রুবেলা রোগ প্রতিরোধে জাতীয় পর্যায়ের বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকাল ১১টায় ফরিদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের উদ্যোগে সদর হাসপাতালের তৃতীয় তলার মিলনায়তনে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান সাংবাদিকদের উদ্দেশে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশে সাম্প্রতিক সময়ে হামের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী সব শিশুকে সুরক্ষার আওতায় আনতে সরকার এই বিশেষ ক্যাম্পেইন হাতে নিয়েছে। এর আওতায় প্রতিটি শিশুকে বিনামূল্যে এক ডোজ হাম-রুবেলা (এমআর) টিকা প্রদান করা হবে।

তিনি আরও জানান, আগামী ২০ এপ্রিল থেকে ১০ মে ২০২৬ পর্যন্ত দেশব্যাপী এ কার্যক্রম চলবে। ফরিদপুর জেলায় মোট ২,৬৯৩টি টিকাদান কেন্দ্রে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত শিশুদের টিকা দেওয়া হবে। এসব কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে ৭৩৮টি স্থায়ী ইপিআই কেন্দ্র, ১০টি অতিরিক্ত কেন্দ্র, ১৪টি বিশেষ টিকাদান কেন্দ্র এবং ১,৯৩১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থাপিত অস্থায়ী কেন্দ্র।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পূর্বে নিয়মিত ইপিআই কার্যক্রমের আওতায় ৯ ও ১৫ মাস বয়সে টিকা গ্রহণ করলেও এই ক্যাম্পেইনে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী প্রতিটি শিশু অতিরিক্ত একটি ডোজ টিকা পাবে। এতে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও জোরদার হবে। তবে দুটি ডোজের মধ্যে অন্তত ২৮ দিনের ব্যবধান বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ফরিদপুর জেলায় এ ক্যাম্পেইনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৯ হাজার ৭৫৫ জন শিশু। জেলার ৯টি উপজেলা, ৭৯টি ইউনিয়ন, ২৩৭টি ওয়ার্ড এবং পৌরসভার ২৭টি ওয়ার্ড এই কর্মসূচির আওতায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ক্যাম্পেইন সফল করতে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। গণসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন সভা-সমাবেশ আয়োজন করা হয়েছে। মসজিদসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ইমামদের মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও সচেতনতামূলক বার্তা পৌঁছে দিতে চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে।

এ সময় বক্তব্য রাখেন প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক পান্না বালা। এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, “হাম ও রুবেলা প্রতিরোধে এই ক্যাম্পেইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অপপ্রচার রোধ করে সবাইকে সচেতন করতে পারলে আমরা একটি সুস্থ ও নিরাপদ প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারব।” তিনি এ কার্যক্রম সফল করতে সাংবাদিকসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।