খুঁজুন
, ,

আলফাডাঙ্গায় শুরু হয়েছে তিনদিনব্যাপী ‘ভূমি মেলা-২০২৬’

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ৭:৩১ অপরাহ্ণ
আলফাডাঙ্গায় শুরু হয়েছে তিনদিনব্যাপী ‘ভূমি মেলা-২০২৬’

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় বর্ণাঢ্য র‍্যালি, জনসচেতনতামূলক আলোচনা সভা ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে তিনদিনব্যাপী ‘ভূমি মেলা-২০২৬’। জনগণের দোরগোড়ায় সহজ, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর ভূমিসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ভূমি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে আলফাডাঙ্গা উপজেলা ভূমি অফিস প্রাঙ্গণে এ মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। মেলা চলবে আগামী ২১ মে পর্যন্ত। উদ্বোধনের আগে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি উপজেলা সদরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

মেলায় ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা সম্পর্কে জনসাধারণকে অবহিত করতে তথ্য বুথ স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া নামজারি, খতিয়ান, ভূমি উন্নয়ন কর, ই-নামজারি, অনলাইন ভূমি সেবা ও স্মার্ট ভূমি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সরাসরি সেবা ও পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে।

মেলা উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত নূর মৌসুমীর সভাপতিত্বে এবং আলফাডাঙ্গা আরিফুজ্জামান পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মিলন সরকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ কেএম রায়হানুর রহমান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা আনুষ্ঠানিকভাবে ফিতা কেটে ও শুভেচ্ছা বক্তব্যের মাধ্যমে মেলার উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তুষার সাহা, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ভবেন বাইন, সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার বসিরউদ্দীন, উপ-সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার রেজাউল করিম, আলফাডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নূরজামাল খসরু, পৌর বিএনপির সভাপতি রবিউল হক রিপন এবং উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মনিরুজ্জামান মনিরসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিবর্গ।

এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভা থেকে আগত তহসীলদার, স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী, শিক্ষক, সুধী সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা মেলায় অংশ নেন।

বক্তারা বলেন, বর্তমান সরকার ভূমি ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটাল ও জনবান্ধব করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ভূমি মেলার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা ও সেবা সম্পর্কে সরাসরি ধারণা পাচ্ছেন, যা হয়রানি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ফরিদপুর বিভাগ ও সিটি করপোরেশনের ঘোষণা আসছে, বিশ্ববিদ্যালয়ও হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ৮:৩০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুর বিভাগ ও সিটি করপোরেশনের ঘোষণা আসছে, বিশ্ববিদ্যালয়ও হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ফরিদপুরকে বিভাগ ঘোষণা, পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীতকরণ, পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ, কৃষকদের জন্য পেঁয়াজ সংরক্ষণাগার এবং একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

শনিবার (০৪ জুলাই) বিকেলে ফরিদপুর শহরের থানা রোডের ব্যাংক এশিয়া মোড়ে ফরিদপুরের নাগরিক কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত ‘নাগরিক আলোচনা ও বিজয়ের বর্ষপূর্তি’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শামা ওবায়েদ বলেন, “পদ্মা ব্যারেজ হবে। এটি একনেকে পাস হয়েছে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন। দেশের পানির সমস্যা সমাধানে পদ্মা ব্যারেজের পাশাপাশি তিস্তা ব্যারেজও বাস্তবায়ন করা হবে।”

তিনি বলেন, দেশের পানি সংকট মোকাবিলায় খাল খননের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সারা দেশে খাল খনন কর্মসূচির কথা বলেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ফরিদপুরের উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, “ফরিদপুরবাসীর ভাগ্য উন্নয়নের জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো ফরিদপুরকে বিভাগ ঘোষণা এবং ফরিদপুর পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের আগে ফরিদপুরের জনসভায় এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ইনশাআল্লাহ, আপনাদের সহযোগিতায় ফরিদপুর বিভাগ হবে এবং সিটি করপোরেশনও হবে।”

নিজের নির্বাচনী এলাকা সালথা ও নগরকান্দার কৃষকদের দুর্দশার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে অনেক কৃষক উৎপাদিত পেঁয়াজ ফেলে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এ সমস্যা সমাধানে কৃষি মন্ত্রণালয় পেঁয়াজ সংরক্ষণের একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, “খুব শিগগিরই পেঁয়াজ চাষিদের জন্য আধুনিক স্টোরেজ বা সংরক্ষণাগারের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে তারা ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে পারেন।”

ফরিদপুরে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবির বিষয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, “ফরিদপুর একটি গুরুত্বপূর্ণ গেটওয়ে। এখানে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজন রয়েছে। ফরিদপুরের চারজন সংসদ সদস্যই এ দাবি তুলেছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন। অবশ্যই ফরিদপুরে বিশ্ববিদ্যালয় হবে।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিভাগীয় প্রধান ডা. মো. রফিকুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রফেসর ড. মো. ইলিয়াস মোল্লা, ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশ এবং জেলা বিএনপির সভাপতি মোদাররেস আলী ইছাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনীতিবীদ ও ব্যবসায়ীক নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ফরিদপুর নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব ও রাজবাড়ী সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. শওকত আলী মোল্লা।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে ফরিদপুরে ১১ দলীয় জোটের বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ৩:০৭ অপরাহ্ণ
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে ফরিদপুরে ১১ দলীয় জোটের বিক্ষোভ

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই সনদ দ্রুত কার্যকরের দাবিতে ফরিদপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় ঐক্য জোট। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মভিত্তিক দলের নেতারা অংশ নেন। তারা দাবি করেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

শনিবার (৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জনতা ব্যাংক মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় সমাবেশ।

সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের ফরিদপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক মাওলানা মো. বদরুদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং দলীয় মুখপাত্র মুফতি আবু নাসির আইয়ুবী ও অধ্যাপক আব্দুল ওহাবের যৌথ সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য প্রফেসর আবদুত তাওয়াব।

এ সময় আরও বক্তব্য দেন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ফরিদপুর জেলা সভাপতি মাওলানা আমজাদ হোসাইন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ফরিদপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক ডা. বায়েজিদ আহমাদ শাহেদ, খেলাফত আন্দোলন ফরিদপুর জেলা সভাপতি মাওলানা মিজানুর রহমান, এলডিপি সভাপতি মো. কামরুল ইসলামসহ ১১ দলীয় ঐক্য জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

বক্তারা বলেন, গণভোটের মাধ্যমে প্রকাশিত জনগণের মতামত এবং জুলাই সনদের প্রস্তাবনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা সময়ের দাবি। জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতি সম্মান জানিয়ে সরকারকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।

নেতারা আরও বলেন, দাবি বাস্তবায়নে গড়িমসি করা হলে সারাদেশে আরও বৃহত্তর ও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। গণতান্ত্রিক উপায়ে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও তারা ঘোষণা দেন।

সমাবেশে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা ১১ দলীয় ঐক্য জোটের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচি চলাকালে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় ছিল এবং বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন দাবিসংবলিত স্লোগান দেন।

ভাঙ্গায় গুলিতে যুবক নিহত: স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে মামলা, কমিটি বিলুপ্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ১:২৯ অপরাহ্ণ
ভাঙ্গায় গুলিতে যুবক নিহত: স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে মামলা, কমিটি বিলুপ্ত

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে গুলিতে সুমন শেখ নামে এক যুবক নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলায় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিবকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ মামলার একদিন পরই ভাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল।

শনিবার (৪ জুলাই) সকালে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান হত্যা মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

জানা যায়, গত মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পূর্বশত্রুতার জেরে ভাঙ্গা পৌরসভার হাসামদিয়া ও কাপুড়িয়া সদরদী মহল্লার বাসিন্দাদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষ চলাকালে গুলিবিদ্ধ হন কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মিলন শেখের ছেলে সুমন শেখ (২৩)। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা মিলন শেখ গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৩০ থেকে ৩৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। মামলার এক নম্বর আসামি করা হয়েছে ভাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব ও পূর্ব হাসামদিয়া মহল্লার বাসিন্দা সজীব মাতুব্বরকে (২৮)।

পুলিশ জানায়, মামলার পর থেকে অভিযান চালিয়ে এ পর্যন্ত ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে মামলার প্রধান আসামি সজীব মাতুব্বর এখনও পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে, ঘটনার পর শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে নিহত সুমন শেখের বাড়িতে যান ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন) আসনের সংসদ সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল। তিনি নিহতের কবর জিয়ারত করেন এবং পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান।

সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সংসদ সদস্য বলেন, “মামলা তার নিজস্ব গতিতেই চলবে। এই মামলায় কেউ কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। যারা অভিযুক্ত হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে আজই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দলীয় সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।”

সংসদ সদস্যের ওই বক্তব্যের প্রায় তিন ঘণ্টার মধ্যেই জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ভাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে।

জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোজাম্মেল হোসেন ও সদস্যসচিব শাহরিয়ার শিথিল স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “অনিবার্য কারণবশত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল, ভাঙ্গা উপজেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটি ৩ জুলাই থেকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলো।”

কমিটি বিলুপ্তির বিষয়ে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব শাহরিয়ার শিথিল বলেন, ভাঙ্গা উপজেলা কমিটির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। সর্বশেষ কমিটির এক শীর্ষ নেতা হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি হওয়ায় এবং মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সুপারিশে উপজেলা কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক প্রভাব যেন তদন্তে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব সজীব মাতুব্বরের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। তিনি পলাতক থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।