শামা ওবায়েদের গাড়ীবহরে হামলা : ফরিদপুরে ১৮ আ’লীগ নেতাকর্মী কারাগারে
ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী ভাঙ্গা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের এক খণ্ডকালীন সহকারী শিক্ষকের সঙ্গে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
আজ রোববার (১ নভেম্বর) সকাল থেকে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তেই তা পুরো ভাঙ্গা উপজেলায় ‘টক অব দ্য টাউন’-এ পরিণত হয়।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক নজরুল ইসলামকে বিদ্যালয় থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক হায়দার হোসেনের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তাকে এ অব্যাহতি প্রদান করা হয়।
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, শিক্ষক নজরুল ইসলাম তার নিজস্ব পরিচালিত একটি কোচিং সেন্টারে ওই ছাত্রীর সাথে আপত্তিকর অবস্থায় রয়েছেন। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়।
স্থানীয় সচেতন মহল জানান, ঐতিহ্যবাহী ভাঙ্গা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় দীর্ঘ দিন ধরে এলাকার শিক্ষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে একটি মর্যাদাপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এমন কর্মকাণ্ড বিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে। শিক্ষাঙ্গনের পবিত্রতা রক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষা নিশ্চিত করতে অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে ভাঙ্গা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হায়দার হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “নজরুল ইসলাম আমাদের বিদ্যালয়ের একজন খণ্ডকালীন শিক্ষক ছিলেন। তার একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানোর পর বিষয়টি আমাদের নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, “ঘটনাটি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ঘটেনি, ঘটেছে তার নিজস্ব কোচিং সেন্টারে। তবে যেহেতু তিনি এই প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত ছিলেন এবং বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল, তাই প্রতিষ্ঠানের নীতি ও নৈতিকতা বজায় রাখতে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়, সেখান থেকে প্রেম। এরপর পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে। চীনা নাগরিক বলে দাবি করা এক যুবককে বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে আসেন ফরিদপুরের সালথা উপজেলার এক কলেজছাত্রী। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর নবদম্পতিকে একনজর দেখতে তাঁদের বাড়িতে ভিড় করেন উৎসুক মানুষ। এ নিয়ে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে কৌতূহল ও চাঞ্চল্য। ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের নকুলহাটি গ্রামে।
তবে শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে ওই বাড়িতে গিয়ে নবদম্পতিকে পাওয়া যায়নি। তাঁরা লোকচক্ষুর আড়ালে চলে গেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই যুবকের নাম ওয়াং চাও (২৫)। তিনি চীনের নাগরিক বলে দাবি করা হচ্ছে। বিয়ের পর তাঁর নাম রাখা হয়েছে আরিফ ইসলাম। তাঁর স্ত্রী তাহমিনা আক্তার (২০) ফরিদপুর শহরের সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর বাড়ি সালথার নকুলহাটি গ্রামে।
তাহমিনার পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় দুই বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওয়াং চাওয়ের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রথম দিকে পরিবারের সদস্যরা এ সম্পর্ক মেনে নিতে চাননি। তবে তাহমিনা নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় পরে পরিবার বিয়েতে সম্মতি দেয়। এরপর গত ১৯ অক্টোবর ঢাকায় পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে তাঁদের বিয়ে হয়।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ের আগে হলফনামার মাধ্যমে ধর্ম ও নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন ওই যুবক। পরে মুসলিম রীতি অনুযায়ী তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।
বিয়ের পর গত ২৬ অক্টোবর রাতে স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি নকুলহাটি গ্রামে আসেন ওয়াং চাও। বিদেশি যুবকের সঙ্গে স্থানীয় কলেজছাত্রীর বিয়ের খবর ছড়িয়ে পড়লে তাঁকে দেখতে বাড়িতে ভিড় জমাতে থাকেন স্থানীয় লোকজন। এ নিয়ে গ্রামজুড়ে কৌতূহল তৈরি হয়। তবে শনিবার বিকেলে তাঁদের আর বাড়িতে পাওয়া যায়নি।
তাহমিনার পরিবারের সদস্যরা জানান, ওয়াং চাও সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাঁদের জানা নেই। বর্তমানে তাহমিনার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরির কাজ চলছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে তাঁরা দুজনই চীনে চলে যাবেন।
এ বিষয়ে আটঘর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ফারুক হোসেন বলেন, বিষয়টি আজই লোকমুখে জানতে পেরেছি। আমি ওই বাড়িতে যাচ্ছি। পরে বিস্তারিত জানাতে পারব।
জামায়াতে ইসলামী ও ১১-দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চের ৭ দফা দাবিতে আয়োজিত পথসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “গণরায় নিয়ে সরকার জনগণের সঙ্গে চরম প্রতারণা করেছে। জনগণের সেই রায় ও অধিকার বাস্তবায়নের জন্যই আজ আমরা রাজপথে নেমেছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা জনগণের চূড়ান্ত মুক্তির জন্য মাঠে নেমেছি। বর্তমানে সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। আমরা একটি বৈষম্যহীন ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়তে চাই। এ লড়াই মূলত আমাদের অধিকার ও মুক্তির লড়াই।”
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌরসভার সামনে লংমার্চের অংশ হিসেবে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে সকালে রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ ফটক থেকে সংক্ষিপ্ত উদ্বোধনী সমাবেশের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী ও ১১-দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ে ঢাকা থেকে খুলনা-কুষ্টিয়া অভিমুখে এই রোডমার্চ কর্মসূচির সূচনা হয়।
সংক্ষিপ্ত সভা শেষে শতাধিক গাড়ির বহর নিয়ে লংমার্চটি ঢাকা থেকে মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে এবং মাদারীপুর-শরীয়তপুর সীমানা অতিক্রম করে ভাঙ্গায় এসে পৌঁছায়। সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষে গাড়িবহরটি খুলনা বিভাগের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
লংমার্চের আয়োজকরা জানান, দিনব্যাপী এ কর্মসূচির যাত্রাপথে মাওয়ার নাওডোবা, বাগেরহাটের কাটাখালী, খুলনার বাবরী চত্বর ও স্বাধীনতা চত্বরে ধারাবাহিক পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তীতে লংমার্চের বহরটি যশোরের মুড়লি মোড় এবং ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আয়োজিত পথসভায় মিলিত হবে।
লংমার্চের শেষ পর্যায়ে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে এক বিশাল সমাপনী মহাসমাবেশের মধ্য দিয়ে এই দূরপাল্লার কর্মসূচি শেষ হবে।
এদিকে লংমার্চকে কেন্দ্র করে যাত্রাপথে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানা গেছে।
আপনার মতামত লিখুন