খুঁজুন
মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

কদর বাড়ছে পাটকাঠির, ফরিদপুরে ৫০০ কোটি টাকা ব্যবসার সম্ভাবনা

হাসানউজ্জামান, ফরিদপুর
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১:০৪ অপরাহ্ণ
কদর বাড়ছে পাটকাঠির, ফরিদপুরে ৫০০ কোটি টাকা ব্যবসার সম্ভাবনা

সোনালি আঁশে খ্যাতির শীর্ষে রয়েছে ফরিদপুর। এ জেলার ব্র্যান্ডিং পণ্য পাট। আর এই পাটের কোনো কিছুই এখন আর ফেলনা নয়। এক সময়ে অবহেলা-অনাদরে থাকা পাটকাঠির বেড়েছে কদর। শুধু রান্নার জ্বালানি, ঘরের বেড়া, পানের বরজের ছাউনি তৈরিতে ব্যবহৃত হতো পাটকাঠি। বর্তমানে বিশ্ববাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকায় এই পাটকাঠির এখন দামি পণ্য। এখন এই কাঠি দিয়ে তৈরি হচ্ছে চারকোল পাউডার, বোর্ড, কালিসহ নানা কিছু।

ফরিদপুরের জেলায় এবার পাটের ভালো ফলন হয়েছে। পাট উৎপাদনে যে হারে খরচ বেড়েছে, ঠিক সেভাবে বাড়েনি বাজার দর। তাইতো এ মৌসুমে সোনালি কাঠিতে সেই ক্ষতির কিছুটা পুষিয়ে নিতে চেষ্টা করছেন কৃষকরা। জেলার সর্বত্র এখন চলছে পাটকাঠির পরিচর্যা ও ক্রয়-বিক্রয়ের কাজ। এখন পাট কাঠির বহুমুখী ব্যবহার বেড়েছে পাটের পাশাপাশি পাটকাঠির ও সমান গুরুত্ব পাচ্ছে। পাটকাঠির অর্থনৈতিক মূল্যও অনেক। গত কয়েক বছর আগেও পাট কাঠির তেমন চাহিদা ছিলো না, কিন্তু এখন এর চাহিদা বেড়ে যাচ্ছে। দূর-দূরান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা এ জেলায় এসে কাঠি কিনে নিচ্ছেন, কৃষক দামও পাচ্ছেন বেশ। ঘুরে যাচ্ছে জেলার পাট চাষিদের জীবন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পাটকাঠির ছাই কার্বন পেপার, কম্পিউটার প্রিন্টার ও ফটোকপি মেশিনের কালি, আতশবাজি ও ফেসওয়াশের উপকরণ, মোবাইলের ব্যাটারি, প্রসাধনী পণ্য, এয়ারকুলার, পানির ফিল্টার, বিষ ধ্বংসকারী ওষুধ, জীবন রক্ষাকারী ওষুধ, দাঁত পরিষ্কারের ওষুধ ও ক্ষেতের সার উৎপাদনের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। যে কারণে প্রতিনিয়ত পাটকাঠির চাহিদা দেশের পাশাপাশি বাড়ছে বিশ্ব বাজারেও।

জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশী পাট উৎপাদন উপজেলা সালথা ও নগরকান্দা। গতকাল শনিবার সরেজমিনে উপজেলার দুটি গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, বাড়ির সামনে, পাকা সড়ক কিংবা মাঠ-ঘাট যেখানে চোখ যায় সেখানেই চোখে পড়ে পাটকাঠি শুকানো ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ। একশ মুঠা (এক মুঠো) বা আঁটি পাট কাঠি বিক্রয় হচ্ছে প্রকারভেদে ৮০০ থেকে ১২০০ টাকায়। ফরিদপুরে এক হেক্টর জমিতে উৎপাদিত পাট থেকে গড়ে ১৫ হাজার টাকার কাঠি বের হচ্ছে।

পাট চাষিরা জানালেন, পাটের যে বর্তমান বাজারমূল্য তাতে খুব একটা লাভের মুখ দেখতে পাচ্ছেন না তারা, তবে তুলনামূলকভাবে পাটকাঠির মূল্য আগের চেয়ে অনেক বেশি। পাট বিক্রয় করে খুব বেশি লাভবান না হলেও পাটের কাঠিতে কিছুটা হলেও ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন চাষিরা।

স্থানীয়রা জানায়, আগে পাটকাঠির ব্যবহার বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ছিল শুধু জ্বালানি হিসেবে। আর কিছু ভালো মানের পাটকাঠি পানের বরজের আর ঘরের বেড়া তৈরিতে ব্যবহার করা হতো। কিন্তু এখন আর মূল্যহীনভাবে পড়ে থাকে না পাটকাঠি। বিশ্ববাজারে পাটকাঠির চাহিদা বাড়ায় আঁশের পাশাপাশি কাঠির দামও ভালো পাওয়া যায়।

নগরকান্দা উপজেলার সাকপালদিয়া গ্রামের কৃষক জীবন কৃষ্ণ দাস বলেন, ‘আমার ক্ষেতের পাট খড়ি (পাট কাঠি) তিন রকম বিক্রি হইছে, যেটা লম্বা ও শক্ত-সেটা পেয়েছি ২০০০ টাকা ১০০ মুঠা, মাঝারিটা পেয়েছি ১০০ মুঠায় ১২০০ টাকা, আর যেইগুলো নরম ও খাটো সেগুলো পেয়েছি ৮০০ টাকা।’

একই গ্রামের পাট চাষি কলিম শেখ বলেন, পাটখড়ি শুকিয়ে এখন আমরা স্তুপ করে রেখেছি, প্রতিদিনই কিনতে মহাজনরা লোক পাঠাচ্ছে, দামে পোষালেই ছেড়ে দিব।

সালথা উপজেলার রসুলপুর গ্রামের কৃষাণী জোবেদা খাতুন নিজের হাতেই পাট ছাড়িয়ে পাটকাঠি রোদে দিয়ে শুকিয়েছেন। ১০০ মুঠা ১৬০০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন বলে জানান তিনি।

একই গ্রামের আরেক কৃষাণী মজিরন নেসা জানালেন, ওই গ্রামের বেশিরভাগ নারী পাটের আঁশ ছাড়ানো থেকে শুরু করে পাটখড়ি শুকানোর কাজ করেন, যারা পাট আবাদ করেন সেই পরিবারের নারীরাও এই কাজ করেন। আর যাদের জমি নেই- সেই পরিবারের নারীরা শ্রমিক হিসেবে পাটখড়ি শুকানো ও পালা দেওয়ার কাজ করে থাকেন। পাট বাজারে চলে যাবার পর পাটকাঠি শুকানো ও স্তুপ করার কাজ কাজ করে ওই গ্রামের অনেক নারী বাড়তি আয় করছেন।

রসুলপুর গ্রামের পাট কাঠি ব্যবসায়ী সামাদ মাতুব্বর বলেন, ‘বিগত দিনে আমরা রান্নার জ্বালানি হিসেবে, বাড়িঘর ও সবজি ক্ষেতের বেড়া, মাচা, পান বরজ তৈরিতে ব্যবহার হওয়া পাটকাঠি এখন আমাদের আশার আলো দেখাচ্ছে। গত কয়েক বছর ধরে এই পাট কাঠি থেকে আয় ভালো হচ্ছে। বড় বড় কোম্পানির এজেন্ট, ব্যবসায়ীরা এসে গ্রাম থেকে এটি কিনে নিয়ে যাচ্ছে। এতে আমাদের এলাকায় পাটকাঠির চাহিদা বেড়েছে।’

সাতক্ষীরা এলাকা থেকে আসা পাটকাঠি ব্যবসায়ী মোস্তফা শেখ জানান, তিনি ৭ বছর ধরে পাটকাঠির ব্যবসা করছেন। আগে ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাটকাঠি কম দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করতেন । কিন্তু বর্তমানে জেলায় অর্ধশতাধিক কার্বন ফ্যাক্টরি গড়ে উঠেছে। এজন্য ফরিদপুর অঞ্চলের পাটকাঠি দিয়ে এসব ফ্যাক্টরির চাহিদা মেটানোই কষ্টসাধ্য। তাই তারা আর আগের মতো পাটকাঠি কিনতে পারেন না। কারণ, বর্তমানে পাটকাঠির দাম ও চাহিদা দুটোই বেশি। অনেকেই এখন পাটকাঠির ব্যবসা করে জীবকা নির্বাহ করছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর জেলায় চলতি মৌসুমে ৮৬ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এর থেকে ৪ লাখ মেট্রিক টন পাটের রুপালি কাঠি উৎপাদন হবে, যার বাজার মূল্য ৫০০ কোটি টাকার বেশি হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহাদউজ্জামান বলেন, ‘ফরিদপুর দেশের সর্ববৃহৎ পাট উৎপন্নকারী জেলা। এ জেলায় ৫৩১ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে এবার। পাট কাটার মৌসুম শেষ, এখন পাটকাঠি নিয়ে ব্যস্ত কৃষক। ফরিদপুর জেলা থেকে ৪ লাখ মেট্রিক টন পাটকাঠি এবার উৎপন্ন হয়েছে, যার বাজার মূল্য প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। বিভিন্ন পারটেক্স কোম্পানি এবং বেশ কিছু কারখানার রয়েছে- যারা পাটকাঠি পুড়িয়ে কার্বন উৎপন্ন করে চীনে রপ্তানি করে, তারাই কৃষকের কাছ থেকে পাটকাঠি কিনে নেয়। প্রিন্টের কালি এবং কসমেটিকস তৈরির কাজেও কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয় পাঠকাঠি। পাটকাঠি রপ্তানি বাজার আরও সম্প্রসারিত করার উদ্যোগ নিয়েছি; যাতে করে কৃষক আরও বেশি পাট চাষে উদ্বুদ্ধ হয়।

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বিয়ে বাড়িতে মাংস খাওয়া নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১০

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ১০:১৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বিয়ে বাড়িতে মাংস খাওয়া নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় একটি বিয়ে বাড়ির ভোজ অনুষ্ঠানে মাংস খাওয়া ও খাবারের অপচয়কে কেন্দ্র করে কনে পক্ষ এবং স্থানীয় গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বিষয়টির মীমাংসা করা হয়।

সোমবার (০৮ জুন) বিকেলে উপজেলার কালামৃধা ইউনিয়নের দেওড়া নয়াকান্দা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন আরিফ মিয়া, সহিদ মাতুব্বর, ছোরাপ মাতুব্বর ও মমতাজ বেগমসহ কয়েকজন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। অন্যরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেওড়া নয়াকান্দা গ্রামের বাসিন্দা লাভলু শেখের মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান উপলক্ষে বরযাত্রী, আত্মীয়-স্বজন এবং এলাকার লোকজনকে দাওয়াত দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে খাওয়ার সময় কয়েকজন ব্যক্তি টেবিলের নিচে মাংস জমা করে রাখেন এবং খাবারের অপচয় করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

এ বিষয়টি নিয়ে কনে পক্ষের লোকজন আপত্তি জানালে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে নারী-পুরুষসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।

স্থানীয়রা জানান, সামান্য বিষয় নিয়ে শুরু হওয়া বিরোধ দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়। ঘটনার সময় বিয়ের অনুষ্ঠানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অতিথিদের মধ্যে চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।

কালামৃধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রেজাউল মাতুব্বর বলেন, “বিয়ে বাড়িতে খাওয়াদাওয়াকে কেন্দ্র করে পাশের বাড়ির কিছু লোকজনের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কয়েকজন আহত হয়েছেন। স্থানীয়ভাবে বসে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে।”

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, “বিয়ে বাড়ির অনুষ্ঠানে মাংস খাওয়াকে কেন্দ্র করে গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে কয়েকজন আহত হন। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। স্থানীয় মুরব্বিদের উদ্যোগে বিষয়টির মীমাংসা হয়েছে।”

সালথায় ১৮টি খাল খননের উদ্যোগ, কৃষি ও জলাবদ্ধতা নিরসনে নতুন আশার আলো

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৭:৪৪ অপরাহ্ণ
সালথায় ১৮টি খাল খননের উদ্যোগ, কৃষি ও জলাবদ্ধতা নিরসনে নতুন আশার আলো

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা, পানি নিষ্কাশন সংকট এবং সেচ সুবিধা উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৮টি খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে খালগুলো পুনঃখননের প্রস্তাব স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাব অনুমোদন পেলে দ্রুত সময়ের মধ্যে খনন কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ খালগুলো বছরের পর বছর পলি জমে নাব্যতা হারিয়েছে। অনেক খাল প্রায় বিলীন হওয়ার পথে। ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় এবং শুষ্ক মৌসুমে কৃষকরা সেচের পানির সংকটে পড়েন। এ অবস্থায় খালগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “সালথা উপজেলায় ১৮টি খাল খননের প্রস্তাব স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হয়েছে। আমরা আশাবাদী, দ্রুত অনুমোদন পাওয়া যাবে এবং অচিরেই খনন কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।”

তিনি আরও বলেন, খালগুলো খনন করা হলে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হবে, জলাবদ্ধতা কমবে এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি স্থানীয় মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতেও এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

স্থানীয় কৃষকদের মতে, খালগুলো পুনঃখনন হলে সেচ ব্যবস্থা সহজ হবে এবং কৃষি ব্যয় কমে আসবে। এতে ধান, পাট, শাকসবজি ও অন্যান্য ফসল উৎপাদনে নতুন গতি আসবে। একই সঙ্গে খালপথে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে অনেক এলাকার জলাবদ্ধতা সমস্যারও সমাধান হবে।

এলাকাবাসী বলছেন, খাল পুনঃখনন শুধু পানি প্রবাহ নিশ্চিত করবে না, বরং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করবে। তাই প্রকল্পটি দ্রুত অনুমোদন ও বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।

প্রস্তাবিত ১৮টি খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সালথার কৃষি, পরিবেশ ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মাদক প্রতিরোধে সাংস্কৃতিক আন্দোলনের আহ্বান, আলফাডাঙ্গায় গুণীজনদের আলোচনা সভা

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৭:২২ অপরাহ্ণ
মাদক প্রতিরোধে সাংস্কৃতিক আন্দোলনের আহ্বান, আলফাডাঙ্গায় গুণীজনদের আলোচনা সভা

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় মাদকের ভয়াবহ বিস্তার রোধে সমাজভিত্তিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড জোরদারের লক্ষ্যে গুণীজন ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের অংশগ্রহণে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (০৮ জুন) বিকেলে আলফাডাঙ্গা আরিফুজ্জামান (মডেল) পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি লুৎফর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের গীতিকার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সামচুদ্দিন হাসু। এছাড়া বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট কলামিস্ট খান আসাদুজ্জামান টুনু, কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত উপমহাব্যবস্থাপক সিদ্দিকুজ্জামান বাহার এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক এম. এম. মহিউদ্দিন আহমেদ।

বক্তারা বলেন, মাদক বর্তমানে সমাজের জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে তরুণ সমাজকে মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নয়, সাংস্কৃতিক চর্চা ও নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে তরুণদের সুপথে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

তারা আরও বলেন, শিল্প-সাহিত্য, সংগীত, নাটক ও খেলাধুলার মতো সৃজনশীল কর্মকাণ্ড তরুণদের ইতিবাচক কাজে সম্পৃক্ত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে নিয়মিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা এবং সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।

সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও আলফাডাঙ্গা সহকারী কলেজের প্রভাষক প্রবীর কুমার বিশ্বাস, বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক এস. এম. মোস্তাফিজুর ইসলাম, আলফাডাঙ্গা পৌরসভা হরি মন্দিরের সভাপতি নিত্য গোপাল মণ্ডল, স্থানীয় সংগীতশিল্পী প্রদীপ কুণ্ডু, রিয়া মনি ও এবাদত হোসেন মুরাদ।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন, সাবেক সভাপতি সেকেন্দার আলম শেখ, কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আবুল বাশার এবং সাংবাদিক গোলাম আজম মনির, কবীর হোসেন ও মিয়া রাকিবুলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

আলোচনা সভা থেকে আলফাডাঙ্গাকে মাদকমুক্ত ও সংস্কৃতিমনা উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। একই সঙ্গে তরুণ প্রজন্মকে সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে ভবিষ্যতে আরও সাংস্কৃতিক ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়।