খুঁজুন
, ,

শারীরিক অবস্থা বুঝতে যেসব লক্ষণের ওপর নজর দেওয়া উচিত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩:৪০ অপরাহ্ণ
শারীরিক অবস্থা বুঝতে যেসব লক্ষণের ওপর নজর দেওয়া উচিত

আপনার যদি খুব অল্প সিঁড়ি ওঠার পরই নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়, তবে শরীর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে অনেক সময় নেয়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা উচিত। যদি আগে কখনো এমন সমস্যা দেখা না দেয়, তবে হঠাৎ সিঁড়িতে ওঠা কষ্টকর মনে হয়, তাহলে এটি কোনো স্বাস্থ্য সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সিঁড়ি ভাঙতে গিয়ে কয়েক ধাপ পরেই যদি বুক ধড়ফড় করতে থাকে কিংবা নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়, তখন বুঝতে হবে, আপনার শরীরে নিশ্চয়ই কোনো সমস্যা হয়েছে। তবে আদৌ কি সিঁড়ি ভাঙার পর হাঁপিয়ে যাওয়া অস্বাভাবিক কিছু, নাকি এটি শরীরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া? এমন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে অবস্থিত নর্থ-ওয়েস্টার্ন মেডিসিন ক্যানিং থোরাসিক ইনস্টিটিউটয়ের ফুসফুস বিশেষজ্ঞ ডা. ক্যাথরিন মায়ার্স।

‘দ্য স্কিম ডটকম’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তিনি বলেছেন, সিঁড়ি ভাঙার সময় সাময়িকভাবে শ্বাসকষ্ট হওয়া বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক শারীরিক প্রতিক্রিয়া। তবে কিছু পরিস্থিতিতে এটি হতে পারে শরীরের অভ্যন্তরীণ কোনো সমস্যার লক্ষণ।

কারণ চিকিৎসক সাধারণত নিচের কিছু কারণ খুঁজে পেয়েছেন—

১. শ্বাসনালিতে প্রদাহ কিংবা সংকোচন হলে বুজতে হবে আপনার অ্যাজমা কিংবা হাঁপানি হয়েছে।

২. আপনার দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসকষ্টজনিত রোগ হচ্ছে— ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ।

৩. হৃদযন্ত্র দুর্বল হলে শরীরে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়।

৪. অক্সিজেন পরিবহনে রক্তাল্পতা কিংবা রক্তে হিমোগ্লোবিনের ঘাটতি থাকলে শ্বাসকষ্ট বাড়ে।

 

সিঁড়িতে ওঠা সহজ করতে যা করা উচিত:

যদি পরীক্ষা করে দেখা যায় যে, আপনার শরীরে কোনো বড় সমস্যা নেই, তবে সিঁড়ি ভাঙা সহজ করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো— অভ্যাস তৈরি করা। সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সহনশীলতা বাড়াতে সবচেয়ে ভালো উপায় হলো— আরও সিঁড়িতে ওঠা। সে জন্য আপনার শরীরকে ধীরে ধীরে পরিশ্রমের সঙ্গে অভ্যস্ত করতে হবে।

এ বিষয়ে ড. মায়ার্স বলেন, নিয়মিত হাঁটা কিংবা হালকা দৌড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে যদি ঢালু পথে ওঠার (ইনক্লাইন) অভ্যাস করা যায়, তাহলে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়ে এবং শরীর সহজে অক্সিজেন গ্রহণে অভ্যস্ত হয়। এতে সিঁড়ি ভাঙার সময় শ্বাসকষ্ট অনেকটাই কমে যায়।

শরীরচর্চার পাশাপাশি জীবনযাপনে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। আপনি সিঁড়ি ভাঙা সহজ করতে নিয়মিত ব্যায়ামের পাশাপাশি কিছু সাধারণ অভ্যাসও সহায়ক হতে পারে। শরীর সবসময় সংকেত দেয়। যদি অল্পতেই ক্লান্ত হয়ে পড়েন, বুক ধড়ফড় করে কিংবা শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যান। কারণ অনেক সময় সাধারণ শ্বাসকষ্টের আড়ালে লুকিয়ে থাকে ফুসফুস কিংবা হৃদযন্ত্রের গুরুতর সমস্যা, যা আগে থেকেই শনাক্ত করা গেলে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হতো।

যদিও সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় হাঁপিয়ে যাওয়া সবসময়ই বড় কোনো রোগের লক্ষণ নয়। এটি শরীরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হতে পারে, বিশেষ করে যদি নিয়মিত ব্যায়াম করা না হয়। তবে যদি এই শ্বাসকষ্ট বারবার হয় বা আগের তুলনায় বাড়ে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসা নিতে হবে।

ডা. ক্যাথরিন মায়ার্স বলেন, সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় সামান্য হাঁপানো একদম স্বাভাবিক, তবে যখন এটি অল্পতেই হয় এবং দীর্ঘ সময় স্থায়ী হয়, তখন সেটিই সংকেত যে শরীরের কোথাও সমস্যা রয়েছে।

যে কারণে সিঁড়ি দিয়ে উঠলে শ্বাসকষ্ট হয়:

যখন কেউ দুই-তিন তলার বেশি সিঁড়ি দিয়ে ওঠেন, তখন শরীরকে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি অক্সিজেন প্রয়োজন হয়। কারণ তখন শরীরের অনেক অংশ একসঙ্গে কাজ করে— পা, পেশি, ফুসফুস, হৃদযন্ত্র—সবকিছুর ওপর চাপ পড়ে।

সিঁড়ি ভাঙা মানেই শরীরের অনেক শক্তি ব্যয় হওয়া। হাঁটার সময় যেসব পেশি ব্যবহার হয়, সিঁড়ি ভাঙার সময় সেগুলোর সঙ্গে আরও কিছু গভীর পেশি সক্রিয় হয়। তাই শ্বাস দ্রুত হয়, হৃদ্স্পন্দন বেড়ে যায়— যা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। তিনি বলেন, যদি কয়েক ধাপ সিঁড়ি ভাঙার পর সামান্য হাঁপান আর অল্প সময়ের মধ্যেই স্বাভাবিক হয়ে যান, তবে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।

‘সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করলে নগরকান্দাকে ভোক্তাবান্ধব উপজেলা গড়া সম্ভব’

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৫:১৯ অপরাহ্ণ
‘সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করলে নগরকান্দাকে ভোক্তাবান্ধব উপজেলা গড়া সম্ভব’

ফরিদপুরের নগরকান্দায় কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) উপজেলা শাখার নবগঠিত কমিটির পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে নগরকান্দা মডেল মসজিদের মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করা হয়। এতে ক্যাবের নবগঠিত উপজেলা কমিটির সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ, নিরাপদ পণ্য ও সেবা নিশ্চিতকরণ, বাজারে স্বচ্ছতা এবং ভোক্তা সচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

ক্যাবের নগরকান্দা উপজেলা শাখার সভাপতি এহসানুল হক মিয়ার সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মাহমুদুল হাসান, ক্যাব ফরিদপুর জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক তারেক আইয়ুব খাঁন ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নাজমুল আলম পারভেজ।

বক্তারা বলেন, বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, খাদ্যে ভেজাল, কম ওজনে পণ্য বিক্রি, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বাজারজাতকরণসহ বিভিন্ন অনিয়ম ভোক্তাদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় শুধু প্রশাসনিক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; এর পাশাপাশি প্রয়োজন সচেতন ভোক্তা, দায়িত্বশীল ব্যবসায়ী এবং সক্রিয় সামাজিক সংগঠন। ভোক্তার অধিকার নিশ্চিত করতে ক্যাবের উপজেলা কমিটিকে প্রশাসন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।

বক্তারা আরও বলেন, ক্যাব দীর্ঘদিন ধরে ভোক্তার অধিকার, নিরাপদ পণ্য ও সেবা, ন্যায্যমূল্য, বাজারব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং ভোক্তা সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করে আসছে। নবগঠিত নগরকান্দা উপজেলা কমিটির সদস্যদের ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। স্কুল-কলেজ, হাট-বাজার ও বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ভোক্তা অধিকার সম্পর্কে জানাতে হবে।

এ সময় ব্যবসায়ীদের প্রতি ন্যায্য দামে মানসম্মত পণ্য বিক্রি এবং ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা না করার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা বলেন, একজন সন্তুষ্ট ভোক্তাই একজন ব্যবসায়ীর সবচেয়ে বড় সম্পদ। তাই ব্যবসা পরিচালনায় সততা ও নৈতিকতা বজায় রাখা প্রয়োজন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান মুকুল, ক্যাবের জেলা কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি আশরাফুজ্জামান দুলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক অসিত কুমার নাগ, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম ফরহাদ, কোষাধ্যক্ষ রবিউল হাসান রাজিব, নির্বাহী সদস্য মো. সেন্টু মিয়া, নগরকান্দা বাজার বণিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামছুল হুদা হুদু, নগরকান্দা পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মুফতি মুস্তাফিজুর রহমান, নগরকান্দা প্রেসক্লাবের সভাপতি শওকত আলী শরীফ, শহীদ আকরুমুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুব আলী মিয়াসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।

উল্লেখ্য, কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) একটি বেসরকারি, অলাভজনক, স্বেচ্ছাসেবী ও ভোক্তা অধিকারভিত্তিক নাগরিক সংগঠন। ১৯৭৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রতিষ্ঠিত সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে ভোক্তার অধিকার রক্ষা, বাজারদর পর্যবেক্ষণ, নিরাপদ খাদ্য ও পণ্যের পক্ষে প্রচারণা, ভোক্তা শিক্ষা, গবেষণা, জরিপ এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সুপারিশ ও অ্যাডভোকেসির কাজ করে আসছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সংগঠনটি ভোক্তা অধিকার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত।

নগরকান্দায় ক্যাবের নতুন কমিটির সভাপতি এহসানুল হক, সম্পাদক মশিউর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৪:২০ অপরাহ্ণ
নগরকান্দায় ক্যাবের নতুন কমিটির সভাপতি এহসানুল হক, সম্পাদক মশিউর রহমান

ফরিদপুরের নগরকান্দায় ভোক্তা অধিকার সুরক্ষা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ন্যায্যমূল্যে নিরাপদ পণ্য ও সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) নতুন উপজেলা কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে সভাপতি হিসেবে এহসানুল হক মিয়া এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মো. মশিউর রহমানের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে নগরকান্দা মডেল মসজিদের মিলনায়তনে ক্যাবের পরিচিতি ও মতবিনিময় সভায় নতুন কমিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। ক্যাব ফরিদপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নাজমুল আলম পারভেজ নতুন কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন। এ সময় ক্যাবের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

নতুন কমিটিতে সহ-সভাপতি হিসেবে মুফতি মুস্তাফিজুর রহমান ও মনিরুজ্জামান তুহিন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কামরুজ্জামান মোল্যা, কোষাধ্যক্ষ হিসেবে সাইফুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে ফয়সাল হোসেন, প্রচার সম্পাদক হিসেবে সুলতানা ইসলাম, আইনবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে অ্যাডভোকেট জাকারিয়া এবং মহিলা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে রোজিনা আক্তারের নাম ঘোষণা করা হয়।

এ ছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে সাইয়্যাদুর রহমান বাবলু, শামছুল হুদা হুদু, এ এফ এম সিদ্দিকুল আলম বাবলু, শওকত আলী শরীফ, মিজানুর রহমান মুকুল, আসলাম হোসেন নাহিদ, মাহফুজুর রহমান, বলরাম কর্মকার, মুফতী হেদায়েত উল্লাহ, মো. কামাল হোসেন (পলাশ) ও মোশাররফের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য, ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য, ওজনে কারচুপি, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি এবং ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণার মতো বিষয়গুলো প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। এ ক্ষেত্রে ক্যাবের উপজেলা পর্যায়ের কমিটি ভোক্তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

উল্লেখ্য, Consumers Association of Bangladesh—সংক্ষেপে ক্যাব—বাংলাদেশের ভোক্তা অধিকারভিত্তিক একটি বেসরকারি, অলাভজনক ও স্বেচ্ছাসেবী নাগরিক সংগঠন। সংগঠনটি ১৯৭৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রতিষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ প্রায় পাঁচ দশক ধরে সংগঠনটি ভোক্তার অধিকার, নিরাপদ পণ্য ও সেবা, ন্যায্যমূল্য, বাজারব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং ভোক্তা সচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করে আসছে।

নগরকান্দায় নতুন কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ভোক্তা অধিকার রক্ষায় কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং বাজারে অনিয়ম ও ভোক্তাদের হয়রানি কমাতে জনসচেতনতা তৈরিতে কমিটিটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।

টিনশেড পেরিয়ে নতুন ভবনে চর আঁড়িয়াল খাঁ উচ্চ বিদ্যালয়, অবসান ৩১ বছরের অপেক্ষার

তানভীর তুহিন
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৪৪ পূর্বাহ্ণ
টিনশেড পেরিয়ে নতুন ভবনে চর আঁড়িয়াল খাঁ উচ্চ বিদ্যালয়, অবসান ৩১ বছরের অপেক্ষার

দীর্ঘ ৩১ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার চরমানাইর ইউনিয়নের চর আঁড়িয়াল খাঁ উচ্চ বিদ্যালয়। ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও নানা সংকট, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং পাকা ভবনের অভাবে বিদ্যালয়টিতে দীর্ঘদিন নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলে চরাঞ্চলের শত শত শিক্ষার্থীকে মাধ্যমিক শিক্ষার জন্য দূর-দূরান্তের বিদ্যালয়ে যেতে হতো।

২০২২ সালে বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হলেও নিজস্ব একাডেমিক ভবন না থাকায় পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। অবশেষে চলতি বছরে ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম খান বাবুল চারতলা ফাউন্ডেশনবিশিষ্ট নতুন একাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। বর্তমানে ভবনের প্রথম তলার কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণের মধ্য দিয়ে বিদ্যালয়টি যেন নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। খুব শিগগিরই আধুনিক পরিবেশে পাঠদান শুরু হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

চরমানাইর ইউনিয়নের একমাত্র উচ্চ বিদ্যালয় হিসেবে চর আঁড়িয়াল খাঁ উচ্চ বিদ্যালয় এতদিন টিনশেড ভবনে সীমিত পরিসরে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। নতুন ভবন নির্মাণের ফলে চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে।

পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা কার্যক্রম চালুর প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে বিদ্যালয়ের নতুন ভবনে নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আমিনুল ইসলামের সঞ্চালনায় এবং চরমানাইর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ফরিদপুর জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও বিদ্যালয়ের নবনির্বাচিত অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তানজিমুল হাসান কায়েস।

এ সময় আরও বক্তব্য দেন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি বজলুর রশিদ মাস্টার, অবসরপ্রাপ্ত সার্জন আবুল কালাম আজাদ, শিক্ষক সঞ্জয় চাকলাদার, ইসরাফিল বেপারী এবং তোরাব আলী।

বক্তারা বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে দ্রুত বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ, প্রধান ফটক স্থাপন এবং বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তারা বলেন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন সম্পন্ন হলে বিদ্যালয়টি চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আধুনিক ও আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠবে।

সভা শেষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় বিদ্যালয়কে সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন উপস্থিত অতিথিরা।