খুঁজুন
, ,

ফরিদপুর-৪ : অবশেষে প্রার্থীতা ফিরে পেলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মুজাহিদ বেগ

সোহাগ মাতুব্বর, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:৩৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুর-৪ : অবশেষে প্রার্থীতা ফিরে পেলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মুজাহিদ বেগ

অবশেষে ফরিদপুর-৪ আসনে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুজাহিদ বেগ বুধবার (১৪ জানুয়ারি) তার প্রার্থীতা ফিরে পেয়েছেন। প্রার্থীতা পুনর্বহালের খবরে নির্বাচনী এলাকায় নেমে এসেছে আনন্দের জোয়ার। সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের মাঝে স্বস্তি ও উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে যিনি মানুষের পাশে থেকে কাজ করে আসছেন, তার প্রার্থীতা ফিরে পাওয়াকে এলাকাবাসী ইতিবাচকভাবেই দেখছেন।

জানা গেছে, প্রার্থীতা ফিরে পাওয়ার আগেই মুজাহিদ বেগ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। হাট-বাজার, পাড়া-মহল্লা, সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থান নিয়ে তার স্পষ্ট বক্তব্য এবং সাবলীল আচরণ মানুষের মনে আস্থা তৈরি করেছে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি ব্যাপক সাড়া ফেলতে সক্ষম হন।

প্রার্থীতা ফিরে পাওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় মুজাহিদ বেগ বলেন, “আমি শুরু থেকেই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলাম এবং ন্যায়বিচারের ওপর আস্থা রেখেছি। অবশেষে সেই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই প্রার্থীতা শুধু আমার নয়, এটি সাধারণ মানুষের প্রার্থীতা।” তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে জয়ী হলে এলাকার উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং দল-মত নির্বিশেষে সবার জন্য কাজ করা হবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মুজাহিদ বেগ একজন পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির প্রার্থী হিসেবে পরিচিত। সামাজিক কর্মকাণ্ডে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্টে পাশে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা চোখে পড়ার মতো।

প্রার্থীতা ফিরে পাওয়ার খবরে তার নির্বাচনী কার্যালয়ে সমর্থকদের ভিড় জমে ওঠে। মিষ্টি বিতরণ, স্লোগান ও আনন্দ মিছিলের মধ্য দিয়ে তারা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। অনেকেই আশা করছেন, এই প্রার্থীতা পুনর্বহাল নির্বাচনী মাঠে নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং ভোটারদের সামনে আরও একটি শক্ত বিকল্প তুলে ধরবে।

সব মিলিয়ে, স্বতন্ত্র প্রার্থী মুজাহিদ বেগের প্রার্থীতা ফিরে পাওয়া আসন্ন নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত জনগণের রায়ে তিনি কতটা আস্থা অর্জন করতে পারেন।

ফরিদপুরে কৌশিক সাহা জিতু হত্যার বিচারের দাবি

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে কৌশিক সাহা জিতু হত্যার বিচারের দাবি

ফরিদপুর শহরের সিংপাড়া নিবাসী কৌশিক সাহা জিতু হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করে বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ ফরিদপুর জেলা, সদর উপজেলা ও পৌর শাখা।

​ফরিদপুর পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সহ-সভাপতি তাপস কুমার সাহার সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিধান কুমার সাহা, সহ-সভাপতি ননী গোপাল বিশ্বাস ও সুকেশ কুমার সাহা, দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট তুষার কুমার দত্ত, সদর উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি সিতাংশু মিত্র কিংকর, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট চিরঞ্জীব রায়, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিশ্বনাথ সরকার স্বাধীন এবং চন্দ্রা দেবনাথ।

​এ সময় পৌর পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি রাম দত্ত, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের জেলা কমিটির সদস্যসচিব সুব্রত রবিদাসসহ বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

​মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কৌশিক সাহা জিতুর অকাল মৃত্যুতে তাঁর পরিবার অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পুরো ফরিদপুরজুড়ে তীব্র শোক, ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

​বক্তারা অবিলম্বে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং আইনানুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের জন্য জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

ফরিদপুরে হামে আক্রান্ত ৭ হাজার ছাড়াল, মৃত্যু ২২

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে হামে আক্রান্ত ৭ হাজার ছাড়াল, মৃত্যু ২২

ফরিদপুরে হামের সংক্রমণ থামছেই না। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে ৪২ জনের শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত জেলায় সন্দেহভাজন হামের মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৩২৩ জনে এবং মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২ জনে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

​শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

​প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ১৪ জন এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৮ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে দুই হাসপাতালে মোট ১১৮ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে জেনারেল হাসপাতালে ৪০ জন এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭৮ জন রোগী ভর্তি আছেন।

​গত ২৪ ঘণ্টায় দুই হাসপাতাল থেকে ৪৭ জন রোগী সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট ৭ হাজার ৫২ জন রোগী ছাড়পত্র পেয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

​উপজেলাভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় বোয়ালমারীতে ২৮, ভাঙ্গায় ১২, চরভদ্রাসনে ১৭, নগরকান্দায় ২, মধুখালীতে ৬, সদরপুরে ১৪, সালথায় ২৩ এবং ফরিদপুর সদরে ৫ জনের হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে।

​এদিকে, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৯২৬ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছেন এবং হামে আক্রান্ত হয়ে ২২ জনের মৃত্যুর তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, জেনারেল হাসপাতালে শনাক্ত হয়েছেন ২ হাজার ২৬৫ জন।

​স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন শনাক্ত হওয়া ৪২ জনের মধ্যে ফরিদপুর জেলার স্থায়ী বাসিন্দা ৩০ জন এবং অন্যান্য জেলার ১২ জন রয়েছেন।

ফরিদপুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে বৃদ্ধের ৫ বছরের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে বৃদ্ধের ৫ বছরের কারাদণ্ড

ফরিদপুরের নগরকান্দায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এক মেয়েশিশুকে (১৩) ধর্ষণচেষ্টার অপরাধে ইসমাইল মোল্লা (৫৬) নামে এক বৃদ্ধকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশ পাহারায় তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

​মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর বিকেল ৩টার দিকে নগরকান্দা উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নের একটি গ্রামে মুদি দোকানের পাশের পুকুর থেকে পানি নিয়ে বাড়ি ফিরছিল শিশুটি। এ সময় ইসমাইল মোল্লা তাকে দোকানঘরে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালান।

​ঘটনার পর শিশুটি বাড়িতে ফিরে স্বজনদের বিষয়টি জানায়। পরে ওই বছরের ২১ ডিসেম্বর শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নগরকান্দা থানায় ইসমাইল মোল্লাকে একমাত্র আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

​মামলাটি তদন্ত শেষে নগরকান্দা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইরানুল ইসলাম ২০২৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার আদালত এ রায় দেন।

​রায়ের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, “বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতন প্রতিরোধ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।”