খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

ফরিদপুর-২ এ রিকশার জয় নিশ্চিত, বাধা এলে ‘আগুন জ্বলবে’—কঠোর হুঁশিয়ারি মামুনুল হকের

ফরিদপুর ও নগরকান্দা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৪০ পিএম
ফরিদপুর-২ এ রিকশার জয় নিশ্চিত, বাধা এলে ‘আগুন জ্বলবে’—কঠোর হুঁশিয়ারি মামুনুল হকের

ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা–সালথা) আসনে রিকশা প্রতীকের বিজয় এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র—এমন মন্তব্য করে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের শীর্ষ নেতা আল্লামা মামুনুল হক। তিনি বলেন, বিজয়ের পথে কেউ বাধা সৃষ্টি করতে চাইলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে এবং রিকশার জয় নিশ্চিত করা হবে।

সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারী) বিকেলে ফরিদপুরের নগরকান্দার ঐতিহ্যবাহী সরকারি মহেন্দ্র নারায়ণ একাডেমি মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

জনসভায় মামুনুল হক বলেন, রিকশা প্রতীকের প্রার্থী একজন মুরুব্বি মানুষ—এই ভেবে কেউ যদি তাকে কিংবা তার নেতাকর্মীদের দুর্বল মনে করে, তবে তারা মারাত্মক ভুল করবে। রিকশার কোনো কর্মীর গায়ে যদি কেউ হাত তোলে, তবে তার পরিণতি ভয়াবহ হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, জনগণের ভোটাধিকার ও নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। অন্যায়, জুলুম ও ভয়ভীতির রাজনীতির বিরুদ্ধে কঠোরভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

রিকশা প্রতীকের তাৎপর্য তুলে ধরে শীর্ষ এই নেতা বলেন, রিকশা এ দেশের অবহেলিত মানুষের শেষ আশ্রয়। যখন মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ে কিংবা মানসিক সংকটে ভোগে, তখন শেষ সম্বল হিসেবে রিকশাকেই বেছে নেয় সাধারণ জনগণ।

প্রশাসনের উদ্দেশে বক্তব্যে মামুনুল হক বলেন, এই মাঠ জনসভার জন্য বরাদ্দ ছিল না, নিজ উদ্যোগেই তা নিশ্চিত করতে হয়েছে। প্রশাসনকে নিরপেক্ষ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা নিরপেক্ষ থাকুন, বাকিটা আমরা নিজেরাই বুঝে নিতে পারবো—ইনশাআল্লাহ।

তিনি দাবি করেন, রিকশা প্রতীক ও তার শরীক দল সংসদে গেলে দেশ শাসনের নামে জনগণকে শোষণ করা হবে না। নারীদের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান নিশ্চিত করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

আসন্ন নির্বাচনকে ঐতিহাসিক উল্লেখ করে এম.এইচ. বলেন, এবারের নির্বাচনে দুটি ব্যালট থাকবে—একটিতে রিকশা প্রতীক এবং অন্যটিতে ‘হ্যাঁ’ ভোট। সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন, বাংলার মাটিতে আর কোনো নতুন ফ্যাসিবাদের জন্ম হোক—এটা আমরা চাই না। কেউ দুঃশাসন কায়েম করতে চাইলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।

১১ দলীয় জোটের ফরিদপুর-২ আসনের রিকশা প্রতীকের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ধলা হুজুর-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ জনসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ড. মাওলানা আমিনুর রহমান মাদানী, মাওলানা বদর উদ্দিন, মাওলানা আহমদ হোসাইন, ডক্টর বায়জিদ হোসেন সাহেদ, প্রফেসর মিজানুর রহমান, মাওলানা মাহবুবুর রহমান, সাইফ হাসান খান শাকিব, মাওলানা সোহরাব হোসেন, মুফতি মুস্তাফিজুর রহমান, মুফতি মজিবুর রহমান, আহাসান উল্লাহ কাসেমী, মুফতি হেলাল উদ্দিন কাসেমী, মাওলানা জুনায়েদ আহমেদ ফরিদী, মুফতি ইমরান হোসাইন সহ ইসলামী রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া: কী বলে ইসলাম?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৭:১১ এএম
ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া: কী বলে ইসলাম?

পবিত্র ঈদুল ফিতর মানেই আনন্দ, ভালোবাসা আর পারস্পরিক সম্পর্কের বন্ধনকে নতুন করে দৃঢ় করার এক মহিমান্বিত উপলক্ষ। এদিন ছোটদের মুখে হাসি ফোটাতে এবং আপনজনদের সঙ্গে হৃদ্যতার সম্পর্ক আরও গভীর করতে আমাদের সমাজে ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়ার একটি সুন্দর প্রচলন রয়েছে।

তবে এই প্রথার ধর্মীয় অবস্থান কী, এটি কি ইবাদত, নাকি কেবল সামাজিক রীতি? শরিয়তের দৃষ্টিতে বিষয়টি বোঝা জরুরি, যেন আমরা আনন্দ উদযাপনের পাশাপাশি ইসলামের সঠিক নির্দেশনাও মেনে চলতে পারি।

রাজধানীর জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালামের ফতোয়া বিভাগীয় প্রধান মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী বলেন, ইসলামের মূলনীতি হলো, যে কোনো কাজ ততক্ষণ বৈধ, যতক্ষণ না তা শরিয়তের কোনো স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়ে। এ দৃষ্টিকোণ থেকে ঈদের দিনে কাউকে খুশি করার উদ্দেশে অর্থ বা উপহার দেওয়া নিঃসন্দেহে বৈধ। বরং হাদিসে উপহার আদান-প্রদানের মাধ্যমে ভালোবাসা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। তাই ছোটদের আনন্দ দেওয়া, আত্মীয়তার সম্পর্ক দৃঢ় করা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বাড়ানোর নিয়তে ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া একটি সুন্দর ও প্রশংসনীয় আমল হতে পারে।

তবে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে মনে রাখতে হবে, ঈদ সালামি কোনো ইবাদত নয় এবং এটি ইসলামের নির্ধারিত কোনো বিধানও নয়। এটি একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রথা মাত্র। সুতরাং একে বাধ্যতামূলক মনে করা বা না দিলে দোষারোপ করা ঠিক নয়।

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ তার ইউটিউব চ্যানেলে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘ইসলামে সালামের পরিভাষা রয়েছে। কোরআনে আছে, ‘তোমাদেরকে কেউ যদি কোনো অভিবাদন জানায় বা সালাম পেশ করে, তাহলে সে যে ভাষায় তোমাকে সালাম দিয়েছে, সে ভাষায় তুমি জবাব দাও। অথবা এর চেয়ে উত্তম শব্দ ব্যবহার করে সালাম দাও।’ হজরত মুহাম্মদ (সা.) আমাদেরকে সালাম দিতে নির্দেশ করেছেন। মুখ দিয়ে উচ্চারণ করে পরস্পরের শান্তি কামনা করা হলো সালাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঈদের সালামি পেতে বাচ্চারা বড়দের সালাম দিলে তারা সালামের উত্তর দেবেন। সালামের জবাব দিয়ে তাদের কিছু হাদিয়া দেবেন, এটা আমাদের দেশের সংস্কৃতি। এতে কোনো অসুবিধা নেই। কোরআন-হাদিসের সঙ্গে এর কোনো সংঘর্ষ নেই। পা ছুঁয়ে সালাম করলে সালামি দিতে হবে, এটা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। সে সালাম দিলে জবাব দিয়ে তাকে সালামি দিয়ে দেওয়া উচিত। পা ছুঁয়ে সালাম করতে তাকে বাধ্য করা উচিত নয়।’

সূত্র : কালবেলা

চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৬:২১ এএম
চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই শীতের আবহ ফিরে এসেছে ফরিদপুরে। রবিবার (২২ মার্চ) ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পুরো জেলা। চারপাশে যেন শীতের সকালের সেই পরিচিত দৃশ্য—মাঠ-ঘাট, গাছপালা, রাস্তা সবই কুয়াশার আস্তরণে আচ্ছন্ন। মৃদু শীতল বাতাস আর হালকা ঠান্ডা আবহে প্রকৃতি যেন ভুলে গেছে ঋতুর নিয়ম।

ভোরের আলো ফুটলেও সূর্যের দেখা মেলেনি অনেকক্ষণ। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। গ্রামীণ জনপদে দেখা গেছে চিরচেনা দৃশ্য—কৃষকরা গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন, আর গৃহস্থ বাড়িতে কৃষাণীরা ধান সিদ্ধ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে চৈত্রের সকালে এমন দৃশ্য অনেকটাই অপ্রত্যাশিত হলেও প্রকৃতির এক ভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ করছেন স্থানীয়রা।

সালথা উপজেলার কৃষক শাহাজুদ্দিন মাতুব্বর বলেন, “চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আমরা খুব একটা দেখি না। সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে ঠান্ডা অনুভব করছি। তবে এই কুয়াশা ফসলের জন্য ভালো না-ও হতে পারে।”

বিশেষ করে পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এই সময়ে অতিরিক্ত কুয়াশা ও আর্দ্রতা পেঁয়াজের গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে করে গাছের পাতা পচে যাওয়া বা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এমন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশা ঘনীভূত হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কুয়াশা কেটে যাবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই কৃষকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজসহ সংবেদনশীল ফসলের যত্নে বাড়তি নজর দিতে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, চৈত্রের প্রখর রোদ আর গরমের বদলে হঠাৎ করে ফিরে আসা শীতের এই আমেজ একদিকে যেমন প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন রূপ, অন্যদিকে কৃষকদের মনে তৈরি করেছে নতুন দুশ্চিন্তার ছায়া।

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।