খুঁজুন
, ,

ইতিহাসের পাতায় তৃতীয়বার—আওয়ামী লীগ ছাড়া সংসদ নির্বাচন

শামীম খান ও মহিউদ্দিন মাহমুদ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:৪৬ পূর্বাহ্ণ
ইতিহাসের পাতায় তৃতীয়বার—আওয়ামী লীগ ছাড়া সংসদ নির্বাচন

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গণহত্যার দায়ে কার্যক্রমনিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। এ নিয়ে প্রতিষ্ঠার পর থেকে তৃতীয়বার আওয়ামী লীগকে ছাড়াই হতে যাচ্ছে সংসদ নির্বাচন। এর আগের দুইবার অবশ্য আওয়ামী লীগ নিজে থেকে সংসদ নির্বাচন বয়কট করেছিল।

১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার কেএম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে গঠিত হয় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ।

প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ছিলেন মওলানা ভাসানী, সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক। পরবর্তীতে মুসলিম শব্দ বাদ দিয়ে দলটির নাম ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’ রাখা হয়।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই প্রথম নির্বাচন করার সুযোগ পাচ্ছে না আওয়ামী লীগ। এর আগে ১৯৮৮ সালে স্বৈরাচার এরশাদের অধীনে এবং ১৯৯৬ সালে খালেদা জিয়ার অধীনে সংসদ নির্বাচন বয়কট করেছিল দলটি।

১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন:

প্রতিষ্ঠার পর সর্বপ্রথম ১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে অংশ নেয় আওয়ামী লীগ। ১৯৫৪ সালের ৮ থেকে ১২ মার্চ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত পূর্ব পাকিস্তান পরিষদের নির্বাচনে ২৩৭টি মুসলিম আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন অর্জন করে। মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী মুসলিম লীগ ১৪৩টি, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের কৃষক শ্রমিক পার্টি ৪৮টি, নেজামে ইসলাম পার্টি ১৯টি, গণতন্ত্রী দল ১৩টি এবং কমিউনিস্ট পার্টি ৪টি আসন পায়।

সংখ্যালঘু ধর্মীয় সম্প্রদায়ের জন্য ৭২টি আসন সংরক্ষিত ছিল।

এগুলোর মধ্যে কংগ্রেস ২৪টি, কমিউনিস্ট পার্টি ৪টি, শিডিউল্ড কাস্ট ফাউন্ডেশন ২৭টি, গণতন্ত্রী দল ৩টি এবং ইউনাইটেড প্রগ্রেসিভ পার্টি ১৩টি আসন লাভ করে। মোট আসন ছিল ৩০৯টি।

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন (১৯৬৫):

১৯৬৫ সালের পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে সম্মিলিত বিরোধী দলের প্রার্থী ফাতেমা জিন্নাহকে সমর্থন জানিয়েছিল আওয়ামী লীগ। তবে ওই নির্বাচনে ফাতেমা জিন্নাহ জয়ী হতে পারেননি।

১৯৭০-এর নির্বাচন:

১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় পাকিস্তান সাধারণ নির্বাচন।এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। পূর্ব পাকিস্তানে ১৬২টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ১৬০টি আসনে জয়লাভ করে। পূর্ব পাকিস্তানের বাকি দুটি আসনের মধ্যে একটিতে জয়ী হন নুরুল আমিন এবং অপরটিতে চাকমা রাজা ত্রিদিব রায়। অপরদিকে পশ্চিম পাকিস্তানে ১৩৮টি আসনের মধ্যে ৮১টি আসনে জয়লাভ করে জুলফিকার আলী ভুট্টোর নেতৃত্বে পাকিস্তান পিপলস পার্টি।

সাধারণ নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয় প্রাদেশিক নির্বাচন। এ নির্বাচনেও পূর্ব পাকিস্তান অ্যাসেম্বলির ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৮৮টিতে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ।

স্বাধীন বাংলাদেশের নির্বাচন:

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে ইতোমধ্যে ১২টি সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব নির্বাচনে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ ছয়বার, বিএনপি চারবার এবং জাতীয় পার্টি দুইবার সরকার গঠন করে।

প্রথম সংসদ নির্বাচন:

১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৩টিতে আওয়ামী লীগ, জাতীয় লীগের ১ জন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) ১ জন এবং পাঁচজন স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হন। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এই সংসদের মেয়াদ ছিল দুই বছর ছয় মাস।

দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচন:

১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ সংসদের মেয়াদ ছিল তিন বছর।

এই নির্বাচনে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাতে প্রতিষ্ঠিত বিএনপি ২০৭টি আসন পেয়ে জয়ী হয়। অন্য দলগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগ (মালেক) ৩৯টি, জাসদ ৮টি, মুসলিম ডেমোক্রেটিক লীগ ২০টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ১৬টি আসনে জয়ী হয়।

তৃতীয় সংসদ নির্বাচন:

১৯৮৬ সালের ৭ মে অনুষ্ঠিত হয় তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ সংসদের মেয়াদ ছিল মাত্র ১৭ মাস।
এ নির্বাচনে ১৫৩টি আসনে জয়ী হয় স্বৈরাচার হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টি।

অন্য দলগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগ ৭৬টি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) পাঁচটি, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ ১০টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ৩২টি আসনে জয়ী হন। বিএনপি এ নির্বাচন বয়কট করে।

চতুর্থ সংসদ নির্বাচন:

১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ অনুষ্ঠিত হয় চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ সংসদের মেয়াদ ছিল দুই বছর সাত মাস।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দল এ নির্বাচন বর্জন করে। এটি ছিল আওয়ামী লীগের প্রথমবার কোনো নির্বাচনের বাইরে থাকা। এ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ২৫১টি আসন পেয়ে জয়লাভ করে। ১৯টি আসন পেয়ে সংসদে বিরোধী দল হয় সম্মিলিত বিরোধী দল (কপ)।

পঞ্চম সংসদ নির্বাচন:

১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি প্রথম কোনো অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে দেশে সংসদ নির্বাচন হয়। পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ১৪০টি আসন পেয়ে জয়ী হয়। অন্য দলগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগ ৮৮টি, জাতীয় পার্টি ৩৫টি এবং জামায়াতে ইসলামী ১৮টি আসনে জয়ী হয়। এই সংসদের মেয়াদ ছিল চার বছর আট মাস।

ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচন:

১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ সংসদের মেয়াদ ছিল মাত্র ১১ দিন।

তৎকালীন সরকারি দল বিএনপির অধীনে হওয়া এ নির্বাচন বয়কট করে আওয়ামী লীগ, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টিসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল। এটি ছিল আওয়ামী লীগের দ্বিতীয়বার নির্বাচনের বাইরে থাকা।

এ নির্বাচনে বিএনপি ২৭৮টি আসনে জয়লাভ করে। এর মধ্যে ৪৯টি আসনে বিএনপি প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হন। ১টি আসনে ফ্রিডম পার্টি, ১০টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হন, ১০টি আসনের ফলাফল অসমাপ্ত ছিল এবং একটি আসনের নির্বাচন আদালতের আদেশে স্থগিত হয়।

সপ্তম সংসদ নির্বাচন:

১৯৯৬ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত হয় সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এটি ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ সংসদের মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর।

এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৪৬টি আসনে জয়লাভ করে। অন্য দলগুলোর মধ্যে বিএনপি ১১৬টি, জাতীয় পার্টি ৩২টি এবং জামায়াতে ইসলামী তিনটি আসনে জয়ী হয়।

অষ্টম সংসদ নির্বাচন:

২০০১ সালের ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয় অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ সংসদের মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর।

এ নির্বাচনে ১৯৩টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। অন্য দলগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগ ৬২টি, জামায়াতে ইসলামী ১৭টি এবং জাতীয় পার্টি ও ইসলামী জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ১৪টি আসনে জয়ী হয়।

নবম সংসদ নির্বাচন:

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এটি ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ ভোট। এ সংসদের মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর।

এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৩০টি আসন পেয়ে জয়লাভ করে। অন্য দলগুলোর মধ্যে বিএনপি ৩০টি, জাতীয় পার্টি ২৭টি এবং জামায়াতে ইসলামী ২টি আসনে জয়ী হয়।

দশম সংসদ নির্বাচন:

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ সংসদের মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর। এই নির্বাচন ‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচন’ নামে পরিচিত।

আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দল।

এ নির্বাচনে মোট ১২টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। আওয়ামী লীগ একাই ২৩৪টি আসন পায়, যার মধ্যে ১৫৩টি আসন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।

অন্য দলগুলোর মধ্যে জাতীয় পার্টি ৩৪টি, ওয়ার্কার্স পার্টি ৬টি, জাসদ (ইনু) ৫টি, তরীকত ফেডারেশন ২টি, জাতীয় পার্টি (জেপি) ২টি, বিএনএফ ১টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১৬টি আসনে জয়লাভ করে।

একাদশ সংসদ নির্বাচন:

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ সংসদের মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর। এই সংসদ নির্বাচনটি ‘রাতের ভোট’ নামে পরিচিত।

এ নির্বাচনে নিবন্ধিত ৩৯টি দলের সবাই অংশ নেন। নিবন্ধন না থাকায় অংশ নিতে পারেনি জামায়াতে ইসলামী।

এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এককভাবে ২৫৮টি আসন পায়। জাতীয় পার্টি ২২টি এবং মহাজোটভুক্ত অন্য দলগুলো ৮টি আসনে জয়ী হয়। অপরদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টভুক্ত বিএনপি ৬টি, গণফোরাম ২টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৩টি আসনে জয়ী হন।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন:

২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচন বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট বয়কট করেছিল (জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন ছিল না)।

২০১৪ সালের মতো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা যাতে জয়ী না হয়, সে জন্য অভিনব কৌশল নেয় আওয়ামী লীগ। ডামি প্রার্থী হিসেবে নিজ দলের নেতাদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করায় দলটি। এই নির্বাচনটি ‘ডামি নির্বাচন’ নামে পরিচিত।

এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২২২টি আসন, জাতীয় পার্টি (জাপা) ১১টি আসন এবং জাসদ, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি একটি করে আসন জয়ী হয়। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন ৬২ জন, যাদের প্রায় সবাই আওয়ামী লীগ নেতা।

এই সংসদের মেয়াদ ছিল মাত্র সাত মাস। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয় এবং দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এরপর থেকে দেশ পরিচালনা করছে অন্তর্বর্তী সরকার। এই সরকারের অধীনে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

সূত্র : বাংলানিউজ২৪

ফরিদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৭৫ বছর পূর্তি উৎসবে নেতৃত্বে সাঈদুর-নান্না, চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ১০:০৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৭৫ বছর পূর্তি উৎসবে নেতৃত্বে সাঈদুর-নান্না, চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ফরিদপুর উচ্চ বিদ্যালয় তার গৌরবময় ১৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আগামী ডিসেম্বর মাসে আয়োজন করতে যাচ্ছে বর্ণাঢ্য পুনর্মিলনী ও উৎসব। বিদ্যালয়ের দীর্ঘ ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করতে দুই দিনব্যাপী এই উৎসব আয়োজনের লক্ষ্যে গঠন করা হয়েছে উদযাপন পর্ষদ, উপদেষ্টা পর্ষদ এবং সমন্বয়ক পর্ষদ।

উৎসব সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য গঠিত উদযাপন পর্ষদের আহ্বায়ক নির্বাচিত হয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার সাঈদুর রহমান এবং সদস্য সচিব হয়েছেন সৈয়দ আব্দুল আউয়াল নান্না। ৫০টিরও বেশি ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত এই পর্ষদের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে শাব্বির হোসেন মনিকে।

যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন কাজী জোবায়দুল হক টুলু, এস এম শামীম হাসান, সৈয়দ মান্নাফ হোসেন খসরু, মো. আমীর হোসেন সাগর, মাহফুজুর রহমান মবিন, মোস্তফা মাহমুদ আরেফি, মাহবুবুর রহমান সোহেল, অশোকেশ রায়, শোয়েবুল ইসলাম, মো. শেখ আব্দুল জলিল, দিদারুল মাহমুদ খান টিটু, শাহীন হক, উজ্জ্বল হোসেন, মুহাম্মদ শামীম হোসেন, সৈয়দ আলাওল হোসেন তনু এবং মো. আবু সাঈদ খান রানা।

উৎসবকে ঘিরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, স্মৃতিচারণ, প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা, প্রকাশনা, ক্রীড়া ও বিভিন্ন আয়োজন পরিচালনার জন্য ১৪টি উপ-পর্ষদও গঠন করা হয়েছে। এসব উপ-পর্ষদ উৎসবের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও কার্যক্রম বাস্তবায়নে কাজ করবে।

বিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিয়ে গঠিত সমন্বয়ক পর্ষদের প্রধান সমন্বয়ক নির্বাচিত হয়েছেন প্রধান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান। অন্যদিকে ১৯৫৪ সালের এসএসসি ব্যাচ থেকে শুরু করে ৩০টিরও বেশি ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত উপদেষ্টা পর্ষদের প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচিত হয়েছেন অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছা।

শনিবার (২০ জুন) সকালে বিদ্যালয়ের ঈশান মেমোরিয়াল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ১১তম প্রস্তুতি সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে এসব পর্ষদের নাম ঘোষণা করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান। সদস্য সচিব সৈয়দ আব্দুল আউয়াল নান্নার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছা, আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার সাঈদুর রহমান এবং যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ মান্নাফ হোসেন খসরুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তারা বলেন, ১৮৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত ফরিদপুর উচ্চ বিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, এটি এ অঞ্চলের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক অগ্রগতির এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী। ১৭৫ বছর পূর্তির এই আয়োজন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন প্রজন্মের জন্য এক সেতুবন্ধন তৈরি করবে।

আয়োজকরা আশা করছেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এবং বিদেশে অবস্থানরত হাজারো প্রাক্তন শিক্ষার্থী এই উৎসবে অংশ নিয়ে বিদ্যালয়ের গৌরবময় ইতিহাসের অংশীদার হবেন। ইতোমধ্যে নিবন্ধন কার্যক্রম ও উৎসবের বিভিন্ন প্রস্তুতি জোরেশোরে এগিয়ে চলছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

উদ্বোধনের আগেই দখলের কবলে ফরিদপুরের নগরকান্দার স্বপ্নের সেতু, বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা

এহসানুল হক মিয়া, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৯:৪১ অপরাহ্ণ
উদ্বোধনের আগেই দখলের কবলে ফরিদপুরের নগরকান্দার স্বপ্নের সেতু, বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা

ফরিদপুরের নগরকান্দা পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্র জুঙ্গুরদী এলাকায় কুমার নদের ওপর নির্মিত বহুল প্রতীক্ষিত নতুন সেতুটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হয়নি। তবে উদ্বোধনের আগেই সেতুর উত্তর প্রান্তে অবৈধ দখলের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, সেতুর সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউটার্ন এলাকায় টিনের বেড়া নির্মাণ করে জায়গা দখল করায় যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের দাবি ও আন্দোলনের পর নির্মিত এই সেতু নগরকান্দার যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। সেতুটি চালু হলে পৌর শহরসহ আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াত সহজ হবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যেও গতি আসবে। কিন্তু উদ্বোধনের আগেই সেতুর নিরাপত্তা ও সৌন্দর্য নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

জানা যায়, সেতুর উত্তর পাশে একটি ঝুঁকিপূর্ণ ইউটার্ন রয়েছে। স্থানীয়রা শুরু থেকেই ওই স্থানে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দবির উদ্দিন ও সাইফুল ইসলামের উদ্যোগে সড়ক বিভাগ সেতুর জন্য ১৪টি ল্যাম্পপোস্ট বরাদ্দ দেয়। বর্তমানে ল্যাম্পপোস্ট স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আলোকসজ্জার কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে সেতুটি উদ্বোধন করা হবে।

কিন্তু এরই মধ্যে সেতুর উত্তর প্রান্তের ইউটার্ন এলাকায় টিনের বেড়া নির্মাণ করে জায়গা দখলের অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই বেড়া সড়কের দৃশ্যমানতা কমিয়ে দিয়েছে। ফলে বাঁক ঘুরে আসা কিংবা বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহন সহজে দেখা যাচ্ছে না। এতে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন,
“সড়কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশে টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে ফেলায় চালকরা সামনে কী আছে তা বুঝতে পারছেন না। বিশেষ করে রাতে এবং দ্রুতগতির যানবাহনের ক্ষেত্রে এটি ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়েনি।”

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষ দাবি করেছে, তারা কোনো সরকারি জায়গা দখল করেননি। সেতুর ওপর থেকে সরাসরি তাদের বাড়ির অভ্যন্তর দেখা যাওয়ায় পারিবারিক গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে টিনের বেড়া স্থাপন করা হয়েছে।

তবে পরিবহন চালক ও স্থানীয়রা এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন। ট্রাকচালক মুজিবুর রহমান বলেন,
“সেতুর একদিকে খাড়া ঢাল, অন্যদিকে তীব্র বাঁক। এর মধ্যে টিনের বেড়া দেওয়ায় বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়ি দেখা যায় না। ফলে যেকোনো সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। পরে দায় চাপানো হবে চালকদের ওপর।”

স্থানীয় বাসিন্দা ওয়াহিদুজ্জামান মোল্যা বলেন,
“এটি শুধু একটি সেতু নয়, নগরকান্দাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। সেতুর সৌন্দর্য নষ্ট করার পাশাপাশি এই বেড়া মানুষের জীবনও ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। দ্রুত এটি অপসারণ করা প্রয়োজন।”

নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান (বাবুল তালুকদার) বলেন, “সেতুটি অত্যন্ত সুন্দর হয়েছে এবং এটি এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করেছে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া, যাতে সেতুর সৌন্দর্য ও জননিরাপত্তা দুটিই নিশ্চিত হয়।”

এ বিষয়ে নগরকান্দা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আফরোজা হক তানিয়া জানান, “ঘটনাস্থলে তহসিলদার পাঠানো হয়েছিল। অভিযুক্তরা টিনের বেড়া সরিয়ে নেওয়ার জন্য একদিন সময় চেয়েছিল। কিন্তু এখনো তা অপসারণ না করায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজোয়ানা আফরিন বলেন, “আমি সম্প্রতি এখানে যোগদান করেছি। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে এসিল্যান্ডের সঙ্গে আলোচনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম বলেন, “কেউ সরকারি জায়গা দখলের চেষ্টা করলে কিংবা জনস্বার্থ বিঘ্নিত করে এমন কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত টিনের বেড়া অপসারণ না করা হলে উদ্বোধনের আগেই স্বপ্নের এই সেতু দুর্ঘটনার ‘ব্ল্যাক স্পট’-এ পরিণত হতে পারে। তাই জনস্বার্থ ও জননিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

ফরিদপুরে ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যুর ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৬:৪৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যুর ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে গাঁজাসহ আটক হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা মো. ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্তের (২৮) মৃত্যুর ঘটনায় তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা পুলিশ।

রবিবার (২১ জুন) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. নজরুল ইসলাম। তিনি জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং সার্বিক পরিস্থিতি তদন্তের জন্য এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলামকে প্রধান করে গঠিত তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামছুল আজম এবং ডিআই-১ মো. মোশারফ হোসেন।

এর আগে শনিবার (২০ জুন) দিবাগত রাত ২টার দিকে মধুখালী পৌরসভার গোন্দারদিয়া এলাকায় জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের সময় মাদক বিক্রির অভিযোগে প্রান্তকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ১০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করে পুলিশ।

ডিবি পুলিশের তথ্যমতে, আটকের প্রায় এক ঘণ্টা পর প্রান্ত শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার শ্বাসকষ্ট শুরু হলে দ্রুত তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. শিকদার আফ্রিদি রিজভী জানিয়েছেন, হাসপাতালে আনার পর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সিটিস্কানে দেখা যায়, প্রান্ত ব্রেনস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন এবং তার মাথায় বড় ধরনের রক্তক্ষরণ হয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার শরীরে কোনো আঘাত বা নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।

পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “চিকিৎসকদের প্রাথমিক মতামত অনুযায়ী তিনি ব্রেনস্ট্রোকজনিত কারণে মারা গেছেন। তারপরও ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত কমিটি সব দিক পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দেবে। তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।”

এদিকে প্রান্তের মৃত্যুর ঘটনায় সারাদেশে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্ত কমিটির অনুসন্ধান শেষ হলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।