খুঁজুন
, ,

ইতিহাসের পাতায় তৃতীয়বার—আওয়ামী লীগ ছাড়া সংসদ নির্বাচন

শামীম খান ও মহিউদ্দিন মাহমুদ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:৪৬ পূর্বাহ্ণ
ইতিহাসের পাতায় তৃতীয়বার—আওয়ামী লীগ ছাড়া সংসদ নির্বাচন

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গণহত্যার দায়ে কার্যক্রমনিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। এ নিয়ে প্রতিষ্ঠার পর থেকে তৃতীয়বার আওয়ামী লীগকে ছাড়াই হতে যাচ্ছে সংসদ নির্বাচন। এর আগের দুইবার অবশ্য আওয়ামী লীগ নিজে থেকে সংসদ নির্বাচন বয়কট করেছিল।

১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার কেএম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে গঠিত হয় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ।

প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ছিলেন মওলানা ভাসানী, সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক। পরবর্তীতে মুসলিম শব্দ বাদ দিয়ে দলটির নাম ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’ রাখা হয়।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই প্রথম নির্বাচন করার সুযোগ পাচ্ছে না আওয়ামী লীগ। এর আগে ১৯৮৮ সালে স্বৈরাচার এরশাদের অধীনে এবং ১৯৯৬ সালে খালেদা জিয়ার অধীনে সংসদ নির্বাচন বয়কট করেছিল দলটি।

১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন:

প্রতিষ্ঠার পর সর্বপ্রথম ১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে অংশ নেয় আওয়ামী লীগ। ১৯৫৪ সালের ৮ থেকে ১২ মার্চ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত পূর্ব পাকিস্তান পরিষদের নির্বাচনে ২৩৭টি মুসলিম আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন অর্জন করে। মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী মুসলিম লীগ ১৪৩টি, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের কৃষক শ্রমিক পার্টি ৪৮টি, নেজামে ইসলাম পার্টি ১৯টি, গণতন্ত্রী দল ১৩টি এবং কমিউনিস্ট পার্টি ৪টি আসন পায়।

সংখ্যালঘু ধর্মীয় সম্প্রদায়ের জন্য ৭২টি আসন সংরক্ষিত ছিল।

এগুলোর মধ্যে কংগ্রেস ২৪টি, কমিউনিস্ট পার্টি ৪টি, শিডিউল্ড কাস্ট ফাউন্ডেশন ২৭টি, গণতন্ত্রী দল ৩টি এবং ইউনাইটেড প্রগ্রেসিভ পার্টি ১৩টি আসন লাভ করে। মোট আসন ছিল ৩০৯টি।

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন (১৯৬৫):

১৯৬৫ সালের পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে সম্মিলিত বিরোধী দলের প্রার্থী ফাতেমা জিন্নাহকে সমর্থন জানিয়েছিল আওয়ামী লীগ। তবে ওই নির্বাচনে ফাতেমা জিন্নাহ জয়ী হতে পারেননি।

১৯৭০-এর নির্বাচন:

১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় পাকিস্তান সাধারণ নির্বাচন।এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। পূর্ব পাকিস্তানে ১৬২টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ১৬০টি আসনে জয়লাভ করে। পূর্ব পাকিস্তানের বাকি দুটি আসনের মধ্যে একটিতে জয়ী হন নুরুল আমিন এবং অপরটিতে চাকমা রাজা ত্রিদিব রায়। অপরদিকে পশ্চিম পাকিস্তানে ১৩৮টি আসনের মধ্যে ৮১টি আসনে জয়লাভ করে জুলফিকার আলী ভুট্টোর নেতৃত্বে পাকিস্তান পিপলস পার্টি।

সাধারণ নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয় প্রাদেশিক নির্বাচন। এ নির্বাচনেও পূর্ব পাকিস্তান অ্যাসেম্বলির ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৮৮টিতে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ।

স্বাধীন বাংলাদেশের নির্বাচন:

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে ইতোমধ্যে ১২টি সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব নির্বাচনে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ ছয়বার, বিএনপি চারবার এবং জাতীয় পার্টি দুইবার সরকার গঠন করে।

প্রথম সংসদ নির্বাচন:

১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৩টিতে আওয়ামী লীগ, জাতীয় লীগের ১ জন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) ১ জন এবং পাঁচজন স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হন। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এই সংসদের মেয়াদ ছিল দুই বছর ছয় মাস।

দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচন:

১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ সংসদের মেয়াদ ছিল তিন বছর।

এই নির্বাচনে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাতে প্রতিষ্ঠিত বিএনপি ২০৭টি আসন পেয়ে জয়ী হয়। অন্য দলগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগ (মালেক) ৩৯টি, জাসদ ৮টি, মুসলিম ডেমোক্রেটিক লীগ ২০টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ১৬টি আসনে জয়ী হয়।

তৃতীয় সংসদ নির্বাচন:

১৯৮৬ সালের ৭ মে অনুষ্ঠিত হয় তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ সংসদের মেয়াদ ছিল মাত্র ১৭ মাস।
এ নির্বাচনে ১৫৩টি আসনে জয়ী হয় স্বৈরাচার হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টি।

অন্য দলগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগ ৭৬টি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) পাঁচটি, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ ১০টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ৩২টি আসনে জয়ী হন। বিএনপি এ নির্বাচন বয়কট করে।

চতুর্থ সংসদ নির্বাচন:

১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ অনুষ্ঠিত হয় চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ সংসদের মেয়াদ ছিল দুই বছর সাত মাস।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দল এ নির্বাচন বর্জন করে। এটি ছিল আওয়ামী লীগের প্রথমবার কোনো নির্বাচনের বাইরে থাকা। এ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ২৫১টি আসন পেয়ে জয়লাভ করে। ১৯টি আসন পেয়ে সংসদে বিরোধী দল হয় সম্মিলিত বিরোধী দল (কপ)।

পঞ্চম সংসদ নির্বাচন:

১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি প্রথম কোনো অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে দেশে সংসদ নির্বাচন হয়। পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ১৪০টি আসন পেয়ে জয়ী হয়। অন্য দলগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগ ৮৮টি, জাতীয় পার্টি ৩৫টি এবং জামায়াতে ইসলামী ১৮টি আসনে জয়ী হয়। এই সংসদের মেয়াদ ছিল চার বছর আট মাস।

ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচন:

১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ সংসদের মেয়াদ ছিল মাত্র ১১ দিন।

তৎকালীন সরকারি দল বিএনপির অধীনে হওয়া এ নির্বাচন বয়কট করে আওয়ামী লীগ, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টিসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল। এটি ছিল আওয়ামী লীগের দ্বিতীয়বার নির্বাচনের বাইরে থাকা।

এ নির্বাচনে বিএনপি ২৭৮টি আসনে জয়লাভ করে। এর মধ্যে ৪৯টি আসনে বিএনপি প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হন। ১টি আসনে ফ্রিডম পার্টি, ১০টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হন, ১০টি আসনের ফলাফল অসমাপ্ত ছিল এবং একটি আসনের নির্বাচন আদালতের আদেশে স্থগিত হয়।

সপ্তম সংসদ নির্বাচন:

১৯৯৬ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত হয় সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এটি ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ সংসদের মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর।

এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৪৬টি আসনে জয়লাভ করে। অন্য দলগুলোর মধ্যে বিএনপি ১১৬টি, জাতীয় পার্টি ৩২টি এবং জামায়াতে ইসলামী তিনটি আসনে জয়ী হয়।

অষ্টম সংসদ নির্বাচন:

২০০১ সালের ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয় অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ সংসদের মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর।

এ নির্বাচনে ১৯৩টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। অন্য দলগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগ ৬২টি, জামায়াতে ইসলামী ১৭টি এবং জাতীয় পার্টি ও ইসলামী জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ১৪টি আসনে জয়ী হয়।

নবম সংসদ নির্বাচন:

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এটি ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ ভোট। এ সংসদের মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর।

এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৩০টি আসন পেয়ে জয়লাভ করে। অন্য দলগুলোর মধ্যে বিএনপি ৩০টি, জাতীয় পার্টি ২৭টি এবং জামায়াতে ইসলামী ২টি আসনে জয়ী হয়।

দশম সংসদ নির্বাচন:

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ সংসদের মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর। এই নির্বাচন ‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচন’ নামে পরিচিত।

আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দল।

এ নির্বাচনে মোট ১২টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। আওয়ামী লীগ একাই ২৩৪টি আসন পায়, যার মধ্যে ১৫৩টি আসন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।

অন্য দলগুলোর মধ্যে জাতীয় পার্টি ৩৪টি, ওয়ার্কার্স পার্টি ৬টি, জাসদ (ইনু) ৫টি, তরীকত ফেডারেশন ২টি, জাতীয় পার্টি (জেপি) ২টি, বিএনএফ ১টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১৬টি আসনে জয়লাভ করে।

একাদশ সংসদ নির্বাচন:

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ সংসদের মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর। এই সংসদ নির্বাচনটি ‘রাতের ভোট’ নামে পরিচিত।

এ নির্বাচনে নিবন্ধিত ৩৯টি দলের সবাই অংশ নেন। নিবন্ধন না থাকায় অংশ নিতে পারেনি জামায়াতে ইসলামী।

এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এককভাবে ২৫৮টি আসন পায়। জাতীয় পার্টি ২২টি এবং মহাজোটভুক্ত অন্য দলগুলো ৮টি আসনে জয়ী হয়। অপরদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টভুক্ত বিএনপি ৬টি, গণফোরাম ২টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৩টি আসনে জয়ী হন।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন:

২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচন বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট বয়কট করেছিল (জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন ছিল না)।

২০১৪ সালের মতো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা যাতে জয়ী না হয়, সে জন্য অভিনব কৌশল নেয় আওয়ামী লীগ। ডামি প্রার্থী হিসেবে নিজ দলের নেতাদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করায় দলটি। এই নির্বাচনটি ‘ডামি নির্বাচন’ নামে পরিচিত।

এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২২২টি আসন, জাতীয় পার্টি (জাপা) ১১টি আসন এবং জাসদ, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি একটি করে আসন জয়ী হয়। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন ৬২ জন, যাদের প্রায় সবাই আওয়ামী লীগ নেতা।

এই সংসদের মেয়াদ ছিল মাত্র সাত মাস। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয় এবং দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এরপর থেকে দেশ পরিচালনা করছে অন্তর্বর্তী সরকার। এই সরকারের অধীনে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

সূত্র : বাংলানিউজ২৪

বোয়ালমারীতে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ গেল বৃদ্ধার

বোয়ালমারী প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৭:১০ অপরাহ্ণ
বোয়ালমারীতে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ গেল বৃদ্ধার

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ট্রেনের ধাক্কায় রহিমা বেগম (৯০) নামে এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন। 

শনিবার (৮ আগস্ট) বিকাল ৩টার দিকে উপজেলার শেখর ইউনিয়নের শেখর বাজারসংলগ্ন অরক্ষিত রেলক্রসিং এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত রহিমা বেগম উপজেলার দিঘিরপাড় গ্রামের মৃত লুৎফর রহমানের স্ত্রী।

রেলওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকালের দিকে রহিমা বেগম রেললাইনের ওপর দিয়ে হাঁটছিলেন। এ সময় পাংশা থেকে গোপালগঞ্জের ভাটিয়াপাড়াগামী ভাটিয়াপাড়া এক্সপ্রেস ট্রেনটি ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় তাঁকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

স্থানীয়রা জানান, রহিমা বেগম মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন এবং কানে কম শুনতেন।

খবর পেয়ে বোয়ালমারী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সরল কুমার বিশ্বাস ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন এবং রাজবাড়ী রেলওয়ে থানাকে বিষয়টি জানান।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রাজবাড়ী রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে রেলওয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সালথায় পাট শুকানোর আড়া বাঁধাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ১০

জাকির হোসেন, সালথা:
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১৬ অপরাহ্ণ
সালথায় পাট শুকানোর আড়া বাঁধাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুরের সালথায় পাট শুকানোর জন্য বাঁশের আড়া বাঁধাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় কয়েকটি বসতবাড়ি ও একটি দোকান ভাঙচুর করা হয়েছে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত দশজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে গুরুতর কয়েকজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শুক্রবার (৮ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের জুগিকান্দা গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় বশির মাতুব্বরের বসতবাড়ির পাশে একটি মসজিদের সামনে পাট শুকানোর জন্য বাঁশ দিয়ে আড়া বাঁধেন হবি মেম্বারের সমর্থক হাবিবুর রহমান। এতে মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিদের চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হয়। পরে মুসল্লিরা বাঁশের ওই আড়া খুলে দেন।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হবি মাতুব্বরের সমর্থকরা বশির মাতুব্বরকে আড়া খুলে ফেলার জন্য দায়ী করেন। একপর্যায়ে তারা বশির মাতুব্বরের বাড়িতে হামলার চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের লোকজন জড়ো হন। পরে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়।

সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। এ সময় কয়েকটি বসতবাড়ি ও একটি দোকান ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় কয়েকজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একটি বাঁশের আড়া খোলাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধ দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে সালথা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে

এ বিষয়ে হাবিবুর রহমান (হবি মেম্বার) বলেন, পাটের আড়া বাঁধাকে কেন্দ্র করে একটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে জানতে পেরেছি। এর বাইরে আমি কিছু জানিনা। তবে আহত হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমার সমর্থকদের মধ্যে ৪ থেকে ৫ জন আহত হয়েছে।

বছির মাতুব্বর বলেন, বাঁশের আড়া খোলার সাথে সংশ্লিষ্টতা না থাকলেও আমাকে দায়ী করে আমার বসতবাড়ীতে হামলা চালায়। এময় আমার স্ত্রীসহ কয়েকজন আহত হয়। বর্তমানে আমার স্ত্রী হাসপাতালে ভর্তি আছে।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান খান বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে আমিসহ পুলিশের একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। বর্তমানে ঐ এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‘সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করলে নগরকান্দাকে ভোক্তাবান্ধব উপজেলা গড়া সম্ভব’

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৫:১৯ অপরাহ্ণ
‘সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করলে নগরকান্দাকে ভোক্তাবান্ধব উপজেলা গড়া সম্ভব’

ফরিদপুরের নগরকান্দায় কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) উপজেলা শাখার নবগঠিত কমিটির পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে নগরকান্দা মডেল মসজিদের মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করা হয়। এতে ক্যাবের নবগঠিত উপজেলা কমিটির সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ, নিরাপদ পণ্য ও সেবা নিশ্চিতকরণ, বাজারে স্বচ্ছতা এবং ভোক্তা সচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

ক্যাবের নগরকান্দা উপজেলা শাখার সভাপতি এহসানুল হক মিয়ার সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মাহমুদুল হাসান, ক্যাব ফরিদপুর জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক তারেক আইয়ুব খাঁন ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নাজমুল আলম পারভেজ।

বক্তারা বলেন, বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, খাদ্যে ভেজাল, কম ওজনে পণ্য বিক্রি, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বাজারজাতকরণসহ বিভিন্ন অনিয়ম ভোক্তাদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় শুধু প্রশাসনিক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; এর পাশাপাশি প্রয়োজন সচেতন ভোক্তা, দায়িত্বশীল ব্যবসায়ী এবং সক্রিয় সামাজিক সংগঠন। ভোক্তার অধিকার নিশ্চিত করতে ক্যাবের উপজেলা কমিটিকে প্রশাসন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।

বক্তারা আরও বলেন, ক্যাব দীর্ঘদিন ধরে ভোক্তার অধিকার, নিরাপদ পণ্য ও সেবা, ন্যায্যমূল্য, বাজারব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং ভোক্তা সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করে আসছে। নবগঠিত নগরকান্দা উপজেলা কমিটির সদস্যদের ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। স্কুল-কলেজ, হাট-বাজার ও বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ভোক্তা অধিকার সম্পর্কে জানাতে হবে।

এ সময় ব্যবসায়ীদের প্রতি ন্যায্য দামে মানসম্মত পণ্য বিক্রি এবং ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা না করার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা বলেন, একজন সন্তুষ্ট ভোক্তাই একজন ব্যবসায়ীর সবচেয়ে বড় সম্পদ। তাই ব্যবসা পরিচালনায় সততা ও নৈতিকতা বজায় রাখা প্রয়োজন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান মুকুল, ক্যাবের জেলা কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি আশরাফুজ্জামান দুলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক অসিত কুমার নাগ, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম ফরহাদ, কোষাধ্যক্ষ রবিউল হাসান রাজিব, নির্বাহী সদস্য মো. সেন্টু মিয়া, নগরকান্দা বাজার বণিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামছুল হুদা হুদু, নগরকান্দা পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মুফতি মুস্তাফিজুর রহমান, নগরকান্দা প্রেসক্লাবের সভাপতি শওকত আলী শরীফ, শহীদ আকরুমুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুব আলী মিয়াসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।

উল্লেখ্য, কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) একটি বেসরকারি, অলাভজনক, স্বেচ্ছাসেবী ও ভোক্তা অধিকারভিত্তিক নাগরিক সংগঠন। ১৯৭৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রতিষ্ঠিত সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে ভোক্তার অধিকার রক্ষা, বাজারদর পর্যবেক্ষণ, নিরাপদ খাদ্য ও পণ্যের পক্ষে প্রচারণা, ভোক্তা শিক্ষা, গবেষণা, জরিপ এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সুপারিশ ও অ্যাডভোকেসির কাজ করে আসছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সংগঠনটি ভোক্তা অধিকার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত।