খুঁজুন
রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৫ মাঘ, ১৪৩২

পবিত্র রমজানের আগেই যেসব প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:০৯ এএম
পবিত্র রমজানের আগেই যেসব প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি?

রমজানের আগে যেসব প্রস্তুতি গ্রহণ জরুরিবছর পরিক্রমায় রহমত, বরকত, মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে আবারও আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে মহিমান্বিত রমজান। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) থেকে শুরু হতে পারে এ বছরের প্রথম রোজা। 

অফুরন্ত বরকতের মাস রমজানে মুমিন-মুসলমান সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও প্রবৃত্তি সংযমের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধির অনুশীলনে আত্মনিয়োগ করেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন, كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ يُضَاعَفُ، الْحَسَنَةُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا إِلَى سَبْعِمِائَةِ ضِعْفٍ، قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: إِلَّا الصَّوْمَ، فَإِنَّهُ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ، يَدَعُ شَهْوَتَهُ وَطَعَامَهُ مِنْ أَجْلِي

অর্থ: ‘মানুষের প্রত্যেক আমলের প্রতিদান বৃদ্ধি করা হয়।

একটি নেকির সওয়াব দশ গুণ থেকে সাতাশ গুণ পর্যন্ত। আল্লাহ তাআলা বলেন, কিন্তু রোজা আলাদা। কেননা তা একমাত্র আমার জন্য এবং আমি নিজেই এর বিনিময় প্রদান করব। বান্দা একমাত্র আমার জন্য নিজের প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করেছে এবং পানাহার পরিত্যাগ করেছে’।(বুখারি ১৯০৪, মুসলিম ১১৫১, মুসনাদে আহমদ ৯৭১৪)

সাহাবায়ে কেরাম (রা.) রমজানের আগমনের জন্য বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণ করতেন। তারা ৬ মাস আগে থেকেই আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন— যেন তিনি তাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দেন। আবার রমজান শেষে পরবর্তী ৬ মাস দোয়া করতেন— যেন আল্লাহ তাদের রোজা ও ইবাদত কবুল করেন। ফলে তাদের জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে রমজানের ছোঁয়া লেগে থাকত।

(আসরারুল মুহিব্বিন ফি রামাজান: ৪২)

অতএব, একজন সচেতন মুমিনের জন্য রমজানের অবিরাম কল্যাণ লাভে এখন থেকেই প্রস্তুতি গ্রহণ করা অপরিহার্য। কারণ, কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজের উত্তম প্রস্তুতিই সেই কাজের অর্ধেক সফলতা। তাই রমজান আসার আগে এখন থেকেই নিতে হবে যেসব প্রস্তুতি, তা তুলে ধরা হলো—

(১) দৃঢ় প্রতিজ্ঞা গ্রহণ

রমজান শুরুর আগেই অন্তরে দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করতে হবে— এই রমজান হবে জীবনের মোড় ঘোরানো এক অধ্যায়। আজীবন যত গুনাহ ও ভুল হয়েছে, এ মাসেই মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তাআলার পূর্ণ ক্ষমা অর্জনের চেষ্টা করতে হবে এবং সর্বোচ্চ সাওয়াব হাসিল করতে হবে। প্রতিটি মুমিনের জন্য এমন প্রতিজ্ঞা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।

(২) তাওবাহ ও ইসতেগফারে অভ্যস্ত হওয়া
রমজানের আগে বছরজুড়ে সংঘটিত সব ভুল-ত্রুটির জন্য আন্তরিক তাওবাহ ও ইসতেগফার করা আবশ্যক। কেউ যেন এ ধারণা না করে যে, ‘রমজান এলেই সব গুনাহ আপনাতেই মাফ হয়ে যাবে’। বাস্তবে তা নয়। বরং আগেভাগেই তাওবাহ করে নিজেকে প্রস্তুত করলে রমজানের কল্যাণ পূর্ণভাবে লাভ করা যায়। এ জন্য বেশি বেশি পড়তে হবে—

اَللَّهُمَّ اغْفِرْلِىْ

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মাগফিরলি’।

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করে দিন’।

(৩) কাজা রোজা আদায় করে নেওয়া
পূর্ববর্তী রমজানের কোনো রোজা কাজা হয়ে থাকলে চলতি রমজান শুরুর আগেই তা আদায় করা উত্তম। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে ভাঙতি রোজা থাকার সম্ভাবনা বেশি। তাই শাবান মাসেই এসব কাজা রোজা পূর্ণ করে নেওয়া শ্রেয়।

(৪) রমজানের ফজিলত ও উপকারিতা জানা
রমজান সম্পর্কে কোরআনুল কারিম ও সুন্নায় বর্ণিত ফজিলত, মর্যাদা ও উপকারিতাগুলো আগে থেকেই জেনে নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি এসব কল্যাণ লাভের জন্য কোরআন-সুন্নাহর নির্দেশনা অনুযায়ী চলার মানসিক প্রস্তুতিও গ্রহণ করতে হবে। এ সময় বেশি বেশি এ দোয়া পড়া—

اَللَّهُمَّ بَلِّغْنَا رَمَضَانَ

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা বাল্লিগনা রামাদান’।

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন’।

(৫) সাধারণ ক্ষমা পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন
রমজান মাসে আল্লাহ তাআলা অসংখ্য বান্দাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন। তবে এ সাধারণ ক্ষমা সবার জন্য নয়। এ জন্য ২টি মারাত্মক ব্যাধি থেকে মুক্ত থাকতে হবে—

(১) শিরক থেকে মুক্ত থাকা: ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত, ছোট বা বড়—সব ধরনের শিরক থেকে তাওবাহ করে ফিরে আসা।

(২) হিংসা পরিহার করা: হিংসা মানুষের নেক আমল এমনভাবে ধ্বংস করে দেয়, যেমন আগুন কাঠ পুড়িয়ে দেয়।

তাই ক্ষমা পেতে হলে অন্তরকে এসব অপবিত্রতা থেকে পরিষ্কার করা জরুরি।

(৬) ফরজ রোজার মাসআলা-মাসায়েল জানা
রমজান শুরুর আগে রোজা সংক্রান্ত ফরজ, ওয়াজিব, মাকরুহ ও ভঙ্গের কারণগুলো ভালোভাবে জেনে নেওয়া দরকার। এতে রোজা পালনে ভুল হওয়ার আশঙ্কা কমে যায় এবং ইবাদত হয় বিশুদ্ধ।

(৭) শাবান মাসে রমজানের মহড়া দেওয়া
শাবান মাসজুড়ে বেশি বেশি নফল রোজা রাখা, কুরআন তেলাওয়াত, নফল নামাজ, তাওবাহ-ইসতেগফার, দান-সদকা ও ত্যাগের মানসিকতা তৈরি করা উচিত। এতে রমজানে ইবাদতের গতি ও গভীরতা বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।

(৮) পূর্ববর্তী রমজানের ঘাটতি চিহ্নিত করা
আগের রমজানে যেসব নেক আমল নিয়মিত করা সম্ভব হয়নি— তার কারণ খুঁজে বের করা জরুরি। যেমন—

> নিয়মিত কুরআন তেলাওয়াত না হওয়া

> তারাবিহ আদায় না করা

> দান-সহযোগিতা না করা

> ইতেকাফ না করা

> রোজাদারকে ইফতার করাতে না পারা

এসব ঘাটতি চিহ্নিত করে আসন্ন রমজানে তা পূরণে আগেভাগে প্রস্তুতি নিতে হবে।

(৯) রমজানের ২৪ ঘণ্টার সম্ভাব্য রুটিন তৈরি করা
রমজানের প্রতিটি মুহূর্ত কীভাবে ব্যয় হবে— তার একটি বাস্তবসম্মত রুটিন আগে থেকেই করে নেওয়া উপকারী। এতে ব্যস্ততার মাঝেও ইবাদত ও দুনিয়াবি কাজ—সবই ইবাদতে পরিণত করা সম্ভব হয়।

(১০) রমজানের চাঁদ অনুসন্ধানে সুন্নাত জীবিত করা
শাবান মাসের ২৯ তারিখ সন্ধ্যায় রমজানের চাঁদ অনুসন্ধান করা সুন্নত। বর্তমানে অনেকেই শুধু ঘোষণা শোনার অপেক্ষায় থাকেন, ফলে চাঁদ দেখা ও সংশ্লিষ্ট দোয়ার সুন্নত থেকে বঞ্চিত হন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজে চাঁদ দেখতেন এবং সাহাবিদেরও দেখতে বলতেন। নতুন চাঁদ দেখলে তিনি এ দোয়া পড়তেন, اَللهُ اَكْبَرُ اَللَّهُمَّ أَهِلَّهُ عَلَيْنَا بِالْأَمْنِ وَ الْاِيْمَانِ وَالسَّلَامَةِ وَ الْاِسْلَامِ وَ التَّوْفِيْقِ لِمَا تُحِبُّ وَ تَرْضَى رَبُّنَا وَ رَبُّكَ الله

উচ্চারণ: ‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু আলাইনা বিল আমনি ওয়াল ইমানি ওয়াসসালামাতি ওয়াল ইসলামি ওয়াত্তাওফিকি লিমা তুহিব্বু ওয়া তারদা, রাব্বুনা ওয়া রাব্বুকাল্লাহ’।

অর্থ: আল্লাহ মহান। হে আল্লাহ! এ নতুন চাঁদকে আমাদের জন্য নিরাপত্তা, ইমান, শান্তি ও ইসলামের সঙ্গে উদয় কর। আর যা তুমি ভালোবাস ও যাতে তুমি সন্তুষ্ট হও—সেই কাজের তৌফিক দাও। আমাদের ও তোমার রব একমাত্র আল্লাহ। (তিরমিজি: ৩৪৫১, মিশকাত: ২৪২৮)

 

‎‘দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত এলাকা গড়তে চাই’ : শামা ওবায়েদ

ফরিদপুর ও সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:১০ এএম
‎‘দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত এলাকা গড়তে চাই’ : শামা ওবায়েদ

ফরিদপুর-২ (সালথা–নগরকান্দা) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু বলেছেন, ধানের শীষ হচ্ছে উন্নয়নের প্রতীক। এই প্রতীকে জয়ী হলে সালথা–নগরকান্দা এলাকায় শিল্পায়ন ও ব্যাপক কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

‎শনিবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের আড়ুয়াকান্দী গ্রামে নুরুদ্দীন মাতুব্বরের বাড়িতে আয়োজিত নির্বাচনী প্রচারণা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‎শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু বলেন, “আপনাদের বোন হিসেবে আমি ওয়াদা করছি—রাস্তা হবে, ব্রিজ ও কালভার্ট হবে, হাসপাতাল হবে। আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল গড়ে তোলা হবে এবং এই অঞ্চলে শিল্পকারখানা স্থাপন করা হবে, যাতে আমার ভাই-বোনেরা এখানেই চাকরি পায়।”

‎ভোটের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “রাতে ১২টার পর গ্রামে যেসব লোক ঢোকে, তারা সাধারণত ভালো উদ্দেশ্যে আসে না। তাই ভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্রাম পাহারা দিতে হবে। ১১ তারিখ থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত—রেজাল্ট শিট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত—ধানের শীষের একটি ভোটও কবজের মতো করে রক্ষা করতে হবে।”

‎তিনি আরও বলেন, “আমি সংসদ সদস্য হতে পারলে এলাকার জনগণই হবে উন্নয়নের প্রধান শক্তি। এলাকার মানুষই সমস্যার সমাধান করবে। জনগণই সালথা–নগরকান্দা পরিচালনা করবে। আমরা চাই দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত সালথা–নগরকান্দা।”

‎গট্টি ইউপি সদস্য নুরুদ্দীন মাতুব্বরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মোদাররেস আলী ইছা, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. আছাদ মাতুব্বর, উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার খায়রুল বাসার আজাদ, সাবেক গট্টি ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হোসেন তারা মিয়া, রেজাউর রহমান চয়ন মিয়া, ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান লাভলু, গট্টি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি বিল্লাল মাতুব্বর, বিএনপি নেতা নূর মোহাম্মদ নুরু, আব্দুর রব, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন, যুবদল নেতা তৈয়বুর রহমান মাসুদ, মিরান হুসাইনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

তরুণ ভোট থেকে নৌকার সমর্থন—যে সমীকরণ বদলে দিতে পারে নির্বাচনের হিসাব?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৪৮ এএম
তরুণ ভোট থেকে নৌকার সমর্থন—যে সমীকরণ বদলে দিতে পারে নির্বাচনের হিসাব?

“আমরা একটা সুরক্ষিত বাংলাদেশ চাই। নারী পুরুষ জনগণ সবার জন্য ভাল চাই। জামায়াত আসুক, এনসিপি আসুক, স্বতন্ত্র কেউ হোক বা বিএনপি আসুক যেটাই হোক- আমাদের সবগুলো অধিকার যাতে পুরণ হয়।”

এই মন্তব্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফারজানা আক্তারের। এবারই প্রথম জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেবেন তিনি।

এই নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু কী হবে, এ প্রশ্নে বিবিসি বাংলাকে ফারজানা বলেন, “নিরাপত্তা, দ্রব্যমূল্য এবং দেশের সংস্কার। এছাড়া আমাদের যে বাক স্বাধীনতা, ওইটা যেন এখনের মত ঠিক থাকে- এটাই আমরা চাই। আর আমাদের যাতে মেয়ে হিসেবে নিরাপত্তাটা নিশ্চিত করা হয়।”

এবার নির্বাচনে ফারজানার মতো ভোটার আছে মোট ভোটের তিনভাগের একভাগ। বিগত তিনটি নির্বাচনে অনিয়ম এবং একতরফা ভোটের কারণে এবার তরুণ ভোটারদের একটা বড় অংশ ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

ফারাজানার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আড্ডায় ছিলেন ফারহানা খানম। তরুণদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু কী এ প্রশ্নে স্বল্প কথায় তার জবাব ছিল-

“যাতে নারীদেরকে সুন্দর চোখে দেখে, সেইফ থাকে, দুর্নীতি যাতে কম হয়, রেইপ যাতে কম হয়।”

দ্বিতীয় বর্ষের একজন ছাত্র বলছেন, “বেকার যারা আছে, তাদের চাকরির সুযোগ, যারা ব্যবসা করতে চায় তরুণ, তাদের উদ্বুদ্ধ করা, ঋণ দেয়া। সম্পূর্ণ দুর্নীতি মুক্ত চাইতেছে তরুণরা এরপর ঘুষ ছাড়া চাকরি।”

ভোটের আগে বাংলাদেশে এগুলোই মোটামুটি সার্বজনীন ইস্যু। শিক্ষার্থীদের কথায় দেশের আপামর মানুষের প্রত্যাশারই একটা প্রতিফলন রয়েছে। এই তরুণরাই চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

তরুণদের একটা আক্ষেপ দেখা গেল অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে। অনেকে বলছেন, এ সরকার তাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারজানার কথায়, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যে পদক্ষেপগুলা ওইটার মধ্যেও বেশি একটা পরিবর্তন দেখা গেল না। সবাই এমন একটা ভাব করতেছে যে আমলা, সচিব বা সামরিক বাহিনীর কারণে চেঞ্জগুলো হলো না। ইন দ্য এন্ড রাষ্ট্রের অবকাঠামো ভেতরের দিক থেকে আমাদের যে ন্যায্য দাবিটা ছিল, ভেতর থেকে সংস্কারটা হবে সেটা হলো না।”

তরুণ ভোট ফ্যাক্টর

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে তরুণ ভোট জয়-পরাজয়ে বড় ফ্যাক্টর হবে বলে অনেকেই মনে করছেন।

এই তরুণ ভোটারদের ভাবনায় কী আছে, সেটি নির্বাচন ছাড়া বোঝা অসম্ভব। কারণ বিগত তিনটি নির্বাচনে ভোটের প্রকৃত চিত্র সামনে আসেনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ তরুণ ভোট নিয়ে বলেন, এই ভোট নির্বাচনে জয় পরাজয়ে প্রধান নিয়ামক হবে।

“তারা বিপুল সংখ্যায়, তারা প্রথমবারের মতো ভোট দিতে যাচ্ছে এবং তাদের মনে কী আছে আমরা জানি না। বিএনপির মধ্যে অনেক তরুণ আছে, জামায়াতের মধ্যেও অনেক তরুণ আছে। ছাত্র সংসদ নির্বাচনগুলিতে আমরা একধরনের প্রবণতা আমরা দেখেছি। মাদ্রাসাগুলিতে এক ধরনের প্রবণতা আছে। কাজে তরুণ ভোটাররা তাদের টার্ন আউটটা বেশি হবে।”

এ বিষয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. রওনক জাহান বিবিসি বাংলাকে বলেন, তারাতো (তরুণ ভোটার) আগে ভোট দেন নাই অতএব তাদের ভোটিং প্যাটার্ন নিয়ে কোনো ধারণা কারো নেই।

“সেইজন্যই এইবারের নির্বাচনটা সবথেকে বেশি আনসার্টন সবার কাছে মনে হচ্ছে। কারণ তারা হচ্ছে থার্টি পার্সেন্ট অব ভোটারস, এবং তাদের ভোটিং পার্সেন্টেজ অনেক বেশি হবে, তাদের ভোটিং রেকর্ডজ কিছু নাই কোনদিকে তারা ভোট দিবে। এছাড়া তাদের খুবই হাই এক্সপেকটেশন আছে এবং তারা নতুন বাংলাদেশ করতে চান।”

নারী ও নিরাপত্তা

বাংলাদেশের ভোটারদের মধ্যে অর্ধেকই হলো নারী। এই ভোট বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হবে। তবে এর সঙ্গে নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও বিশেষ গরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

মহিউদ্দিন আহমদের কথায়, নারীরাও কিন্তু একটা সমীকরণ পাল্টে দিতে পারে।

“তাদের বিপুল উপস্থিতি যদি হয় এবং সেভাবে যদি একটা অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা যায় তাহলে এটা নির্বাচনকে প্রভাবিত করবে। এখন নারীদের উপস্থিতি অনেকটা নির্ভর করবে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপরে। গোলমালের আশঙ্কা থাকলে তারা অনেকেই যাবেন না। হ্যারাসড হতে চান না কেউ।”

ভোটের দিন পরিস্থিতি কেমন হয়, সেটি নির্বাচনে প্রভাব ফেলে। ভোটার উপস্থিতিতেও নিরাপত্তার ইস্যুটি গুরুত্বপূর্ণ হবে। এরই মধ্যে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী জোটের শীর্ষ নেতাদের নির্বাচনী প্রচারে ভোট কেন্দ্র পাহারা দেয়ার আহ্বান জানাতে দেখা যাচ্ছে যা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রওনক জাহান।

” অলরেডি যেসব কথাবার্তা বলা হচ্ছে আপনারা সকালে গিয়ে ভোটকেন্দ্র পাহারা দেন। এখন যদি দুইটা বড় অ্যালায়েন্স তাদের দুই দলেরই কর্মী যদি গিয়ে ভোট কেন্দ্র পাহারা দিতে যায় চেষ্টা করে এবং করবে হয়তো বা তখন যে একটা মুখোমুখী সংঘর্ষ হবে না সেটাতো বলা যাচ্ছে না। আর যদি সকালের দিকে এরকম একটা সংঘর্ষ হয় তাহলে তো নারী ভোটাররা ভয়ের চোটে আসতে চাইবে না।”

বিভিন্ন স্থানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের কর্মী সমর্থকরা দন্দ্বে জড়িয়ে পরছেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রওনক জাহান মনে করেন, নির্বাচনে নিরাপত্তা নিয়ে এবং সহিংসতা নিয়ে দুটি গ্রুপের উদ্বেগ সবচেয়ে বেশি। প্রথমত নারী এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়।

ফ্যাক্টর নৌকার ভোট

এবার নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। তাদের ভোটব্যাংক নিয়ে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর মধ্যে একটা প্রতিযোগিতা দেখা যাচ্ছে। নৌকার ভোটাররা অনেক আসনে বড় ফ্যাক্টর হতে পারে বলেও বিশ্লেষণ রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ মনে করেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িতরা ভোটকেন্দ্রে যাবেন না। তবে সমর্থকরা যাবেন সেক্ষেত্রে ভোট দেয়ার ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব বিবেচনাই কাজ করবে।

“আওয়ামী লীগকে আগে যারা ভোট দিত মনে করেন আওয়ামী লীগকে যারা ২০০৮ পর্যন্ত ভোট দিয়েছে এর পরেতো ভোট হয় নাই। তো তারা দেখবে অনেকে নানান বিবেচনা কাজ করবে, আমরা যদি ম্যাক্রো লেভেলে চিন্তা করি তাইলে হয়তো তারা চিন্তা করবে যে কম ক্ষতিকর তাকে হয়তো তারা ভোট দিবে। এখন তাদের চোখে যদি মন্দের ভালো হয় বিএনপি তাকে তারা ভোট দিবে যদি তারা যদি মনে করে মন্দের ভালো জামায়াতে ইসলামী তাকে তারা ভোট দেবে।”

এ ব্যাপারে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রওনক জাহানের মত, নৌকার সমর্থক ভোটারদের ভোট কিছু কিছু আসনে জয় পরাজয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তার মূল্যায়ন নৌকার সঙ্গে প্রবাসী ভোট ক্ষেত্র বিশেষে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

“যদি বিশ হাজার ভোটের মারফতে সিট এদিক সেদিক হতে পারে সেক্ষেত্রে প্রবাসী ভোট একটা ভূমিকা রাখতে পারে। সেরকমভাবে আমি বলবো আওয়ামী লীগ যে সাপোর্ট আছে ট্রেডিশনাল আওয়ামী লীগ সাপোর্ট সেগুলো কোনো কোনো আসনে ওইভোটগুলা মার্জিন-এই যে টেন পার্সেন্ট এডিশনাল ভোট যদি পড়ে সেটাই জয় পরাজয় নির্ধারণ করবে।”

রওনক জাহানের মতে, এবার নির্বাচনে ধর্মের ব্যবহার প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার প্রচারণাও ভোটের দিনেও প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ হিসেবে তিনি বলছেন অতীতে কোনো নির্বাচনে সোশ্যাল মিডিয়ার রোল এতটা প্রাধান্য ছিল না।

“এখন সোশ্যাল মিডিয়া এআই জেনারেটেড অনেক মিথ্যা খবর ছড়িয়ে দেয়া হবে, আরো বেশি কাদা ছোড়াছুড়ি হবে এবং সেদিন যে আসলে সহিংসতা না হলেও সহিংসতা হচ্ছে- এরকম নানান কিছু প্রচার বা অপপ্রচার হবে। এবং সেগুলোর বিরুদ্ধে কাউন্টার করার জন্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ইসি তাদের কী ধরনের প্রস্তুতি আছে- সেটা বলা যাচ্ছে না। এখন পর্যন্ত যেটা দেখা যাচ্ছে যে, কোঅর্ডিনেটেডভাবে কাজ হচ্ছে না।”

সূত্র : বিবিসি বাংলা

আপনি কি ঝুঁকিতে? হার্ট অ্যাটাক কাদের বেশি হয়

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:২৯ এএম
আপনি কি ঝুঁকিতে? হার্ট অ্যাটাক কাদের বেশি হয়

যদি আপনার পরিবারে কোলেস্টেরল থাকে তাহলে আপনারও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি থাকবে। কারণ কোলেস্টেরলের সঙ্গে হার্টের অসুখের একটা সম্পর্ক আছে। শুধু তাই নয়, একেবারে প্রত্যক্ষভাবেই আছে। 

আপনি বাইরে থেকে একদম সুস্থ আছেন। শুধু জোরে হাঁটাহাঁটি বা সিঁড়ি ভাঙলে হাঁপিয়ে উঠছেন। এটি অবশ্য কমবেশি সবারই হয়— এমনটি ভাবছেন, নির্ভার থাকছেন। কিন্তু আপনি বুঝতে পারছেন না চুপিসারে রক্তে কখন মিশে গেছে একগাদা খারাপ কোলেস্টেরল। ‘এলডিএল’ বা লো ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিনকেই খারাপ কোলেস্টেরল বলে, যা নাকি জিনগতভাবে পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যেও আসতে পারে। তাই সতর্ক থাকতেই বলা হয়। কখন বুঝবেন সতর্ক হওয়ার সময় এসেছে?

রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়লে তা হৃদরোগের ঝুঁকি নিশ্চিতভাবেই বাড়িয়ে দেয়। এ কোলেস্টেরল বৃদ্ধির বিষয়টিও আবার অনেক ক্ষেত্রেই বংশানুক্রমিক হয়ে থাকে। দাদা-দাদি কিংবা বাবা-মায়ের থেকে ছেলেমেয়েদেরও হাইপার কোলেস্টেরল হওয়ার আশঙ্কা থাকে কম বয়স থেকেই। তবে সেটি পরীক্ষা ছাড়া চট করে বোঝা সম্ভব হয় না। সেই না-বোঝা থেকেই অনেক সময়ে বিপদ ঘটে যায়।

এ বিষয়ে হার্টের চিকিৎসক সুশান মুখোপাধ্যায় বলেছেন, পরিবারে যদি হাইপার কোলেস্টেরলের ইতিহাস থেকে থাকে, তাহলে কম বয়স থেকেই, এই যেমন— ২০-২৫ বছর থেকেই রক্তপরীক্ষার মাধ্যমে কোলেস্টেরলের পরিমাণ পরীক্ষা করা উচিত।

লিপিড প্রোফাইল টেস্ট করে খুব সহজেই দেখা যেতে পারে কোলেস্টেরল স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি কিনা। কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়া মানেই ধরে নেওয়া হয়— হার্টের অবস্থা ভালো নেই। আর হৃদরোগ হানা দিতে পারে যখন-তখন। প্রত্যেকের শরীরে রয়েছে অজস্র ধমনি। শরীরে যেমন মেদ জমছে, ঠিক তেমনই এই ধমনিগুলোতেও মেদ জমে যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে যাকে বলা হয় অ্যাথেরোসক্লেরোসিস। এর জন্য কোলেস্টেরলকেই দায়ী করা হয়ে থাকে।

সে জন্য আপনার সতর্ক হওয়া উচিত। ২০ বছরের পর থেকেই সতর্ক হওয়া খুবই জরুরি। আবার যদি স্থূলত্ব বা ডায়াবেটিস কম বয়স থেকেই থাকে, তাহলে একদমেই দেরি করা চলবে না। সবচেয়ে আগে সি-রিঅ্যাকটিভ প্রোটিন টেস্ট করিয়ে নিতে হবে।

আবার অনেক সময়েই দেখা যায়, রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা স্বাভাবিক আছে। অথচ হৃদরোগ বা স্ট্রোক ঘটল। এর কারণ হলো ওই প্রোটিন। কারণ রক্তে প্রোটিনের পরিমাণ বেড়ে গেলে প্রদাহ এতটাই বাড়বে, যা রক্ত চলাচলে ক্রমাগত বাধা দিতে থাকে। রক্তে সি-রিঅ্যাকটিভ প্রোটিনের মাত্রা প্রতি ডেসিলিটারে ১ মিলিগ্রাম বা তার কম হলে হৃদরোগের ঝুঁকি কম। আর যদি তা প্রতি ডেসিলিটারে ৩ মিলিগ্রাম বা তার বেশি হয়ে যায়, তখন বুঝতে হবে চিন্তার কারণ আছে।

সেই সঙ্গেই হিমোসিস্টিন রক্ত পরীক্ষা করাতে হবে। এটি এক ধরনের অ্যামাইনো অ্যাসিড, যা খাবারের বিপাকের সময়ে তৈরি হয়। ভিটামিন বি-র সঙ্গে মিশলে হিমোসিস্টিন বদলে গিয়ে বি৬, বি১২ ও ফোলিক অ্যাসিড তৈরি করে। কিন্তু গোলমালটা বাধে, যখন এই অ্যামাইনো অ্যাসিডের মাত্রা অনেকটা বেড়ে যায়। তখন এটি ধমনির ভেতরে জমা হতে থাকে এবং রক্তপ্রবাহে বাধা তৈরি করে।

আর দিনের পর দিন যদি রক্তে হিমোসিস্টিন জমা হতে থাকে, তা হলে ধমনিতে তা ‘প্লাক’-এর মতো জমতে থাকবে এবং হার্ট ব্লকেজের কারণ হয়ে উঠবে। এ ছাড়া নিয়মিত ইসিজি পরীক্ষা, ব্লাড সুগারের পরীক্ষা এবং ব্লাড প্রেসার পরীক্ষা করাতে হবে। দিনে অন্তত এক মাইল হাঁটতে হবে। সেই সঙ্গে ধূমপানের অভ্যাস থাকলে তা বর্জন করতে হবে। মদপান বন্ধ করতে হবে।