খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরের চারটি আসনে ভোটের ঝড়ে উড়ে গেল ১৯ প্রার্থীর জামানত!

হারুন-অর-রশীদ ও এহসানুল হক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:০৪ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরের চারটি আসনে ভোটের ঝড়ে উড়ে গেল ১৯ প্রার্থীর জামানত!

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর জেলার চারটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ২৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৯ জনই জামানত হারিয়েছেন। মোট প্রার্থীর প্রায় ৬৮ শতাংশ প্রয়োজনীয় ভোটের এক-অষ্টমাংশ অর্জন করতে না পারায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে সরকারি কোষাগারে জমা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে চারটি আসনেই শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। রাতেই বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর অংশগ্রহণ থাকলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল কয়েকটি বড় দলের মধ্যে।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২-এর ৪৪(৩) ধারা অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী মোট প্রদত্ত বৈধ ভোটের ১২ দশমিক ৫ শতাংশের কম ভোট পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। এবারের নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়-পরাজয়ের কারণে অধিকাংশ প্রার্থী এই শর্ত পূরণ করতে পারেননি।

🔹 ফরিদপুর-১ (মধুখালী-বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা):

এই আসনে মোট ভোটার ছিল ৫,১০,৫৪০ জন। বৈধ ভোট পড়ে ৩ লাখ ১৮ হাজার ৯৯৮টি। জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজন ছিল ৩৯ হাজার ৮৭৫ ভোট।

এ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. ইলিয়াস মোল্লা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১,৫৪,১৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। বিএনপির খন্দকার নাসিরুল ইসলাম ধানের শীষ প্রতীকে পান ১,২৬,৪৭৬ ভোট।

অন্য প্রার্থীদের মধ্যে—

মো. আবুল বাসার খান (স্বতন্ত্র) ফুটবল প্রতীকে ৩৪,৩৮৭ ভোট, মো. গোলাম কবীর মিয়া (স্বতন্ত্র) মোটরসাইকেল প্রতীকে ২,১৫৯ ভোট, মৃন্ময় কান্তি দাস (বিএমজেপি) রকেট প্রতীকে ৭৮৬ ভোট, সুলতান আহম্মেদ খান (জাতীয় পার্টি) লাঙ্গল প্রতীকে ৫০৬ ভোট, মো. হাসিবুর রহমান (স্বতন্ত্র) হরিণ প্রতীকে ৪৫৫ ভোট এবং শেখ আব্দুর রহমান জিকো (স্বতন্ত্র) উট প্রতীকে ৮৪ ভোট পান।

এখানে বিজয়ী ও রানারআপ ছাড়া বাকি ছয়জনই জামানত হারিয়েছেন।

🔹 ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা ও সালথা):

এ আসনে মোট ভোটার ছিল ৩,৩২,০৪১ জন। বৈধ ভোট পড়ে ২ লাখ ১৪ হাজার ৯১৬টি। জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজন ছিল ২৬ হাজার ৮৬৫ ভোট।
এ আসনে বিএনপির শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু ধানের শীষ প্রতীকে ১,২১,৬৯৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাওলানা মো. আকরাম আলী রিক্সা প্রতীকে পান ৮৯,৩০৫ ভোট।

অন্য প্রার্থীরা—

শাহ মো. জামাল উদ্দীন (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ) হাতপাখা প্রতীকে ২,৩৬৮ ভোট,
ফারুক ফকির (গণঅধিকার পরিষদ) ট্রাক প্রতীকে ৬৭৫ ভোট, আকরামুজ্জামান (ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ) আপেল প্রতীকে ৬১৭ ভোট এবং মো. নাজমুল হাসান (বাংলাদেশ কংগ্রেস) ডাব প্রতীকে ২৫৭ ভোট পান।

এখানে বিজয়ী ও প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়া বাকি চারজন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

🔹 ফরিদপুর-৩ (সদর উপজেলা):

এই আসনে মোট ভোটার ছিল ৪,৩২,৬২১ জন। বৈধ ভোট পড়ে ২ লাখ ৭৯ হাজার ১৪৩টি। জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজন ছিল ৩৪ হাজার ৮৯৩ ভোট।

এ আসনে বিএনপির চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ ধানের শীষ প্রতীকে ১,৪৮,৫৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. আবদুত তাওয়াব দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পান ১,২৪,১১৫ ভোট।

অন্যান্য প্রার্থীরা—

কে এম ছরোয়ার (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ) হাতপাখা প্রতীকে ৪,০২২ ভোট, মোরশেদুল ইসলাম আসিফ (স্বতন্ত্র) হরিণ প্রতীকে ১,২৫৩ ভোট, মো. রফিকুজ্জামান মিয়া (বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি) কাস্তে প্রতীকে ৯৫৭ ভোট এবং
আরিফা আক্তার বেবী (জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল) তারা প্রতীকে ২৫১ ভোট পান।

এখানে বিজয়ী ও রানারআপ ছাড়া বাকি চারজন প্রার্থীর জামানত জব্দ হয়েছে।

🔹 ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা-সদরপুর ও চরভদ্রাসন):

এই আসনে মোট ভোটার ছিল ৪,৯৬,৭০৬ জন। বৈধ ভোট পড়ে ২ লাখ ৭৪ হাজার ৯৯২টি। জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজন ছিল ৩৪ হাজার ৩৭৪ ভোট।

এ আসনে বিএনপির মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল ধানের শীষ প্রতীকে ১,২৭,৪৪৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. সরোয়ার হোসাইন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পান ৭৫,৮০৫ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী এ.এম. মুজাহিদ বেগ ফুটবল প্রতীকে পান ৫৬,১৬০ ভোট—এই তিনজন জামানত রক্ষা করেন।

অন্য প্রার্থীরা—

মো. ইসহাক চোকদার (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ) হাতপাখা প্রতীকে ১১,৪৯৮ ভোট, মুহাম্মদ মজিবুর হোসেইন (স্বতন্ত্র) ঘোড়া প্রতীকে ১,৭০৪ ভোট, মিজানুর রহমান (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস) রিক্সা প্রতীকে ১,১১৮ ভোট,
আতাউর রহমান (বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি) কাস্তে প্রতীকে ৭১৪ ভোট এবং মুফতি রায়হান জামিল (জাতীয় পার্টি) লাঙ্গল প্রতীকে ৫৫০ ভোট পান।

এদের মধ্যে পাঁচজনের জামানত জব্দ হয়েছে।

সার্বিক চিত্র:

ফরিদপুরের চারটি আসনে মোট ভোটার ছিল প্রায় ১৭ লাখ ৭১ হাজার ৯০৮ জন। নির্বাচনে অংশ নেন ২৮ জন প্রার্থী। এর মধ্যে বিএনপি তিনটি আসনে (ফরিদপুর-২, ৩ ও ৪) এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি আসনে (ফরিদপুর-১) জয়লাভ করে।

ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হলেও ফলাফলে বড় ব্যবধান লক্ষ্য করা গেছে। অধিকাংশ আসনেই ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা সীমাবদ্ধ ছিল। ফলে ছোট দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্য ভোট পেতে ব্যর্থ হন এবং তাদের বড় অংশ জামানত হারান।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যা ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে জানান, যারা নির্ধারিত ভোটের কম পেয়েছেন, তাদের জামানতের অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হবে।

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় দৈনিক রানারের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় দৈনিক রানারের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ দেশের অন্যতম প্রাচীন ও জনপ্রিয় সংবাদপত্র ‘দৈনিক রানার’-এর ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় আলোচনা সভা ও কেক কাটা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টায় আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে দৈনিক রানারের আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধি ও প্রেসক্লাবের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।

​প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা খান আসাদুজ্জামান টুনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সদস্য সচিব হারুনুর রশীদ, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য কামরুল ইসলাম ও হারুন অর রশীদ, সাবেক সভাপতি আমিনুর রহমান আচ্চু ও সেকেন্দার আলম।

​এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন দৈনিক আমাদের সময়ের প্রতিনিধি আজিজুর রহমান দুলাল, দৈনিক আমার দেশের প্রতিনিধি গোলাম আজম মনির, প্রেসক্লাবের সাবেক দপ্তর সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ মুস্তাফিজ, সদস্য কমরুল হক ভূঁইয়া, আবুল বাশার ও শহিদুল ইসলামসহ প্রেসক্লাবের অন্যান্য সদস্যরা।

​আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সংবাদপত্র সমাজের দর্পণ। বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে সংবাদপত্র মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, অনিয়ম-দুর্নীতি তুলে ধরা এবং সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দীর্ঘ পথচলায় দৈনিক রানার পাঠকের আস্থা অর্জন ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে যে ভূমিকা রেখে চলেছে, তা সত্যি প্রশংসনীয়।

​বক্তারা পত্রিকাটির উত্তরোত্তর সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেন এবং এর সম্পাদক, প্রকাশক, সাংবাদিক, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।

​আলোচনা সভা শেষে এক আনন্দ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটা হয়।

পদ্মার গ্রাসে বিলীন স্বপ্নের ভিটেমাটি: ফরিদপুরে খোলা আকাশের নিচে শত শত পরিবার

ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩১ অপরাহ্ণ
পদ্মার গ্রাসে বিলীন স্বপ্নের ভিটেমাটি: ফরিদপুরে খোলা আকাশের নিচে শত শত পরিবার

পদ্মার নির্মম ভাঙনে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল ও ডিক্রিরচর ইউনিয়নের ৪টি দুর্গম চরের হাজার হাজার মানুষ। তীব্র স্রোতে নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে বিঘার পর বিঘা ফসলি জমি, ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাটসহ বহু সরকারি-বেসরকারি অবকাঠামো। এতে এলাকাটিতে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। ভিটেমাটি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে শত শত পরিবার।

​সম্প্রতি এলাকাটিতে সাংবাদিকদের আসার খবর পেয়ে জীবন-জীবিকা রক্ষা ও মাথা গোঁজার ঠাঁইয়ের দাবিতে আশ্রয়ণের ঘরের সামনেই মানববন্ধন করেন ক্ষতিগ্রস্ত নারী-পুরুষরা।

​স্থানীয় সূত্র জানায়, নর্থচ্যানেল ও ডিক্রিরচর ইউনিয়নের ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের জীবনজুড়ে নিত্য সংগ্রাম। বর্ষায় বন্যা আর নদীভাঙন, আবার শুষ্ক মৌসুমে মাইল কে মাইল হেঁটে ট্রলার ঘাটে পৌঁছাতে হয় তাদের। তবে এবারের নদীভাঙন তাদের সর্বস্ব কেড়ে নিয়েছে।

​নর্থচ্যানেল ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মোস্তফা হোসেন জানান, পদ্মার তীব্র তোড়ে গত কিছুদিন ধরে অব্যাহত ভাঙনে নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডসহ আশপাশের এলাকায় চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। ফলদ ও বনজ গাছপালাসহ নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে প্রায় ৭০০ বিঘা উর্বর ফসলি জমি। এছাড়া স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিআরডি) প্রায় তিন কিলোমিটার পাকা সড়ক, ব্রিজ, কালভার্ট, স্কুল, মক্তব, মাদ্রাসা, কমিউনিটি ক্লিনিক এমনকি ১০টি আশ্রয়ণের ঘরও পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে। এর মধ্যে অনেক পরিবার অতীতেও একাধিকবার নদীভাঙনের শিকার হয়েছেন।

​এ বিষয়ে স্থানীয় মজিবর মোল্লা বলেন, “ইতিমধ্যেই তিন শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি পদ্মার পেটে চলে গেছে। ভাঙনের মুখে অনেক পরিবার তড়িঘড়ি করে বসতভিটা সরিয়ে নেওয়ার সুযোগটুকুও পায়নি।”

​জয়নাল মাতুব্বর ডাঙ্গীর বাসিন্দা মো. হিরু শেখ বলেন, “নর্থচ্যানেল ইউপির জয়নাল মাতুব্বর ডাঙ্গী, কবিরপুর ব্রিজ সড়ক এবং কবিরপুর এলাকাসহ প্রায় তিন কিলোমিটার পাকা ও কাঁচা সরকারি সড়ক সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে। ব্রিজ, কালভার্ট, একাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ ও কমিউনিটি ক্লিনিক নদীগর্ভে হারিয়ে যাওয়ায় শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবা একেবারেই স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।”

​সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদীর পাড়ে কেবলই ভিটেমাটি হারা মানুষের হাহাকার আর আর্তনাদ। গৃহহীন হয়ে পড়া পরিবারগুলো বাঁধের ওপর ও খোলা আকাশের নিচে ত্রিপল টাঙিয়ে দিন কাটাচ্ছে। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা।

​আক্ষেপ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দা চায়না বেগম বলেন, “চোখের সামনে বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা সংসার আর জমিজমা পদ্মায় তলিয়ে গেল। আমরা ত্রাণ চাই না, আমরা বাঁচতে চাই। নদীভাঙন বন্ধে স্থায়ী বাঁধ না হলে মানচিত্র থেকেই আমাদের নাম মুছে যাবে।”

​ভাঙনের শিকার হায়দার আলী জানান, পরিস্থিতি দিন দিন আরও আশঙ্কাজনক হয়ে উঠছে। পদ্মার অব্যাহত আগ্রাসন থেকে বাকি গ্রামগুলো রক্ষা করতে অবিলম্বে কার্যকরী পদক্ষেপ দরকার। তারা সরকারের কাছে তিনটি প্রধান দাবি জানান— জরুরি ত্রাণ ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) মাধ্যমে জিও ব্যাগ ফেলা ও স্থায়ী গাইড বাঁধ নির্মাণ করা, এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য খাসজমি বরাদ্দসহ কৃষিঋণ মওকুফ ও আর্থিক অনুদান দেওয়া।

​ক্ষতির ভয়াবহতা তুলে ধরে নর্থচ্যানেল ইউপি চেয়ারম্যান হাজী মোফাজ্জল হোসেন এবং ডিক্রিরচর ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. হায়দার আলী খান বলেন, “হঠাৎ নদীভাঙনে বিঘা বিঘা জমি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হারিয়ে এই এলাকায় প্রায় এক হাজার কোটি টাকার অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। নদীপাড়ের কৃষকদের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে মানুষ এখন নিঃস্ব। ভিটেমাটি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে তারা অমানবিক দিন কাটাচ্ছে।”

​সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেন বলেন, “আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি। পদ্মা নদীর অব্যাহত ভাঙন প্রতিরোধে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পরিকল্পনা ভাবা হচ্ছে।”

​প্রকৃতির এই নির্মম তাণ্ডবে দিশেহারা ফরিদপুরের দুর্গম চরাঞ্চলের খেটে খাওয়া মানুষগুলো এখন স্থায়ী সমাধান ও দ্রুত সরকারি সহায়তার দিকে তাকিয়ে আছেন।

ফরিদপুরে সারের ডিলারশিপ নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, যুবদল কর্মীকে হাতুড়িপেটা

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১০ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে সারের ডিলারশিপ নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, যুবদল কর্মীকে হাতুড়িপেটা

ফরিদপুরের নগরকান্দায় সারের ডিলারশিপ নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তোলায় শেখ খোরশেদ আহমেদ দোলন (৫০) নামে এক যুবদল কর্মীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাকে বাঁচাতে গিয়ে আরও তিনজন আহত হয়েছেন।

​সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের বাঙ্গাবাড়িয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

​আহত দোলন রামনগর ইউনিয়নের দুলারডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা এবং জেলা যুবদলের সদস্য। আহত অন্য তিনজন হলেন— উত্তর গোপীনাথপুর গ্রামের সুমন তালুকদার (৩৬), গোপালপুর গ্রামের ওয়াজেদ মোল্যা (৫০) এবং বাড়ৈইডাঙ্গী গ্রামের মোস্তাক আহমেদ কলি মণ্ডল (৫০)।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি রামনগর ইউনিয়নে সারের ডিলারশিপ নিয়োগের জন্য আবেদন করেন যুবদল সদস্য খোরশেদ আহমেদ দোলন এবং একই ইউনিয়নের বিএনপি নেতা মান্নান মণ্ডলের ছেলে শিবলী সাদিক ওরফে তুষার মণ্ডল (৩০)। এর মধ্যে মেসার্স এসএস এন্টারপ্রাইজের নামে চূড়ান্তভাবে ডিলারশিপ পান তুষার মণ্ডল। নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষে আর্থিক লেনদেন ও অনিয়মের অভিযোগ তোলেন দোলন।

​এরই ধারাবাহিকতায় গত রোববার (১১ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে নগরকান্দা প্রেসক্লাবে নিয়োগবঞ্চিতরা সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে দোলন ডিলারশিপ নিয়োগে অর্থের বিনিময়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানান।

​দোলনের বড় ভাই শেখ ফরিদ আহমেদ মিলনের অভিযোগ, ওই বক্তব্যের কারণে তুষার মণ্ডল ক্ষুব্ধ হন। এর জের ধরে সোমবার সন্ধ্যায় বাঙ্গাবাড়িয়া বাজারের একটি চায়ের দোকানে বসে থাকা দোলনের ওপর হামলা চালানো হয়।

​ফরিদ আহমেদ মিলন বলেন, “সন্ধ্যায় চায়ের দোকানে বসেছিল দোলন। এ সময় তুষারের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল হাতুড়ি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। ভাইকে বাঁচাতে গেলে অন্যদেরও পিটিয়ে আহত করা হয়। আমার ভাইয়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক।”

​তিনি আরও বলেন, “সারা জীবন বিএনপি করেও আজ আমরা বঞ্চিত। টাকার বিনিময়ে ডিলারশিপ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ভাই প্রতিবাদ করায় তাকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে।”

​ঘটনার বিষয়ে জানতে মেসার্স এসএস এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী তুষার মণ্ডলের ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ‘ফোনে চার্জ নেই’ বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি আর ফোন ধরেননি।

​নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ জানান, দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। তবে হাতুড়ি দিয়ে পেটানোর বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।