খুঁজুন
শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭ ফাল্গুন, ১৪৩২

ফরিদপুরে স্টাফ নার্সের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, রহস্য ঘিরে তদন্ত শুরু

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:০৭ পিএম
ফরিদপুরে স্টাফ নার্সের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, রহস্য ঘিরে তদন্ত শুরু

ফরিদপুরে এক নারী সিনিয়র স্টাফ নার্সের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় শহরের কোতোয়ালী থানার পশ্চিম খাবাসপুর এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহত নারীর নাম সাদিয়া আফরিন (৪০)। তিনি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সে শহরের পশ্চিম খাবাসপুর এলাকায় আফরোজা নামের এক নারীর বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন।

স্থানীয় সূত্র ও পারিবারিক সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা যায়, বুধবার দুপুর আনুমানিক ২টার পর থেকে সাদিয়া আফরিন নিজ বাসায় একাই অবস্থান করছিলেন। এরপর সন্ধ্যার দিকে তার পরিবারের সদস্যরা তাকে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে তিনি ফোন রিসিভ না করায় পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।

পরে রাত আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে তার ভাই আশরাফ স্মরণ বাসায় এসে দরজায় ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় রাত প্রায় পৌনে ৮টার দিকে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করা হয়। ঘরে ঢুকে শোবার ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় সাদিয়া আফরিনের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান তারা।

এ সময় বিষয়টি দ্রুত আশপাশের লোকজনকে জানানো হয় এবং পরে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ফরিদপুর কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা মনে হলেও বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সহকর্মীরা জানান, সাদিয়া আফরিন দায়িত্বশীল ও পরিশ্রমী একজন নার্স ছিলেন। হঠাৎ তার এমন মৃত্যুর ঘটনায় তারা হতবাক। পরিবারের পক্ষ থেকেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

নগরকান্দায় সাংবাদিকের ওপর হামলা: পাল্টাপাল্টি অভিযোগে রহস্য, ‘হামলা নাটক’ নিয়ে তোলপাড়

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর ও নগরকান্দা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:০৬ পিএম
নগরকান্দায় সাংবাদিকের ওপর হামলা: পাল্টাপাল্টি অভিযোগে রহস্য, ‘হামলা নাটক’ নিয়ে তোলপাড়

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় এক সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। হামলার অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ এবং ‘হামলা নাটক’ তৈরির অভিযোগে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজে তীব্র ক্ষোভ ও বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুললেও ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নগরকান্দা বাজার এলাকায়। হামলার শিকার হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বাবু (৪৯) নিজেকে দৈনিক যুগান্তরের নগরকান্দা উপজেলা প্রতিনিধি দাবি করেছেন। অপরদিকে অভিযুক্ত হিসেবে উঠে এসেছে স্থানীয় বাসিন্দা ও একটি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. লিয়াকত আলীর নাম। তবে ঘটনার পরপরই তিনি পাল্টা অভিযোগ এনে নিজেকেও হামলার শিকার দাবি করেছেন। এতে পুরো ঘটনাটি জটিল আকার ধারণ করেছে।

ঘটনাস্থলে কী ঘটেছিল:

মিজানুর রহমান বাবুর দেওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে তিনি নগরকান্দা বাজারে শাহিন মিয়ার চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় পূর্বের একটি বিরোধ ও ফেসবুকে লেখালেখির জের ধরে লিয়াকত আলী সেখানে এসে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তিনি একটি কাঠের বাটাম দিয়ে মিজান বাবুর মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করেন।

আত্মরক্ষার জন্য হাত দিয়ে প্রতিহত করতে গেলে তার বাঁম হাতের বাহুতে গুরুতর আঘাত লাগে। এতে তিনি রক্তাক্ত জখম হন। এছাড়া ডান হাত ও পিঠেও আঘাত করা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। এ সময় অভিযুক্ত লিয়াকত আলী উপস্থিত লোকজনকে হুমকি দেন—ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিলে তাকে প্রাণনাশ করা হবে।

পরে আহত অবস্থায় মিজান বাবুকে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা শেষে তিনি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি জানান এবং পরবর্তীতে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

পাল্টা অভিযোগে ভিন্ন চিত্র:

ঘটনার কিছুক্ষণ পরই সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে থানায় পাল্টা অভিযোগ দেন লিয়াকত আলী। তার অভিযোগে বলা হয়, একই সময় ও স্থানে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে মিজান বাবু তাকে হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন।

তিনি দাবি করেন, মিজান বাবু তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কোমরে থাকা হাতুড়ি দিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে তার শরীরে রক্ত জমাটসহ জখম হয়। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। এ সময় মিজান বাবু প্রকাশ্যে তাকে হত্যার হুমকিও দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পরে তাকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় এবং চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। সামাজিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার আশায় অভিযোগ করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

‘হামলা নাটক’ সাজানোর অভিযোগ:

তবে ঘটনাটি এখানেই থেমে থাকেনি। স্থানীয় সাংবাদিক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের একটি অংশ দাবি করেছেন, হামলার ঘটনার পর পরিস্থিতি ভিন্নখাতে নিতে পরিকল্পিতভাবে ‘হামলা নাটক’ সাজানো হয়েছে।

তাদের অভিযোগ, লিয়াকত আলী নিজের প্রভাব খাটিয়ে থানায় পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেন এবং হাসপাতালে প্রভাব বিস্তার করে নিজের নামে একটি ‘ভুয়া মেডিকেল প্রেসক্রিপশন’ সংগ্রহ করেন, যাতে তাকে আহত দেখানো যায়। অথচ তার শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন দেখাতে পারেননি বলে দাবি করেছেন কয়েকজন সাংবাদিক।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় সাংবাদিক বলেন, “ঘটনার সময় আমরা আশেপাশেই ছিলাম। মিজান বাবুই হামলার শিকার হয়েছেন। কিন্তু পরে ঘটনাটি ঘুরিয়ে দিতে চেষ্টা করা হচ্ছে।”

সাংবাদিক সমাজে ক্ষোভ:

এ ঘটনায় ফরিদপুর জেলা ও নগরকান্দা উপজেলার সাংবাদিকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। কয়েকজন সাংবাদিক অভিযোগ করেন, লিয়াকত আলী ও তার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি শফিকুল ইসলাম মন্টু প্রকৃতপক্ষে সাংবাদিকতার সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত নন।

তাদের দাবি, তারা কৌশলে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন। রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে তারা অবস্থান পরিবর্তন করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একপেশে প্রচারণা চালিয়ে মূলধারার সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন।

একজন স্থানীয় সাংবাদিক বলেন, “এরা সুযোগসন্ধানী। যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে, তখন তাদের পক্ষেই কাজ করেন। এখন আবার নিজেদের বিএনপির রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন।”

রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ:

স্থানীয়দের অভিযোগ, অতীতে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের কিছু নেতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন অভিযুক্তরা। সেই সময় তাদের সঙ্গে তোলা বিভিন্ন ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। বর্তমানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তারা নতুন করে নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করেছেন।

এখন তারা নিজেদের একটি বড় রাজনৈতিক দলের সমর্থক হিসেবে পরিচয় দিয়ে স্থানীয় নেতাদের ঘনিষ্ঠ দাবি করছেন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি মূলধারার সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটছে বলে দাবি করেন তারা।

অভিযুক্তের বক্তব্য:

তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন মো. লিয়াকত আলী। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমি নিজেও একজন সাংবাদিক এবং একটি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক। নিয়মিত লেখালেখি করি।”

তিনি দাবি করেন, “মিজান বাবুই আমার ওপর হামলা করেছে। আমাকে হাতুড়ি দিয়ে মারধর করেছে। তাই আমি থানায় অভিযোগ করেছি এবং হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছি।”

তবে তার শরীরে আঘাতের দৃশ্যমান কোনো চিহ্ন দেখাতে পারেননি—এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।

পুলিশের অবস্থান:

এ বিষয়ে নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ জানান, উভয় পক্ষের কাছ থেকে দুটি পৃথক অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

তিনি বলেন, “ঘটনার সঠিক তথ্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে। ইতোমধ্যে বিজ্ঞ আদালতে তদন্তের জন্য আবেদন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এব্যাপারে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের প্রত্যাশা:

ঘটনাটি নিয়ে নগরকান্দা উপজেলায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও আলোচনা-সমালোচনা চলছে। একই ঘটনায় দুই বিপরীতধর্মী অভিযোগ এবং ‘নাটক সাজানোর’ অভিযোগে মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে প্রকৃত অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকতার মতো গুরুত্বপূর্ণ পেশাকে বিতর্কিত করার যে অপচেষ্টা চলছে, তা বন্ধে সংশ্লিষ্টদের কঠোর ভূমিকা নেওয়া প্রয়োজন।

তদন্তে নজর সবার:

পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, প্রভাব খাটানোর অভিযোগ এবং ‘ভুয়া চিকিৎসা সনদ’ ইস্যু—সব মিলিয়ে ঘটনাটি এখন একটি আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে সাংবাদিকদের মধ্যে এ ঘটনার প্রভাব বেশি পড়েছে।

এখন সবার দৃষ্টি পুলিশের তদন্তের দিকে। তদন্তে কী বেরিয়ে আসে, সেটিই নির্ধারণ করবে—আসলেই কে হামলার শিকার, আর কে বা কারা ‘হামলা নাটক’ সাজানোর চেষ্টা করছে।

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ফেব্রিকন ফ্যাশনের শো-রুম উদ্বোধন

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:৪৭ পিএম
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ফেব্রিকন ফ্যাশনের শো-রুম উদ্বোধন

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা জাতীয় মানের খ্যাতিসম্পন্ন পোশাকের ব্যান্ড ফেব্রিকন ফ্যাশনের শো-রুম উদ্বোধন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে আলফাডাঙ্গা সদর বাজারের হাসপাতাল রোডে বারি প্লাজার দ্বিতীয় তলায় এ শো-রুমের উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কেক কেটে ও দোয়ার আয়োজন করে শো-রুমের আনুষ্ঠানিকতা শুভ সূচনা করা হয়। এখন থেকে এই শো-রুমে ছেলে-মেয়ে, শিশুসহ সকল বয়সীদের আধুনিক ও রুচিসম্মত বিভিন্ন ধরনের পোষাক পাওয়া যাবে।

প্রতিষ্ঠানটির স্বত্তাধিকারী বায়েজিত মোল্যা বলেন, আমাদের অঞ্চলের মানুষ ভালো পোষাক ক্রয় করার জন্য ঢাকা ও ফরিদপুরসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলাতে যান। এলাকার মানুষের কথা চিন্তা করে আধুনিক ও রুচিসম্মত পোশাক ফেব্রিকন ফ্যাশানসহ অনের ভালো মানের পোশাকের শো-রুম দেওয়া হয়েছে। এই শো-রুম থেকে ক্রেতারা তাদের পছন্দের পোষাক সুলভ মূল্যে ক্রয় করতে পারবেন বলে আমাদের বিশ্বাস।

তিনি বলেন, এখানে নারী ও পুরুষের রুচিসম্মত সকল ধরনের পোষাক ও পাদুকা পাওয়া যাবে। ক্রেতাদের চাহিদানুযায়ী আমার আরও পোষাক সংযোজন করবো।

এই ঈদ উপলক্ষে সাধারণ ক্রেতাদের কথা মাথায় রেখে সকল পণ্যর উপর নির্দিষ্টহারে ছাড় দিবেন বলে জানান বায়োজিত মোল্যা।

পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় অভিমান—ভাঙ্গায় স্কুলছাত্রীর মৃত্যু, শোকে স্তব্ধ গ্রাম

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:২৫ পিএম
পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় অভিমান—ভাঙ্গায় স্কুলছাত্রীর মৃত্যু, শোকে স্তব্ধ গ্রাম

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় অপরূপা মন্ডল (১৬) নামে এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পারিবারিক অভিমান থেকে বিষপানে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে ময়নাতদন্ত শেষে অপরূপার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর আগে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতের দিকে ভাঙ্গা উপজেলার নাছিরাবাদ ইউনিয়নের ভদ্রকান্দা গ্রাম থেকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহত অপরূপা মন্ডল ওই গ্রামের বাবলু মন্ডলের মেয়ে এবং আব্দুলাবাদ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের বার্ষিক পরীক্ষায় নবম শ্রেণিতে একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ায় দশম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হতে পারেনি অপরূপা। এ নিয়ে বুধবার দুপুরে তার মা-বাবা তাকে বকাঝকা করেন। এতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে সে।

এরপর পরিবারের অজান্তে ঘরে থাকা রাসায়নিক সার ও কীটনাশক পান করে অপরূপা। বিষয়টি টের পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার রাতেই তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয়রা জানান, অপরূপা ছিল শান্ত স্বভাবের মেয়ে। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো গ্রামজুড়ে শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। সহপাঠী ও শিক্ষকরাও এ ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলীম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এদিকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে সন্তানদের মানসিক সহায়তা দেওয়া জরুরি, যাতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা আর না ঘটে।