খুঁজুন
শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

ফরিদপুরে মাদক ব্যবসায় বাধা, স্ত্রী-সন্তানকে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:০১ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে মাদক ব্যবসায় বাধা, স্ত্রী-সন্তানকে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় নিজের স্ত্রী ও স্কুলপড়ুয়া সন্তানকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে সাহিদ শেখ (৪৫) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, ক্ষোভের বশে তিনি নিজের সন্তানের বইখাতাও পুড়িয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মাঝারদিয়া গ্রামে, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত সাহিদ শেখ ওই গ্রামের মৃত আকুব্বর শেখের ছেলে এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এর আগে একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়ে কারাভোগ করলেও তার মাদক ব্যবসা বন্ধ হয়নি। বরং বর্তমানে আরও সক্রিয়ভাবে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রতিবেশীরা জানান, সাহিদের বড় ছেলে আশিক শেখ এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। বাবার মাদক ব্যবসার কারণে সামাজিকভাবে অপমানিত হতে হওয়ায় সে বাবাকে এই পথ থেকে ফিরে আসতে বারবার অনুরোধ করে। কিন্তু এতে উল্টো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন সাহিদ। গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তিনি বাড়িতে মাদক সেবনের সময় স্ত্রী ও ছেলে বাধা দিলে তাদের ঘরের বাঁশের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করেন। এ সময় ছেলের পড়াশোনার সব বইখাতাও আগুনে পুড়িয়ে দেন।

এ ঘটনার একটি ভিডিও শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে এবং স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

নির্যাতনের শিকার সাহিদের স্ত্রী জাহানারা বেগম অভিযোগ করে বলেন, তার স্বামী নিয়মিত মাদক সেবন করেন এবং সংসারের দায়িত্বও ঠিকভাবে পালন করেন না। মাদক ব্যবসা ও সেবনে বাধা দিলেই তিনি প্রায়ই স্ত্রী ও সন্তানদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালান। সর্বশেষ ঘটনায় তাদের মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। এমনকি তাদের ছোট সন্তান জুনায়েদকেও আটকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বর্তমানে আশিক ও তার মা পাশের একটি গ্রামে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। এদিকে নিজের বাবার বিরুদ্ধে সালথা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আশিক শেখ।

এ বিষয়ে সালথা থানার ওসি (তদন্ত) মো. মারুফ হাসান রাসেল বলেন, “স্ত্রী-সন্তানকে নির্যাতনের ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”

স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত অভিযুক্তের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

ফরিদপুরে বেকারত্ব থেকে স্বাবলম্বী জাকির, আমবাগানেই কর্মসংস্থান ৭ যুবকের

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ১১:২৫ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে বেকারত্ব থেকে স্বাবলম্বী জাকির, আমবাগানেই কর্মসংস্থান ৭ যুবকের

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের কুঞ্জনগর গ্রামে এক ব্যতিক্রমী আমবাগান ঘিরে জমে উঠেছে মৌসুমি ব্যবসা। বেকারত্বের গণ্ডি পেরিয়ে আম বিক্রিকে কেন্দ্র করে নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি আরও কয়েকজন যুবকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন স্থানীয় যুবক জাকির হোসেন। জাকির একই উপজেলার রামনগর গ্রামের মৃত লাল মিয়ার ছেলে। সে ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজে সমাজকর্ম বিভাগে মাস্টার্স করছেন।

কুঞ্জনগর গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ শেখের প্রায় সাড়ে ৭ বিঘা জমির প্রকল্পের মধ্যে সাড়ে ৪ বিঘাজুড়ে রয়েছে আমবাগান। বাগানটিতে রয়েছে প্রায় ৩৯০টি আমগাছ। চলতি মৌসুমে পুরো বাগানের আম কিনে নিয়েছেন জাকির হোসেন। এরপর সরাসরি বাগান থেকেই ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করছেন বিভিন্ন জাতের টাটকা আম।

বাগানটিতে হারিভাঙা, হিমসাগর, রুপালি, ল্যাংড়া, বারি-৪, মল্লিকা, রাজভোগ, গোবিন্দভোগ, আশ্বিনা-সহ প্রায় ১৩ জাতের আম রয়েছে। অনলাইনে প্রতি কেজি আম ৬০ টাকা এবং বাগানে সরাসরি এসে কিনলে ৭০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। যা স্থানীয় বাজারদরের তুলনায় কেজিপ্রতি প্রায় ১০ টাকা কম।

জাকির জানান, প্রতিদিন গড়ে ১২ থেকে ১৪ মণ আম বিক্রি হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় ১৫০ মণ আম বিক্রি করেছেন তিনি। প্রতিদিন অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়িতে করে বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতারা বাগানে আসছেন। অনেকেই পরিবার নিয়ে এসে গাছ থেকে আম পেড়ে খেয়ে স্বাদ পরীক্ষা করে তারপর কিনে নিচ্ছেন।

স্থানীয় চাকরিজীবী রতন শেখ বলেন, “বাজারে অনেক সময় কতদিন আগে পাড়া আম বিক্রি হয় তা জানা যায় না। কিন্তু এখানে সরাসরি গাছ থেকে পাড়া টাটকা আম পাওয়া যায়। দামও বাজারের তুলনায় কম। তাই আমরা পরিবার নিয়ে এসে আম কিনছি।”

জাকির হোসেন বলেন, “পড়াশোনা করেও দীর্ঘদিন ধরে চাকরি পাচ্ছিনা। তখন চিন্তা করলাম মৌসুমি ফলের ব্যবসা করা যায় কি না। সেই ভাবনা থেকেই আমবাগানের আম কিনে নিয়ে ব্যবসা শুরু করি। এখন ভালো সাড়া পাচ্ছি। নিজের আয় যেমন হচ্ছে, তেমনি আমার সঙ্গে আরও ৫ থেকে ৭ জন যুবক কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জাকিরের উদ্যোগে এলাকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষও ফরমালিনমুক্ত ও টাটকা আম সহজে কিনতে পারছেন। ফলে বাগানটি ইতোমধ্যে স্থানীয়দের কাছে একটি জনপ্রিয় আম বিক্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় কৃষি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আধুনিক কৃষি ও ফলভিত্তিক উদ্যোক্তা কার্যক্রম গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে। জাকির হোসেনের মতো তরুণদের এমন উদ্যোগ বেকারত্ব দূরীকরণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে এবং অন্য যুবকদেরও কৃষিভিত্তিক ব্যবসায় আগ্রহী করে তুলছে।

নগরকান্দা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. রেজাউল করিম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “আম চাষ ও ফলভিত্তিক উদ্যোক্তা কার্যক্রম বর্তমানে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জাকির হোসেনের মতো তরুণরা কৃষিকে ব্যবসায়িকভাবে গ্রহণ করায় একদিকে যেমন নিজেদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে স্থানীয়ভাবে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বাগান থেকে সরাসরি ক্রেতাদের কাছে আম বিক্রি করায় ভোক্তারা টাটকা ও নিরাপদ ফল পাচ্ছেন। কৃষিতে শিক্ষিত যুবকদের অংশগ্রহণ বাড়লে দেশের কৃষি খাত আরও সমৃদ্ধ হবে। আমাদের কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।”

স্বাস্থ্যসেবার আলো পৌঁছালো গ্রামে, মধুখালীতে Patient Point-এর ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ১০:০৩ পূর্বাহ্ণ
স্বাস্থ্যসেবার আলো পৌঁছালো গ্রামে, মধুখালীতে Patient Point-এর ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প

গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজন করেছে Patient Point Ltd.।

শুক্রবার (১২ জুন) উপজেলার দিঘলিয়া ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত এ ক্যাম্পে শতাধিক অসহায়, দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন।

সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলা এই স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচিতে রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা পরামর্শ, প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা, স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক দিকনির্দেশনা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী চিকিৎসা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়। এছাড়া রোগ নির্ণয় ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্ব সম্পর্কেও সচেতন করা হয় উপস্থিতদের।

ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. জ্যোতিষ চন্দ্র মন্ডল (এমবিবিএস, পিজিটি, এমপিএইচ-রোগতত্ত্ব)। তিনি রোগীদের বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কথা মনোযোগ সহকারে শুনে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ দেন এবং সুস্থ জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন Patient Point Ltd.-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম (বাবু)। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মো. বাচ্চু শেখ। সঞ্চালনা করেন প্রতিষ্ঠানটির হেলথ কার্ড সেক্টরের প্রধান মো. আনিসুর রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমিনুল ইসলাম বলেন, দেশের বহু মানুষ এখনও সঠিক স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কিত তথ্যের অভাবে প্রতারকচক্র ও দালালদের খপ্পরে পড়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। Patient Point Ltd. মানুষের কাছে নির্ভরযোগ্য স্বাস্থ্য তথ্য, সঠিক চিকিৎসা পরামর্শ এবং নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার এবং সেই অধিকার নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. জ্যোতিষ চন্দ্র মন্ডল বলেন, Patient Point Ltd. সাধারণ মানুষের জন্য বিভিন্ন প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষায় বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা করেছে, যা দরিদ্র রোগীদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক। সময়মতো রোগ শনাক্ত ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা গেলে অনেক জটিল রোগ সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীরা জানান, প্রতিষ্ঠানটির সদস্য হওয়ার পর তারা স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে সঠিক দিকনির্দেশনা পাচ্ছেন এবং প্রয়োজনের সময় দ্রুত চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারছেন। তারা Patient Point Ltd.-এর রোগীবান্ধব কার্যক্রম ও আন্তরিক সেবার প্রশংসা করেন।

আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও দেশের বিভিন্ন জেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। ক্যাম্পে অংশগ্রহণকারী সকল রোগীর জন্য দুপুরের খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়, যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

অফিস শেষে কাজ করতে বলা হলে কীভাবে না বলবেন? সহজ উপায় জানুন

চাকরি ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৭:১১ পূর্বাহ্ণ
অফিস শেষে কাজ করতে বলা হলে কীভাবে না বলবেন? সহজ উপায় জানুন

কর্মক্ষেত্রে বসের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকাটা অবশ্যই ইতিবাচক। কিন্তু ছোট অফিস বা প্রতিযোগিতামূলক কাজের পরিবেশে অনেক সময় অফিস সময়ের পরেও অতিরিক্ত কাজ করার অনুরোধ আসে। পদোন্নতি বা প্রিয়পাত্র হওয়ার দৌড়ে আমরা অনেকেই তখন ‘না’ বলতে দ্বিধা বোধ করি। কিন্তু নিজের ব্যক্তিগত জীবন এবং মানসিক স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে সঠিক উপায়ে সীমানা নির্ধারণ করা জরুরি।

কীভাবে পেশাদারিত্ব বজায় রেখে অতিরিক্ত সময়ের কাজকে বিনয়ের সাথে ফিরিয়ে দেবেন, তার কিছু কৌশল এখানে আলোচনা করা হলো:

১. ‘না’ বলা অপরাধ নয়

মনে রাখবেন, হুট করে অফিসের বাইরে কাজের অনুরোধ পেলে তা ফিরিয়ে দেওয়া মানে আপনি একজন অপেশাদার কর্মী নন। কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং মানসিক অবসাদ বা ‘বার্নআউট’ রোধ করতে সীমানা নির্ধারণ করা অত্যন্ত প্রয়োজন। আপনি যদি আপনার নির্ধারিত কাজের সময়ের বাইরে দায়িত্ব পালন না করেন, তবে তা আপনার কর্মসংস্থানের অধিকারের মধ্যেই পড়ে।

২. অজুহাত নয়, সরাসরি বলুন

অফিসের বাইরে কাজের অনুরোধ নাকচ করার সময় দীর্ঘ বা অবান্তর অজুহাত দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তুচ্ছ কারণ দেখালে তা আপনার বক্তব্যকে দুর্বল করে দেয়। তার বদলে স্পষ্টভাবে বলুন যে আপনার আগে থেকে ঠিক করা কিছু ব্যক্তিগত ব্যস্ততা রয়েছে যা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।

৩. আত্মবিশ্বাসী ও দৃঢ় থাকুন

উত্তর দেওয়ার সময় দ্বিধা করবেন না। আপনি যদি ইতস্তত করেন, তবে বস মনে করতে পারেন যে আপনাকে বুঝিয়ে রাজি করানো সম্ভব। তাই নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকুন এবং আত্মবিশ্বাসের সাথে কথা বলুন। যদি বস বারবার অনুরোধ করতে থাকেন, তবুও নিজের আগের অবস্থানে অনড় থাকা জরুরি, অন্যথায় ভবিষ্যতে তিনি আপনাকে বারবার এই অনুরোধ করার সুযোগ পাবেন।

৪. বিকল্প সমাধান দিন

আপনি সরাসরি কাজ করতে না পারলেও সমস্যার সমাধান দিতে পারেন। যেমন: ‘আজ আমি অতিরিক্ত সময় দিতে পারছি না, তবে আগামীকাল সকালেই এই কাজটি সবার আগে শেষ করে দেব’ অথবা ‘এই প্রজেক্ট সম্পর্কে অন্য কোনো সহকর্মী ভালো জানেন কি না তা দেখতে পারেন’। এতে প্রমাণিত হয় যে আপনি অফিসের কাজের ব্যাপারে আন্তরিক, কিন্তু আপনার নিজস্ব সময়েরও গুরুত্ব আছে।

৫. দ্রুত উত্তর দিন

বস যখন আপনাকে ফোন বা মেসেজ করবেন, যত দ্রুত সম্ভব আপনার অপারগতা জানিয়ে দিন। আপনি সময় নিলে তিনি হয়তো অন্য কাউকে খুঁজে নেওয়ার সুযোগ হারাবেন। যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে তিনি যদি আপনাকে ফোন করেন তবে ফোন ধরুন, অথবা সম্ভব না হলে দ্রুত মেসেজ বা ইমেইল পাঠিয়ে দিন।

৬. নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হোন

যদি বাড়তি সময় কাজ করা আপনার নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়, তবে আপনার কর্মসংস্থান চুক্তি পুনরায় যাচাই করুন। আপনার চুক্তিতে বিশ্রামের সময় বা নোটিশ দেওয়ার বিষয়ে কী উল্লেখ আছে তা জেনে রাখা ভালো। নিয়মিতভাবে আপনার ব্যক্তিগত সময় নষ্ট করা হলে বিষয়টি নিয়ে বসের সাথে সরাসরি আলোচনা করা প্রয়োজন।

শেষ কথা

অফিসের প্রয়োজনে মাঝে মাঝে অতিরিক্ত কাজ করা দোষের কিছু নয়। তবে তা যেন আপনার ব্যক্তিগত জীবনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে। আত্মবিশ্বাসের সাথে একটি বিনয়ী ‘না’ আপনার কর্মজীবনকে আরও স্বাস্থ্যকর ও সুন্দর করে তুলতে পারে।

ক্যারিয়ার অ্যাডিক্ট অবলম্বনে