খুঁজুন
, ,

আলফাডাঙ্গায় অনুমতি ছাড়াই ওরশ আয়োজনের চেষ্টা, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬, ১২:৫৩ অপরাহ্ণ
আলফাডাঙ্গায় অনুমতি ছাড়াই ওরশ আয়োজনের চেষ্টা, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বন্ধ

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় হযরত শাহসূফী আব্দুল খালেক মুন্সি কাদরিয়া ডক সাহেবের (রহ.) ৪৮তম বাৎসরিক ওরশ বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা এবং পবিত্র রমজান মাসের পবিত্রতা রক্ষায় প্রশাসনের অনুমতি না থাকায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) পৌর এলাকার ইশাপাশা গ্রামে অবস্থিত ডক সাহেবের কেন্দ্রীয় দরবার শরীফে গিয়ে পুলিশ ওরশের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আধ্যাত্মিক সাধক আব্দুল খালেক মুন্সি কাদরিয়া ডক সাহেবের মৃত্যুর পর থেকেই দরবার শরীফের নিয়ন্ত্রণ ও ওরশ পরিচালনা নিয়ে তার দুই পুত্র ওবায়দুর রহমান মুন্সী ও সিরাজুল ইসলাম মুন্সীর মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। গত ২০২৫ সালের ১৭ এপ্রিল ওবায়দুর রহমান মুন্সীর মৃত্যুতে একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। ​

এ বছর ওবায়দুর রহমানের পুত্র ও দরবার শরীফের বর্তমান পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. ওহিদুজ্জামান মুন্সী (নাঈম) ওরশ আয়োজনের ঘোর বিরোধিতা করেন। অন্যদিকে তার চাচা সিরাজুল হক মুন্সি ৫ মার্চ থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত ৫ দিনব্যাপী ওরশের ঘোষণা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এছাড়া​ চলতি বছর ওরশের নির্ধারিত সময়ে পবিত্র রমজান মাস চলমান থাকায় স্থানীয় এলাকাবাসীও রোজা রেখে ওরশ না করার পক্ষে মতামত দেন। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্থানীয় প্রশাসন ওরশের অনুমতি প্রদান করেনি।

​​দরবার শরীফের পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. ওহিদুজ্জামান মুন্সী (নাঈম) অভিযোগ করেন, ‘আমার চাচা সিরাজুল হক মুন্সি অবৈধ ও দখলদারি কায়দায় নিজেকে পরিচালক দাবি করে এই আয়োজন করেছিলেন। তাকে এই কাজে সহায়তা করছেন চাচাতো ভাই রিয়াজ মুন্সি ও দরবার শরীফের খাদেম ওমর মৃধা। আমার পিতা হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন, মামলা চলছে। এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে কমিটির কোনো রেজুলেশন ছাড়াই তাদের এই আয়োজন সম্পূর্ণ অবৈধ।’

​অন্যদিকে আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক সিরাজুল হক মুন্সি বলেন, ‘প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় আমরা ওরশের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলাম। কিন্তু প্রশাসন এসে কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে।’

আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসনাত খান জানান, ​’প্রশাসনের কোনো পূর্বানুমতি না থাকায় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ওরশের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’

‘শ্রাবণের মেঘের দিনে’

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০৫ পূর্বাহ্ণ
‘শ্রাবণের মেঘের দিনে’

আকাশের বুকে কালো মেঘের ঘনঘটা,
শ্রাবণের দিনে যেন আঁধারের ছটা।
রিমঝিম সুর ধরে ঝরে জলধারা,
ঝরাপাতারা যেন হাহাকারে হারা।

​বাতাস বয়ে যায় উদাস পথ ধরে,
গাছের ডালে জল টুপটুপ করে।
কদমের শাখা আজ ফুটেছে সতেজ,
সবুজে সবুজে আঁকা নতুন আবেশ।

​ভেজা কাদা-মাটিতে হাঁটে মেঠো পথ,
বয়ে চলে বর্ষার অবিরাম রথ।
পাখিরা যে নিথর, ডানা দুটি গুটিয়ে,
উষ্ণতার খোঁজে যেন নীড়ে গেছে লুকিয়ে।

​মাঠে মাঠে জমা জল দর্পণের মতো,
ঝাপসা পাহাড়ি ছবি দেখা যায় কত।
মেঘের গর্জনে বুক কাঁপে ধরে,
বিদ্যুৎ ঝলকায় দূর নীলম্বরে।

​শ্রাবণের এই মেঘ মন কেড়ে নেয়,
সোঁদা মাটির ঘ্রাণে প্রাণ ভরে দেয়।
ধুয়ে যায় ধুলোবালি ধরা হয় শুভ্র,
মেঘে ঢাকা দিনশেষে প্রকৃতি সুশান্ত।

ফরিদপুরে পুলিশের নির্বাচনি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে পুলিশের নির্বাচনি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী

আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে ফরিদপুরে পুলিশের দুই দিন মেয়াদী দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ কোর্সের প্রথম ব্যাচের সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ফরিদপুর পুলিশ লাইনসের শহীদ ছালাম সভা কক্ষে এ সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

​অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী।

​প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার বলেন, “আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের সময় প্রতিটি সদস্যকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সর্বোচ্চ মনোযোগ দিতে হবে।”

​কোর্সে ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন থানা ও ইউনিট থেকে আসা ৫০ জন সদস্য অংশ নেন। প্রশিক্ষণে নির্বাচনি দায়িত্বে পেশাদারিত্ব বজায় রাখা, নিরপেক্ষতা, জনগণের আস্থা অর্জন, আইন প্রয়োগে মানবিকতা এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

​সমাপনী অনুষ্ঠানে ফরিদপুর জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

ফরিদপুরে মহাসড়কে গুলি চালানো সেই পিস্তল উদ্ধার, গ্রেফতার যুবক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:২৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে মহাসড়কে গুলি চালানো সেই পিস্তল উদ্ধার, গ্রেফতার যুবক

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় এক্সপ্রেসওয়েতে পথচারীকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার ঘটনায় ব্যবহৃত ২২ বোরের রিভলবারটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামি মো. হামিদুল গাজী (৪২) নামের ওই যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

​পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে ১১ টার দিকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌরসভার সামনে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের (ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা সংলগ্ন) ওপর একটি খয়েরি রঙের প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো-গ-১৬-৩০৮৭) থামান হামিদুল গাজী। গাড়িতে তাঁর সঙ্গে শিমু আক্তার তিশা ওরফে ফাতেমা ইসলাম এনি (২৬) নামে এক নারী আরোহী ছিলেন। গাড়ি পার্কিং নিয়ে এক পথচারীর সঙ্গে তর্কাতর্কির জেরে হামিদুল গাজী গাড়িতে বসেই নিজ রিভলবার দিয়ে ওই পথচারীকে লক্ষ্য করে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়েন। পরবর্তীতে এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়।

​ঘটনাটি নজরে আসার পর ভাঙ্গা থানা পুলিশ অনুসন্ধানে নামে। অনুসন্ধানে আসামির পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর গত ১০ সেপ্টেম্বর ভাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) প্রশান্ত কুমার মন্ডল বাদী হয়ে অস্ত্র আইন ও পেনাল কোডের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা (মামলা নং-০৬) দায়ের করেন।

​পরবর্তীতে গত ১৫ সেপ্টেম্বর র‍্যাব-১-এর সহায়তায় ঢাকার বনানী এলাকা থেকে মামলার মূল আসামি হামিদুল গাজীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। একই সঙ্গে তাঁর সঙ্গে থাকা নারী আরোহী শিমু আক্তার তিশাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয় এবং ঘটনায় ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটি জব্দ করা হয়। গ্রেফতারকৃত হামিদুলের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় মোট ৯টি মামলা রয়েছে।

​গ্রেফতারের পর নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে হামিদুল স্বীকার করেন যে, তিনি পিস্তলটি মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ে তাঁর নিজ বাড়ির পরিত্যক্ত টয়লেটে লুকিয়ে রেখেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম লৌহজং উপজেলার গোয়ালী মান্দ্রা এলাকায় অভিযান চালিয়ে রিভলবারটি উদ্ধার করে।

​ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী জানান, ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন ও আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করতে মামলার তদন্ত কাজ এখনও চলমান রয়েছে।