খুঁজুন
শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ২২ ফাল্গুন, ১৪৩২

আলফাডাঙ্গায় অনুমতি ছাড়াই ওরশ আয়োজনের চেষ্টা, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬, ১২:৫৩ পিএম
আলফাডাঙ্গায় অনুমতি ছাড়াই ওরশ আয়োজনের চেষ্টা, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বন্ধ

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় হযরত শাহসূফী আব্দুল খালেক মুন্সি কাদরিয়া ডক সাহেবের (রহ.) ৪৮তম বাৎসরিক ওরশ বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা এবং পবিত্র রমজান মাসের পবিত্রতা রক্ষায় প্রশাসনের অনুমতি না থাকায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) পৌর এলাকার ইশাপাশা গ্রামে অবস্থিত ডক সাহেবের কেন্দ্রীয় দরবার শরীফে গিয়ে পুলিশ ওরশের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আধ্যাত্মিক সাধক আব্দুল খালেক মুন্সি কাদরিয়া ডক সাহেবের মৃত্যুর পর থেকেই দরবার শরীফের নিয়ন্ত্রণ ও ওরশ পরিচালনা নিয়ে তার দুই পুত্র ওবায়দুর রহমান মুন্সী ও সিরাজুল ইসলাম মুন্সীর মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। গত ২০২৫ সালের ১৭ এপ্রিল ওবায়দুর রহমান মুন্সীর মৃত্যুতে একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। ​

এ বছর ওবায়দুর রহমানের পুত্র ও দরবার শরীফের বর্তমান পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. ওহিদুজ্জামান মুন্সী (নাঈম) ওরশ আয়োজনের ঘোর বিরোধিতা করেন। অন্যদিকে তার চাচা সিরাজুল হক মুন্সি ৫ মার্চ থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত ৫ দিনব্যাপী ওরশের ঘোষণা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এছাড়া​ চলতি বছর ওরশের নির্ধারিত সময়ে পবিত্র রমজান মাস চলমান থাকায় স্থানীয় এলাকাবাসীও রোজা রেখে ওরশ না করার পক্ষে মতামত দেন। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্থানীয় প্রশাসন ওরশের অনুমতি প্রদান করেনি।

​​দরবার শরীফের পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. ওহিদুজ্জামান মুন্সী (নাঈম) অভিযোগ করেন, ‘আমার চাচা সিরাজুল হক মুন্সি অবৈধ ও দখলদারি কায়দায় নিজেকে পরিচালক দাবি করে এই আয়োজন করেছিলেন। তাকে এই কাজে সহায়তা করছেন চাচাতো ভাই রিয়াজ মুন্সি ও দরবার শরীফের খাদেম ওমর মৃধা। আমার পিতা হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন, মামলা চলছে। এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে কমিটির কোনো রেজুলেশন ছাড়াই তাদের এই আয়োজন সম্পূর্ণ অবৈধ।’

​অন্যদিকে আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক সিরাজুল হক মুন্সি বলেন, ‘প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় আমরা ওরশের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলাম। কিন্তু প্রশাসন এসে কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে।’

আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসনাত খান জানান, ​’প্রশাসনের কোনো পূর্বানুমতি না থাকায় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ওরশের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’

গাড়িতে তেল নেওয়ার পরিমাণ বেঁধে দিল বিপিসি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬, ৯:২৯ পিএম
গাড়িতে তেল নেওয়ার পরিমাণ বেঁধে দিল বিপিসি

মধ‍্যপ্রাচ‍্য পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিকভাবে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমে গেছে। এতে দেশেও জ্বালানি তেলের সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মানুষ আতঙ্কিত হয়ে ফিলিং স্টেশনে ভিড় করছে এবং বেশি বেশি তেল কিনছে। তাই ফিলিং স্টেশন থেকে তেল সরবরাহের সীমা বেঁধে দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।

শুক্রবার (০৬ মার্চ) বিপিসির এক নির্দেশনায় বলা হয়, একটি মোটরসাইকেলে দিনে ২ লিটার পেট্রল বা অকটেন নিতে পারবে। ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রে নেওয়া যাবে ১০ লিটার তেল।

স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকেল বা এসইউভি (যা জিপ নামে পরিচিত) ও মাইক্রোবাস দিনে পাবে ২০ থেকে ২৫ লিটার তেল। পিকআপ বা লোকাল বাস দিনে ডিজেল নিতে পারবে ৭০ থেকে ৮০ লিটার। আর দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান বা কনটেইনার ট্রাক দৈনিক ২০০ থেকে ২২০ লিটার তেল নিতে পারবে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দেশের ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের প্রায় ৯৫ শতাংশ বিদেশ হতে আমদানি করতে হয়। বৈশ্বিক সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি তেলের আমদানি ব্যবস্থাপনা মাঝেমধ্যে বাধাগ্রস্ত/বিলম্বিত হয়। চলমান বৈশ্বিক সংকট পরিস্থিতিতে বিভিন্ন গণমাধ্যম/সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জ্বালানি তেলের মজুত পরিস্থিতি নিয়ে নেতিবাচক সংবাদ প্রচার হওয়ায় ভোক্তা/গ্রাহকদের মধ্যে অতিরিক্ত চাহিদার প্রবণতা লক্ষ্যে করা যাচ্ছে। অতিরিক্ত চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে ডিলারেরা বিগত সময়ের চেয়ে অতিরিক্ত পরিমাণ জ্বালানি তেল ডিপো থেকে সংগ্রহের চেষ্টা করছেন।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়, কিছু কিছু ভোক্তা ও ডিলার ফিলিং স্টেশন হতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে অননুমোদিতভাবে মজুত করার চেষ্টা করছেন মর্মে খবর প্রকাশ হচ্ছে, যা জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং বিপিসিসহ সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে।

জনগণের আতঙ্ক কমানোর লক্ষ্যের কথা জানিয়ে নির্দেশনায় বলা হয়, দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য বিদেশ হতে আমদানি কার্যক্রম/সূচি নির্ধারিত রয়েছে। নিয়মিতভাবে চালান দেশে আনা হচ্ছে। পাশাপাশি ডিলারদের সাময়িকভাবে প্রধান স্থাপনা হতে সারা দেশের সব ডিপোতে নিয়মিতভাবে রেল ওয়াগন/ট্যাংকারের মাধ্যমে তেল পাঠানো হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে, স্বল্প সময়ের মধ্যে দেশে জ্বালানি তেলের বাফার স্টক (পর্যাপ্ত মজুত) গড়ে উঠবে।

রসিদ দেখিয়ে তেল নিতে হবে

ফিলিং স্টেশন থেকে ভোক্তাকে তেলের ধরন, পরিমাণ ও দাম উল্লেখ করে রসিদ দিতে হবে এবং প্রতিবার তেল কেনার সময় আগের রসিদ দেখাতে হবে বলে উল্লেখ করা হয় নির্দেশনায়।

বিপিসি আরও বলেছে, ডিলারেরা বরাদ্দ ও ভোক্তার ক্রয় রসিদ গ্রহণ করে তেল সরবরাহ করবে। ফিলিং স্টেশনগুলো জ্বালানি তেলের মজুত ও বিক্রির তথ‍্য ডিপোতে প্রদান করে জ্বালানি তেল গ্রহণ করবে।

ডিলারদের জ্বালানি তেল সরবরাহের আগে বর্তমান বরাদ্দ ও মজুতের তথ‍্য পর্যালোচনা করে সরবরাহ করা হবে এবং কোনো অবস্থায় বরাদ্দের চেয়ে বেশি তেল দেওয়া যাবে না বলেও উল্লেখ করেছে বিপিসি।

এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে আজ ছুটির দিনেও উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।

যেমন পরিবাগে মেঘনা মডেল সার্ভিস সেন্টার ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে হয়ে শাহবাগ মেট্রোরেলের নিচ পর্যন্ত মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে মোটরসাইকেল দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বেশ কয়েকজন মোটরসাইকেল চালকের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হতে দেখা যায়। কে কার আগে যাবেন, এ নিয়ে কেউ কেউ হাতাহাতিতে লিপ্ত হন।

৫০ মিনিট লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিয়েছেন উবারচালক নাজমুল হাসান। তিনি শাহবাগ মেট্রোরেলের স্টেশনের নিচ থেকে তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছেন বলে জানান। প্রায় ৫০ মিনিট পর তেল নিতে পেরেছেন। এ সময়ে দুই থেকে তিনটি ভাড়া পেতেন বলে জানান এই চালক। বলেন, প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার তেল লাগে। অন্যদের মানুষদের অল্প হলেও চলে, কিন্তু এই তেল ছাড়া তাঁদের চলবে না।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা চলছে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে। ইরানও পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে যুদ্ধ। ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় জ্বালানি তেল নিয়ে সংকটের আশঙ্কা রয়েছে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ বলছে, জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। দেশে জ্বালানি তেলের মজুত ফুরিয়ে যায়নি। তবে অনেকে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে তেল কিনছেন।

সূত্র : প্রথম আলো

সেহরিতে দুধ-কলা: শক্তি নাকি ক্ষতি—জানুন সত্যটা

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬, ৯:০৪ পিএম
সেহরিতে দুধ-কলা: শক্তি নাকি ক্ষতি—জানুন সত্যটা

রোজায় সেহরিতে এমন খাবার বেছে নিতে হয়, যা সারাদিনের রোজা রাখার শক্তি জোগাবে। তাই সেহরিতে কী খাওয়া হচ্ছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশে অনেক পরিবারেই সেহরির টেবিলে দেখা যায় দুধ, কলা ও ভাত খেয়ে থাকে।

পেট ভরানো ও দ্রুত প্রস্তুত করা যায় বলে এটি বেশ জনপ্রিয়। অনেকেই সেহরিতে দুধ ভাত না হলে চলে না। তবে প্রশ্ন হলো সেহরিতে দুধ,কলা ভাত খেলে শরীরে কী প্রভাব পড়ে তা জেনে নেওযা যাক ।

শক্তির ভালো উৎস

দুধ,কলা ভাত তিনটি খাবারই শক্তির ভালো উৎস। ভাত থেকে পাওয়া যায় কার্বোহাইড্রেট, যা শরীরে গ্লুকোজে রূপান্তরিত হয়ে দ্রুত শক্তি দেয়। কলা প্রাকৃতিক চিনি, পটাশিয়াম ও ফাইবারে সমৃদ্ধ। এটি পেশির কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার সময় দুর্বলতা কমাতে সহায়ক হতে পারে। অন্যদিকে দুধে রয়েছে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও কিছু স্বাস্থ্যকর চর্বি, যা শরীরকে ধীরে ধীরে শক্তি জোগায়।

দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে

এই তিনটি একসঙ্গে খেলে শরীর কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও খনিজ পাওয়া যায়। ফলে অনেকের ক্ষেত্রে দুপুর পর্যন্ত ক্ষুধা কম লাগে। বিশেষ করে যারা শারীরিক পরিশ্রম করেন বা দীর্ঘ সময় কাজ করতে হয়, তাদের জন্য এই সংমিশ্রণটি তাৎক্ষণিক ও স্থায়ী শক্তি দুটোই দিতে পারে।

ঘুম হয়

ভাতে থাকা কার্বোহাইড্রেট শরীরে ট্রিপটোফ্যান নামের অ্যামিনো অ্যাসিডের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে, যা থেকে ‘সেরোটোনিন’ হরমোন তৈরি হয়। সেরোটোনিন মনের স্থিতি ভালো রাখতে এবং শরীরকে শান্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সেহরিতে ভাত খেলে এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শরীর কিছুটা আরাম অনুভব করতে পারে, ফলে খাওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই ঘুম ঘুম ভাব আসতে পারে।

পুষ্টিবিদদের মতে, সেহরির খাবারে জটিল কার্বোহাইড্রেট, পর্যাপ্ত প্রোটিন ও ফাইবার থাকা উচিত। দুধ,কলা,ভাতের সঙ্গে যদি সামান্য বাদাম, চিয়া সিড বা এক টুকরো ফল যোগ করা যায়, তাহলে পুষ্টিমান আরও বাড়ে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি, যাতে সারাদিন পানিশূন্যতা না হয়।

তবে সেহরিতে দুধ ভাত খেলে সমস্যা ও হয় যেমন –

অ্যাসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিক

দুধ ও কলা একসঙ্গে খেলে অনেকের ক্ষেত্রে হজমে সমস্যা হয়। আবার কারো কারোক্ষেত্রে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যাদের ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স রয়েছে, তারা দুধ খেলে পেট ফাঁপা, গ্যাস, পেটব্যথা কিংবা ডায়রিয়ার মতো সমস্যায় ভুগতে পারেন।

একইভাবে যাদের দুধে অ্যালার্জি আছে, তাদের জন্য দুধ–ভাতের সংমিশ্রণও হজমে সমস্যা তৈরি করতে পারে। ভাত বেশি পরিমাণে খাওয়া হলে তা হজম হতে সময় নেয়, ফলে পেটে ভারী ভাব বা অস্বস্তি বাড়তে পারে।

দ্রুত রক্তে শর্করা ওঠানামা

ভাত ও কলা-দুটিই কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ। একসঙ্গে বেশি পরিমাণে খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। কিছুক্ষণ পর আবার তা কমে গিয়ে দুর্বলতা, মাথা ঘোরা বা অতিরিক্ত ক্ষুধা লাগতে পারে। তাই যাদের ডায়াবেটিস বা হজমের সমস্যা আছে, তারা চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে সেহরির খাবার ঠিক করাই ভালো।

হজম ধীর হওয়া

দুধে থাকা প্রোটিন ও চর্বি এবং ভাতে থাকা কার্বোহাইড্রেট একসঙ্গে হজম হতে সময় নেয়। কারো কারো ক্ষেত্রে এতে অম্বল বা বুক জ্বালাপোড়া দেখা দিতে পারে এবং অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।

যেভাবে অসুবিধা কমানো যায়

১. পরিমাণ কম রাখুন।

২. দুধের বদলে ল্যাকটোজ-ফ্রি দুধ ব্যবহার করতে পারেন (যদি সহ্য না হয়)।

৩. সাদা ভাতের বদলে লাল চাল বা পরিমিত পরিমাণ নিন।

৪. পর্যাপ্ত পানি পান করুন।

৫. খাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে পড়বেন না।

ফরিদপুরে তিনদিনব্যাপী “রমাদান ফেস্টিভ্যাল” শুরু, গণইফতারে অংশ নিলেন দুই হাজার মানুষ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬, ৭:৪৪ পিএম
ফরিদপুরে তিনদিনব্যাপী  “রমাদান ফেস্টিভ্যাল” শুরু, গণইফতারে অংশ নিলেন দুই হাজার মানুষ

পবিত্র মাহে রমজানকে ঘিরে ধর্মীয় আবহ, সামাজিক সম্প্রীতি ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমকে উৎসাহিত করতে ফরিদপুরে শুরু হয়েছে তিনদিনব্যাপী “রমাদান ফেস্টিভ্যাল”।

শুক্রবার (৬ মার্চ) বিকেলে শহরের সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধন করা হয়। স্থানীয় সামাজিক সংগঠন ইউনাইটেড ফরিদপুর এ আয়োজনের উদ্যোগ নেয়।

ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধন উপলক্ষে বিকেলে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল এবং গণইফতারের আয়োজন করা হয়। ইউনাইটেড ফরিদপুরের সভাপতি জুরাইস ইবনে আশরাফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম। এছাড়া বক্তব্য দেন এসডিসির নির্বাহী পরিচালক কাজী আশরাফুল হাসান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য প্রফেসর আবদুত তাওয়াব, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের সাবেক অধ্যাপক প্রফেসর আব্দুল বাতেন এবং বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. মুস্তাফিজুর রহমান শামীমসহ অন্যান্য অতিথিরা।

এ সময় মাহে রমজানের তাৎপর্য ও মানবিক শিক্ষার ওপর আলোচনা করেন ফরিদপুর মডেল মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, রমজান শুধু সংযমের মাস নয়, এটি আত্মশুদ্ধি, সহমর্মিতা এবং সমাজে নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠারও একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়।

বক্তারা বলেন, এ ধরনের আয়োজন সমাজে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একইসঙ্গে স্থানীয় ক্ষুদ্র ও নতুন উদ্যোক্তাদের পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির সুযোগ সৃষ্টি করে, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করতে সহায়ক।

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে ফরিদপুরের খান ভিলা জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব হাফেজ মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন।

পরে আয়োজিত গণইফতার মাহফিলে প্রায় দুই হাজার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এতে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা অংশ নিয়ে একসঙ্গে ইফতার করেন।

রমাদান ফেস্টিভ্যাল উপলক্ষে প্রায় ৫০টি স্টল বসেছে, যেখানে দেশীয় খাবার, পোশাক, ইসলামী সামগ্রী, হস্তশিল্প ও বিভিন্ন উদ্যোক্তার পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করা হচ্ছে। আগামী ৮ মার্চ পর্যন্ত চলবে এই ফেস্টিভ্যাল।

আয়োজকরা জানান, প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, আলোচনা ও বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমও অনুষ্ঠিত হবে।