খুঁজুন
সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ২১ বৈশাখ, ১৪৩৩

খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধনে আজ ফরিদপুরে আসছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬, ১০:০৪ অপরাহ্ণ
খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধনে আজ ফরিদপুরে আসছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ

দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ সোমবার (১৬ মার্চ) ফরিদপুর সফরে আসছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, এমপি। এ সফরে তিনি ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ খাল খনন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেগুনবাগিচা কার্যালয় থেকে জারি করা এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতিমন্ত্রী সোমবার (১৬ মার্চ) সকাল ৮টায় ঢাকার বনানীতে অবস্থিত নিজ বাসভবন থেকে সড়কপথে ফরিদপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। তার সফর ব্যবস্থাপনায় থাকবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন।

সফরসূচি অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মানিকদহ ইউনিয়নের বলেরবাগ এলাকা থেকে সোনাখোলা ব্রিজ পর্যন্ত খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তিনি। স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণের কথা রয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে বন্ধ হয়ে থাকা খালটি পুনঃখননের মাধ্যমে এলাকার জলাবদ্ধতা দূর করা, কৃষিকাজে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা উন্নত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ভাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষক ও সাধারণ মানুষের সরাসরি উপকার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধনের পর প্রতিমন্ত্রী দুপুর দেড়টার দিকে নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে উপস্থিত হবেন এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় করবেন। এরপর দুপুর আড়াইটার দিকে তিনি সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।

সফরসূচি অনুযায়ী, সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটার দিকে ঢাকার বনানীতে নিজ বাসভবনে পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রতিমন্ত্রীর।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এটি প্রতিমন্ত্রীর একটি সরকারি সফর এবং এ সফরে তার সঙ্গে নিরাপত্তা দায়িত্বে একজন গানম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা থাকবেন।

ফরিদপুর জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, প্রতিমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে ইতোমধ্যে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং অনুষ্ঠানস্থলে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

ইতালির স্বপ্ন দেখিয়ে লিবিয়ায় দুঃস্বপ্ন, ভাঙ্গার যুবকের ২৪ লাখ টাকা লুট

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ৭:৫৪ পূর্বাহ্ণ
ইতালির স্বপ্ন দেখিয়ে লিবিয়ায় দুঃস্বপ্ন, ভাঙ্গার যুবকের ২৪ লাখ টাকা লুট

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে এক যুবককে লিবিয়ায় পাচার করে নির্যাতন চালিয়ে বিপুল অঙ্কের টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে একটি মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।

অভিযোগে জানা যায়, ভাঙ্গা উপজেলার চান্দ্রা ইউনিয়নের দীঘলকান্দা গ্রামের বাসিন্দা লুৎফর মাতুব্বরের ছেলে সবুজ মাতুব্বরকে বৈধভাবে ইতালি পাঠানোর আশ্বাস দেন একই গ্রামের তাহিদ মাতুব্বর। পরে তাহিদের নেতৃত্বে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে সবুজকে লিবিয়ায় নিয়ে যায়।

অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন চক্রের মূলহোতা তাহিদ মাতুব্বর (৩৫), তার মা কহিনুর বেগম, ভাই সহিদ মাতুব্বর ও বোন লিটা বেগমসহ আরও কয়েকজন। তারা সবাই একই এলাকার বাসিন্দা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, ইতালি পাঠানোর কথা বলে প্রথমে ১৯ লাখ টাকা নেয় চক্রটি। এরপর গত ২০২৫ সালের ২ জুলাই সবুজকে লিবিয়ায় পাঠানো হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর তাকে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনের ভিডিও পরিবারের কাছে পাঠিয়ে আরও ৫ লাখ টাকা আদায় করা হয়।

পরিবারের অভিযোগ, প্রায় পাঁচ মাস ধরে লিবিয়ায় অবৈধভাবে আটকে রেখে নির্যাতনের পর গত ৫ ডিসেম্বর সবুজকে স্থানীয় পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে ৩৮ দিন কারাভোগের পর তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।

সবুজের বাবা লুৎফর মাতুব্বর বলেন, “লিবিয়ায় অবস্থানরত তাহিদের নির্দেশে তার পরিবারের সদস্যরা দেশে বসেই পুরো অর্থ লেনদেন ও বিদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করত। আমরা ধার-দেনা করে মোট ২৪ লাখ টাকা দিয়েছি। এখন আমরা নিঃস্ব হয়ে পড়েছি।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, টাকা নেওয়ার পরও চক্রটি পুনরায় ইতালি পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে সময়ক্ষেপণ করে এবং পরে আরও ২০ লাখ টাকা দাবি করে।

লুৎফর মাতুব্বর বলেন, “আমার মতো আরও অনেক পরিবার এই চক্রের প্রতারণার শিকার। কেউ কেউ লিবিয়া হয়ে ইতালি যাওয়ার পথে সাগরে নিখোঁজ হয়েছেন বলেও শুনেছি। আমি আমার টাকার ফেরত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) আল আমিন জানান, বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণার একটি অভিযোগ তারা পেয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সদরপুরে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি, ৩ ফার্মেসিকে জরিমানা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ৭:৩০ পূর্বাহ্ণ
সদরপুরে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি, ৩ ফার্মেসিকে জরিমানা

ফরিদপুরের সদরপুরে মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ বিক্রি, অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্টার হালনাগাদ না করা ও ড্রাগ লাইসেন্স নবায়ন ব্যতিরেকে ফার্মেসি পরিচালনার অপরাধে তিনটি ফার্মেসিকে মোট ৯ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে জব্দ করা অবৈধ ওষুধ ধ্বংস করা হয়েছে।

রবিবার (৩ মে) বিকালে উপজেলার হাসপাতাল মোড় ও বাবুরচর বাজার এলাকায় সদরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিফাত আনজুম পিয়ার নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, অভিযানকালে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্টার হালনাগাদ না করা, ড্রাগ লাইসেন্স নবায়ন ব্যতিরেকে ফার্মেসি পরিচালনা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ রাখা ও বিক্রির অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৫১ ধারা অনুসারে তিন ফার্মেসি মালিক গোপালকৃষ্ণ সাহাকে (৪০) ৩ হাজার, মো. শরিফুল ইসলামকে (৩৬) ৩ হাজার ও আ. মোতালিবকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযান চলাকালীন শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সদরপুর থানা পুলিশ সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে।

অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিফাত আনজুম পিয়া বলেন, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এবার সতর্কতামূলকভাবে তুলনামূলক কম জরিমানা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে একই অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে অর্থদণ্ডের পাশাপাশি কারাদণ্ড দেওয়া হবে।

ফরিদপুরে হামের উপসর্গ নিয়ে আরেক শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬, ১০:৩০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে হামের উপসর্গ নিয়ে আরেক শিশুর মৃত্যু

ফরিদপুরে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া আরেক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মারা যাওয়া শিশুটির নাম ওজিহা। তার বয়স সাত মাস। সে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার দিগনগর এলাকার বাসিন্দা সবুজ মাতুব্বরের মেয়ে।

শিশুটিকে হামের উপসর্গ নিয়ে শনিবার (০২ মে) রাত সাড়ে আটটার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার (০৩ মে) ভোররাত পাঁচটার দিকে তার মৃত্যু।

ফরিদপুর সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুরে হামের উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ১ জানুয়ারি থেকে ৩ মে পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোট নয়জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুরে দুইজন করে ছয়জন এবং রাজবাড়ী, যশোর ও মাগুরার একজন করে মোট তিনজন রয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান জানান, ৭ মাস বয়সী শিশু ওজিহা ভর্তির সময়ই তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। তার নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকার মহাখালীর রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) পাঠানো হলেও ফলাফল আসার আগেই শিশুটি মারা যায়।

গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল শনিবার সকাল ৮টা থেকে আজ রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত) নতুন করে ২৬ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে নতুন ২৬ রোগীসহ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮০ জন এবং ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ১২ জন শিশুসহ মোট ৩০ শিশুর চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গত ১ জানুয়ারি থেকে আজ রোববার পর্যন্ত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫৫২ জন শিশু ও ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ২০২ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে।