খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পেলেন তিন শতাধিক রোগী

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পেলেন তিন শতাধিক রোগী

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় দিনব্যাপী এক ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে স্থানীয় তিন শতাধিক রোগীকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বুধবা​র (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে উপজেলা​র পবনবেগ মোহাম্মাদিয়া নূরানী ও এতিমখানা মাদ্রাসায় এই কল্যাণমূলক কর্মসূচির আয়োজন করে ‘রাসু ফাউন্ডেশন’ (রাসু জুয়েলার্সের সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠান)।

​মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. রিয়াজুল ইসলাম এবং গাইনী ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. শাবনাজ সুলতানা। দিনভর সেবা নিতে আসা বিভিন্ন বয়সের নারী ও পুরুষদের শারীরিক পরীক্ষা, ডায়াবেটিস পরীক্ষা ও রক্তচাপ পরিমাপসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ দিতে সার্বিক সহযোগিতা করে ‘আলফাডাঙ্গা ল্যাবএইড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’।

​ক্যাম্প পরিচালনা ও তদারকিতে উপস্থিত ছিলেন রাসু ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মো. আবদুল্লাহ সুমন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ইসলাম ও সাংগঠনিক সম্পাদক সেকেন্দার রুমি। এছাড়া মো. হাসান খান, আকিব সিকদার, সিয়াম মোল্যা, রিফাত মোল্যা, রনি মোল্যা, আরাফাত মোল্যা ও ওমর মোল্যাসহ স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকবৃন্দ সেবা কার্যক্রমে সার্বিক সহায়তা করেন।

​সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে আয়োজিত এই উদ্যোগ নিয়ে রাসু ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মো. আবদুল্লাহ সুমন বলেন, ‘অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। এই তাগিদ থেকেই মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে। আগামীতেও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণে এ ধরনের স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’

সালথায় ​সার পাচারের খবর পেয়ে সড়কে ইউএনও, হাতেনাতে আটক ডিলার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:০১ অপরাহ্ণ
সালথায় ​সার পাচারের খবর পেয়ে সড়কে ইউএনও, হাতেনাতে আটক ডিলার

ফরিদপুরের সালথায় সার ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম প্রতিরোধে অভিযান চালিয়ে বিসিআইসি’র এক নিবন্ধিত ডিলারকে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

​বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দবির উদ্দিনের নেতৃত্বে এ অভিযান ও আদালত পরিচালিত হয়।

​উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের বিসিআইসি মূল ডিলার সুভাষ দত্ত তাঁর নকুলহাটি বাজারস্থ দোকান থেকে গৌড়দিয়া বাজারের খুচরা বিক্রেতা ওহিদের কাছে ২৪ বস্তা সার হস্তান্তর করেন বলে দাবি করা হয়েছিল। তবে সার নির্ধারিত গন্তব্য গৌড়দিয়ার পরিবর্তে ফরিদপুর সদরের কানাইপুরের দিকে পরিবহন করা হচ্ছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কানাইপুর সড়কে দুপুর ২টার দিকে অভিযান চালিয়ে নসিমনটি সারসহ আটক করা হয়।

​আটক নসিমনের চালক এরশাদ কোনো বৈধ পরিবহন রশিদ দেখাতে পারেননি। পরে সংশ্লিষ্ট ডিলার সুভাষ দত্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তাঁর বক্তব্যে নানা অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হয়।

​সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬-এর ১২(১) ধারা লঙ্ঘনের অপরাধে ডিলার সুভাষ দত্তকে ৩০,০০০ (ত্রিশ হাজার) টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

​অভিযানকালে সালথা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আহসানুল হাবীব আল আজাদ জনি উপস্থিত ছিলেন।

​সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে জানান, কৃষকদের জন্য সরকার বরাদ্দকৃত সার সুষ্ঠু ও নির্ধারিত ব্যবস্থাপনায় বিতরণ নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের এই নিয়মিত তদারকি ও আইনানুগ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

ফরিদপুরে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা মামলায় যুবকের ১০ বছরের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা মামলায় যুবকের ১০ বছরের কারাদণ্ড

ফরিদপুরের নগরকান্দায় মাদ্রাসাছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণচেষ্টার মামলায় মিরাজ শেখ (৩৫) নামের এক যুবককে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

​বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামিমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি মিরাজ শেখ আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

​মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২৮ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে আসামির বাড়ির সামনে খেলা করছিল ভুক্তভোগী মাদ্রাসাছাত্রী। এ সময় অভিযুক্ত মিরাজ শেখ সুকৌশলে তাকে নিজ ঘরে ডেকে নিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণের চেষ্টা চালান।

​এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে নগরকান্দা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করে আসামি মিরাজ শেখকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন নগরকান্দা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান।

​দীর্ঘ সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আজ এই রায় প্রদান করেন।

​রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, আসামি মিরাজ শেখের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত তাকে উপযুক্ত সাজা দিয়েছেন। এই রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করছে।

সালথায় জামু ফকির হত্যা : মামলার ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি ও হয়রানির অভিযোগ

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:১১ অপরাহ্ণ
সালথায় জামু ফকির হত্যা : মামলার ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি ও হয়রানির অভিযোগ

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের কুমারকান্দা গ্রামের পান্নু ফকির ওরফে জামু ফকির হত্যা মামলাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। মামলার আসামিদের জামিন ও হুমকি-ধমকির অভিযোগের বিপরীতে বিবাদীপক্ষ ও স্থানীয়দের একাংশ দাবি করেছে, আদালতের মাধ্যমে আইনগত প্রক্রিয়ায় জামিন পাওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি ও হয়রানি করা হচ্ছে।

তাঁদের দাবি, আইনি নিয়মনীতি মেনেই আসামীরা আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন, অথচ এই মামলাকে পুঁজি করে এলাকায় চরম চাঁদাবাজি ও সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত জামু ফকির এলাকায় কেবল একজন রাজনৈতিক কর্মীই ছিলেন না, বরং তাঁর বিরুদ্ধে সালথা থানাসহ বিভিন্ন স্থানে অন্তত ১০টি মামলা রয়েছে। বিবাদীপক্ষের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত ছিলেন এবং তাঁর শত্রু পক্ষ ছিল বহু বিস্তৃত। সে সবসময় ক্ষমতাসীনদের পক্ষ অবলম্বন করে অপরাধের বিস্তার ঘটিয়েছিলেন। সরকার পরিবর্তন হওয়ার সাথে সাথে সে-ও দল পরিবর্তন করতেন। তাইতো সরকারি দলের সুবিধা নিয়ে মানুষকে নির্যাতন, বাড়ি-ঘর-দোকানপাট ভাংচুর ও লুটপাট এবং হত্যার অভিযোগও ছিল জামুর বিরুদ্ধে।

​জামিনে থাকা আসামীদের পরিবারের দাবি, জামিন আদালতের এখতিয়ার। শারীরিক অসুস্থতা ও আইনি শর্ত মেনেই আদালত থেকে জামিন দেওয়া হয়েছে। এলাকায় জোরপূর্বক স্বাক্ষর বা হুমকির অভিযোগ সম্পূর্ণ বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বিবাদীপক্ষের বক্তব্য—”আমরা আইনি লড়াই লড়ছি। মানববন্ধনের নামে আদালত ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে।”

যদুনন্দী ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য সিদ্দিক মাতুব্বর বলেন, জামুর আদি বাড়ি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার ননখীর গ্রামে। তবে ১৯৬৫ সালে ফরিদপুরের সালথার কুমারকান্দা গ্রামে এসে বসবাস শুরু করেন জামুর পরিবার। জামু এখানে আসার পর থেকে অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। সে ২০২১ সালের ৫ এপ্রিল রাতে সালথা উপজেলা কার্যালয় ও থানায় আগুন দেওয়ার আলোচিত সহিংসতার ঘটনার মামলার ৮২ নম্বর আসামি ছিলেন।

সিদ্দিক মাতুব্বর বলেন, আ.লীগের সময় জামুর বাড়ি অন্তত ৬ মাস নৌকা প্রতীক ঝুলিয়ে রাখা হতো। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর হঠাৎ করে সে বিএনপির সমার্থক হয়ে গিয়েছিল। অপরাধীরা বিভিন্ন দল পরিবর্তন করে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যায়। জামুও এর ব্যতিক্রম ছিলোনা।

এলাকাবাসীর দাবি, জামু হত্যার পর কুমারকান্দা গ্রামের কারো বাড়ির ছাগল, গরু,আম, কাঠাল, ধান-পাট সহ কোনোকিছু নেওয়া কিংবা কাজে বাধা দেওয়ার বাকি রাখেনি জামুর পরিবার। মানুষকে মামলার ভয় দেখিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন লাখ লাখ টাকা। তবে, এ ব্যাপারে থানায় একাধিক অভিযোগ দিলেও তার কোনো বিচার হয়নি। জামু হত্যা ও জামুর স্ত্রীর কোলের শিশুকে পুঁজি করে এখন নিরীহ মানুষকে ফাঁসানো হচ্ছে।

​স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ—জামু ফকিরের হত্যাকাণ্ডের পর থেকে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী ও মামলার সাথে সংশ্লিষ্টরা সাধারণ মানুষকে আসামি করার ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবি করছে। টাকা না দিলে মামলার অজ্ঞাতনামা আসামিতে নাম জুড়ে দেওয়ার হুমকিতে দিশেহারা অনেক নির্দোষ গ্রামবাসী। মানববন্ধনের মাধ্যমে মূলত সেই চাঁদাবাজি ঢাকতে ও আইনি তদন্ত অন্যদিকে মোড় ঘুরাতে ‘সহানুভূতি কার্ড’ খেলা হচ্ছে বলে তাঁদের দাবি।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নিহত জামু ফকিরের স্ত্রী রুপা বেগম। তিনি বলেন, ‘আমার পাঁচ দিনের বাচ্চা রেখে যারা আমার স্বামীকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সালথা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রজিৎ রায় বলেন, ‘এ মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং বাকিরা উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়েছিল। ওই মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে আদালতে আরও ৯ জন জামিন চেয়েছিল, তাঁদের মধ্যে ৭ জনকে জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং দুইজনকে জামিন দিয়েছে আদালত। এছাড়া বাকি ৫ জন পুনরায় উচ্চ আদালত থেকে ৬ সপ্তাহের জামিন নিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, “অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ যাই থাক, পুলিশের তদন্ত নিরপেক্ষভাবেই চলছে। তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই চার্জশিট দাখিল করা হবে। বিজ্ঞ আদালতের আদেশ মেনেই জামিন প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়।”

ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা-সালথা সার্কেল) মুহম্মদ আল ফাহাদ ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে বলেন, ‘মামলাটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। নিরীহ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয় সেটাও দেখা হচ্ছে। জামু হত্যার সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করতে মাঠে তৎপর রয়েছে পুলিশ। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবেনা।’