খুঁজুন
, ,

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ভিসা স্থগিত: কোন কোন সংকটে পড়তে পারেন বাংলাদেশিরা

মরিয়ম সুলতানা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:৫৪ পূর্বাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ভিসা স্থগিত: কোন কোন সংকটে পড়তে পারেন বাংলাদেশিরা

তিন বছর, কেউ কেউ তারও বেশি সময় ধরে অপেক্ষায় ছিলেন – কবে পরিবারের সঙ্গে এক ছাদের নিচে থাকা যাবে। কিন্তু বাংলাদেশিদের জন্য আপাতত যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ভিসা কার্যক্রম স্থগিত থাকায় সেই অপেক্ষা আরও দীর্ঘ ও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অনেক বাংলাদেশি বলছেন, তাদের নানা পরিকল্পনা আপাতত থমকে গেছে। কবে নাগাদ ভিসা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে তা নিয়ে কোনো স্পষ্ট সময়সীমা না থাকায় তাদের চাপ ও উৎকণ্ঠা ক্রমেই বেড়ে চলেছে।

তেমনই একজন হলেন বাকের মজুমদার (আমরা তার নিরাপত্তার স্বার্থে এই প্রতিবেদনে ছদ্মনাম ব্যবহার করছি) যিনি তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন।

তিনি জানিয়েছেন, ১৯৯৩ সালে তিনি বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান।

তার ভাষ্যমতে, শুরুতে তিনি পেশাগত কাজে গিয়েছিলেন। কিন্তু পরের বছরই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পলিটিক্যাল অ্যাসাইলাম, তথা রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেন। এটি পেতে তার আরও বছরখানেক লেগে যায়। ১৯৯৫ সাল থেকে তিনি বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পেয়ে যান।

এরপর কেটে যায় আরও এক দশক। ২০০৮ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট কার্ড বা ‘গ্রিন কার্ড’ পান এবং দীর্ঘ ১৬ বছর পর বাবার অসুস্থতার কারণে বাংলাদেশে আসেন।

পরবর্তীতে তিনি নাগরিকত্বের জন্যও আবেদন করেন এবং ২০১২ সালে সেটি পেয়েও যান।

বর্তমানে তিনি স্ত্রী-সন্তানসহ যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন এবং সেখানে কাজ করছেন।

কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের ‘গ্রিন কার্ড ও সিটিজেনশিপ পুনর্মূল্যায়ন’ করার অবস্থান থেকে শুরু করে ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসন ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিতের সিদ্ধান্তে অন্য অনেক প্রবাসীর মতো তিনি নিজেও কিছুটা চিন্তিত। কারণ এই তালিকায় বাংলাদেশের নামও রয়েছে।

‘নগর পুড়লে দেবালয়ও রক্ষা পায় না’

মি. মজুমদার জানান, বাংলাদেশ থেকে অনেকেই অবৈধ পন্থায় মার্কিন আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন। মূলত, তাদের কারণেই ট্রাম্প প্রশাসন নতুন-পুরাতন সবার গ্রিন কার্ড ও সিটিজেনশিপ রিভিউ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

“তাই, কনসার্নটা এখানেই যে আমি যতই বৈধ হই, এর একটা সাইকোলজিক্যাল ইম্প্যাক্ট আছে। কারণ নগর পুড়লে দেবালয়ও রক্ষা পায় না। আগুনের তাপটা তো আমাদেরও লাগে। সেজন্যই, আমার মতো যারা শুরুতে অ্যাসাইলাম সিক করেছেন, এই ঘটনায় তারাও এখন কনসার্ন,” বলেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত বছরের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে দুইজন ন্যাশনাল গার্ড সদস্যকে গুলি করার ঘটনার পর ট্রাম্প প্রশাসন সব ধরনের আশ্রয় সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত স্থগিত করে।

ওই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে “তৃতীয় বিশ্বের দেশ” থেকে অভিবাসন “স্থায়ীভাবে স্থগিত” করবেন।

ট্রাম্পের সেই ঘোষণার দেড় মাস পেরোতেই গতকাল ট্রাম্প প্রশাসন আগামী ২১শে জানুয়ারি থেকে ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসন ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিতের ঘোষণা দেয় এবং কবে নাগাদ এসব দেশের মানুষ মার্কিন অভিবাসন ভিসা পাবে, সেটাও জানানো হয়নি।

মার্কিন প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের ফলে গ্রিনকার্ডধারী থেকে শুরু করে সিটিজেনশিপ প্রাপ্ত, এমনকি ঘুরতে বা ভিসার মেয়াদ বাড়াতে যারা বাংলাদেশে আসতে চেয়েছিলেন, তারাও অনেকেই এখন দ্বিধা-উৎকণ্ঠার মাঝে রয়েছেন।

তেমনই একজন হলেন, রেহনুমা রহমান; তার ক্ষেত্রেও আমরা ছদ্মনাম ব্যবহার করছি।

তিনি কয়েক বছর আগে লেখাপড়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং পড়াশোনা চলা অবস্থায়ই সহপাঠী, যিনি বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত মার্কিন নাগরিক, তাকে বিয়ে করেন।

মিজ রহমান আশা করছিলেন, এ বছরের শেষ নাগাদ তার গ্রিন কার্ড হয়ে যাবে এবং এরপর তারা সবাই বাংলাদেশে ফিরবেন ও এখানে বিয়ের পরের অনুষ্ঠান করবেন। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের ভিসা স্থগিতের এই ঘোষণায় তিনিও কিছুটা মুষড়ে পড়েছেন।

গ্রিন কার্ডধারীদের সম্পর্কে মি. মজুমদারও বলছিলেন, “ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিতের এই ঘোষণার ফলে গ্রিন কার্ডধারীরাও এখন স্বতঃস্ফূর্তভাবে দেশে যেতে পারবেন না”।

যে কারণে এই সিদ্ধান্ত ও প্রবাসীদের শঙ্কা

বাংলাদেশসহ যে ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসন ভিসা স্থগিত করছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর, তার পেছনে সুনির্দিষ্ট কিছু কারণ রয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, অভিবাসন আইনের ‘পাবলিক চার্জ’ নীতির আওতায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, ভবিষ্যতে যাদের যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা আছে, তাদের অভিবাসন ঠেকানোর উদ্দেশ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রধান উপ-মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, “স্টেট ডিপার্টমেন্ট তার দীর্ঘদিনের ক্ষমতা ব্যবহার করে এমন সম্ভাব্য অভিবাসীদের অযোগ্য ঘোষণা করবে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর সরকারি সহায়তার বোঝা হয়ে দাঁড়াবে এবং মার্কিন জনগণের উদারতার অপব্যবহার করবে”।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নেতৃত্বাধীন বিভাগটি তাদের প্রক্রিয়া পুনর্মূল্যায়নের সময় ভিসা প্রক্রিয়াকরণ স্থগিত রাখবে, যাতে “এমন বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশ রোধ করা যায়, যারা কল্যাণভাতা ও সরকারি সুবিধা গ্রহণ করবে,” যোগ করেন পিগট।

মার্কিন সরকারের এই সিদ্ধান্তের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অবৈধ পথগুলোর পাশাপাশি বৈধ পথগুলো আরও বেশি সীমিত হয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বেশ কয়েকজন বাংলাদেশির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নতুন এই সিদ্ধান্তে সবারই ‘ফ্যামিলি প্রায়োরিটিজ’ বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

“গ্রিন কার্ড হোক বা সিটিজেনশিপ হোক, সবার ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য। ধরা যাক, কারও বাবা-মা, ভাই-বোন অসুস্থ থাকলেও তাদের এখন ভিসা দেবে না। কারণ স্পন্সরশিপে এসে বেশিরভাগ মানুষই সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে,” বিবিসিকে বলছিলেন মি. মজুমদার।

তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্ধৃত করে বলেন, বাংলাদেশের ৫৪ শতাংশ লোকই এই সুবিধা নেয়।

অর্থাৎ, তারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর জনকল্যাণমূলক সহায়তা ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, যা দেশটির অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করে।

“আয় কম থাকলে তারা একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পাবলিক সুবিধা পায়। কিছু নিয়ম মানলে বয়স্করাও এই সুবিধা নিতে পারে। কিন্তু অনেকে অপ্রয়োজনেও বা তথ্য লুকিয়ে এই সুবিধা নিচ্ছে এবং একইসাথে বাংলাদেশেও টাকা পাঠাচ্ছে। তখন প্রশ্ন উঠবে যে আপনি পর্যাপ্ত আয় করেন না, পাবলিক বেনিফিটস নিচ্ছেন, আবার টাকাও পাঠাচ্ছেন, কীভাবে?” যোগ করেন তিনি।

তার মতে, এখন এই ধরনের হিসাবনিকাশ করা শুরু করবে মার্কিন প্রশাসন এবং এতে করে যারা এতদিন স্পন্সরশিপ দেখিয়ে পরিবার-পরিজনকে যুক্তরাষ্ট্রে এনেছে, তারাও বিপদে পড়বে।

“যারা সাপোর্ট দিয়েছে এর আগে, তারা এখন ধরে পড়বে যে তুমি বলেছিলে যে তার ভরনপোষণ তুমি করবে, কিন্তু সে তো সরকারি সুবিধা নিচ্ছে। অর্থাৎ, এখন তোমাকে সমস্ত ডিউ পে করতে হবে। ধরুন, আমি আমার আত্মীয়কে এনেছি। তারা পাবলিক সুবিধা নিচ্ছে। এই বারডেন আসবে আমার ওপর। সুতরাং, এখন নতুন যারাই আসবে, আপনার যদি যথেষ্ট সামর্থ্য না থাকে, তাহলে আপনাকে ভিসা দেবে না। আর সরকারি সুবিধা দিলেও তাতে এমন কিছু শর্ত দেবে, এমন এত বছরের জন্য বা সারাজীবনের জন্য অন্য কোনো সুযোগ-সুবিধা নেওয়া যাবে না।”

বছরের পর বছর ধরে অবৈধভাবে সুবিধা গ্রহণকারীদের জন্য “যারা সুবিধা ডিজার্ভ করে, তারাও চিন্তিত হয়ে পড়ছে। কারণ উনাদের কারণে তাদেরটাও রিভিউ করা হচ্ছে,” যোগ করেন তিনি।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে লেখাপড়া করতে যাওয়া অনেকে বলছেন, পড়াশোনা শেষ করার পর মার্কিন প্রশাসন তাদেরকে যে এক থেকে তিন বছরের জন্য চাকরি খোঁজার জন্য সময় দেয়, এটিও এখন কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

অর্থাৎ, শিক্ষার্থীরা যখন স্ট্যাটাস পরিবর্তন করতে যাবেন, তখন তারা সমস্যার মাঝে পড়বেন।

এছাড়া, শিক্ষার্থীদের স্পন্সরশিপে কড়াকড়ি আরোপ হলেও ভিসা জটিলতা বাড়বে।

যেসব ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম

মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, যেসব দেশের নাম তালিকায় আছে সেগুলোর নাগরিকরা অভিবাসী ভিসার আবেদন জমা দিতে এবং সাক্ষাৎকারে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ আবেদনকারীদের অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য সময়সূচিও নির্ধারণ করবে।

তবে এই বিরতির সময়কালে এই নাগরিকদের কোনো অভিবাসী ভিসা জারি করা হবে না।

তালিকাভুক্ত নয় এমন কোনো দেশের বৈধ পাসপোর্টসহ আবেদনকারী দ্বৈত নাগরিকরা এই বিরতির আওতা থেকে মুক্ত থাকবেন।

এই নির্দেশনার অংশ হিসাবে কোনো অভিবাসী ভিসা বাতিল করা হয়নি বলেও জানায় স্টেট ডিপার্টমেন্ট।

এছাড়া, পর্যটন, ব্যবসায়িক ভ্রমণ ও শিক্ষার্থীদের জন্য দেওয়া ‘অ-অভিবাসী’ (নন-ইমিগ্রেন্ট) ভিসাগুলো এই স্থগিতাদেশের বাইরে থাকবে।

অর্থাৎ, এখন পর্যন্ত দেশটিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের সমস্যা নেই। কিন্তু কেউ যদি পড়াশুনা করতে গিয়ে তা ছেড়ে ভুল তথ্য দিয়ে চাকরি করে বা আর্থিক অনিয়ম করে, তখন তারাও জটিলতায় পড়বে বলে জানিয়েছে অভিবাসী বাঙালি এবং শিক্ষার্থীরা।

উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর থেকে অবৈধ অভিবাসনের পাশাপাশি বৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণেও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।

গত বছর যুক্তরাষ্ট্র এক লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে। পাশাপাশি, গত সেপ্টেম্বরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দক্ষ বিদেশি কর্মী হিসেবে বা এইচ-ওয়ানবি ভিসা প্রোগ্রামে যুক্তরাষ্ট্র যেতে আবেদনকারীদের বাড়তি এক লাখ ডলার গুণতে হচ্ছে।

এমনকি, গত জানুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই অবৈধভাবে বসবাস করা পিতামাতার সন্তানদের জন্য জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সুবিধা বন্ধ করে আদেশ জারি করেছিলেন তিনি।

যেসব দেশের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা

যে ৭৫টি দেশের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে তার মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও পাকিস্তান, আফগানিস্তান, নেপাল ও ভুটানও রয়েছে।

আরো রয়েছে – আলবেনিয়া, আলজেরিয়া, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাহামা, বার্বাডোস, বেলারুশ, বেলিজ, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, ব্রাজিল, বার্মা, কম্বোডিয়া, ক্যামেরুন, কেপ ভার্দে, কলম্বিয়া, আইভরি কোস্ট, কিউবা, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, ডোমিনিকা, মিশর, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, ফিজি, গাম্বিয়া, জর্জিয়া, ঘানা, গ্রেনাডা, গুয়াতেমালা, গিনি, হাইতি, ইরান, ইরাক, জ্যামাইকা, জর্ডান, কাজাখস্তান, কসোভো, কুয়েত, কিরগিজ প্রজাতন্ত্র, লাওস, লেবানন, লাইবেরিয়া, লিবিয়া, মলদোভা, মঙ্গোলিয়া, মন্টিনিগ্রো, মরক্কো, নিকারাগুয়া, নাইজেরিয়া, উত্তর ম্যাসেডোনিয়া।

কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, রাশিয়া, রুয়ান্ডা, সেন্ট কিটস ও নেভিস, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডাইনস, সেনেগাল, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া, তানজানিয়া, থাইল্যান্ড, টোগো, তিউনিসিয়া, উগান্ডা, উরুগুয়ে, উজবেকিস্তান ও ইয়েমেন।

তথ্য সূত্র : বিবিসি বাংলা

ফরিদপুরে বাথরুমের স্ল্যাবের নিচে মিলল নারীর বস্তাবন্দি কঙ্কাল

মধুখালী প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বাথরুমের স্ল্যাবের নিচে মিলল নারীর বস্তাবন্দি কঙ্কাল

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রীপুর কর্মকারপাড়ায় একটি বসতবাড়ির কাঁচা বাথরুমের স্ল্যাবের নিচ থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় এক নারীর কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রবিবার (২৬ জুলাই) এ ঘটনা জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। কঙ্কালটির পরিচয় ও মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে মধুখালী থানা পুলিশ।

বাড়ির মালিক মৃত মধু মণ্ডলের ছেলে মো. আলী আকবর মণ্ডল (৮০)-এর স্ত্রী মোছা. রওশনা বেগম (৫৫) জানান, ভোর প্রায় ৫টার দিকে তিনি বাথরুম ব্যবহার করতে গিয়ে স্ল্যাবের ওপর দাঁড়ানোর সময় অন্য দিনের তুলনায় অস্বাভাবিক অনুভব করেন। বিষয়টি তিনি স্বামীকে জানালে প্রথমে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। পরে আলী আকবর মণ্ডল নিজে সেখানে গিয়ে স্ল্যাবের নিচে বস্তাবন্দি কিছু রয়েছে বলে সন্দেহ করেন। এরপর পরিবারের অন্য সদস্য ও স্বজনদের বিষয়টি জানানো হয়।

দুপুর ১টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে মধুখালী থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়। সাব-ইন্সপেক্টর মো. মাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ বাথরুমের স্ল্যাব সরিয়ে নিচ থেকে একটি বস্তা উদ্ধার করে। বস্তা খুলে দেখা যায়, ভেতরে এক নারীর কঙ্কাল রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উদ্ধার হওয়া কঙ্কালটির মাথার খুলি মাঝারি আকারের। কঙ্কালের সঙ্গে দীর্ঘ কালো চুলের অংশ পাওয়া গেছে। এছাড়া হাড়গুলোর বিভিন্ন জোড়া বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, মরদেহটি দীর্ঘদিন ধরে সেখানে মাটিচাপা অবস্থায় ছিল। তবে এটি কতদিন আগের এবং কীভাবে সেখানে রাখা হয়েছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। একটি আবাসিক বাড়ির বাথরুমের নিচ থেকে কঙ্কাল উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় নানা ধরনের আলোচনা ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।

মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. মারুফ হাসান বলেন, উদ্ধার হওয়া কঙ্কালটি ময়নাতদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। কঙ্কালের পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরও জানান, থানার প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে মধুখালী উপজেলায় কোনো নারী নিখোঁজ থাকার অভিযোগ নথিভুক্ত নেই। তাই কঙ্কালটির পরিচয় শনাক্তে আশপাশের এলাকা এবং পুরোনো নিখোঁজ সংক্রান্ত তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদন এবং তদন্তের ফলাফল পাওয়ার পরই এ ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন সম্ভব হবে।

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় সমাজসেবা কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ৮:৪২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় সমাজসেবা কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে দুর্বৃত্তদের হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২৬ জুলাই) ভোরে এ ঘটনা ঘটে। এতে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার কক্ষের জানালার কাচ ভেঙে ফেলা হয়। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন ফরিদপুর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ এহিয়াতুজ্জামান।

সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ‘ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬’ কার্যক্রমে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের জন্য আবেদনকারীদের রোববার (২৬ জুলাই) সকাল ১০টায় আলফাডাঙ্গা উপজেলা পরিষদের মিনি কনফারেন্স রুমে উপস্থিত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে এর আগেই সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোয়াম্মদ মাহবুব স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে আবেদন জমার শেষ সময় ২৮ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়। ফলে নির্ধারিত দিনের পরীক্ষা বা বাছাই কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়।

এরই মধ্যে রোববার ভোরে কে বা কারা সমাজসেবা কার্যালয়ে প্রবেশ করে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার কক্ষের জানালার কাচ ভাঙচুর করে পালিয়ে যায়।

সকালে অনেক আবেদনকারী পরীক্ষা দিতে এসে ফিরে যান। আবার অনেকে নতুন সময়সীমার সুযোগে আবেদনপত্র জমা দিতে দেখা যায়। এ কারণে স্থানীয়ভাবে ধারণা করা হচ্ছিল, নিয়োগ কার্যক্রমের সময়সূচি পরিবর্তনকে কেন্দ্র করেই এ ঘটনা ঘটতে পারে।

তবে আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত নূর মৌসুমি এ ধারণা নাকচ করে বলেন, “ফ্যামিলি কার্ড শুমারির আবেদনকারীদের সঙ্গে এ ভাঙচুরের কোনো সম্পর্ক রয়েছে বলে আমরা মনে করছি না। সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে আবেদন জমার সময় ২৮ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানোর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। সেটি পাওয়ার পর আজ সকাল ৮টার দিকে আমি বিষয়টি ফেসবুকে জানিয়ে দিয়েছি। ভাঙচুরের ঘটনায় সমাজসেবা কর্মকর্তাকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

আলফাডাঙ্গা সমাজসেবা কার্যালয়ের নৈশপ্রহরী জাকির হোসেন বলেন, “আমি রাতে অফিসে দায়িত্বে ছিলাম। দায়িত্ব শেষ করে চলে যাওয়ার প্রায় ১৫ মিনিট পর এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানতে পেরেছি।”

অফিস সহকারী আজিজুর রহমান বলেন, “সকাল পৌনে ৯টার দিকে অফিসে এসে দেখি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার কক্ষের জানালার কাচ ভাঙা। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি স্যারকে জানাই।”

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ঝুমুর সরকার বলেন, “অফিসে প্রবেশের আগেই খবর পাই দুর্বৃত্তরা আমার কক্ষের জানালার কাচ ভেঙে ফেলেছে। বিষয়টি জেলা কার্যালয়কে জানিয়েছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি পেলেই থানায় অভিযোগ দিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ফরিদপুর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ এহিয়াতুজ্জামান বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।”

ফরিদপুরে শিক্ষার্থীদের জন্য গণপরিবহনে হাফ ভাড়া কার্যকরের দাবি, স্মারকলিপি প্রদান

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ৬:২১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে শিক্ষার্থীদের জন্য গণপরিবহনে হাফ ভাড়া কার্যকরের দাবি, স্মারকলিপি প্রদান

ফরিদপুরে শিক্ষার্থীদের জন্য গণপরিবহনে হাফ ভাড়া কার্যকরের দাবিতে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে ফরিদপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রদল।

রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা জেলা প্রশাসকের কাছে এ স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন। এ সময় ফরিদপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে শিক্ষার্থীদের জন্য গণপরিবহনে হাফ ভাড়ার সুবিধা চালু থাকলেও ফরিদপুরে তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। ফলে প্রতিদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের পূর্ণ ভাড়া পরিশোধ করতে হচ্ছে, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে।

তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়া শুধু একটি সুবিধা নয়, বরং শিক্ষাবান্ধব ও কল্যাণমূলক উদ্যোগ। এই সুবিধা নিশ্চিত হলে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ সহজ হবে এবং তাদের আর্থিক দুর্ভোগ অনেকাংশে কমে আসবে।

স্মারকলিপিতে ফরিদপুর জেলার সব ধরনের গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়া কার্যকর করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে পরিবহন মালিক সমিতি ও শ্রমিক সংগঠনগুলোকে এ বিষয়ে কার্যকর নির্দেশনা দেওয়ার দাবিও জানানো হয়।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে ছাত্রদলের নেতারা জানান।