খুঁজুন
সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৩০ চৈত্র, ১৪৩২

দিল্লিতে মাহদী হাসানের সঙ্গে আসলে কী ঘটেছিল?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৪৯ পূর্বাহ্ণ
দিল্লিতে মাহদী হাসানের সঙ্গে আসলে কী ঘটেছিল?

বাংলাদেশের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জের নেতা মাহদী হাসানের সঙ্গে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ঠিক কী হয়েছিল, তা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে গত কদিন ধরেই নানা আলোচনা চলেছে।

মি. হাসান বাংলাদেশে ফিরেছেন বুধবার বিকেলে।

মাহদী হাসান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক।

মাস খানেক আগে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর কারণে তাকে নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, শায়েস্তাগঞ্জ থানায় বসে প্রকাশ্যেই মি. হাসান ওসি আবুল কালামকে হুমকি দিচ্ছেন এই বলে যে, তারা বানিয়াচং থানা পুড়িয়েছেন এবং এস আই সন্তোষ চৌধুরীকে জ্বালিয়ে দিয়েছেন।

এই বক্তব্য নিয়ে সমালোচনার মুখে গত জানুয়ারিতে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের প্রতিবাদে তার সমর্থকদের বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে তাকে মুক্তি দেওয়া হলে তা নিয়েও হয় সমালোচনা।

সম্প্রতি তিনি দিল্লিতে গিয়েছিলেন পর্তুগালের ভিসা নিতে। সেখানেই তাকে কেউ একজন চিনে ফেলে এবং একটা ভিডিও রেকর্ড করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। এরপরেই সক্রিয় হয়ে ওঠেন ভারতের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

ওই কর্মকর্তারা মঙ্গলবার আর বুধবার তার ওপরে কীভাবে নজর রেখেছিলেন আর শেষমেষ তার সঙ্গে ঠিক কী কী করা হয়েছে, তা জানতে পেরেছে বিবিসি বাংলা।

এমন দুজন ব্যক্তির সঙ্গে বিবিসি বাংলা পৃথকভাবে কথা বলেছে, যারা গোটা ঘটনাক্রম সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল।

অবশ্য তাদের নাম উল্লেখ করা হবে না, এই শর্তেই বিবিসি বাংলার সঙ্গে কথা বলেছেন।

তারা দুজনেই বলেছেন যে, মাহদী হাসানকে শারীরিকভাবে নিগ্রহ করা হয়নি কোথাও। তবে এটা তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, “ভারত-বিরোধী কথা বলে এবং বাংলাদেশের এক হিন্দু পুলিশ কর্মকর্তাকে মেরে ফেলার প্রকাশ্য দাবি করে – এমন কোনো ব্যক্তিকে ভারতে অবস্থান করতে দেওয়া হবে না। তাকে এটাও বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, নিজের দেশেই ফিরে যাওয়া ছাড়া তার অন্য কোনো উপায় নেই”।

ওই দুইজনের দেওয়া তথ্যের ওপরে ভিত্তি করেই এই প্রতিবেদন।

কনট প্লেস, মঙ্গলবার বেলা ১১টা

দিল্লির প্রাণকেন্দ্র কনট প্লেসে একটি বেসরকারি সংস্থার দফতরে মঙ্গলবার সকালে প্রথম দেখা যায় মাহদী হাসানকে। তার পাশে এক নারীও বসেছিলেন। ওই বেসরকারি সংস্থাটি বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের হয়ে ভিসার আবেদন প্রক্রিয়াকরণ করে থাকে।

জানা গেছে যে মি. হাসান এবং তার পাশে বসা নারী পর্তুগালের ভিসার জন্য আবেদন করতে গিয়েছিলেন।

পর্তুগালের ভিসা নেওয়ার জন্য বাংলাদেশের নাগরিকদের দিল্লিতে আসতে হয়, সে জন্য ভারতীয় ভিসা লাগে। জানা গেছে যে, বাংলাদেশের ভারতীয় দূতাবাস মাহদী হাসানকে ভিসা দিয়েছিল।

মি. হাসান এবং তার সঙ্গে আসা এক নারী নিউ দিল্লি রেল স্টেশনের কাছাকাছি পাহাড়গঞ্জ এলাকার একটি হোটেলে ওঠেন বলে বিবিসি বাংলা জানতে পেরেছে।

কনট প্লেসের ওই ভিসা কেন্দ্রে অপেক্ষা করার সময়ে কেউ তার ভিডিও রেকর্ড করে নেয়। সেই ব্যক্তি যে কে, সেটা কেউ জানাতে চাননি। তবে তিনি যে মি. হাসানকে চিনতে পেরেছিলেন, এটা নিশ্চিত।

ভিডিও রেকর্ডকারী ব্যক্তিও সেখানে ভিসা নিতেই গিয়েছিলেন।

তবে সেই ব্যক্তি পর্তুগালের জন্য নয়, অন্য কোনো দেশের ভিসা পাওয়ার আবেদন জানাতে গিয়েছিলেন বলে বিবিসি বাংলা জানতে পেরেছে।

“মঙ্গলবার সকাল ১১টা নাগাদ মাহদী হাসানকে চিহ্নিত করা যায়। আমরা কিছুক্ষণের মধ্যে খবর পেয়ে যাই। সেই সময়েই পর পর তার কাছে ভারতীয় আর বাংলাদেশের নানা নম্বর থেকে ফোন আসতে শুরু করে। সেই সব ফোন কারা করছিল, সেটা বলব না, কিন্তু তখনই মাহদী হাসান আন্দাজ করে যে কোথাও একটা গন্ডগোল হয়েছে”।

“একটা নতুন দেশে এসে, যেখানে তাকে কেউ চেনে না – তার কাছে হঠাৎ করে কেন এত অজানা নম্বর থেকে ফোন আসবে! এটা তাকে চিন্তায় ফেলে দেয়। অন্যদিকে কর্মকর্তারা তার ওপরে নজর রাখা শুরু করেন,” বিবিসি বাংলাকে জানাচ্ছিলেন পুরো ঘটনাক্রম সম্বন্ধে জানেন, এমন একটি সূত্র।

অন্য সূত্রটি বলছে যে ওই ভিসা প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে তিনি প্রথমে পুরোনো দিল্লির জামা মসজিদ এলাকায় গিয়েছিলেন।

“বেলা দুটো থেকে আড়াইটের মধ্যে তার (মাহদী) কাছে বাংলাদেশ থেকে কেউ জানায় যে সে চিহ্নিত হয়ে গেছে। তখন সে নিশ্চিত হয় যে অজানা নম্বরগুলো থেকে কারা, কেন ফোন করছিল। এরপরেই সে দিল্লিতে কয়েকটি জায়গায় গিয়েছিল আশ্রয়ের সন্ধানে। কেউই তাকে থাকতে দিতে রাজি হয়নি,” বলছিলেন একটি সূত্র।

‘দিল্লি ছাড়তে হবে’

বিবিসি বাংলা যে দুজনের সঙ্গে কথা বলেছে, তাদের একজন জানিয়েছেন, মি. হাসান দিল্লি থেকেই ভিসা নিয়ে পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। তার সঙ্গে যে নারী ছিলেন, তিনি মি. হাসানেরই এক আত্মীয়া।

ওই সূত্রটিই বলেছে যে, পরবর্তী সময়ে খরচের জন্য ক্রিপ্টো-কারেন্সি নিয়ে ভারতে এসেছিলেন মাহদী হাসান এবং তার পরিমাণ বাংলাদেশি টাকায় ৪০ লক্ষেরও বেশি।

তবে অন্য সূত্রটি “এটা আমার এখতিয়ারে পড়ে না” বলে অর্থের পরিমাণ সম্বন্ধে কিছু জানাতে পারেননি। তিনি এটাও নিশ্চিত করতে পারেননি যে মি. হাসান দিল্লি থেকেই লিসবনে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন কি না।

তবে মি. হাসানকে কেউ পরামর্শ দেন যে তিনি যেন পাহাড়গঞ্জের হোটেল থেকে সরে যান এবং বিমানবন্দরের কাছাকাছি কোনো হোটেলে ওঠেন।

পাহাড়গঞ্জের হোটেল থেকে কাউকে দিয়ে তিনি নিজের ব্যাগ-সুটকেস আনিয়ে বিমানবন্দরের কাছাকাছি একটি হোটেলে ওঠেন মঙ্গলবার সন্ধ্যায়।

দিল্লি-ঢাকা ইন্ডিগোর বিমানের টিকিট তাকে পৌঁছিয়ে দেওয়া হয় রাতেই।

‘ভিসা বাতিল’

একদিকে মাহদী হাসানের ওপরে নজর রাখা যেমন চলছিল, অন্যদিকে ভারতীয় কর্মকর্তারা খোঁজ করছিলেন যে “ভারতবিরোধী কথা বলা কোনো ব্যক্তিকে ঢাকার ভারতীয় দূতাবাস ভিসা কী করে দিল”- সেই প্রশ্নের উত্তর।

একটি সূত্র বলছে, “সে সম্ভবত বাংলাদেশে কোনো এজেন্টকে দিয়ে ভারতের ভিসা জোগাড় করেছিল। আর তার বিরুদ্ধে ভারতে তো কোনো মামলা নেই। সে পর্তুগালের ভিসা নেওয়ার জন্য ভারতে আসতে চেয়েছিল। তাই কীভাবে তার ভিসার আবেদন বাতিল করা যেত?”

অন্য সূত্রটি জানাচ্ছে, “যেভাবেই ভিসা জোগাড় করে থাক সে, তার ভিসা রাতেই বাতিল করানো হয়েছে। সেই খবর অবশ্য সে আগে জানতে পারেনি”।

দুটি সূত্রই বলছে যে মাহদী হাসান এটা মঙ্গলবার সন্ধ্যার মধ্যেই বুঝে গিয়েছিলেন যে তার পক্ষে আর এক দিনও ভারতে থাকা সম্ভব না। এমনকি পর্তুগালের ভিসার জন্য তাকে কনট প্লেসের ওই বেসরকারি সংস্থা দফতরে বুধবার সকালে দ্বিতীয়বার যেতে বলা হলেও সেখানে যে তিনি যেতে পারবেন না, এটা বুঝে গিয়েছিলেন।

“বিমানবন্দরের কাছের ওই হোটেলে সকালের জলখাবার খেয়ে ৮টা ১০ মিনিটে সে রওনা দেয়, আর ৮টা ৫০ মিনিট নাগাদ সিকিউরিটি চেক করতে এগোয়,” বিবিসিকে জানিয়েছে দুটি সূত্রই।

তারা দুজনে জানাচ্ছেন যে, ইন্ডিগোর ১২টা ৪০ মিনিটের ফ্লাইটের টিকিট ছিল তার কাছে। এটা দিল্লি বিমানবন্দরে একটি সেলফি ভিডিও করার সময়ে নিজেও জানিয়েছিলেন তিনি। ওই ভিডিওটি তিনি সামাজিক মাধ্যমে আপলোডও করেছেন। সেখান তিনি হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগও করেছেন।

একটি সূত্র বলছে, মাহদী “বিমান সংস্থার চেক ইন কাউন্টারে গিয়ে তিনি নিজের বোর্ডিং পাস সংগ্রহ করে সিকিউরিটি চেকের জন্য এগোন”।

“নিরাপত্তা চেকিংয়ের জন্য তিনি নিজের লাগেজ স্ক্যানারের কনভেয়র বেল্টে দেন। লাগেজ এগিয়ে যায়, তিনি লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই সময়েই এক ভারতীয় কর্মকর্তা তাকে একটু সরে আসতে বলেন,” বিবিসিকে জানিয়েছে একটি সূত্র।

জেরা শুরু

নিরাপত্তা চেকিংয়ের লাইন থেকে তাকে সরিয়ে এনে শুরু হয় জেরা।

“বিভিন্ন এজেন্সির কর্মকর্তারা তাকে জেরা করেন, খুব শান্তভাবে, কোনো শারীরিক নিগ্রহ ছাড়াই,” বলছে দুটি সূত্রই।

তাদের একজন বলছেন, যে মি. হাসান যদি কোনো অপরাধ করে থাকেন, সেটা তো বাংলাদেশের বিষয়, ভারত কেন সেখানে মাথা ঘামাবে।

তবে একটি সূত্র বলছে, “আমাদের তিনটে পয়েন্ট ছিল। প্রথমত সে ভারতকে অপমান করেছে, কটূ কথা বলেছে। দ্বিতীয়ত সে একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যা করেছে বলে প্রকাশ্যে দাবি করেছে, তাই সে একজন সন্দেহভাজন ক্রিমিনাল। তৃতীয় পয়েন্টটাই সবথেকে গুরুত্ব পেয়েছে আমাদের কাছে, সে একজন হিন্দু অফিসারকে মেরেছে বলে দাবি করেছে। এত কিছুর পরেও সে দিল্লিতে আসবে আর এখান থেকে অন্য কোনো দেশে চলে যাবে, আর আমরা চুপ করে বসে থাকব?”

প্রায় আধঘণ্টা তাকে জেরা করা হয় দিল্লির বিমানবন্দরেই। দুটি সূত্রই জানাচ্ছে, তাকে কোনোরকম শারীরিক নিগ্রহ করা হয়নি।

বাংলাদেশে ফিরে কী বললেন মাহদী হাসান?

দিল্লি থেকে বুধবার বিকেলে ইন্ডিগোর বিমানে বাংলাদেশে ফিরেছেন মাহদী হাসান। বিমানবন্দরেই কয়েকজন সাংবাদিক তাকে ঘিরে ধরে জানতে চান যে দিল্লিতে তার সঙ্গে ঠিক কী হয়েছিল।

গোড়ায় তিনি সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে চাইছিলেন না। অপেক্ষমান গাড়ির দিকে হাঁটতে হাঁটতেই তিনি বলেন, “বলব আমরা, জানাবো, জানাবো”।

এরপরে তিনি বলেন, “আমাকে এসএডি লিডার, বৈষম্যবিরোধী নেতা বলে আটক করা হয়েছিল। তারপর হচ্ছে আমাকে প্রচন্ড হ্যারাস করা হয়েছে। আমি ফুল লাইফ রিস্কে ছিলাম”।

“এটা আমি বলে না, যে কোনো অন্য একটা দেশের নাগরিককে যে নিরাপত্তা দেওয়ার কথা, সেটা দেয় নাই। সো এইটা আমরা ডিটেইলসে জানাবো পরে,” সংবাদ মাধ্যমকে জানান তিনি।

একজন সাংবাদিক তাকে প্রশ্ন করেছিলেন, “আপনার ওয়ালেটে নাকি ক্রিপ্টো কারেন্সি পাওয়া গিয়েছিল, সেই বিষয়টা যদি ক্লিয়ার করেন”।

জবাবে তিনি বলেন যে ওগুলো ‘গুজব’।

বাংলাদেশে ফেরার পরেও বিমানবন্দরেও এক দফা জেরার মুখে পড়তে হয়, সেটাও জানান মি. হাসান।

“আমাকে আটকানো হয়েছিল, জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বাংলাদেশেও। পরবর্তীকালে আমাকে ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হয়,” মন্তব্য মাহদী হাসানের।

ভারতের যে দুটি সূত্র থেকে মাহদী হাসানকে ঘিরে দিল্লির ঘটনাবলী সম্পর্কে বিবিসি বাংলা জানতে পারে, সেই ব্যাপারে তার বক্তব্য জানতে দুদিন ধরে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছি আমরা।

কিন্তু কোনোভাবেই তার সঙ্গে ফোনে কথা বলা যায়নি।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

সালথায় সম্পত্তি নিয়ে বিরোধে মাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করল সন্তানরা

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:০৮ অপরাহ্ণ
সালথায় সম্পত্তি নিয়ে বিরোধে মাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করল সন্তানরা

ফরিদপুরের সালথায় সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে সালিশ বৈঠকের মধ্যে মনোয়ারা বেগম (৬০) নামে এক বৃদ্ধ সৎ মাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে তারই সন্তানদের বিরুদ্ধে। হামলার পর গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রবিবার (১২ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের কাঠালবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় হামলা ঠেকাতে গিয়ে মনোয়ারার আপন ছেলেও আহত হয়েছেন।

আহত মনোয়ারা বেগম (৬০) কাঠালবাড়িয়া গ্রামের সিদ্দিকুর রহমানের স্ত্রী। অপর আহত ব্যক্তি আব্দুর রাজ্জাক (২৯) মনোয়ারা বেগমের গর্ভজাত ছেলে।

আহত মনোয়ারার পরিবার ও স্থানীয়রা সুত্রে জানা গেছে, পারিবারিক সম্পত্তি ও বসতভিটা নিয়ে মনোয়ারা বেগমের সঙ্গে তার সৎ সন্তান হিরু মাতুব্বর (৩৫), রিপন মাতুব্বর (৪৩) ও ফিরোজ মাতুব্বরের (৪০) বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের জেরে গত শনিবার সৎ সন্তানরা মনোয়ারাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।

পরদিন রবিবার রাতে বিষয়টি সালিশের মাধ্যমে মিমাংসার জন্য উদ্যোগ নেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। পরে গ্রামবাসী ও গন্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে ওই সালিশ বৈঠক বসে। কিন্তু সালিশের একপর্যায়ে মনোয়ারাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে তার সৎ ছেলে হিরু, রিপন ও ফিরোজ। এতে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

এ সময় হামলা থেকে মাকে রক্ষা করতে গেলে তার ছেলে আব্দুর রাজ্জাকও আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন।

এ বিষয় হামলাকারী সন্তানদের বক্তব্য নেওয়ার জন্য যোগাযোগ করা হলেও পলাতক থাকায় তাদেরকে পাওয়ার যায়নি।

সোমবার সকালে ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল-নগরকান্দা) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, হামলার খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। আহত ওই নারী বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। তবে তার পরিবারকে থানায় একটি এজাহার দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

ফরিদপুরে চিকিৎসা খাতে নতুন দিগন্ত: হ্যাপি হসপিটালে সফল টোটাল হিপ রিপ্লেসমেন্ট সার্জারি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৩৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে চিকিৎসা খাতে নতুন দিগন্ত: হ্যাপি হসপিটালে সফল টোটাল হিপ রিপ্লেসমেন্ট সার্জারি

ফরিদপুরে আধুনিক চিকিৎসাসেবার অগ্রযাত্রায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্থাপিত হলো। শহরের হ্যাপি হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে টোটাল হিপ রিপ্লেসমেন্ট (THR) সার্জারি, যা জেলার স্বাস্থ্যসেবায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।

রবিবার (১২ এপ্রিল) দিবাগত রাতে প্রখ্যাত অর্থোপেডিক্স ও আর্থ্রোস্কোপিক সার্জন ডা. মুহাম্মদ এ হাসানের নেতৃত্বে দক্ষ মেডিকেল টিমের মাধ্যমে জটিল এই অপারেশনটি সম্পন্ন হয়। রোগীর দীর্ঘদিনের হিপ জয়েন্টের সমস্যার সমাধানে এই সার্জারিটি অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, টোটাল হিপ রিপ্লেসমেন্ট একটি উচ্চমাত্রার জটিল ও প্রযুক্তিনির্ভর অপারেশন, যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত হিপ জয়েন্ট অপসারণ করে কৃত্রিম জয়েন্ট প্রতিস্থাপন করা হয়। এ ধরনের সার্জারির জন্য উন্নত সরঞ্জাম, অভিজ্ঞ সার্জন এবং দক্ষ টিমওয়ার্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—যা হ্যাপি হসপিটাল সফলভাবে নিশ্চিত করতে পেরেছে।

এর আগে ডা. মুহাম্মদ এ হাসান ফরিদপুরে প্রথমবারের মতো ‘নী আর্থ্রোস্কোপি’ (Knee Arthroscopy) সার্জারি চালু করে আধুনিক অর্থোপেডিক চিকিৎসায় নতুন যুগের সূচনা করেছিলেন। সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং রোগীবান্ধব চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে তিনি ইতোমধ্যেই আস্থা অর্জন করেছেন রোগীদের মধ্যে। এবার টোটাল হিপ রিপ্লেসমেন্ট সার্জারির সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে তিনি তার দক্ষতা ও অগ্রসর চিন্তাধারার আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন।

হ্যাপি হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্তৃপক্ষের পক্ষে ড. সৈয়দ হাসানুল কবীর মিশু এ সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “এটি শুধু আমাদের হাসপাতালের জন্য নয়, বরং সমগ্র ফরিদপুরবাসীর জন্য একটি গর্বের বিষয়। এখন উন্নত চিকিৎসার জন্য আর রাজধানী ঢাকা বা বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না। এখানেই রোগীরা বিশ্বমানের সেবা পাচ্ছেন।”

তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতেও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসা সেবা সম্প্রসারণে হ্যাপি হসপিটাল প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও আধুনিক যন্ত্রপাতির সমন্বয়ে তারা ফরিদপুরসহ আশেপাশের জেলার রোগীদের জন্য নির্ভরযোগ্য চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।

এই সফল অপারেশন ফরিদপুরে উন্নত চিকিৎসাসেবার প্রসারে নতুন আশার সঞ্চার করেছে এবং স্থানীয়ভাবে জটিল অস্ত্রোপচারের সুযোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও অনেকাংশে কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ফরিদপুরে যাত্রীবাহী বাস-পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে বাস উল্টে খাদে: নিহত-২, আহত-৩০

ভাঙ্গা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৪২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে যাত্রীবাহী বাস-পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে বাস উল্টে খাদে: নিহত-২, আহত-৩০

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস ও বাঙ্গি বোঝাই একটি পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে বাস খাদে পড়ে উল্টে গিয়ে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ৩০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে ফরিদপুর-ভাঙ্গা-বরিশাল মহাসড়কের বাবলাতলা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষের পরপরই যাত্রীবাহী বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক থেকে ছিটকে প্রায় ৩০ ফুট গভীর খাদে পড়ে উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই এক যাত্রীর মৃত্যু হয় এবং গুরুতর আহত আরও একজনকে ঢাকায় নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়।

নিহতরা হলেন—ভাঙ্গা পৌরসভার কৈডুবী সদরদী গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর মোল্লা (৪০), পিতা সেকেন মোল্লা এবং একই এলাকার আলমগীর শেখ (৪২), পিতা নেছার উদ্দিন শেখ।

দুর্ঘটনার পরপরই ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। তারা বাসের ভেতরে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান। গুরুতর আহত প্রায় ১৫ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত যাত্রীরা জানান, তারা ফরিদপুর থেকে বরিশালের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। বাবলাতলা এলাকায় পৌঁছানোর পর হঠাৎ বিকট শব্দে বাসটি কেঁপে উঠে এবং মুহূর্তেই খাদে পড়ে যায়। অনেকেই বাসের ভেতর অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে জ্ঞান ফিরলে নিজেকে হাসপাতালে দেখতে পান।

আহত এক দম্পতি জানান, দুর্ঘটনায় তারা মাথা ও পায়ে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। এছাড়া দুর্ঘটনার সময় অনেক যাত্রীর নগদ অর্থ ও মোবাইল ফোন হারিয়ে গেছে, যা তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে।

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ মামুন মিয়া জানান, ফরিদপুর থেকে ছেড়ে আসা শাহ ফরিদ পরিবহনের একটি বাস বাবলাতলা ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা বাঙ্গি বোঝাই পিকআপের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়।

তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে আহতদের হাসপাতালে পাঠায় এবং পিকআপটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ম্যানেজার আবু জাফর জানান, খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অন্তত ২৫ জন আহত যাত্রীকে উদ্ধার করেন। উদ্ধার কার্যক্রম কিছু সময় ধরে চলতে থাকে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।