খুঁজুন
, ,

ছাত্রদলের সাবেক ৭ শীর্ষনেতা যাচ্ছেন সংসদে, থাকতে পারেন মন্ত্রিসভায়

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২:১০ অপরাহ্ণ
ছাত্রদলের সাবেক ৭ শীর্ষনেতা যাচ্ছেন সংসদে, থাকতে পারেন মন্ত্রিসভায়

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক ৭ শীর্ষনেতা। তাদের মধ্যে পাঁচজন ছিলেন ছাত্রদলের সভাপতি, অন্য দুজন দায়িত্ব পালন করেছেন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে। বিজয়ী সাত নেতার মধ্যে পাঁচজন এবার প্রথমবার সংসদ যাচ্ছেন, বাকি দুজনের মধ্যে একজন তৃতীয়বার এবং অন্যজন দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন বলে জোর গুঞ্জন রয়েছে।

ফজলুল হক মিলন
এবারের নির্বাচনে বিজয়ী ছাত্রদলের সাবেক শীর্ষনেতার মধ্যে রয়েছেন ১৯৯৩-৯৬ সাল পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ফজলুল হক মিলন। তিনি গাজীপুর-৫ আসন থেকে (কালীগঞ্জ ও সিটি করপোরেশন আংশিক) ১ লাখ ৩৩ হাজার ৮৬৯ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী খায়রুল আহসান পেয়েছেন ৭৮ হাজার ১২৩ ভোট।এর আগে ২০০১ সালের নির্বাচনেও ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে এ আসন (তৎকালীন গাজীপুর-৩) থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন ফজলুল হক মিলন। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে স্মরণীয় ভূমিকা পালনকারী এই নেতা বর্তমানে গাজীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক। এর আগে জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় কমিটির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি
ছাত্রদলের সাবেক সভাপতিদের মধ্যে এবারের নির্বাচনে বিজয়ী তালিকার আরেক নাম শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। ১৯৯৬-৯৮ সাল মেয়াদে ছাত্রদলের নেতৃত্ব দেওয়া এ্যানি লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসন থেকে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৭৬৫ ভোট পেয়ে এবার তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর রেজাউল করিম পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৭৯ ভোট।এর আগে ২০০১ ও ২০০৮ সালেও লক্ষ্মীপুর সদর আসন থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন এ্যানি। ছাত্রদলের দাপুটে এই নেতা বিএনপির রাজনীতিতেও বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। তিনি বর্তমানে দলের যুগ্ম মহাসচিব। এর আগে বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন এ্যানি। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য সচিব, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কমিটির সমন্বয়ক ও লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়কের মতো দায়িত্বও তিনি পালন করেছেন। এবারের মন্ত্রিসভায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন বলে জোর গুঞ্জন রয়েছে।

আজিজুল বারী হেলাল
ছাত্রদলের রাজনীতিতে আরেক আলোচিত নাম আজিজুল বারী হেলাল। বিএনপির তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক তিনি। ২০০৩-০৪ সাল মেয়াদে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের পর ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি সংগঠনটির সভাপতি ছিলেন।এবার খুলনা-৪ আসন (রূপসা-তেরখাদা-দিঘলিয়া) থেকে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়েছেন হেলাল। ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ১৬২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খেলাফত মজলিসের এসএম সাখাওয়াত হোসাইন পেয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ৫৩০ ভোট। ছাত্ররাজনীতিতে দক্ষতার প্রমাণ দেওয়া আজিজুল বারী হেলাল কোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু
টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসন থেকে এবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। জামায়াতের প্রার্থী আহছান হাবিব মাসুকে ৫০ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। ২০০৯-১২ সাল পর্যন্ত ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন তিনি। পরে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক এবং সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।এবারের নির্বাচনে একটি মাত্র পরিবারের দুজন সদস্য একই জেলার দুটি আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেই গর্বিত পরিবারের একজন হলেন টুকু। এবারের নির্বাচনে তার বড়ভাই বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম পিনটুও টাঙ্গাইল থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ১ লাখ ৩৮ হাজার ভোটের ব্যবধানে জামায়াত প্রার্থীকে হারিয়ে তিনি তৃতীয়বারের মতো টাঙ্গাইল-২ আসন (গোপালপুর-ভূয়াপুর) থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। বিএনপির এর আগের সরকারে শিক্ষা উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলায় মৃত্যুদণ্ড হওয়ার পর টানা ১৭ বছর কারাবন্দি ছিলেন তিনি। এই সময়ে পিন্টুর আসনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন তার ছোটভাই টুকু। এবার মন্ত্রিসভায় দুই ভাইয়ের মধ্যে কেউ একজন থাকবেন বলে বিশ্বাস তাদের অনুসারীদের।

রাজীব আহসান
বরিশাল-৪ আসন (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ-কাজিরহাট) থেকে এবার বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ১ লাখ ২৮ হাজার ৩২২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন রাজিব আহসান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৬৮৪ ভোট।২০১৫-১৯ মেয়াদে ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন রাজিব। এখন তিনি স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক। বিগত সরকারের আমলে সারা দেশে তার বিরুদ্ধে ৩১২টি মামলা হয়। এর মধ্যে চার মামলায় তাকে সাড়ে আট বছরের সাজাও দেন আদালত।

আমিরুল ইসলাম খান আলিম
সিরাজগঞ্জ-৫ (চৌহালী-বেলকুচি-এনায়েতপুর) আসনে এবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিম। ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৩৪ হাজার ১৯৭ ভোট পেয়েছেন তিনি।তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আলী আলম পেয়েছেন ১ লাখ ৫ হাজার ১৮৮ ভোট। ২০০৯-১২ মেয়াদে সুলতান টুকুর সময়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আমিরুল ইসলাম আলিম। এর আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন।

হাবিবুর রশিদ হাবিব
২০১২ সালে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা হাবিবুর রশিদ হাবিব এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ঢাকা-৯ আসন (খিলগাঁও, সবুজবাগ, মুগদা) থেকে।১ লাখ ১১ হাজার ২১২ ভোট পেয়ে আলোচিত দুই প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা ও এনসিপির জাভেদ রাসিনকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন হাবিব। ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ এই আসন থেকে নির্বাচিত হওয়ায় ক্লিন ইমেজের হাবিব তারেক রহমান মন্ত্রিসভায় জায়গা পাবেন বলে শোনা যাচ্ছে।

 

 

ফরিদপুরে সাংবাদিকের হস্তক্ষেপে রক্ষা পেল অর্ধশতাধিক ঘুঘু, উড়ল মুক্ত আকাশে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সাংবাদিকের হস্তক্ষেপে রক্ষা পেল অর্ধশতাধিক ঘুঘু, উড়ল মুক্ত আকাশে

প্রকৃতির অন্যতম বন্ধু ও অনিন্দ্য সুন্দর নানা প্রজাতির পাখি নির্বিচারে নিধন করে চলেছে একদল শিকারি। নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল দিয়ে প্রতিদিন ঘুঘুর মতো বহু পাখিকে ধরে বিক্রি করা হচ্ছে স্থানীয় বাজারে। তবে এবার এক সাংবাদিকের সময়োচিত হস্তক্ষেপে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে প্রায় অর্ধশত ঘুঘু পাখি।

​বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের মমিন খার হাটে ঘটনাটি ঘটে।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের দুর্গম ধোলাই চরে দীর্ঘদিন ধরে একদল শিকারি নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল পেতে বন্য পাখি শিকার করে আসছিল। পদ্মার দুর্গম চর হওয়ায় প্রশাসন ও স্থানীয়দের চোখ এড়িয়েই তারা নিয়মিত এসব পাখি আশপাশের হাটে বিক্রি করছিল।

​বুধবার দুপুরে মাসুদ নামের ষাটোর্ধ্ব এক শিকারি মমিন খার হাটে প্রায় ৬০টি ঘুঘু পাখি বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন। প্রতি জোড়া ১০০ টাকা দরে বেশ কয়েকটি পাখি বিক্রির পর বিষয়টি নজরে আসে দৈনিক কালবেলা ও ঢাকা মেইল-এর ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক মেহেদী সোহেলের।

​তিনি ঘটনার ভিডিও ধারণ শুরু করলে এবং বন্যপ্রাণী ও পাখি শিকার সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রশ্ন করতে থাকলে শিকারি মাসুদ কোনোপায় না দেখে খাঁচাবন্দি প্রায় অর্ধশত ঘুঘু পাখি ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। খাঁচা মুক্ত হয়ে মুহূর্তেই পাখিগুলো চরের মুক্ত আকাশে উড়ে যায়।

​এ বিষয়ে ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া জানান, পাখি ও বন্যপ্রাণী শিকার করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

​তিনি বলেন, “সচেতন নাগরিকরা এ ধরনের শিকারিদের শনাক্ত করে প্রশাসনকে খবর দিলে দ্রুত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া চায়না দুয়ারী জাল দিয়ে মাছ ও পাখি শিকারের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ফরিদপুরে পাটের আঁশ ছাড়াতে ব্যস্ত কৃষক-কৃষাণী, ভালো ফলনের আশা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৩১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে পাটের আঁশ ছাড়াতে ব্যস্ত কৃষক-কৃষাণী, ভালো ফলনের আশা

ফরিদপুরে বর্ষার মৌসুমে পাট কাটা ও জাগ দেওয়ার পর এখন আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক-কৃষাণীরা। জেলার বিভিন্ন উপজেলার মাঠ, বিল, নদী, খাল, ডোবা ও জলাশয়ে ভোর থেকে বিকেল পর্যন্ত পাটের আঁশ ছাড়াতে দেখা যাচ্ছে নারী-পুরুষকে। পরিবারভিত্তিকভাবে পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজে অংশ নেওয়ায় গ্রামীণ জনপদে এখন কর্মব্যস্ততার দৃশ্য চোখে পড়ছে।

সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কৃষকরা পাট গাছ কেটে পানিতে জাগ দেওয়ার পর সেগুলো তুলে আঁশ ছাড়াচ্ছেন। কেউ পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে আঁশ ছাড়াচ্ছেন, আবার কেউ পাটের আঁশ ধুয়ে রোদে শুকানোর জন্য বাঁশের খুঁটিতে বাঁধা আড় ও খোলা স্থানে বিছিয়ে দিচ্ছেন। কৃষকদের সঙ্গে নারীরাও সমানতালে এ কাজে অংশ নিচ্ছেন।

সালথা উপজেলার কৃষক আরফিন মাতুব্বর বলেন, “এ বছর পাটের ফলন মোটামুটি ভালো হয়েছে। সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় পাট গাছের বৃদ্ধি ভালো হয়েছে। এখন আঁশ ছাড়ানোর কাজে পরিবারের সবাই ব্যস্ত। ভালো দাম পেলে পাট চাষে খরচ উঠে লাভও থাকবে।”

নগরকান্দা উপজেলার কৃষক মতি খাঁ বলেন, “পাট চাষ করতে শ্রম ও খরচ দুটোই বেশি লাগে। তবে ভালো ফলন হলে কৃষকের মুখে হাসি ফোটে। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো উন্নতমানের আঁশ তৈরি করা। এজন্য পাট ভালোভাবে জাগ দেওয়া ও পরিষ্কার পানিতে আঁশ োছাড়ানো দরকার।”

বোয়ালমারী উপজেলার কৃষক কালাম শেখ বলেন, “পাটের আঁশ ছাড়ানোর সময় এখন ব্যস্ততা সবচেয়ে বেশি। শ্রমিক সংকট থাকায় পরিবারের সদস্যদের নিয়েই কাজ করতে হচ্ছে। পাটের দাম ভালো থাকলে আগামী মৌসুমেও বেশি জমিতে পাট চাষের আগ্রহ থাকবে।”

ভাঙ্গা উপজেলার কৃষাণী বিলকিস বেগম বলেন, “পাটের কাজ শুধু পুরুষরা করেন না, নারীরাও মাঠে ও বাড়িতে অনেক কাজ করেন। পাটের আঁশ ছাড়ানো, ধোয়া ও শুকানোর কাজে আমরা অংশ নিই। এতে পরিবারের বাড়তি শ্রমিকের প্রয়োজন কমে।”

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাট কাটার পর সঠিকভাবে জাগ দেওয়া এবং সময়মতো আঁশ ছাড়ানো হলে আঁশের গুণগতমান ভালো হয়। উন্নতমানের পাট বাজারে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে অনেক এলাকায় পর্যাপ্ত পানির অভাবে কৃষকদের পাট জাগ দেওয়া ও আঁশ ছাড়াতে কিছুটা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

ফরিদপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. শাহাদুজ্জামান ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, চলতি মৌসুমে জেলায় পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৭ হাজার ৩২৮ হেক্টর। কিন্তু কৃষকদের আগ্রহে ৮৭ হাজার ৪০২ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি।

তিনি বলেন, “এ বছর আবহাওয়া পাট চাষের জন্য অনুকূলে ছিল। ফলে পাটের ফলনও ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন, যাতে উন্নতমানের পাট উৎপাদন নিশ্চিত করা যায়।”

তিনি আরও বলেন, কৃষকদের পাটের আঁশ ছাড়ানোর ক্ষেত্রে পরিষ্কার পানি ব্যবহার, সঠিক সময়ে পাট কাটা এবং যথাযথভাবে শুকানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এতে পাটের মান ভালো থাকবে এবং বাজারে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সুযোগ বাড়বে।

গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এই অর্থকরী ফসলকে ঘিরে এখন ফরিদপুরের কৃষক পরিবারগুলোতে চলছে ব্যস্ততা। মাঠ থেকে জলাশয়—সবখানেই পাটের আঁশ ছাড়ানোর কর্মযজ্ঞে মুখর হয়ে উঠেছে গ্রামীণ জনপদ।

বোয়ালমারীতে বাস-ট্রাক সংঘর্ষের ৩ দিন পর খাদে মিলল নিখোঁজ কলেজছাত্রের লাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ২:১৭ অপরাহ্ণ
বোয়ালমারীতে বাস-ট্রাক সংঘর্ষের ৩ দিন পর খাদে মিলল নিখোঁজ কলেজছাত্রের লাশ

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বাস ও ইটবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষের তিনদিন পর দুর্ঘটনাস্থলের পাশের খাদ থেকে হাফিজুর রহমান (২৪) নামে এক নিখোঁজ কলেজছাত্রের গলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস।

​বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের পাইকহাটি এলাকা থেকে ভাসমান অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করা হয়।

​নিহত হাফিজুর রহমান গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার পিঙ্গুলিয়া গ্রামের সন্তান। তিনি তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন। হাফিজুর বোয়ালমারী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সপ্তম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন।

​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১৭ আগস্ট বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মাঝকান্দি-বোয়ালমারী-ভাটিয়াপাড়া আঞ্চলিক মহাসড়কের পাইকহাটি এলাকায় ফরিদপুরগামী একটি লোকাল বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা ইটবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাসটি সড়ক থেকে ছিটকে পাশের খাদে উল্টে পড়ে এবং ট্রাকটি বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা লেগে আটকে যায়। দুর্ঘটনায় উভয় যানের চালক ও হেলপারসহ অন্তত ২০ জন আহত হন।

​ঘটনার পর থেকে বাসের যাত্রী হাফিজুর রহমান নিখোঁজ ছিলেন। স্বজনরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ না পেয়ে কাশিয়ানী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

​বোয়ালমারী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ জাহিদুল হক জানান, সেদিন সকালে ব্যাসপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে ফরিদপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে সেমিস্টার পরীক্ষা দিতে যাচ্ছিলেন হাফিজুর। উদ্ধারের সময়ও তার গলায় কলেজের পরিচয়পত্র ও ব্যাজ ঝুলছিল।

​বুধবার সকাল ৯টার দিকে দুর্ঘটনাস্থলের পাশের বিলে লাশ ভেসে উঠলে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশে খবর দেয়। বোয়ালমারী ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে।

​বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুস্তাফিজুর রহমান জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ট্রাক জব্দ করে থানায় আনা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।