খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে কুপিয়ে জখম

ভাঙ্গা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ৩:২৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে কুপিয়ে জখম

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বাস ও পরিবহনে চাঁদাবাজির ঘটনায় দুই অভিযুক্তকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নেয়ার ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ ফেসবুকে শেয়ার করায় সাইদুর রহমান মিঠু শিকদার (৪২) নামে এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে পুলিশের দাবি, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে।

আহত সাইদুর রহমান মিঠু ভাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক পদে রয়েছেন এবং ভাঙ্গা পৌরসভার কাপুড়িয়া সদরদি এলাকার শাহজাহান শিকদারের ছেলে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাত ৯ টায় কাপুড়িয়া সদরদি এলাকায় তাঁর ওপর দুই দফায় হামলার ঘটনা ঘটে। একই এলাকার শাহী মুন্সির ছেলে এলাকার সোহান মুন্সি (২৮) ও হোগলাডাঙ্গী সদরদি এলাকার লিয়াকত মোল্যার ছেলে শোয়েব মোল্যার (৩০) নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ জন দেশীয় অস্ত্র হাতুড়ি, চাকু ও লোহার পাইপ নিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালিয়েছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। পরে তাকে উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়।

শুক্রবার (১৫ মে) দুপুর ১২ টায় আহত সাইদুর রহমান মিঠুর ছোট ভাই রাজু শিকদার জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতেই তাঁর ভাইকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁর মাথায় কোপের কারনে ৬টি সেলাই ও পাজরের একটি হাড় ভেঙে গিয়েছে বলে তিনি জানান।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, সোহান ও শোয়েব চিহ্নিত চাঁদাবাজ এবং নিক্সন চৌধুরীর ক্যাডার ছিল। ওরা ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে বিভিন্ন কাউন্টারে চাঁদাবাজি সহ প্রভাব বিস্তার করে। গত ১২ মে তাঁদের পুলিশ ধরে নিয়ে যায় এবং পরে বিএনপির সেক্রেটারী আইযূব মোল্যা গিয়ে ছাড়িয়ে আনে। এগুলো নিয়ে নিউজ হয় এবং আমার ভাই সেই নিউজগুলো শেয়ার করেছিল- এটাই আমার ভাইয়ের অপরাধ ছিল।

তিনি বলেন, যে কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে সোহান ও শোয়েবেরে নেতৃত্বে আমার ভাইয়ের ওপরে হামলা চালানো হয়েছে। তাঁরা সন্ধ্যায় প্রথমে আমার ভাইকে লাঠি ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। তখন বার বার পুলিশের সহযোগিতা চাইলেও পাইনি এবং হামলাকারীরা আবারও ওঁৎ পেতে থাকে। রাত ৯টার দিকে ভাঙ্গা হাসপাতালে নেয়ার সময় আবারও হামলা চালিয়ে চাকু দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। এ সময় আমার মা ও আমাকেও মারধর করে হামলাকারীরা।

এছাড়া সাইদুর রহমান মিঠু অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ওদের ছাড়িয়ে নেয়ার খবরগুলো দলীয় ভাবমূর্তি রক্ষায় আমার ফেসবুকে শেয়ার করেছিলাম এবং আমার ফেসবুক থেকেও অনেক শেয়ার হয়েছিল। এই কারণে হামলার আধাঘণ্টা পূর্বে আইয়ূব মোল্যার (উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক) ছেলে রাজু মোল্যা আমার ছোট ভাইকে হুমকি দিয়ে বলেছিল- ‘তোর ভাইকে দেখায় দেব’। এরপর সন্ধ্যায় বাড়ির পাশে কয়েল আনতে গেলে অতর্কিতভাবে ওরা এসে হাতুড়ি দিয়ে মারতে থাকে। এসময় একটি দোকানে দৌঁড়ে গিয়ে আমি আশ্রয় নিই। তখন বার বার ওসিকে ফোন দিলে কেটে দেন এবং ৯৯৯-এ কল দিলেও পুলিশ দেরি করে আসে। এরপর আমাকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে আবারও হামলা চালিয়েছে।

এ ঘটনার বিষয়ে জানতে সোহান মুন্সি পলাতক থাকায় তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তবে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ূব মোল্যা বলেন, ‘ঘটনাটি আসলেই ন্যাক্কারজনক, ঠিক করেনি। আমি ওসিকে ফোন দিয়ে বলেছি- আইনগত ব্যবস্থা নিতে। অন্যায়ের সাথে আমি নেই।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে- আমরা প্রাথমিকভাবে জেনেছি। এখনও থানায় কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি, অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ এছাড়া চাঁদাবাজে অভিযুক্ত সোহান ও শোয়েবকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নেয়ার সংবাদ শেয়ার করায় এই হামলার সাথে সম্পৃক্ততা রয়েছে কি-না; সে বিষয়ে তিনি জানেন না বলে মন্তব্য করেন।

উল্লেখ্য, গত ১২ মে চাঁদাবাজির অভিযোগে সোহান মুন্সি ও শোয়েব মোল্যা নামে দুই যুবককে ভাঙ্গা থানায় নেওয়া হয়। পরে রাতে গিয়ে তাঁদের ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব মোল্যা। পরে ওসির কক্ষের ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া একই দিন বিকালে ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডের অদূরে সার্বিক পরিবহনের রবিন নামে এক চেকারকে ভয়ভীতি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠে ওই দুই যুবকের বিরুদ্ধে। এ সংক্রান্তে গতকাল বৃহস্পতিবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

ফরিদপুরে জেলা পুলিশের অপরাধ পর্যালোচনা সভা: অস্ত্র-মাদক উদ্ধারে জোর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৫৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে জেলা পুলিশের অপরাধ পর্যালোচনা সভা: অস্ত্র-মাদক উদ্ধারে জোর

ফরিদপুর জেলা পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকাল ৩টায় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় সম্মেলন কক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী।

​সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সকল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি), তদন্ত কেন্দ্র ও ফাঁড়ির ইনচার্জ এবং বিভিন্ন ইউনিটের পুলিশ সদস্যরা।

​সভায় পুলিশ সুপার দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি, ওয়ারেন্ট তামিল, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার অভিযান জোরদার করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কর্মকর্তাদের বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন।

​অনুষ্ঠানে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার, ডাকাতি ও হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার, পরোয়ানা নিষ্পত্তি এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যদের সম্মাননা দেওয়া হয়। পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীল ভূমিকার জন্য তাদের হাতে ক্রেস্ট, সনদপত্র ও অর্থ পুরস্কার তুলে দেন পুলিশ সুপার।

​এ সময় জেলা পুলিশ এবং বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সদরপুরে আড়িয়াল খাঁর ভাঙন থেকে সড়ক রক্ষায় বৃক্ষরোপণ করল ছাত্রদল

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫২ অপরাহ্ণ
সদরপুরে আড়িয়াল খাঁর ভাঙন থেকে সড়ক রক্ষায় বৃক্ষরোপণ করল ছাত্রদল

ফরিদপুরের সদরপুরে আড়িয়াল খাঁ নদের ভাঙন থেকে ইটের সড়ক রক্ষায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেছে উপজেলা ছাত্রদল। সরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় ওই সড়ক ছাড়াও উপজেলার চরনাছিরপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক ও প্রতিষ্ঠানে আরও এক হাজারের বেশি গাছের চারা রোপণ করেছে সংগঠনটি।

গত এক সপ্তাহ ধরে চলা এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) শেষ হয়। সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কটি রক্ষায় ইউনিয়নের হাকিমনগর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে দুর্বারটেক ট্রলারঘাট পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে বিভিন্ন প্রজাতির পাঁচ শতাধিক গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে।

চরনাসিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. রোকন উদ্দীনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ কর্মসূচিতে সদরপুর উপজেলা ও কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এ সময় উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রার্থী তুষার মাহমুদ, সদরপুর কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হামিম সিয়াম, ছাত্রদল নেতা তরিকুল, হাবিব, আসিফ, আনিস ও অনিকসহ নেতাকর্মীরা অংশ নেয়।

এ সময় উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রার্থী তুষার মাহমুদ জানান, নদীভাঙন থেকে সড়ক রক্ষা ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতেই আমরা এ কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছি। ছাত্রদল মানুষের পাশে থেকে জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখতে চায়।

হামিম সিয়াম বলেন, গত কয়েক দিনে প্রায় এক হাজার গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। রোপণ করা গাছগুলো যাতে নষ্ট না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা এবং ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুলের তত্ত্বাবধানে কর্মসূচিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অংশ নিচ্ছেন।

ফরিদপুরে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ায় পদ গেল জামায়াত নেতার

এন কে বি নয়ন, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ায় পদ গেল জামায়াত নেতার

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগ ওঠায় মো. ইনামুল মোল্লা (২৬) নামে স্থানীয় এক জামায়াত নেতাকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তিনি বোয়ালমারী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর আমিরের দায়িত্বে ছিলেন।

​মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে তাকে সাময়িকভাবে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা ও পৌর জামায়াত নেতারা। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে দল থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

​ইনামুল মোল্লা পৌরসভার কুশডাঙ্গা গ্রামের মো. আকরাম মোল্যার ছেলে। তিনি বোয়ালমারী বাজারের ‘মোল্লা ডাক্তার কে হালিম হাসপাতাল’-এ রিসেপশনিস্ট হিসেবে কর্মরত।

​স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, ওই পৌরসভার কুটিপাড়া এলাকার এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়ার সম্পর্ক চালিয়ে আসছিলেন ইনামুল। সম্প্রতি তাদের অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি উভয় পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে জানাজানি হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

​হাসপাতালের ম্যানেজার রেজাউল করিম জানান, দুই দিন আগে ভুক্তভোগী প্রবাসী মোবাইল ফোনে কল করে ইনামুলের বিরুদ্ধে তার স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগ তোলেন। তবে বিষয়টি সম্পর্কে জানা ছিল না বলে তিনি ওই প্রবাসীকে জানান।

​এদিকে ঘটনার পর থেকে জামায়াত নেতা ইনামুল মোল্লার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর দুটি বন্ধ রয়েছে। তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

​বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বোয়ালমারী পৌর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি সৈয়দ সাজ্জাদ আলী বলেন, “প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ পাওয়ায় প্রাথমিক তদন্তের অংশ হিসেবে ইনামুল মোল্লাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সম্পূর্ণ তদন্ত শেষে অভিযোগের সতত্যা পাওয়া গেলে তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে। কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত অপকর্মের দায় সংগঠন কখনো নেবে না।”