খুঁজুন
, ,

“জনগণের সেবা সবার আগে”—চরভদ্রাসনে নতুন ইউএনও সুরাইয়া মমতাজের দৃঢ় অঙ্গীকার

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:২৪ অপরাহ্ণ
“জনগণের সেবা সবার আগে”—চরভদ্রাসনে নতুন ইউএনও সুরাইয়া মমতাজের দৃঢ় অঙ্গীকার

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সুরাইয়া মমতাজের সঙ্গে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলা পরিষদের মিনি কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত এ সভায় স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) যায়েদ হোছাইনের সঞ্চালনায় আয়োজিত সভায় বক্তব্য রাখেন এবং উপস্থিত ছিলেন সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আজাদ খান, গাজিরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইয়াকুব আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ফখরুজ্জামান, উপজেলা বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সভাপতি মো. অহিদুজ্জামান মোল্যা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক, মাদ্রাসার শিক্ষক, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

সভায় বক্তারা উপজেলার বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। বিশেষ করে নদীভাঙন, যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নসহ স্থানীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু তুলে ধরা হয়। অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, নবাগত ইউএনওর নেতৃত্বে চরভদ্রাসন উপজেলার উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

নবাগত ইউএনও সুরাইয়া মমতাজ তার বক্তব্যে বলেন, “জনগণের সেবা নিশ্চিত করাই আমার প্রধান লক্ষ্য। সরকারি সেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।”

তিনি আরও জানান, প্রশাসনের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে চান।

তিনি তার কর্মজীবনের শুরুতে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে মুন্সিগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ী উপজেলায় প্রায় চার মাস ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে গত ৭ এপ্রিল চরভদ্রাসন উপজেলায় যোগদান করেন। যোগদানের পর উপজেলার বিভিন্ন দপ্তর ও কর্মকর্তারা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

সভা শেষে তিনি উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনবান্ধব প্রশাসন গড়ে তুলতে সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বাসের ধাক্কায় নিহত ৫ জনের পরিচয় মিলেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ১১:০২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বাসের ধাক্কায় নিহত ৫ জনের পরিচয় মিলেছে

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের সোয়াদী এলাকায় উল্টে থাকা ডিমবোঝাই ট্রাকে যাত্রীবাহী বাসের ভয়াবহ ধাক্কায় নিহত পাঁচজনের পরিচয় জানা গেছে। তারা সবাই ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের সুয়াদী এলাকার বাসিন্দা।

শনিবার (১১ জুলাই) রাত সাড়ে ৭টার দিকে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন— আরিফ মাতুব্বর (২৫), ওবায়দুল সেক (৪০), জয়নাল মিয়া (২৪), নুরুননবী সেক (১২) ও হাফিজুর (৫০)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি ডিমবোঝাই ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কে উল্টে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন ও ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার পুলিশ ট্রাকটি উদ্ধারের কাজ এবং সড়কে ছড়িয়ে থাকা ডিম ও মালামাল সরিয়ে নিচ্ছিলেন। এ সময় খুলনাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস দ্রুতগতিতে এসে উল্টে থাকা ট্রাক ও উদ্ধারকাজে নিয়োজিত লোকজনকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়।

এতে ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন। গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন মারা যান।

ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তানসিভ জুবায়ের নাদিম জানান, হাসপাতালে আনার পর একজনের মৃত্যু হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, পাঁচজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। দুর্ঘটনার পর আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।

এদিকে, একই এলাকার পাঁচজনের প্রাণহানির ঘটনায় সুয়াদী গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। নিহতদের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের মধ্যে বিরাজ করছে গভীর শোক ও বেদনার পরিবেশ।

পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় উল্টে থাকা ডিমবোঝাই ট্রাকে বাসের ভয়াবহ ধাক্কা, নিহত ৫

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ৯:১২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় উল্টে থাকা ডিমবোঝাই ট্রাকে বাসের ভয়াবহ ধাক্কা, নিহত ৫

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে উল্টে থাকা একটি ডিমবোঝাই ট্রাকে যাত্রীবাহী বাসের সজোরে ধাক্কায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শনিবার (১১ জুলাই) রাত সাড়ে ৭টার দিকে ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের সোয়াদী এলাকায় এ মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, একটি ডিমবোঝাই ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কে উল্টে যায়। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ডিম ও মালামাল সরিয়ে নিতে এবং ট্রাকটি উদ্ধারে সহযোগিতা করছিলেন। এ সময় ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার পুলিশও ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করছিল।

এমন সময় খুলনাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস দ্রুতগতিতে এসে উল্টে থাকা ট্রাক ও উদ্ধারকাজে নিয়োজিত লোকজনকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন। গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়।

ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তানসিভ জুবায়ের নাদিম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’কে বলেন, “আমাদের হাসপাতালে আনার পর একজনের মৃত্যু হয়েছে। আরও কয়েকজন আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।”

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “এ পর্যন্ত পাঁচজন নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর মধ্যে চারজন ঘটনাস্থলে এবং একজন হাসপাতালে মারা গেছেন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার কাজ চলছে।”

তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ও আহতদের পরিচয় জানা যায়নি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে পুলিশ।

ফরিদপুরে কমেছে হামের গতি, ২৪ ঘণ্টায় নেই নতুন রোগী

মানিক কুমার দাস, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ৪:৫৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে কমেছে হামের গতি, ২৪ ঘণ্টায় নেই নতুন রোগী

ফরিদপুর জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় (১০ জুলাই সকাল ৮টা থেকে ১১ জুলাই সকাল ৮টা পর্যন্ত) নতুন কোনো সন্দেহভাজন হাম (মিজলস) রোগী শনাক্ত হয়নি। একই সময়ে হামে নতুন কোনো মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেনি। দীর্ঘদিন ধরে চলমান হাম পরিস্থিতির মধ্যে এটি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর হলেও শিশুদের টিকাদান ও সতর্কতা অব্যাহত রাখার ওপর জোর দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১১ জুলাই সকাল ৮টা পর্যন্ত ফরিদপুরে মোট ৩ হাজার ৫২৪ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ সময়ে হামে আক্রান্ত হয়ে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ১০ জনের শরীরে হাম রোগের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে।

এছাড়া চিকিৎসাসেবা নেওয়া রোগীদের মধ্যে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ৯৯৭ জন এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২ হাজার ৪০৩ জন চিকিৎসা নিয়েছেন।

এদিকে, বর্তমানে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ২৭ জন এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪৪ জনসহ মোট ৭১ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় কোনো নতুন রোগী ভর্তি হননি এবং কোনো রোগীকে ছাড়পত্রও দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

চিকিৎসারা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তি হাঁচি-কাশির মাধ্যমে সহজেই অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াতে পারেন। সাধারণত জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং শরীরে লালচে র‌্যাশ হামের প্রধান উপসর্গ। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু এবং অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে এ রোগ জটিল আকার ধারণ করতে পারে।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, “গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কোনো সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত না হওয়া অবশ্যই ইতিবাচক দিক। তবে এতে আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই। অভিভাবকদের অবশ্যই শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় হাম-রুবেলা টিকা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে জ্বর, শরীরে লালচে র‌্যাশ বা হামের উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে নিকটস্থ সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।”