‘বর্তমান সরকার কথার চেয়ে কাজে বিশ্বাসী’: অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, বর্তমান সরকার কথার চেয়ে কাজে বিশ্বাসী। দেশের সংকটময় সময়ে জনকল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে একের পর এক কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত “সমতাভিত্তিক আঞ্চলিক উন্নয়ন” শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি জানান, সরকার গঠনের পরপরই কৃষক, খামারী ও মৎস্যজীবীদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিম্ন আয়ের মানুষের সহায়তায় দ্রুত সময়ের মধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হয়েছে, যা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে আরও শক্তিশালী করেছে।
উপদেষ্টা তিতুমীর বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি কর্মসংস্থানই অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। কিন্তু পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া অর্থনৈতিক কাঠামোতে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়নি। বর্তমানে দেশে বেকারত্ব একটি বড় চ্যালেঞ্জ, বিশেষ করে নারী ও উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মধ্যে এই হার উদ্বেগজনক।”
তিনি আরও বলেন, গত কয়েক বছরে মূল্যস্ফীতির চাপে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠেছে এবং দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার বাস্তবমুখী ও টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
সমতাভিত্তিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, দেশের সব অঞ্চলে সমান উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে এ ধরনের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বিভাগেও এই কার্যক্রম চালানো হবে।
এর আগে দিনব্যাপী সফরের অংশ হিসেবে উপদেষ্টা জেলার শিল্প ও গবেষণা খাতের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো পরিদর্শন করেন। তিনি শহরতলীর গেরদা ইউনিয়নের বাখুন্ডা এলাকায় অবস্থিত জোবায়দা করিম জুট মিল ঘুরে দেখেন। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী পরিদর্শনে তিনি পাটজাত পণ্যের উৎপাদন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন এবং বহুমুখী পণ্যের সম্ভাবনা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
এ সময় তিনি শ্রমিক ও কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের কাজের পরিবেশ, সুযোগ-সুবিধা ও সমস্যার বিষয়ে খোঁজখবর নেন এবং শিল্পখাতের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
পরে তিনি দেশের একমাত্র নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট পরিদর্শন করেন। সেখানে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে ডিজিটাল প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের চলমান গবেষণা কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। নদী ব্যবস্থাপনা, ভাঙন রোধ এবং টেকসই উন্নয়নে এই প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
দিনব্যাপী সফরের বিভিন্ন কর্মসূচিতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, পার্শ্ববর্তী জেলার সংসদ সদস্যরা, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা আঞ্চলিক বৈষম্য কমিয়ে দেশের প্রতিটি অঞ্চলে সমান উন্নয়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং স্থানীয় সমস্যা সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

আপনার মতামত লিখুন
Array