খুঁজুন
বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৩০ বৈশাখ, ১৪৩৩

ফরিদপুরের রহস্যময় “অচিন গাছ” — দুই শতকের ইতিহাস, লোককথা ও বিস্ময়ের জীবন্ত সাক্ষী

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ১১:৩৭ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরের রহস্যময় “অচিন গাছ” — দুই শতকের ইতিহাস, লোককথা ও বিস্ময়ের জীবন্ত সাক্ষী

বাংলার গ্রাম মানেই যেন প্রকৃতির এক অপরূপ জাদুঘর। কোথাও শতবর্ষী বটগাছ, কোথাও নদীর পাড়ে কাশফুল, আবার কোথাও ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে রহস্যময় কোনো বৃক্ষ।

ঠিক তেমনি ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের ফুরসা গ্রামে অবস্থিত এক বিস্ময়কর বৃক্ষ— “অচিন গাছ” বা “অচিন বৃক্ষ”। স্থানীয়দের কাছে এটি শুধু একটি গাছ নয়; বরং এটি ইতিহাস, রহস্য, লোকবিশ্বাস ও প্রকৃতির এক জীবন্ত প্রতীক।

প্রায় দুই শতাব্দীরও বেশি পুরনো এই বিশালাকার বৃক্ষটি দূর-দূরান্তের মানুষের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু। গাছটির প্রকৃত পরিচয় আজও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি বলেই স্থানীয়রা একে “অচিন গাছ” নামে ডাকতে শুরু করেন। সময়ের পরিক্রমায় সেই নামই হয়ে ওঠে এর স্থায়ী পরিচয়।

ফরিদপুর শহর থেকে কিছুটা দূরে কানাইপুর ইউনিয়নের শান্ত সবুজ গ্রাম ফুরসায় দাঁড়িয়ে থাকা এই গাছটি প্রথম দেখাতেই যে কাউকে বিস্মিত করে। দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন বহু লতা-পাতা জড়িয়ে তৈরি হয়েছে এক বিশাল সবুজ দুর্গ। এর মোটা কাণ্ড, ছড়িয়ে থাকা ডালপালা এবং জট পাকানো শেকড় গাছটিকে দিয়েছে এক রহস্যময় রূপ। অনেকে এটিকে বটজাতীয় বৃক্ষ বলে মনে করলেও, এর প্রকৃত প্রজাতি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো বৈজ্ঞানিক তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় প্রবীণদের মতে, গাছটি ব্রিটিশ আমলেরও আগের। তারা ছোটবেলা থেকেই এই গাছকে একইভাবে দেখে আসছেন। গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠরা বলেন, “আমাদের দাদা-পরদাদারাও এই গাছকে এমনই দেখেছেন।” অর্থাৎ প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এটি দাঁড়িয়ে আছে সময়ের সাক্ষী হয়ে।

অচিন গাছকে ঘিরে রয়েছে অসংখ্য লোককথা ও জনশ্রুতি। কেউ বলেন, এই গাছের নিচে একসময় সাধকরা ধ্যান করতেন। আবার কেউ বিশ্বাস করেন, গাছটির মধ্যে অলৌকিক শক্তি রয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে এমন ধারণাও প্রচলিত যে, কেউ যদি গাছটির ডাল ভাঙে বা পাতা ছেঁড়ে, তাহলে অমঙ্গল নেমে আসে। এজন্য গ্রামের মানুষ গাছটির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেন। আজও কেউ সাহস করে এর কোনো ক্ষতি করেন না।

এই বিশ্বাস ও রহস্যের কারণে গাছটি স্থানীয় সংস্কৃতিরও একটি অংশ হয়ে উঠেছে। অনেকেই দূর-দূরান্ত থেকে এসে গাছটি দেখে মুগ্ধ হন, ছবি তোলেন এবং এর ইতিহাস জানার চেষ্টা করেন। বিশেষ করে প্রকৃতিপ্রেমী ও ইতিহাস অনুরাগীদের কাছে এটি এক আকর্ষণীয় স্থান।

গাছটির সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক হলো এর বিস্তৃতি। একসময় এটি বিশাল এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে ছিল বলে জানা যায়। এর লতানো শাখাগুলো চারদিকে এমনভাবে বিস্তৃত হয়েছিল যে, দূর থেকে এটি একটি ছোট বনভূমির মতো মনে হতো। বর্তমানে কিছু অংশ সীমাবদ্ধ হলেও এখনও এর বিশালত্ব দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।

গাছটির ডালপালা বাদামি বর্ণের এবং শেকড়গুলো মাটির ওপর দিয়ে আঁকাবাঁকা পথে ছড়িয়ে আছে। বর্ষাকালে চারপাশের সবুজ প্রকৃতির সঙ্গে মিলে এটি সৃষ্টি করে এক অপার্থিব সৌন্দর্য। শীতের কুয়াশা কিংবা বিকেলের সোনালি আলোয় অচিন গাছকে দেখলে মনে হয় যেন কোনো রূপকথার দৃশ্য।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গাছটির গুরুত্ব উপলব্ধি করে স্থানীয় প্রশাসন ও সরকার এটিকে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়। বর্তমানে গাছটির চারপাশ পাকা করে বাঁধাই করা হয়েছে, যাতে কেউ এর ক্ষতি করতে না পারে। সংরক্ষণের এই উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যেও সচেতনতা বৃদ্ধি করেছে। তারা এখন গাছটিকে নিজেদের ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে মনে করেন।

পরিবেশবিদদের মতে, এ ধরনের প্রাচীন বৃক্ষ শুধু ঐতিহাসিক নিদর্শনই নয়, পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শতবর্ষী গাছগুলো পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অবদান রাখে। তাই অচিন গাছ শুধু ফরিদপুরের গর্ব নয়, এটি বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ঐতিহ্যেরও একটি মূল্যবান অংশ।

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে গাছটির পরিচিতি আরও বেড়েছে। অনেক ভ্রমণপিপাসু মানুষ ফরিদপুরে এসে এই রহস্যময় বৃক্ষটি দেখতে যান। কেউ কেউ একে “ফরিদপুরের জীবন্ত ইতিহাস” বলেও অভিহিত করেন। তবে পর্যাপ্ত প্রচারণা ও গবেষণার অভাবে জাতীয় পর্যায়ে এখনও এটি ততটা পরিচিত হয়ে উঠেনি।

অচিন গাছের রহস্য হয়তো আজও পুরোপুরি উন্মোচিত হয়নি। কিন্তু এর ছায়ায় দাঁড়ালে অনুভব করা যায় সময়ের দীর্ঘ পথচলা, প্রকৃতির গভীর মমতা আর গ্রামীণ বাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য। শত ঝড়-ঝাপটা পেরিয়েও আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা এই বৃক্ষ যেন নীরবে বলে যায়— ইতিহাস কখনও হারিয়ে যায় না, যদি তাকে ভালোবেসে আগলে রাখা যায়।

ফরিদপুরের ফুরসা গ্রামের এই অচিন গাছ তাই কেবল একটি বৃক্ষ নয়; এটি রহস্য, ইতিহাস, লোকবিশ্বাস ও প্রকৃতির মিলিত এক অনন্য প্রতীক, যা আগামী প্রজন্মের কাছেও বিস্ময়ের গল্প হয়ে বেঁচে থাকবে।

টিকাদানে অনীহায় ফরিদপুরে বাড়ছে হাম, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৪ রোগী, মৃত্যু ১০

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ১:১৭ অপরাহ্ণ
টিকাদানে অনীহায় ফরিদপুরে বাড়ছে হাম, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৪ রোগী, মৃত্যু ১০

ফরিদপুর জেলায় দিন দিন উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হাম রোগীর সংখ্যা। শিশুদের পাশাপাশি বিভিন্ন বয়সী মানুষও আক্রান্ত হচ্ছেন এ ভাইরাসজনিত রোগে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে আরও ৫১ জন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তবে স্বস্তির খবর হলো, এ সময়ে নতুন কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

বুধবার (১৩ মে) জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৩ মে পর্যন্ত ফরিদপুর জেলায় মোট হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৯৯ জনে। একই সময়ে হামজনিত কারণে প্রাণ হারিয়েছেন ১০ জন।

উপজেলাভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ফরিদপুর সদর উপজেলায়। সেখানে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩৫৯ জন। এছাড়া সালথায় ২২ জন, সদরপুরে ১৪ জন, বোয়ালমারীতে ১৪ জন, ভাঙ্গায় ১২ জন, চরভদ্রাসনে ৬ জন, মধুখালীতে ৩ জন এবং নগরকান্দায় ২ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, অনেক অভিভাবক এখনও শিশুদের নিয়মিত টিকাদানে উদাসীন থাকায় হাম সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে টিকাদান কার্যক্রমে অনীহা ও সচেতনতার অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ৬৯ জন এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১১৫ জন হাম রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় দুই হাসপাতালে মোট ৫১ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৪ জন।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, হাম প্রতিরোধে বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম, জনসচেতনতামূলক প্রচার এবং আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখা, পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে শিশুদের নির্ধারিত সময়ে এমআর টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

মনে মনে খারাপ কোনো চিন্তা করলে কি গোনাহ হয়?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৮:২৪ পূর্বাহ্ণ
মনে মনে খারাপ কোনো চিন্তা করলে কি গোনাহ হয়?

মানুষ আল্লাহর তৈরি সবচেয়ে সম্মানিত সৃষ্টির নাম। কিন্তু এই মানুষই মাঝে মাঝে নিজের অন্তরে এমন সব চিন্তা লালন করেন, যা পাপের দিকে ধাবিত করে। আমরা অনেক সময় দুশ্চিন্তায় পড়ে যাই, কারণ শয়তান মানুষের অন্তরে নানা ধরনের কু-চিন্তা ঢুকিয়ে দেয়।

নামাজের মধ্যে হোক বা নিরিবিলি সময়ে, কখনো এমন ভাবনা আসে যা নিজের কাছেই লজ্জাজনক মনে হয়। তখন মনে প্রশ্ন জাগে, শুধু মনে মনে খারাপ কোনো চিন্তা এলেই কি গোনাহ হয়ে যায়? আল্লাহ কি এর জন্য আমাদের পাকড়াও করবেন?

চলুন তাহলে শরিয়তের ভাষ্য জেনে নিই—

ইসলামি স্কলার মুফতি রেজাউল করীম আবরার বলেন, মনে মনে খারাপ চিন্তা করলে গোনাহ হবে কি না— এমন প্রশ্নের ক্ষেত্রে দেখতে হবে এই চিন্তার ধরন কীরকম। কারণ মনে মনে খারাপ চিন্তাকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।

প্রথমতো, কেউ যদি চিন্তা করে যে, আমি ওমুক খারাপ কাজটি করব, ওমুক খারাপ বন্ধুর সঙ্গে যাব, মদপান করব অথবা ওমুককে আঘাত করব, কিন্তু পরবর্তীতে আল্লাহর ভয়ে যদি সেই কল্পনাটি বাস্তবায়ন না করে, তবে এই ফিরে আসার জন্য আল্লাহ তার আমলনামায় সওয়াব যুক্ত করে দেবেন। কোনো গোনাহ হবে না।

দ্বিতীয়ত, কেউ যদি মনে মনে কারও সম্পর্কে খারাপ চিন্তা করে (চরিত্র হনন), কোনো নারীকে নিয়ে বাজে কল্পনা-জল্পনা করে, তাহলে তার আমলনামায় গোনাহ লেখা হবে। কারণ, সে মনের জেনা করেছে এবং অন্যের চরিত্র হনন করেছে।

হাদিসে কুদসিতে যা বলা হয়েছে

হাদিসে কুদসিতে বর্ণিত রয়েছে, আল্লাহ ভালো ও মন্দ কাজ লিখে রাখেন। তারপর তিনি ব্যাখ্যা করেন, যে ব্যক্তি ভালো কাজের জন্য দৃঢ় সংকল্প করে কিন্তু তা সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয়, আল্লাহ তার আমলনামায় একটি পূর্ণ নেকি দান করেন। আর যদি সে তা সম্পন্ন করে, তবে আল্লাহ তার আমলনামায় দশ নেকি থেকে সাতশ বা তার চেয়েও বেশি নেকি দান করেন।

অন্যদিকে, যদি কারও মনে মন্দ কাজের বাসনা জাগে কিন্তু তা সে কাজে পরিণত না করে, আল্লাহ তার জন্য একটি পূর্ণ নেকি দান করেন। আর যদি সে তার বাসনা বাস্তবে পরিণত করে, তবে তার জন্য একটি মন্দ কাজ লিখেন। (বোখারি : ৬৪৯১, মুসলিম : ১৩১)

সূত্র : কালবেলা

শরীরে কোলেস্টেরল বাড়ছে কি না, খেয়াল রাখুন ৫ লক্ষণ

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৮:১৭ পূর্বাহ্ণ
শরীরে কোলেস্টেরল বাড়ছে কি না, খেয়াল রাখুন ৫ লক্ষণ

আজকের ব্যস্ততম জীবনে অনিয়মিত খাবার, ফাস্টফুড, তেল-চর্বি বেশি খাওয়া, ব্যায়ামের অভাব- সব মিলিয়ে শরীরে নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে নীরব কিন্তু মারাত্মক একটি সমস্যা হলো উচ্চ কোলেস্টেরল।

এটি বাড়তে থাকলে ধমনীতে ধীরে ধীরে চর্বি জমতে থাকে। যে কারণে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়; কিন্তু আমরা টেরই পাই না। এতে করে একসময় হঠাৎ বুকে ব্যথা, স্ট্রোক কিংবা হার্ট অ্যাটাকের মতো ভয়াবহ বিপদ দেখা দেয়। তবে, এসব বিপদের আগেভাগেই আমাদের শরীর কিছু সংকেত দিয়ে সতর্ক করে দেয় যে, কোলেস্টেরল বাড়ছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা সেসব সংকেতকে অনেক সময় সাধারণ ব্যথা বা ক্লান্তি ভেবে এড়িয়ে যাই। অথচ সময়মতো এসব লক্ষণ চিনে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে বাঁচা সম্ভব।

চলুন জেনে নিই, যেসব লক্ষণ দেখলে বুঝবেন শরীরে কোলেস্টেরল বাড়ছে—

পায়ে ব্যথা বা খিঁচুনি

হাঁটার সময় বা বিশ্রামে থেকেও পায়ে ভারিভাব কিংবা হঠাৎ ক্র্যাম্প হলে সতর্ক হওয়া জরুরি। এটি ধমনির রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার ইঙ্গিত দিতে পারে, যা উচ্চ কোলেস্টেরলের কারণে ঘটে।

বুকে ব্যথা বা চাপ

ধমনিতে কোলেস্টেরল জমতে শুরু করলে অনেকের বুকের মাঝামাঝি অংশে চাপ, জ্বালাপোড়া বা ব্যথা অনুভূত হয়। এটি হৃদ্‌রোগ কিংবা হার্ট অ্যাটাকের পূর্বাভাসও হতে পারে।

গলা, চোয়াল বা কাঁধে ব্যথা

শরীরের উপরের অংশে অস্বাভাবিক ব্যথা বা শক্তভাবও কোলেস্টেরল বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিতে পারে। রক্ত চলাচল কমে গেলে গলা, চোয়াল বা কাঁধে ব্যথা হয়, যা অনেক সময় আমরা পেশির ব্যথা ভেবে উপেক্ষা করি।

হাত-পায়ে অসাড়তা ও ঝিনঝিনি

হাত-পায়ে ঝিনঝিনি, অসাড়তা বা ঠান্ডা লাগার মতো অনুভূতি উচ্চ কোলেস্টেরলের লক্ষণ হতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে পায়ে নীলচে ভাবও দেখা দেয়। সিঁড়ি উঠার সময় দ্রুত হাঁপিয়ে যাওয়া বা ক্লান্ত হয়ে পড়াও একটি সতর্কবার্তা।

চোখের চারপাশে হলুদ দাগ

চোখের চারপাশে হলুদ বলয় বা হলদেটে স্তর তৈরি হওয়া শরীরে অতিরিক্ত কোলেস্টেরলের সরাসরি সংকেত। এটি বিপদসীমারও বেশি কোলেস্টেরল জমে যাওয়ার লক্ষণ।

করণীয়

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সঠিক খাবার গ্রহণ, ব্যায়াম এবং জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনলে উচ্চ কোলেস্টেরলের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

তথ্যসূত্র : এবিপি লাইভ