খুঁজুন
বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

ফরিদপুরে লিজের জমি না ছাড়ায় পানের বরজে আগুন, কোটি টাকার ক্ষতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:২৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে লিজের জমি না ছাড়ায় পানের বরজে আগুন, কোটি টাকার ক্ষতি

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে লিজের জমি না ছাড়াকে কেন্দ্র করে পানের বরজে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত দুই পানচাষী। এ ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত আতিয়ার রহমান আতু শেখ (৬০) ও তার ছেলে সুজন শেখ (৩০) পলাতক রয়েছেন। গত ৩০ মার্চ ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ডহরনগর গ্রামে।

এ ঘটনায় তপন গুহ ও আকরাম শেখ রবিবার (৫ এপ্রিল) ফরিদপুর আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ডহরনগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

এদিকে সব হারিয়ে হতাশায় ভুগছেন পানচাষী তপন গুহ ও আকরাম শেখ। তারা বলেন, “মাথার উপর যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে।”

ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন, পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ডহরনগর গ্রামের তপন গুহ ও আকরাম শেখ। তারা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে লিজ নেওয়া জমিতে পান চাষ করে আসছিলাম। কিন্তু একই এলাকার আতু শেখ বারবার জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছিলেন। তারা লিজ বাতিল না করায় ক্ষিপ্ত হয়ে পরিকল্পিতভাবে পানের বরজে আগুন দেওয়া হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ এলাকার পানের বরজ সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে পুড়ে যাওয়া বাঁশের খুঁটি, শুকিয়ে যাওয়া পানগাছ এবং ছাইয়ের স্তূপ এখন ধ্বংসস্তপে পরিনত হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, এটি ছিল এলাকার অন্যতম বড় পানের বরজ, যেখানে নিয়মিত ১০-১২ জন শ্রমিক কাজ করতেন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ৩০ মার্চ দুপুরের দিকে হঠাৎ আগুন লেগে পুরো পানের বরজে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্তরা দাবি করেন, এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং পূর্বশত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগ। আগুনের ঘটনায় পুরো বরজ পুড়ে যাওয়ায় তাদের জীবিকার প্রধান উৎস ধ্বংস হয়ে গেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক তপন গুহ বলেন, এই বরজটাই ছিল আমার একমাত্র সম্বল। এখন পান ভাঙার মৌসুম চলছে। সবকিছু পুড়ে শেষ হয়ে গেছে। আমি একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছি। শুধু আমি না, আমার সঙ্গে কাজ করা শ্রমিকরাও এখন বিপদে পড়েছে।

অন্য কৃষক আকরাম শেখ বলেন, আমাদের দুই পরিবারের ১০০ শতাংশ বরজ পুড়ে গেছে। কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। এখন পরিবার নিয়ে কীভাবে চলবো, তা বুঝতে পারছি না। আমরা অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

স্থানীয় বাসিন্দা হানিফ শেখসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, আগুনের ঘটনার পর বিষয়টি আপস-মীমাংসার আলোচনা চলছিল। তবে এরই মধ্যে অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়, ফলে সমাধান হয়নি।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, পানের বরজে আগুন দেওয়ার মতো ঘটনা শুধু দুইটি পরিবারের ক্ষতিই নয়, পুরো এলাকার কৃষি অর্থনীতির ওপর বড় আঘাত। এ সময় দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।

এ ঘটনায় তপন গুহ ও আকরাম শেখ রবিবার ফরিদপুর আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ডহরনগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

বোয়ালমারী থানার ডহরনগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মধুসূদন পান্ডে বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি সত্য বলে প্রতীয়মান হয়েছে। তবে অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ফরিদপুরে ভাইরাল হওয়া সেই লাইলীর পাশে দাঁড়াল জেলা প্রশাসন, দিলেন আর্থিক সহায়তা 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৪:০০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ভাইরাল হওয়া সেই লাইলীর পাশে দাঁড়াল জেলা প্রশাসন, দিলেন আর্থিক সহায়তা 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া লোকসংগীত শিল্পী লাইলী আক্তারের পাশে দাঁড়িয়েছে ফরিদপুর জেলা প্রশাসন। মানবিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের ব্যবহার অনুপযোগী বসতবাড়ি পুনর্নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মাজহারুল ইসলাম। 

বুধবার (২৭ মে) দুপুরে জেলা প্রশাসকের বাংলোবাড়িতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে লাইলী আক্তারের হাতে আর্থিক সহায়তার টাকা তুলে দেন জেলা প্রশাসক।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মিন্টু বিশ্বাস, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( সার্বিক) সোহরাব হোসাইন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সুস্মিতা সাহাসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।

জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম বলেন, “লাইলী আক্তার আমাদের জেলার গর্ব। তার কণ্ঠে গ্রামীণ সংস্কৃতির যে আবেগ ও ঐতিহ্য ফুটে উঠেছে, তা ইতোমধ্যে মানুষের হৃদয় ছুঁয়েছে। একজন শিল্পীর জীবনমান উন্নয়নে সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, লাইলী আক্তারের বসতবাড়িটি অত্যন্ত জরাজীর্ণ ও বসবাসের অনুপযোগী। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার বাড়ি পুনর্নির্মাণে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

এসময় জেলা প্রশাসক জানান, লাইলীর বিষয়টি সরকারের সংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দুষ্টিগোচর হয়েছে। ঈদের পরে যে কোন সময়ে তার জন্য সরকারিভাবে সহযোগিতা করা হবে।

সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত লাইলী আক্তার জেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমি কখনও ভাবিনি আমার গান এত মানুষের ভালোবাসা পাবে। জেলা প্রশাসন আমার পাশে দাঁড়ানোয় আমি অনেক খুশি।”

এদিকে স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিরা জেলা প্রশাসনের এ মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাদের মতে, এমন উদ্যোগ শিল্পীদের অনুপ্রেরণা জোগাবে এবং গ্রামীণ সংস্কৃতি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ফরিদপুরে তীব্র ঝড় থেকে বাঁচতে তাবুর নিচে আশ্রয়, শেষ রক্ষা হলো না শ্রমিক নেতার

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৩:২৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে তীব্র ঝড় থেকে বাঁচতে তাবুর নিচে আশ্রয়, শেষ রক্ষা হলো না শ্রমিক নেতার

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় তীব্র ঝড় থেকে বাঁচতে একটি তাবুর নিচে আশ্রয় নিতে গিয়ে গাছচাপায় জিয়াউর রহমান বাঘা (৫০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তিনি শরিয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার পূর্ব মহিষা গ্রামের আমির হোসেন বাঘার ছেলে।

বুধবার (২৭ মে) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলা সদর ইউনিয়নের বাইশরশি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত জিয়াউর রহমান বাঘা জাকের পার্টির সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বলে জানা গেছে।

নিহতের সঙ্গে থাকা হাজী মো. মনির হোসেন জানান, সকালে তারা দুজন একসঙ্গে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ ঝড় ও বৃষ্টির তীব্রতা বেড়ে গেলে সড়কের পাশে একটি অস্থায়ী তাবুর নিচে আশ্রয় নেন। একপর্যায়ে প্রবল বাতাসে পাশের একটি কৃষ্ণচূড়া গাছ ভেঙে তাবুর ওপর পড়ে। এতে জিয়াউর রহমান গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় পথচারীদের সহায়তায় দ্রুত তাকে বিশ্ব জাকের মঞ্জিল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন শাহ্ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সৌদির সঙ্গে মিল রেখে ফরিদপুরের ১০ গ্রামে উদযাপিত হচ্ছে ঈদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১০:২০ পূর্বাহ্ণ
সৌদির সঙ্গে মিল রেখে ফরিদপুরের ১০ গ্রামে উদযাপিত হচ্ছে ঈদ

সারা দেশে বৃহস্পতিবার পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপিত হলেও সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে বুধবার (২৭ মে) ঈদুল আযহার নামাজ আদায় করেছেন ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ১০ গ্রামের আংশিক ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতির ধারাবাহিকতায় জেলার বোয়ালমারী উপজেলার শেখর ও রুপাপাত ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের মানুষ একদিন আগে রোজা ও দুই ঈদ পালন করে আসছেন। এ উপলক্ষে বুধবার সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে পর্যায়ক্রমে সহস্রাইল দায়রা শরীফ, রাখালতলি ও মাইটকুমরা মসজিদে চারটি জামায়াতে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাটাগড়, সহস্রাইল, দরিসহস্রাইল, মাইটকুমরা, রাখালতলি, গঙ্গানন্দপুরসহ অন্তত ১০ গ্রামের কিছু মানুষ চট্টগ্রামের মির্জাখিল শরীফের অনুসারী হিসেবে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদ পালন করেন। প্রতিবছরের মতো এবারও এসব এলাকায় ঈদের প্রস্তুতি সম্পন্ন শেষে ঈদ উদযাপন করছেন।

সহস্রাইল দায়রা শরীফে নামাজ শেষে মুসল্লিদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করেন মসজিদ কমিটি। সেখানে জামায়াতে ইমামতি করেন ধলেরচর দরবার শরীফের পীর সাহেব মুফতি মোহাম্মদ রাকিবুল হাসান।

আলফাডাঙ্গা সরকারি ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও বোয়ালমারীর কাঁটাগড় গ্রামের বাসিন্দা মো. মাহিদুল হক বলেন, “চট্টগ্রামের মির্জাখিল শরীফ ও সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে বোয়ালমারীর শেখর ও রুপাপাত ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে একদিন আগে রোজা ও দুই ঈদ পালন করে আসছেন। এবারও চারটি জামায়াতে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।”

তিনি আরো বলেন, বোয়ালমারীর পাশাপাশি আলফাডাঙ্গা উপজেলার ধলেরচর গ্রামের কিছু মানুষও এ জামায়াতে অংশ নেন।

আলফাডাঙ্গা উপজেলার ধলেরচর গ্রামের বাসিন্দা আবু বক্কার জানান, আগে ধলেরচর মাদ্রাসা ঈদগাহ মাঠে আলাদা জামায়াত হতো। কিন্তু ইমাম অধ্যক্ষ আব্দুর রহমানের মৃত্যুর পর সেখানে আর জামায়াত হচ্ছে না। এখন ধলেরচরের কয়েকজন মুসল্লি সহস্রাইল দায়রা শরীফে গিয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন।

স্থানীয়রা জানান, এ অঞ্চলে সৌদির সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপনের প্রথা বহু বছরের পুরোনো। সংখ্যায় কম হলেও নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসরণ করেই তারা প্রতি বছর আলাদা দিনে ঈদ পালন করে থাকেন।