খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন, ১৪৩২

মধুখালী উপজেলা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল

মো. ইনামুল খন্দকার, মধুখালী:
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ১০:২০ পিএম
মধুখালী উপজেলা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১১ মার্চ) বাদ আসর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের তৃতীয় তলায়  স্থানীয় সিনিয়র সাংবাদিকসহ প্রেসক্লাবের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে মধুখালী উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মিজানুর রহমান সরদারের সভাপতিত্বে ও প্রেসক্লাবটির সাধারণ সম্পাদক মো. ইনামুল খন্দকারের সঞ্চলনায় এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মধুখালী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আলীমুজ্জামান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পৌর জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা রেজাউল করিম, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা জিল্লুর রহমান, উপজেলা প্রেসক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা নুরনবী মিয়া, উপদেষ্টা মন্ডলীর অন্যতম সদস্য ফরিদুল ইসলাম সাগর, উপজেলা প্রেসক্লাবে সহ- সভাপতি রাজিবুল হাসান, আকরাম হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম সেতু, সাংগঠনিক সম্পাদক উত্তম বকশিসহ সাংবাদিকবৃন্দ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ইফতারের পর দোয়া মাহফিলে দেশ ও জাতির কল্যাণ, রমজানের ফজিলত কবুল এবং সকলের সুস্থতা ও মঙ্গল কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা রমজানের এই পবিত্র মাসে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং সাংবাদিক সমাজের ঐক্যের প্রতি অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

মধুখালী  উপজেলা প্রেসক্লাবের এ ধরনের আয়োজন স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ফরিদপুর-ভাঙ্গা মহাসড়কে অভিযান, বাস থেকে ৪ হাজার পিচ ইয়াবাসহ দুইজন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ২:২৭ এএম
ফরিদপুর-ভাঙ্গা মহাসড়কে অভিযান, বাস থেকে ৪ হাজার পিচ ইয়াবাসহ দুইজন গ্রেপ্তার

ফরিদপুরে ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাসে অভিযান চালিয়ে ৪ হাজার পিস ইয়াবাসহ যাত্রীবেশে থাকা দুই মাদক কারবারিকে আটক করেছে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।

বুধবার (১১ মার্চ) বিকেলে ফরিদপুর-ভাঙ্গা মহাসড়কের সদর উপজেলার মুন্সিবাজার এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

আটককৃতরা হলেন ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার কলারন (মৃধাবাড়ী) গ্রামের মৃত ইমদাদুল মৃধার ছেলে মো. শহিদুল ইসলাম (৩৮) এবং একই উপজেলার কলারন উত্তরপাড়া গ্রামের মো. ছাকেন মৃধার ছেলে মো. আল আমিন মৃধা (২৭)।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ফরিদপুর কার্যালয়ের পরিদর্শক বেলায়েত হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার বিকাল ৩টার দিকে ফরিদপুর সদর উপজেলার ফরিদপুর-ভাঙ্গা মহাসড়কের মুন্সিবাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারীদের ধরতে একাধিক যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালানো হয়।

তিনি জানান, বিকেল ৩টার দিকে ফরিদপুর থেকে ঢাকাগামী বিআরটিসি পরিবহনের একটি বাসে তল্লাশি চালানোর সময় শহিদুল ইসলাম ও আল আমিন মৃধার আচরণ সন্দেহজনক মনে হয়। পরে তাদের আটক করে দেহ তল্লাশি করলে শহিদুল ইসলামের প্যান্টের পকেট থেকে তিন হাজার পিস এবং আল আমিন মৃধার পকেট থেকে এক হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

পরিদর্শক বেলায়েত হোসেন আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক দুই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থান থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে ফরিদপুরসহ আশপাশের এলাকায় সরবরাহ করতেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া ইয়াবাগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য কয়েক লাখ টাকা হতে পারে বলেও তিনি জানান।

আটক দুই মাদক কারবারিকে পরবর্তীতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাদের থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

মালয়েশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় ভাঙ্গার প্রবাসী নিহত, ৭ দিন পর দেশে ফিরল বেলায়েতের মরদেহ

সোহাগ মাতুব্বর, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ১১:৪৯ পিএম
মালয়েশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় ভাঙ্গার প্রবাসী নিহত, ৭ দিন পর দেশে ফিরল বেলায়েতের মরদেহ

মালয়েশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার প্রবাসী মো. বেলায়েত শেখ (৩৪)-এর মরদেহ অবশেষে দেশে পৌঁছেছে। মৃত্যুর প্রায় সাত দিন পর বুধবার (১১ মার্চ) রাত তিনটার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তার মরদেহ এসে পৌঁছায়।

পরে লাশবাহী গাড়িতে করে সকাল ৭টার দিকে ভাঙ্গা উপজেলার চৌকিঘাটা গ্রামের নিজ বাড়িতে মরদেহ আনা হলে স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। এ সময় শেষবারের মতো তাকে দেখতে গ্রামবাসী ও আত্মীয়-স্বজনদের ভিড় জমে। শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো এলাকায়। নিহত বেলায়েত শেখ চৌকিঘাটা এলাকার মৃত ইউসুফ শেখের বড় ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে সংসারের অভাব দূর করে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর আশায় স্ত্রী ও দুই কন্যা সন্তানকে রেখে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান বেলায়েত। জেলার দিঘলকান্দা এলাকার এক দালালের মাধ্যমে তিনি বিদেশে যান। পরিবারকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, সেখানে গিয়ে তার ভিসা জটিলতা দূর করে বৈধভাবে কাজের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।

এই আশ্বাসে দালাল চক্রের হাতে প্রায় ৬ লাখ টাকা তুলে দেয় বেলায়েতের পরিবার। টাকা জোগাড় করতে তাদের ঋণ নিতে হয়েছে এবং আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকেও ধার করতে হয়েছে। কিন্তু মালয়েশিয়ায় পৌঁছানোর পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বৈধ কাজ বা ভিসার কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের।

পরিবার জানায়, বৈধ কাগজপত্র না থাকায় দীর্ঘদিন অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটাতে হয়েছে তাকে। কখনো সবজি বাগানে অস্থায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন, আবার কখনো দিনমজুরির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। অবশেষে কিছুদিন আগে তিনি সড়ক নির্মাণের একটি কাজে যোগ দেন।

পরিবারের দাবি, রাতের শিফটে কাজ শেষে ভোরের দিকে বাসায় ফেরার পথে দ্রুতগতির একটি গাড়ি তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

স্বামীর মরদেহ ঘরে ফিরতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন স্ত্রী সাজেদা বেগম। তিনি বলেন, “সংসারের উন্নতির আশায় আমার স্বামী ঋণ করে বিদেশে গিয়েছিল। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সে আজ লাশ হয়ে ঘরে ফিরল। এখন দুই মেয়েকে নিয়ে আমি কীভাবে বাঁচব?”

স্থানীয়দের দাবি, দালালদের প্রতারণার কারণে অনেক পরিবার এভাবে সর্বস্বান্ত হচ্ছে। তারা এ ধরনের দালাল চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

ষড়যন্ত্রমূলক অস্ত্র মামলা থেকে বেকসুর খালাস পেলেন আলফাডাঙ্গার ইউপি সদস্য শরিফুল

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ১১:৩৩ পিএম
ষড়যন্ত্রমূলক অস্ত্র মামলা থেকে বেকসুর খালাস পেলেন আলফাডাঙ্গার ইউপি সদস্য শরিফুল

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় বহুল আলোচিত একটি ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা অস্ত্র মামলা থেকে বেকসুর খালাস পেয়েছেন ইউপি সদস্য সৈয়দ শরিফুল ইসলাম।

বুধবার (১১ মার্চ) বিকাল ৩টায় ফরিদপুর সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক জিয়া হায়দার এই রায় ঘোষণা করেন।

​মামলা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, আজ বুধবার মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি ও রায়ের জন্য দিন ধার্য ছিল। দীর্ঘ শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষ আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত তাকে নির্দোষ ঘোষণা করে খালাস প্রদান করেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১০ মার্চ গভীর রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের বিদ্যাধর গ্রামে সৈয়দ শরিফুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালায় কাশিয়ানীর ভাটিয়াপাড়া র‌্যাব-৬ এর একটি দল। সে সময় তার বসতঘরের পাশে একটি উন্মুক্ত রান্নাঘর থেকে একটি দেশীয় ওয়ান শুটার গান উদ্ধার দেখানো হয়। পরদিন অস্ত্র আইনে মামলা দিয়ে তাকে আলফাডাঙ্গা থানায় সোপর্দ করা হয়েছিল।

সৈয়দ শরিফুল ইসলাম আলফাডাঙ্গা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ডের বারবার নির্বাচিত জনপ্রিয় সদস্য। তার স্বজনদের দাবি, নির্বাচনে পরাজিত প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে তাকে হেয় করতে দীর্ঘদিন ধরে ষড়যন্ত্র করে আসছিল। তারই অংশ হিসেবে রাতের আঁধারে একটি উন্মুক্ত জায়গায় অস্ত্র রেখে প্রশাসনকে ভুল তথ্য দিয়ে তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছিল।

আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ইউপি সদস্য সৈয়দ শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দীর্ঘ দুই বছর হয়রানি করা হয়েছে। আমি আদালতের কাছে ন্যায়বিচার পেয়েছি। সত্যের জয় হয়েছে, এজন্য আমি আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞ।’

​আসামি পক্ষের আইনজীবী মো. শাহজাহান খান মামলার রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমার মক্কেল সম্পূর্ণ নির্দোষ ছিলেন। তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফাঁসানো হয়েছিল যা আমরা আদালতে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। বিজ্ঞ আদালত দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে তাকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন।’