খুঁজুন
শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ২৭ চৈত্র, ১৪৩২

ফরিদপুরে হৃদরোগীদের হাহাকার: অচল ৮ কোটি টাকার ক্যাথল্যাব, নেই সচলের উদ্যোগ

হারুন-অর-রশীদ ও আবরাব নাদিম ইতু, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে হৃদরোগীদের হাহাকার: অচল ৮ কোটি টাকার ক্যাথল্যাব, নেই সচলের উদ্যোগ

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থাপিত কয়েক কোটি টাকার হৃদরোগ বিভাগের অত্যাধুনিক ক্যাথল্যাব দীর্ঘদিন ধরে অচল পড়ে আছে। ফলে স্বল্প খরচে হৃদরোগের উন্নত চিকিৎসা সেবা পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষ। ২০১৬ সালে স্থাপন করা এই ক্যাথল্যাবটি আজও অজ্ঞাত কারণে চালু না হওয়ায় একদিকে যেমন নষ্ট হচ্ছে সরকারি সম্পদ, অন্যদিকে বাড়ছে রোগীদের ভোগান্তি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপন করা ক্যাথল্যাবটি চালু থাকলে এখানে এনজিওগ্রাম, এনজিওপ্লাস্টি (রিং পরানো)সহ হৃদরোগের গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা কম খরচে দেওয়া সম্ভব হতো। কিন্তু দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় এই গুরুত্বপূর্ণ সেবাটি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ।

রাজধানীমুখী রোগীর ঢল, বাড়ছে ঝুঁকি:

বর্তমানে ফরিদপুরে হৃদরোগের উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারি পর্যায়ে কোনো কার্যকর ক্যাথল্যাব নেই। ফলে জরুরি অবস্থায় রোগীদের ঢাকাসহ অন্যান্য বড় শহরে ছুটতে হচ্ছে। এতে যেমন সময় নষ্ট হচ্ছে, তেমনি বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি।

চিকিৎসকদের মতে, হৃদরোগের ক্ষেত্রে সময়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত এনজিওগ্রাম ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেলে রোগীর অবস্থা দ্রুত খারাপ হতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে হৃদরোগ ও রক্তনালির রোগে প্রতিদিন প্রায়  অনুমানিক ৫৬২ থেকে ৭৭৭ জন মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাদ্যে ভেজাল, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, ধূমপান ও মানসিক চাপ বৃদ্ধির কারণে হৃদরোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ক্যাথল্যাব চালু থাকা অত্যন্ত জরুরি।

বেসরকারি নির্ভরতায় অসহায় নিম্ন আয়ের মানুষ:

ফরিদপুরে বর্তমানে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ক্যাথল্যাব সেবা থাকলেও সেখানে চিকিৎসা ব্যয় তুলনামূলক বেশি। ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর পক্ষে সেই সেবা গ্রহণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

স্থানীয়রা জানান, সরকারি হাসপাতালে ক্যাথল্যাব চালু হলে কম খরচে চিকিৎসা পাওয়া সম্ভব হতো এবং অনেক জীবন রক্ষা পেত।

রোগীদের কণ্ঠে ক্ষোভ ও হতাশা:

হৃদরোগে আক্রান্ত ভুক্তভোগীরা বলছেন, সরকারি হাসপাতালে সুযোগ না থাকায় বাধ্য হয়ে বেশি খরচ করে বাইরে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

ফরিদপুর সদর উপজেলার বাসিন্দা আব্দুল করিম (৫৬) ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “আমার হার্টের সমস্যা ধরা পড়ার পর ডাক্তার এনজিওগ্রাম করতে বলেছেন। এখানে ব্যবস্থা না থাকায় ঢাকায় যেতে হয়েছে। যাতায়াত, পরীক্ষা আর চিকিৎসা মিলিয়ে প্রায় ২ লাখ ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। গরিব মানুষের জন্য এটা খুব কষ্টকর।”

আরেক রোগীর স্বজন সাজেদা বেগম (৪২) ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “হঠাৎ বুকে ব্যথা উঠলে আমার বড় বোনকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। কিন্তু এখানে উন্নত কোনো ব্যবস্থা নেই। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যেতে হয়েছে। যদি এখানে ক্যাথল্যাব চালু থাকত, তাহলে হয়তো এত ঝামেলা পোহাতে হতো না।”

সালথা উপজেলার বাসিন্দা মো. হান্নু মোল্যা ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “রাতে হার্টের সমস্যা হলে ঢাকায় নিতে নিতে অনেক সময় চলে যায়। এই সময়টাই সবচেয়ে বিপজ্জনক। ফরিদপুরে ক্যাথল্যাব থাকলে অনেক রোগী বেঁচে যেত।”

নগরকান্দা উপজেলার বাসিন্দা মাহফুজুর রহমান ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “আমার বাবা গত বছর হার্ট অ্যাটাক করেছিল। তখন তাকে ফরিদপুরের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই। কিন্তু সেখানে হৃদরোগের চিকিৎসা না পেয়ে ফরিদপুরের বেসরকারি হাসপাতালে আবার নিয়ে যাই, তার কয়েকদিন পরেই মারা যায় আমার বাবা। আমার বাবা যদি তাৎক্ষণিক উন্নত চিকিৎসা পেত। তাহলে আমার বাবাকে বাঁচানো যেত।

সচেতন মহলের উদ্বেগ:

স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলছেন, এত বড় একটি সরকারি প্রকল্প বছরের পর বছর অচল পড়ে থাকা দুঃখজনক। এতে একদিকে যেমন সরকারি অর্থ অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে জনগণ বঞ্চিত হচ্ছে মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে। তারা দ্রুত ক্যাথল্যাবটি চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

এহসানুল হক নামে একজন শিক্ষক ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “এটি শুধু একটি মেশিন নয়, এটি মানুষের জীবন বাঁচানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এটি অচল থাকা মানে মানুষের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলে রাখা।”

কী কারণে বন্ধ ক্যাথল্যাব?

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ক্যাথল্যাব চালুর জন্য প্রয়োজনীয় জনবল যেমন ডাক্তার ও টেকনিশিয়ান থাকলেও মূল সমস্যা হচ্ছে যন্ত্রপাতি সচল না থাকা।

দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় মেশিনটি অনেকটাই অকেঁজো হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

যা জানালেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ:

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মো. আজমল হোসেন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে বলেন, “আমাদের প্রয়োজনীয় ডাক্তার ও টেকনিশিয়ান রয়েছে। কিন্তু ক্যাথল্যাবের মেশিনটি দীর্ঘদিন চালু না থাকায় অনেকটা অকেঁজো হয়ে গেছে। মেশিনটি ঠিক করা গেলে আমরা খুব দ্রুতই সেবা চালু করতে পারব।”

হাসপাতালটির পরিচালক ডা. মো. হুমায়ূন কবির ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “ক্যাথল্যাবটি দীর্ঘদিন অচল রয়েছে। আমরা এটি সচল করার জন্য নিমিউকে (ন্যাশনাল ইলেকট্রো-মেডিকেল ইক্যুপমেন্ট মেইনটেইনেন্স ওয়ার্কশপ) চিঠি দিয়েছি। কিন্তু তারা জানিয়েছে, মেশিনটি ভালো নেই এবং তারা কাজ করতে পারবে না। তারা পরামর্শ দিয়েছে, যেখান থেকে মেশিনটি কেনা হয়েছে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা ফিলিপস কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তবে এখন পর্যন্ত তারা কার্যকর কোনো সমাধান দেয়নি।”

ফিলিপস কোম্পানির পাল্টা দাবি:

এ বিষয়ে ফিলিপস কোম্পানির তৎকালীন প্রতিনিধি মো. রফিক ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে বলেন, “হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যোগাযোগ করলে আমরা মেশিন সারাতে চাহিদা পত্র দিয়েছিলাম,পরবর্তীতে আমাদের সাথে আর যোগাযোগ কেউ করে নি”

দ্রুত সমাধানের দাবি:

স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে ভবিষ্যতে ক্ষতি আরও বাড়বে। কারণ দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকলে মেশিন সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যেতে পারে, তখন নতুন করে বিপুল অর্থ ব্যয় করে সেটি স্থাপন করতে হবে।

তারা মনে করছেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানির মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত ক্যাথল্যাবটি সচল করা জরুরি।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যাথল্যাব চালু হলে শুধু ফরিদপুর নয়, আশেপাশের জেলাগুলোর মানুষও উপকৃত হবে। এতে কম খরচে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত হবে এবং অনেক হৃদরোগীর জীবন বাঁচানো সম্ভব হবে।

তাই স্থানীয়দের একটাই দাবি—অচল পড়ে থাকা কোটি টাকার এই ক্যাথল্যাব দ্রুত চালু করে জনগণের সেবায় কাজে লাগানো হোক।

তারেক রহমানের নির্দেশে ছাত্রদল নেতা অনুকে দেখতে এভার কেয়ারে ডা. বিটু

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:১১ অপরাহ্ণ
তারেক রহমানের নির্দেশে ছাত্রদল নেতা অনুকে দেখতে এভার কেয়ারে ডা. বিটু

ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাকে (AMI with Cardiogenic Shock with Acute LVF) আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ ফরিদপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ আদনান হোসেন অনুকে দেখতে রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে গেছেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিশিষ্ট কার্ডিওলজিস্ট ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদির (বিটু)।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় তিনি হাসপাতালে গিয়ে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং অনুর বর্তমান শারীরিক অবস্থা, চিকিৎসা প্রক্রিয়া ও ঝুঁকির মাত্রা সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। বিএনপি মিডিয়া সেল সূত্রে জানা গেছে, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নির্দেশেই তিনি অসুস্থ এই ছাত্রনেতাকে দেখতে হাসপাতালে যান।

চিকিৎসক সূত্রে জানা যায়, হঠাৎ তীব্র হার্ট অ্যাটাকের পর কার্ডিওজেনিক শক ও অ্যাকিউট লেফট ভেন্ট্রিকুলার ফেইলিউর (LVF) দেখা দেওয়ায় অনুর অবস্থা জটিল আকার ধারণ করে। বৃহস্পতিবার সকালে তাকে প্রথমে ফরিদপুর হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে জরুরি চিকিৎসা দেওয়ার পরও অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হওয়ায় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকায় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পরে একই দিন দুপুর প্রায় ১টার দিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স (হেলিকপ্টার) যোগে তাকে রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে কার্ডিয়াক কেয়ার ইউনিটে (CCU) বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থা এখনো সংকটাপন্ন হলেও চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

হাসপাতালে গিয়ে ডা. বিটু চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শ করেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। পাশাপাশি তিনি রোগীর সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় তিনি অনুর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদেরকে সান্ত্বনা দেন এবং তারেক রহমান-এর পক্ষ থেকে আন্তরিক সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি দ্রুত সুস্থতার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এদিকে, অনুর অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়লে ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সুস্থতা কামনা করে পোস্ট দিচ্ছেন এবং বিভিন্ন স্থানে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হচ্ছে।

পরিবারের পক্ষ থেকেও দেশবাসীর কাছে অনুর দ্রুত আরোগ্যের জন্য দোয়া কামনা করা হয়েছে। স্থানীয় নেতারা জানান, ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় ও জনপ্রিয় মুখ হিসেবে অনু দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন। তার হঠাৎ অসুস্থতা নেতাকর্মীদের মধ্যে শঙ্কার সৃষ্টি করেছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা তার শারীরিক অবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের চিকিৎসা প্রতিক্রিয়ার ওপরই তার সুস্থতার অগ্রগতি অনেকটা নির্ভর করবে।

সব মিলিয়ে, তরুণ এই ছাত্রনেতার সুস্থতা কামনায় এখন ফরিদপুরসহ সারা দেশের নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা প্রার্থনায় রয়েছেন।

ফরিদপুরে জ্বালানি তেল সংকটে বন্ধের পথে অটো ইট ভাটা, বিপাকে ২৫০ শ্রমিক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৫২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে জ্বালানি তেল সংকটে বন্ধের পথে অটো ইট ভাটা, বিপাকে ২৫০ শ্রমিক

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে জ্বালানি তেলের (ডিজেল) তীব্র সংকটে বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে আছে আল-আলী অটো ব্রিকস।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল)বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিকদের কণ্ঠে ছিল অসহায়ত্ব আর বেঁচে থাকার আকুতি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিদিন যেখানে শ্রমিকদের কোলাহলে মুখর থাকত অটো ইট ভাটার আঙিনা, সেখানে এখন নেমে এসেছে অজানা আতঙ্কের নীরবতা। জ্বালানি তেল(ডিজেল) না থাকায় প্রায় ৩০-৩৫টি যানবাহন ও দুটি জেনারেটর একেবারে অচল হয়ে পড়েছে। উৎপাদন কার্যক্রম প্রায় স্থবির। যে কোনো মুহূর্তে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে ইট ভাটাটি। এই ভাটার ওপর নির্ভরশীল প্রায় ২৫০ শ্রমিক আর তাদের পরিবারের চার শতাধিক মানুষ। তাদের জীবনে এখন অনিশ্চয়তার কালো ছায়া।

ভাটায় কর্মরত নবিরন বেগম নামে এক শ্রমিক বলেন, আমরা দিন আনি দিন খাই। কাজ না থাকলে ঘরে ভাত রান্না হবে না। বাচ্চাদের মুখের দিকে তাকাতে পারি না। কিস্তির চাপ আছে। খাবো নাকি কিস্তি দেবো, বুঝতে পারছি না। ভাটা বন্ধ হয়ে গেলে পথে বসা ছাড়া উপায় নেই।

রহিম নামে আরেকজন বলেন, এই ভাটাই আমাদের সবকিছু। এটা বন্ধ হলে আমরা রাস্তায় নামতে বাধ্য হবো। মালিক আর কতদিন আমাদের কাজ ছাড়া বসিয়ে বেতন দেবে।

ইট ভাটার ম্যানেজার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ভাটা চালু রাখতে প্রতিদিন প্রায় ১৫০০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়। কিন্তু বর্তমানে এক ফোঁটা জ্বালানি তেল (ডিজেল) পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে সব কার্যক্রম থমকে গেছে। জ্বালানি ছাড়া আমাদের ভাটা এক মিনিটও চলতে পারে না। যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে প্রায় ৫০০ মানুষের জীবিকা একসাথে বন্ধ হয়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ থাকলে কিছু কাজ করা যায়,কিন্তু ডিজেল ছাড়া গাড়ি ও জেনারেটর চালানো সম্ভব নয়। আমরা প্রশাসনের কাছে আকুল আবেদন জানাই। এই শ্রমিকদের কথা ভেবে দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করুন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রকিবুল হাসান বলেন, বিষয়টি আমাদের জানানো হয়েছে। অনেক শ্রমিকের জীবিকা এই কারখানার সঙ্গে জড়িত। আমরা মানবিক দিক বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করবো।

ফরিদপুরে হামের উপসর্গ নিয়ে ২ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৭ জন

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৪১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে হামের উপসর্গ নিয়ে ২ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৭ জন

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৭ জন শিশু।

বৃহস্পতিবার (০৯ এপ্রিল) বিকেলে ফরিদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

নিহত দুই শিশু হলেন- মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার সন্নাসীচর এলাকার মো. সেলিমের মেয়ে সাবিহা (৭ মাস)। অপরদিকে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার সরিষা গ্রামের জসিমের ছেলে আয়াতুল্লাহ (৬ মাস)।

জেলা সিভিল সার্জন অফিস জানায়, হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাবিহা বুধবার (০৮ এপ্রিল) রাতে এবং আয়াতুল্লাহ বৃহস্পতিবার (০৯ এপ্রিল) সকালে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায়।

এদিকে স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে ১৭ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ পর্যন্ত জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ১৮৫ জন শিশু। এর মধ্যে ১০৩ জন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে জেলায় এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৩ জন শিশু।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান জানান, হাম প্রতিরোধে শিশুদের সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করার জন্য অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।