খুঁজুন
সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৩০ চৈত্র, ১৪৩২

মধুখালীতে গভীর রাতে কাঁঠাল বাগানে অভিযান, পাইপগান-কার্তুজসহ দুই যুবক গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:২৩ অপরাহ্ণ
মধুখালীতে গভীর রাতে কাঁঠাল বাগানে অভিযান, পাইপগান-কার্তুজসহ দুই যুবক গ্রেপ্তার

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় একটি কাঁঠাল বাগানে অভিযান চালিয়ে দেশীয় তৈরি পাইপগান ও কার্তুজসহ দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার কামারখালী বাজার সংলগ্ন নিশ্চিন্তপুর এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার আখশুকনা গ্রামের মাধব ঘোষ (৩৬) এবং একই এলাকার অসিম শিকদার (২১)। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তাদের ফরিদপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মধুখালী থানা পুলিশ জানতে পারে, নিশ্চিন্তপুর এলাকার একটি কাঁঠাল বাগানে কয়েকজন ব্যক্তি সন্দেহজনকভাবে অবস্থান করছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে চারদিক থেকে বাগানটি ঘিরে ফেলে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সেখানে থাকা দুজন ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাদের ধাওয়া করে আটক করে।

পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে ওই দুইজনকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। পরে তাদের তল্লাশি করে মাধব ঘোষের কাছ থেকে একটি দেশীয় তৈরি পাইপগান (কাঠের বাটসহ, প্রায় ১৪.৫ ইঞ্চি লম্বা) এবং অসিম শিকদারের কাছ থেকে দুই রাউন্ড শিসার কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, উদ্ধার করা কার্তুজের পেছনে ইংরেজিতে “CHEDDITE-12” লেখা রয়েছে, যা সাধারণত শটগানের কার্তুজ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। জব্দ করা অস্ত্র ও গোলাবারুদ যথাযথ প্রক্রিয়ায় তালিকাভুক্ত করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।

মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯-এ/এফ(১) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অস্ত্র রাখার বিষয়ে সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেনি।”

তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পূর্বে কোনো অপরাধমূলক সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ছাড়া তারা কোনো সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের সঙ্গে জড়িত কিনা, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে।

 

সালথায় মাদক সেবনের দায়ে তিন যুবককে কারাদণ্ড

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৩১ অপরাহ্ণ
সালথায় মাদক সেবনের দায়ে তিন যুবককে কারাদণ্ড

ফরিদপুরের সালথায় মাদক সেবনের দায়ে তিন যুবককে কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এর মধ্যে দুই জনকে একমাস করে ও একজনকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দবির উদ্দিন এ কারাদণ্ড প্রদান করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের কানাইড় গ্রামের হালিম শেখের ছেলে রাজীব শেখ, কসবা গট্টি গ্রামের বিল্লাল শেখের ছেলে জিলাল শেখ ও পাশ্ববর্তী নগরকান্দা উপজেলার ধুতরাহাটি গ্রামের তৈয়বুর শেখের ছেলে তুহিন শেখ।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে গট্টি এলাকার একটি কলা বাগারের ভেতর বসে মাদকদ্রব্য সেবন করছিলেন তিন যুবক। খবর পেয়ে ইউএনওর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের একটি টিম সেখানে অভিযান চালিয়ে ওই তিন যুবককে আটক করে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মাদকসেবী রাজীব শেখ ও জিলাল শেখকে ১ মাস করে ও তুহিন শেখকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অভিযান পরিচালনার সময় সালথা থানা পুলিশের একটি টিম উপস্থিত ছিলেন।

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন বলেন, মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান কঠোর। আজকে তিন মাদকসেবীকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আমাদের মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সালথায় সম্পত্তি নিয়ে বিরোধে মাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করল সন্তানরা

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:০৮ অপরাহ্ণ
সালথায় সম্পত্তি নিয়ে বিরোধে মাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করল সন্তানরা

ফরিদপুরের সালথায় সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে সালিশ বৈঠকের মধ্যে মনোয়ারা বেগম (৬০) নামে এক বৃদ্ধ সৎ মাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে তারই সন্তানদের বিরুদ্ধে। হামলার পর গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রবিবার (১২ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের কাঠালবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় হামলা ঠেকাতে গিয়ে মনোয়ারার আপন ছেলেও আহত হয়েছেন।

আহত মনোয়ারা বেগম (৬০) কাঠালবাড়িয়া গ্রামের সিদ্দিকুর রহমানের স্ত্রী। অপর আহত ব্যক্তি আব্দুর রাজ্জাক (২৯) মনোয়ারা বেগমের গর্ভজাত ছেলে।

আহত মনোয়ারার পরিবার ও স্থানীয়রা সুত্রে জানা গেছে, পারিবারিক সম্পত্তি ও বসতভিটা নিয়ে মনোয়ারা বেগমের সঙ্গে তার সৎ সন্তান হিরু মাতুব্বর (৩৫), রিপন মাতুব্বর (৪৩) ও ফিরোজ মাতুব্বরের (৪০) বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের জেরে গত শনিবার সৎ সন্তানরা মনোয়ারাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।

পরদিন রবিবার রাতে বিষয়টি সালিশের মাধ্যমে মিমাংসার জন্য উদ্যোগ নেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। পরে গ্রামবাসী ও গন্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে ওই সালিশ বৈঠক বসে। কিন্তু সালিশের একপর্যায়ে মনোয়ারাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে তার সৎ ছেলে হিরু, রিপন ও ফিরোজ। এতে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

এ সময় হামলা থেকে মাকে রক্ষা করতে গেলে তার ছেলে আব্দুর রাজ্জাকও আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন।

এ বিষয় হামলাকারী সন্তানদের বক্তব্য নেওয়ার জন্য যোগাযোগ করা হলেও পলাতক থাকায় তাদেরকে পাওয়ার যায়নি।

সোমবার সকালে ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল-নগরকান্দা) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, হামলার খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। আহত ওই নারী বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। তবে তার পরিবারকে থানায় একটি এজাহার দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

ফরিদপুরে চিকিৎসা খাতে নতুন দিগন্ত: হ্যাপি হসপিটালে সফল টোটাল হিপ রিপ্লেসমেন্ট সার্জারি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৩৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে চিকিৎসা খাতে নতুন দিগন্ত: হ্যাপি হসপিটালে সফল টোটাল হিপ রিপ্লেসমেন্ট সার্জারি

ফরিদপুরে আধুনিক চিকিৎসাসেবার অগ্রযাত্রায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্থাপিত হলো। শহরের হ্যাপি হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে টোটাল হিপ রিপ্লেসমেন্ট (THR) সার্জারি, যা জেলার স্বাস্থ্যসেবায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।

রবিবার (১২ এপ্রিল) দিবাগত রাতে প্রখ্যাত অর্থোপেডিক্স ও আর্থ্রোস্কোপিক সার্জন ডা. মুহাম্মদ এ হাসানের নেতৃত্বে দক্ষ মেডিকেল টিমের মাধ্যমে জটিল এই অপারেশনটি সম্পন্ন হয়। রোগীর দীর্ঘদিনের হিপ জয়েন্টের সমস্যার সমাধানে এই সার্জারিটি অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, টোটাল হিপ রিপ্লেসমেন্ট একটি উচ্চমাত্রার জটিল ও প্রযুক্তিনির্ভর অপারেশন, যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত হিপ জয়েন্ট অপসারণ করে কৃত্রিম জয়েন্ট প্রতিস্থাপন করা হয়। এ ধরনের সার্জারির জন্য উন্নত সরঞ্জাম, অভিজ্ঞ সার্জন এবং দক্ষ টিমওয়ার্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—যা হ্যাপি হসপিটাল সফলভাবে নিশ্চিত করতে পেরেছে।

এর আগে ডা. মুহাম্মদ এ হাসান ফরিদপুরে প্রথমবারের মতো ‘নী আর্থ্রোস্কোপি’ (Knee Arthroscopy) সার্জারি চালু করে আধুনিক অর্থোপেডিক চিকিৎসায় নতুন যুগের সূচনা করেছিলেন। সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং রোগীবান্ধব চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে তিনি ইতোমধ্যেই আস্থা অর্জন করেছেন রোগীদের মধ্যে। এবার টোটাল হিপ রিপ্লেসমেন্ট সার্জারির সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে তিনি তার দক্ষতা ও অগ্রসর চিন্তাধারার আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন।

হ্যাপি হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্তৃপক্ষের পক্ষে ড. সৈয়দ হাসানুল কবীর মিশু এ সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “এটি শুধু আমাদের হাসপাতালের জন্য নয়, বরং সমগ্র ফরিদপুরবাসীর জন্য একটি গর্বের বিষয়। এখন উন্নত চিকিৎসার জন্য আর রাজধানী ঢাকা বা বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না। এখানেই রোগীরা বিশ্বমানের সেবা পাচ্ছেন।”

তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতেও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসা সেবা সম্প্রসারণে হ্যাপি হসপিটাল প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও আধুনিক যন্ত্রপাতির সমন্বয়ে তারা ফরিদপুরসহ আশেপাশের জেলার রোগীদের জন্য নির্ভরযোগ্য চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।

এই সফল অপারেশন ফরিদপুরে উন্নত চিকিৎসাসেবার প্রসারে নতুন আশার সঞ্চার করেছে এবং স্থানীয়ভাবে জটিল অস্ত্রোপচারের সুযোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও অনেকাংশে কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।