খুঁজুন
সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ২৩ চৈত্র, ১৪৩২

নগরকান্দায় সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ, থানায় অভিযোগ দায়ের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:১৯ পূর্বাহ্ণ
নগরকান্দায় সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ, থানায় অভিযোগ দায়ের

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার এক সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নগরকান্দা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও যুগান্তরের সাংবাদিক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বাবু (৪৯) মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে নগরকান্দা বাজারে শাহিন মিয়ার চায়ের দোকানে বসে চা পান করছিলেন। এ সময় পূর্ব বিরোধের জের ধরে একই উপজেলার মিরাকান্দা গ্রামের বাসিন্দা মো. লিয়াকত আলী (৫৫) হঠাৎ সেখানে এসে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার ওপর হামলা চালায়।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, লিয়াকত আলী একটি কাঠের বাটাম দিয়ে তার মাথা লক্ষ্য করে আঘাত করার চেষ্টা করলে তিনি হাত দিয়ে তা প্রতিহত করার চেষ্টা করেন। এতে তার বাঁম হাতের বাহুতে গুরুতর আঘাত লাগে এবং তিনি রক্তাক্ত জখম হন। তিনি চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে। এ সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি উপস্থিত লোকজনকে উদ্দেশ করে হুমকি দেন যে, এ ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিলে তাকে প্রাণনাশ করা হবে।

ঘটনার পর আহত মিজানুর রহমান বাবু নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করে পরে নগরকান্দা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত লিয়াকত আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘সাংবাদিক মিজান বাবু তার সামনেই এলোপাতাড়ি অশালীন ভাষায় গালাগালি করতে থাকেন। এসময় তিনি তাকে গালাগালি থেকে বিরত থাকতে বললে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তবে তিনি দাবি করেন, তিনি কাউকে আঘাত করেননি।’

এ ব্যাপারে নগরকান্দা প্রেসক্লাবের সভাপতি শওকত আলী শরীফ বলেন, একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা বড় দুঃখজনক। স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য অন্তরায়। এ হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। অবিলম্বে এ হামলা সাথে জড়িতদের তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ বলেন, “ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহরাজ শারবীন বলেন, “সাংবাদিকের ওপর হামলার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয় সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের হামলা স্বাধীন গণমাধ্যমের জন্য হুমকি এবং তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

ফরিদপুরে লিজের জমি না ছাড়ায় পানের বরজে আগুন, কোটি টাকার ক্ষতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:২৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে লিজের জমি না ছাড়ায় পানের বরজে আগুন, কোটি টাকার ক্ষতি

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে লিজের জমি না ছাড়াকে কেন্দ্র করে পানের বরজে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত দুই পানচাষী। এ ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত আতিয়ার রহমান আতু শেখ (৬০) ও তার ছেলে সুজন শেখ (৩০) পলাতক রয়েছেন। গত ৩০ মার্চ ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ডহরনগর গ্রামে।

এ ঘটনায় তপন গুহ ও আকরাম শেখ রবিবার (৫ এপ্রিল) ফরিদপুর আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ডহরনগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

এদিকে সব হারিয়ে হতাশায় ভুগছেন পানচাষী তপন গুহ ও আকরাম শেখ। তারা বলেন, “মাথার উপর যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে।”

ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন, পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ডহরনগর গ্রামের তপন গুহ ও আকরাম শেখ। তারা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে লিজ নেওয়া জমিতে পান চাষ করে আসছিলাম। কিন্তু একই এলাকার আতু শেখ বারবার জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছিলেন। তারা লিজ বাতিল না করায় ক্ষিপ্ত হয়ে পরিকল্পিতভাবে পানের বরজে আগুন দেওয়া হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ এলাকার পানের বরজ সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে পুড়ে যাওয়া বাঁশের খুঁটি, শুকিয়ে যাওয়া পানগাছ এবং ছাইয়ের স্তূপ এখন ধ্বংসস্তপে পরিনত হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, এটি ছিল এলাকার অন্যতম বড় পানের বরজ, যেখানে নিয়মিত ১০-১২ জন শ্রমিক কাজ করতেন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ৩০ মার্চ দুপুরের দিকে হঠাৎ আগুন লেগে পুরো পানের বরজে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্তরা দাবি করেন, এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং পূর্বশত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগ। আগুনের ঘটনায় পুরো বরজ পুড়ে যাওয়ায় তাদের জীবিকার প্রধান উৎস ধ্বংস হয়ে গেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক তপন গুহ বলেন, এই বরজটাই ছিল আমার একমাত্র সম্বল। এখন পান ভাঙার মৌসুম চলছে। সবকিছু পুড়ে শেষ হয়ে গেছে। আমি একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছি। শুধু আমি না, আমার সঙ্গে কাজ করা শ্রমিকরাও এখন বিপদে পড়েছে।

অন্য কৃষক আকরাম শেখ বলেন, আমাদের দুই পরিবারের ১০০ শতাংশ বরজ পুড়ে গেছে। কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। এখন পরিবার নিয়ে কীভাবে চলবো, তা বুঝতে পারছি না। আমরা অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

স্থানীয় বাসিন্দা হানিফ শেখসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, আগুনের ঘটনার পর বিষয়টি আপস-মীমাংসার আলোচনা চলছিল। তবে এরই মধ্যে অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়, ফলে সমাধান হয়নি।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, পানের বরজে আগুন দেওয়ার মতো ঘটনা শুধু দুইটি পরিবারের ক্ষতিই নয়, পুরো এলাকার কৃষি অর্থনীতির ওপর বড় আঘাত। এ সময় দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।

এ ঘটনায় তপন গুহ ও আকরাম শেখ রবিবার ফরিদপুর আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ডহরনগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

বোয়ালমারী থানার ডহরনগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মধুসূদন পান্ডে বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি সত্য বলে প্রতীয়মান হয়েছে। তবে অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

র‌্যালি-আলোচনায় মুখর ফরিদপুর, উদযাপিত হলো যমুনা টিভির এক যুগ পূর্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:১৩ অপরাহ্ণ
র‌্যালি-আলোচনায় মুখর ফরিদপুর, উদযাপিত হলো যমুনা টিভির এক যুগ পূর্তি

দেশের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম যমুনা টেলিভিশন-এর এক যুগ পূর্তি উপলক্ষে ফরিদপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেছেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।

রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল থেকে দিনব্যাপী এই আয়োজন উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।

এ উপলক্ষে সকাল ১১টার দিকে ফরিদপুর প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণ থেকে একটি আনন্দঘন র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ করে পুনরায় প্রেসক্লাব চত্বরে এসে শেষ হয়। এতে সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

র‌্যালি শেষে প্রেসক্লাবের অ্যাডভোকেট শামসুদ্দিন মোল্যা মিলনায়তনে কেক কাটা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ফরিদপুরে যমুনা টেলিভিশনের প্রতিনিধি তরিকুল ইসলাম হিমেলের সঞ্চালনায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বক্তব্য রাখেন ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন পিয়াল, প্রথম আলো-এর নিজস্ব প্রতিবেদক পান্না বালা, এটিএন বাংলা-এর প্রতিনিধি কামরুজ্জামান সোহেল, ছাত্রনেতা আবরার নাদিম ইতুসহ বিভিন্ন পেশাজীবী ও গণমাধ্যমকর্মীরা।

বক্তারা বলেন, যমুনা টেলিভিশন প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সাহসী ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মাধ্যমে দেশের গণমাধ্যম অঙ্গনে বিশেষ অবস্থান তৈরি করেছে। নানা প্রতিকূলতা ও চাপ উপেক্ষা করে সত্য প্রকাশের ধারাবাহিকতা বজায় রাখায় প্রতিষ্ঠানটি মানুষের আস্থা অর্জন করেছে।

তারা আরও বলেন, ভবিষ্যতেও যমুনা টেলিভিশন যেন নির্যাতিত ও বঞ্চিত মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠে এবং গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে ভূমিকা রাখে—সেই প্রত্যাশাই সবার।

অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

 

ফরিদপুরের বড় কাজুলী গ্রামে সন্ত্রাস, হামলা ও চুরির প্রতিবাদ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৫৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের বড় কাজুলী গ্রামে সন্ত্রাস, হামলা ও চুরির প্রতিবাদ

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার বড় কাজুলী গ্রামে চলমান সন্ত্রাস, হামলা ও চুরির ঘটনার প্রতিবাদে এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (০৫ এপ্রিল) দুপুরে গ্রামের বাসিন্দা শরিফুল ইসলামের নিজ বাসভবনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে বড় কাজুলী গ্রামের স্থানীয় গ্রামবাসীরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মানোয়ার মোল্লা, ওবায়দুর মোল্লা ও আলী হোসেন,কামরান, নাজিম,মস্তো সহ একটি প্রভাবশালী মহল গ্রামের সাধারণ মানুষকে নানা ধরনের নির্যাতন, হামলা ও মিথ্যা মামলার হুমকি দিয়ে আসছে। এর ফলে গ্রামবাসীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে।

তারা আরও বলেন, সম্প্রতি গ্রামে চুরি ও হামলার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে গ্রামবাসীরা অবিলম্বে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং এলাকায় স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।