খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুর, আসামি সাড়ে চারশত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৪১ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুর, আসামি সাড়ে চারশত

ফরিদপুর সদর উপজেলার গোলজার মন্ডলের ডাঙ্গী এলাকায় পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা প্রদান, গাড়ি ভাঙচুর ও আসামি ছিনতাইয়ের চেষ্টার অভিযোগে সাড়ে চারশত জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকা জুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযানে নেমেছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় পূর্বশত্রুতার জের ধরে গোলজার মন্ডলের ডাঙ্গী এলাকার রাজা মিয়ার বাড়িতে একদল দুর্বৃত্ত হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় পরিবারের সদস্যদের ঘরের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। ভুক্তভোগীরা তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করে পুলিশের সহায়তা চান।

​সংবাদ পেয়ে কোতোয়ালী থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. মাসুদ আলমের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখানে রাজা মিয়ার একতলা বাড়ির জানালার গ্লাস ও সিসি ক্যামেরা ভাঙচুরসহ চতুর্দিকে ইটের টুকরো ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়। নিরাপত্তা রক্ষায় রাজা মিয়া ও রাশেদ মোল্লা নামে দুজনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে পুলিশের গাড়িতে তোলা হয়।

উদ্ধারকৃতদের নিয়ে পুলিশ রওনা হওয়ার পর রাত প্রায় সাড়ে ৭টার দিকে আক্কাস আলী বাজারের তিন রাস্তার মোড়ে পৌঁছালে তাদের পথরোধ করে তিন থেকে চারশত লোকের এক বিক্ষুব্ধ জনতা। তারা সরকারি গাড়ি ঘিরে ফেলে অবরুদ্ধ করে রাখে এবং ভেতরে থাকা দুই ব্যক্তিকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়।

​পুলিশ সদস্যরা শান্ত করার চেষ্টা করলে উত্তেজিত জনতা বাধা অমান্য করে গাড়ির ভেতরে ঢুকে তাদের ওপর চড়াও হয়। একপর্যায়ে হামলাকারীরা সরকারি গাড়ির চাবি ছিনিয়ে নেয় এবং লাঠিসোঁটা দিয়ে গাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। বাধা দিতে গেলে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের ওপরও হামলা চালিয়ে কিল-ঘুষি ও মারধর করা হয়, এতে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আঘাতপ্রাপ্ত হন।

খবর পেয়ে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে আহতদের উদ্ধার করে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

​এ ঘটনায় শনিবার (২২ আগস্ট) কোতোয়ালী থানার এসআই মো. মাসুদ আলম বাদী হয়ে ২২ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা ৩০০ থেকে ৪০০ জনকে আসামি করে একটি মামলা (মামলা নম্বর-৫৬) দায়ের করেছেন। মামলায় সরকারি কাজে বাধা, পুলিশকে মারধর, পথরোধ ও গাড়ি ভাঙচুরের একাধিক ধারা যুক্ত করা হয়েছে।

​ফরিদপুরের কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানান, ঘটনার পর থেকে এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে এবং বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাত আসামিদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান পরিচালনা করছে।

ফরিদপুরে এক পরিবারকে সমাজচ্যুত ও মসজিদে প্রার্থনায় নিষেধাজ্ঞা!

মিয়া রাকিবুল
প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৪৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে এক পরিবারকে সমাজচ্যুত ও মসজিদে প্রার্থনায় নিষেধাজ্ঞা!

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের শালিস বৈঠকে গ্রামের বাইরের লোক নিয়ে আসার অজুহাতে একটি পরিবারকে সমাজচ্যুত (একঘরে) করে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় মাতুব্বরদের বিরুদ্ধে। কেবল একঘরে করাই নয়, ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের স্থানীয় মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায়ের ওপরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। আধুনিক ও গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার যুগে এমন সিদ্ধান্তকে মানবাধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

​ঘটনাটি ঘটেছে আলফাডাঙ্গা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চর নওয়াপাড়া গ্রামে। ভুক্তভোগী পরিবারটি ওই গ্রামের প্রয়াত আব্দুর রফিক শেখের। তার তিন ছেলে—তারেক শেখ, ওবায়দুর শেখ ও খালিদ শেখ বর্তমানে চরম নিরাপত্তা ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুর রফিক শেখের পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী ওসমান গণির দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত ২৪ জুলাই গ্রামে প্রথম দফা শালিস বসে। সেদিন কোনো সুরাহা না হওয়ায় ৩০ জুলাই দ্বিতীয় দফায় শালিসের মাধ্যমে বিরোধটি নিষ্পত্তি করা হয়। তবে দুই দিনের শালিসেই নিজেদের পক্ষের বক্তব্য তুলে ধরতে রফিক শেখের ছেলেরা গ্রামের বাইরের কিছু আত্মীয়-স্বজনকে উপস্থিত করেন।

​গ্রামের শালিসে বহিরাগত লোক আনার বিষয়টি সহজভাবে নেননি স্থানীয় মাতুব্বররা। এর জের ধরে মাতুব্বর আবুল সরকার ও তাজ মোহাম্মদের নেতৃত্বে ৩১ জুলাই প্রথম একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ২১ আগস্ট সন্ধ্যায় চর নওয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে পুনরায় সভা ডেকে রফিক শেখের পুরো পরিবারকে সমাজচ্যুত করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন তারা। ওই দিন রাতেই আব্দুর রফিক শেখের ছোট ছেলে খালিদ শেখকে সামাজিক সিদ্ধান্তটি জানিয়ে দেওয়া হয়। পরদিন সভার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

​ভুক্তভোগী খালিদ শেখ বলেন, “শালিসে আমরা আমাদের আত্মীয়-স্বজনদের এনেছিলাম। শুধু এই অপরাধে আমাদের পরিবারকে সমাজচ্যুত করা হয়েছে। মাতুব্বররা সমাজের কাউকে আমাদের সাথে কথা বলতে নিষেধ করেছেন। গ্রামে কোনো অনুষ্ঠানে তো দূরের কথা, মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়তেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। বাধ্য হয়ে আমরা অন্য গ্রামে গিয়ে নামাজ পড়ছি।”

​অশ্রুসজল চোখে প্রয়াত আব্দুর রফিক শেখের স্ত্রী শিমুল বেগম বলেন, “আমাদের একঘরে করে রাখা হয়েছে। কারও সাথে কথা বলতে পারছি না। আমার ছেলেরা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করছে।”

​অভিযোগ স্বীকার করে সমাজপতি আবুল সরকার বলেন, “গ্রামের বিষয় নিয়ে শালিস, অথচ তারা কাউকে না জানিয়ে ৩০-৪০ জন বহিরাগত লোক নিয়ে আসে। তাই মহল্লার সবাই মিলে তাদের সাথে সামাজিক সম্পর্ক না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা পরে আমার কাছে এসেছিল, আমি গ্রামে সবার কাছে ভুল স্বীকার করতে বলেছিলাম, কিন্তু তারা তা করেনি।”

​এ বিষয়ে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আজিজুল তালুকদার জানান, জমি পরিমাপের সময় তিনি শালিসে থাকলেও পরবর্তী সময়ে সমাজচ্যুত করার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তাকে কিছু জানানো হয়নি।

​ঘটনাটিকে সম্পূন্ন বেআইনি আখ্যা দিয়ে আলফাডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান হাসিব বলেন, “বর্তমান যুগে এভাবে কাউকে একঘরে করা বেআইনি ও মানবাধিকার বিরোধী। বিষয়টির সত্যতা জেনে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

​আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) দায়িত্বে থাকা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আল-আমিন জানান, “বিষয়টি এখনো বিস্তারিত জানা নেই। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দেশের প্রচলিত আইনের বাইরে গিয়ে বিচার করার অধিকার কারও নেই।”

সদরপুরে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলছিল কিশোরীর মরদেহ

শিশির খাঁন
প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৬:২২ অপরাহ্ণ
সদরপুরে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলছিল কিশোরীর মরদেহ

ফরিদপুরের সদরপুরে ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় জান্নাতুল আক্তার (১৪) নামে এক কিশোরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

​রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দড়ি কৃষ্ণপুর গ্রামে নিজ বসতঘর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

​নিহত জান্নাতুল আক্তার ওই গ্রামের মো. জাফার খানের মেয়ে।

​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খাবার খেয়ে ছোট বোন সাইফাকে (৬) নিয়ে নিজ ঘরে ঘুমাতে যায় জান্নাতুল। রোববার সকালে ঘুম থেকে উঠে সাইফা দেখতে পায়, টিনের ঘরের আড়ার সঙ্গে বড় বোন ঝুলছে। এ সময় তার চিৎকারে পরিবারের অন্য সদস্যরা ছুটে এসে জান্নাতুলকে নিচে নামান। তবে ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়।

​নিহতের স্বজনদের দাবি, জান্নাতুল দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অসুস্থতায় ভুগছিল।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন শাহ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

ফরিদপুরে মাদ্রাসাছাত্রীকে গণধর্ষণের দায়ে দুই যুবকের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৫৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে মাদ্রাসাছাত্রীকে গণধর্ষণের দায়ে দুই যুবকের যাবজ্জীবন

ফরিদপুর সদর উপজেলায় এক মাদ্রাসাছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগে দুই যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর এক আসামিকে খালাস প্রদান করা হয়।

​রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. আবুল বাশার মিঞা এ রায় ঘোষণা করেন।

​রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে কড়া পুলিশ প্রহরায় তাদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

​দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—ফরিদপুর সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের চর দুর্গাপুর গ্রামের সুমন মোল্যা (১৯) ও একই গ্রামের ওসমান বেপারী (২৯)।

​মামলা সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ছাত্রী রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার একটি দাখিল মাদ্রাসায় নবম শ্রেণিতে পড়ালেখা করত। এক যুবকের সঙ্গে মুঠোফোনে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর বিকেলে ওই যুবকের সঙ্গে দেখা করতে সে গোয়ালন্দ ঘাটে যায়। তাকে না পেয়ে মেয়েটি তার চাচাতো ভাইকে ফোন করে।

​চাচাতো ভাই তাকে নিয়ে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা দিলে অভিযুক্ত আসামিরা কৌশলে তাদের ফরিদপুর শহরের ভাটি লক্ষ্মীপুর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যান এবং সেখানে রাতে অবস্থান করতে বলেন। পরদিন ১৮ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আসামিরা মেয়েটিকে জিম্মি করে মোবাইল ফোনে ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। এরপর সুমন মোল্যা ও ওসমান বেপারী পর্যায়ক্রমে মেয়েটিকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

​ঘটনার পর কাউকে কিছু না বলতে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ভুক্তভোগীকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী বাড়িতে ফিরে স্বজনদের বিষয়টি জানালে, তার মা বাদী হয়ে ২১ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে ফরিদপুর কোতোয়ালী থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।

​পুলিশ মামলাটি দীর্ঘ তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট জমা দেয়। বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ ও দীর্ঘ শুনানি শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় প্রদান করেন।

​রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, “আইনের শাসনের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়াতে এই রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আদালতের এ ধরনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ফলে সমাজে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে এবং অপরাধীদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি হবে।”