খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে ৭ দফা দাবিতে দলিল লেখক সমিতির স্মারকলিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৫:১২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ৭ দফা দাবিতে দলিল লেখক সমিতির স্মারকলিপি

দলিল লেখকদের পেশাগত অধিকার ও মর্যাদা রক্ষাসহ ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতি ফরিদপুর জেলা শাখা। জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এ স্মারকলিপি হস্তান্তর করা হয়।

​মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে সংগঠনের জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ আনুষ্ঠানিকভাবে এ স্মারকলিপি জমা দেন।

​স্মারকলিপি প্রদানকালে বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতি ফরিদপুর জেলা শাখার সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলামসহ জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

​স্মারকলিপিতে উল্লেখিত ৭ দফা দাবিগুলোর মধ্যে প্রধান দাবিগুলো হলো—

পেশাগত সুরক্ষা: দলিল রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি আধুনিকায়নের নামে দলিল লেখকদের পেশাচ্যুত না করা এবং পক্ষগণের সরবরাহকৃত কাগজপত্রের ভিত্তিতে দলিল প্রস্তুত করার কারণে দায়িত্ব পালনরত লেখকদের কোনো মামলায় আসামি না করা।

সম্মানী ও একচ্ছত্র অধিকার: প্রতিটি দলিলের বিপরীতে ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা বাস্তবায়ন করা এবং লাইসেন্সপ্রাপ্ত দলিল লেখক ছাড়া অন্য কাউকে দলিলের মুসাবিদা ও রেজিস্ট্রেশনের জন্য দাখিলের সুযোগ না দেওয়া।

লাইসেন্স ও নিয়ন্ত্রণ: জেলা, থানা ও কেন্দ্রীয় কমিটির সুপারিশ ছাড়া অনভিজ্ঞ কাউকে নতুন লাইসেন্স প্রদান না করা এবং দলিল লেখক কাউন্সিল গঠনের অনুমতি প্রদান।

অবকাঠামোগত সুবিধা: থানা ও জেলা কার্যালয়ে সরকারি খরচে দলিল লেখকদের বসার স্থান ও নামাজের ঘর নির্মাণ করা।

​এ সময় ফরিদপুর জেলা শাখার সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে দলিল লেখকেরা সাধারণ মানুষের জমি-জমা সংক্রান্ত অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ সেবা দিয়ে আসছেন। কিন্তু বর্তমানে তাদের পেশাগত অধিকার, নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা ঝুঁকির মুখে। সরকারের কাছে আমাদের জোর দাবি, এই যৌক্তিক দাবিগুলো অবিলম্বে মেনে নেওয়া হোক।”

​তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতির চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো. এ রশিদ এবং মহাসচিব কে. এস. হোসেন টমাসের নেতৃত্বে সারা দেশের দলিল লেখকেরা আজ এক ছাতার নিচে ঐক্যবদ্ধ। সরকার দ্রুত এসব দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ফরিদপুরে ভোজ্যতেলে অনিরাপদ ড্রাম বন্ধের তাগিদ, কম বয়সে বাড়ছে হৃদ্‌রোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৮:১৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ভোজ্যতেলে অনিরাপদ ড্রাম বন্ধের তাগিদ, কম বয়সে বাড়ছে হৃদ্‌রোগ

ভোজ্যতেল ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন ও সংরক্ষণে অনিরাপদ ড্রামের ব্যবহার বন্ধ করার লক্ষ্যে ফরিদপুরে এক এডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ এবং অনিরাপদ উপায়ে ভোজ্যতেল সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের কারণে জনস্বাস্থ্যের সম্ভাব্য ঝুঁকি কমাতে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, চিকিৎসক, শিক্ষাবিদ ও গণমাধ্যমকর্মীদের সমন্বিত ভূমিকার ওপর জোর দেওয়া হয় সভায়।

​বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ফরিদপুর পৌরসভার সভাকক্ষে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

​ফরিদপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. ইলিয়াছুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং ক্যাব ফরিদপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নাজমুল আলম পারভেজের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম।

​মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ও সাবেক সচিব এ.এইচ.এম. সফিকুজ্জামান।

​বিশেষ অতিথি ছিলেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী, সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মুশতাক হাসান মুহ. ইফতিখার এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী।

​সভায় শিক্ষাবিদদের মধ্যে বক্তব্য ও উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এম এ হালিম, সরকারি সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল্লাহ্ আল মাতিন, সরকারি ইয়াসিন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর নিখিল চন্দ্র বিশ্বাস এবং ফরিদপুর মুসলিম মিশন কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ্ আল মামুন উপস্থিত ছিলেন।

​এছাড়া ফরিদপুর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাই জকি, দৈনিক প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক প্রবীর কান্তি বালা, ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন পিয়ালসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, চিকিৎসক, আইনজীবী, সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা অংশ নেন।

​সভায় বক্তারা বলেন, ভোজ্যতেল পরিবহন ও সংরক্ষণে অনিরাপদ ড্রামের ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। একদিনে এ ড্রামের ব্যবহার বন্ধ করা সম্ভব না হলেও পর্যায়ক্রমে তা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

​বক্তারা আরও জানান, নিম্নমানের ও ভেজাল খাদ্য, বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত পোড়া তেলে তৈরি খাবার হৃদ্‌রোগসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে তুলনামূলক কম বয়সেও মানুষ হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এটি রোধে খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

​মুক্ত আলোচনায় চিকিৎসক, আইনজীবী, বিএসটিআই কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা বাজার তদারকি বৃদ্ধি, সচেতনতা সৃষ্টি এবং প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দেন।

​সভায় ক্যাব ফরিদপুর জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক তারেক আইয়ুব খাঁন, সহ-সভাপতি আশরাফুজ্জামান দুলাল ও এস এম মনিরুজ্জামান, কোষাধ্যক্ষ রবিউল হাসান রাজীবসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

​সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি মো. ইলিয়াছুর রহমান নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে সভা শেষ করেন।

ফরিদপুরে সাংবাদিকের হস্তক্ষেপে রক্ষা পেল অর্ধশতাধিক ঘুঘু, উড়ল মুক্ত আকাশে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সাংবাদিকের হস্তক্ষেপে রক্ষা পেল অর্ধশতাধিক ঘুঘু, উড়ল মুক্ত আকাশে

প্রকৃতির অন্যতম বন্ধু ও অনিন্দ্য সুন্দর নানা প্রজাতির পাখি নির্বিচারে নিধন করে চলেছে একদল শিকারি। নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল দিয়ে প্রতিদিন ঘুঘুর মতো বহু পাখিকে ধরে বিক্রি করা হচ্ছে স্থানীয় বাজারে। তবে এবার এক সাংবাদিকের সময়োচিত হস্তক্ষেপে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে প্রায় অর্ধশত ঘুঘু পাখি।

​বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের মমিন খার হাটে ঘটনাটি ঘটে।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের দুর্গম ধোলাই চরে দীর্ঘদিন ধরে একদল শিকারি নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল পেতে বন্য পাখি শিকার করে আসছিল। পদ্মার দুর্গম চর হওয়ায় প্রশাসন ও স্থানীয়দের চোখ এড়িয়েই তারা নিয়মিত এসব পাখি আশপাশের হাটে বিক্রি করছিল।

​বুধবার দুপুরে মাসুদ নামের ষাটোর্ধ্ব এক শিকারি মমিন খার হাটে প্রায় ৬০টি ঘুঘু পাখি বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন। প্রতি জোড়া ১০০ টাকা দরে বেশ কয়েকটি পাখি বিক্রির পর বিষয়টি নজরে আসে দৈনিক কালবেলা ও ঢাকা মেইল-এর ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক মেহেদী সোহেলের।

​তিনি ঘটনার ভিডিও ধারণ শুরু করলে এবং বন্যপ্রাণী ও পাখি শিকার সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রশ্ন করতে থাকলে শিকারি মাসুদ কোনোপায় না দেখে খাঁচাবন্দি প্রায় অর্ধশত ঘুঘু পাখি ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। খাঁচা মুক্ত হয়ে মুহূর্তেই পাখিগুলো চরের মুক্ত আকাশে উড়ে যায়।

​এ বিষয়ে ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া জানান, পাখি ও বন্যপ্রাণী শিকার করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

​তিনি বলেন, “সচেতন নাগরিকরা এ ধরনের শিকারিদের শনাক্ত করে প্রশাসনকে খবর দিলে দ্রুত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া চায়না দুয়ারী জাল দিয়ে মাছ ও পাখি শিকারের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ফরিদপুরে পাটের আঁশ ছাড়াতে ব্যস্ত কৃষক-কৃষাণী, ভালো ফলনের আশা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৩১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে পাটের আঁশ ছাড়াতে ব্যস্ত কৃষক-কৃষাণী, ভালো ফলনের আশা

ফরিদপুরে বর্ষার মৌসুমে পাট কাটা ও জাগ দেওয়ার পর এখন আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক-কৃষাণীরা। জেলার বিভিন্ন উপজেলার মাঠ, বিল, নদী, খাল, ডোবা ও জলাশয়ে ভোর থেকে বিকেল পর্যন্ত পাটের আঁশ ছাড়াতে দেখা যাচ্ছে নারী-পুরুষকে। পরিবারভিত্তিকভাবে পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজে অংশ নেওয়ায় গ্রামীণ জনপদে এখন কর্মব্যস্ততার দৃশ্য চোখে পড়ছে।

সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কৃষকরা পাট গাছ কেটে পানিতে জাগ দেওয়ার পর সেগুলো তুলে আঁশ ছাড়াচ্ছেন। কেউ পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে আঁশ ছাড়াচ্ছেন, আবার কেউ পাটের আঁশ ধুয়ে রোদে শুকানোর জন্য বাঁশের খুঁটিতে বাঁধা আড় ও খোলা স্থানে বিছিয়ে দিচ্ছেন। কৃষকদের সঙ্গে নারীরাও সমানতালে এ কাজে অংশ নিচ্ছেন।

সালথা উপজেলার কৃষক আরফিন মাতুব্বর বলেন, “এ বছর পাটের ফলন মোটামুটি ভালো হয়েছে। সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় পাট গাছের বৃদ্ধি ভালো হয়েছে। এখন আঁশ ছাড়ানোর কাজে পরিবারের সবাই ব্যস্ত। ভালো দাম পেলে পাট চাষে খরচ উঠে লাভও থাকবে।”

নগরকান্দা উপজেলার কৃষক মতি খাঁ বলেন, “পাট চাষ করতে শ্রম ও খরচ দুটোই বেশি লাগে। তবে ভালো ফলন হলে কৃষকের মুখে হাসি ফোটে। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো উন্নতমানের আঁশ তৈরি করা। এজন্য পাট ভালোভাবে জাগ দেওয়া ও পরিষ্কার পানিতে আঁশ োছাড়ানো দরকার।”

বোয়ালমারী উপজেলার কৃষক কালাম শেখ বলেন, “পাটের আঁশ ছাড়ানোর সময় এখন ব্যস্ততা সবচেয়ে বেশি। শ্রমিক সংকট থাকায় পরিবারের সদস্যদের নিয়েই কাজ করতে হচ্ছে। পাটের দাম ভালো থাকলে আগামী মৌসুমেও বেশি জমিতে পাট চাষের আগ্রহ থাকবে।”

ভাঙ্গা উপজেলার কৃষাণী বিলকিস বেগম বলেন, “পাটের কাজ শুধু পুরুষরা করেন না, নারীরাও মাঠে ও বাড়িতে অনেক কাজ করেন। পাটের আঁশ ছাড়ানো, ধোয়া ও শুকানোর কাজে আমরা অংশ নিই। এতে পরিবারের বাড়তি শ্রমিকের প্রয়োজন কমে।”

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাট কাটার পর সঠিকভাবে জাগ দেওয়া এবং সময়মতো আঁশ ছাড়ানো হলে আঁশের গুণগতমান ভালো হয়। উন্নতমানের পাট বাজারে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে অনেক এলাকায় পর্যাপ্ত পানির অভাবে কৃষকদের পাট জাগ দেওয়া ও আঁশ ছাড়াতে কিছুটা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

ফরিদপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. শাহাদুজ্জামান ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, চলতি মৌসুমে জেলায় পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৭ হাজার ৩২৮ হেক্টর। কিন্তু কৃষকদের আগ্রহে ৮৭ হাজার ৪০২ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি।

তিনি বলেন, “এ বছর আবহাওয়া পাট চাষের জন্য অনুকূলে ছিল। ফলে পাটের ফলনও ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন, যাতে উন্নতমানের পাট উৎপাদন নিশ্চিত করা যায়।”

তিনি আরও বলেন, কৃষকদের পাটের আঁশ ছাড়ানোর ক্ষেত্রে পরিষ্কার পানি ব্যবহার, সঠিক সময়ে পাট কাটা এবং যথাযথভাবে শুকানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এতে পাটের মান ভালো থাকবে এবং বাজারে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সুযোগ বাড়বে।

গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এই অর্থকরী ফসলকে ঘিরে এখন ফরিদপুরের কৃষক পরিবারগুলোতে চলছে ব্যস্ততা। মাঠ থেকে জলাশয়—সবখানেই পাটের আঁশ ছাড়ানোর কর্মযজ্ঞে মুখর হয়ে উঠেছে গ্রামীণ জনপদ।