খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে ইজিবাইক চালক হত্যায় দুইজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৪:২০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ইজিবাইক চালক হত্যায় দুইজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ফরিদপুরে ইজিবাইক চালক কিশোর মো. নাঈম শেখ (১৫)-কে শ্বাসরোধ করে হত্যা, মরদেহ মাটি চাপা দিয়ে ইজিবাইক ছিনতাইয়ের ঘটনায় দুই যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া অপর একটি ধারায় তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের রায় দেওয়া হয়। তবে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী দুটি সাজা একসঙ্গেই কার্যকর হবে, ফলে তাদের যাবজ্জীবন সাজাই কার্যকর থাকবে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে ফরিদপুরের জেলা ও দায়রা জজ (পারিবারিক আপিল আদালতের বিচারক) অশোক কুমার দত্ত এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশ পাহারায় তাদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, ফরিদপুর সদর উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের লোকমানখার ডাঙ্গী গ্রামের আছমত শেখ (২৩) ও সাগর মোল্লা (৩২)। নিহত নাঈম শেখ একই ইউনিয়নের গোয়ালের টিলা গ্রামের বাসিন্দা মো. সামসু শেখের ছেলে।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২১ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে নাঈম তার ইজিবাইক নিয়ে যাত্রী পরিবহনের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। সারাদিন পার হলেও তিনি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। ফোনটি বন্ধ পাওয়ায় বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু হলেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি।

পরদিন ২২ এপ্রিল ভোরে লোকমানখার ডাঙ্গী এলাকায় চোরাই ইজিবাইকসহ আছমত ও সাগরকে আটক করে পুলিশ। পরে উদ্ধার হওয়া ইজিবাইকটি নাঈমের বলে শনাক্ত হয়।জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা নাঈমকে শ্বাসরোধ করে হত্যা এবং মরদেহ নিজেদের বাড়ির পাশের একটি স্থানে মাটি চাপা দেওয়ার কথা স্বীকার করে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ মাটিচাপা দেওয়া মরদেহ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় ওইদিন বিকেলে নিহতের বড় ভাই মো. রাশেদ শেখ বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় আছমত শেখ, সাগর মোল্লা এবং ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করলে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত এ রায় দেন।

সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) শাহ মো. আজিজুর রহমান বলেন, “আদালতের রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। দুটি সাজা একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় দণ্ডপ্রাপ্তদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডই ভোগ করতে হবে। মামলার অপর আসামি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার বিচার শিশু আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।”

ফরিদপুরে কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের মিলনমেলা, ‘আগমনী বার্তা’র ১ লাখ ফলোয়ার উদযাপন

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ১০:১১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের মিলনমেলা, ‘আগমনী বার্তা’র ১ লাখ ফলোয়ার উদযাপন

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার জনপ্রিয় ফেসবুকভিত্তিক সংবাদ ও তথ্যভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ‘আগমনী বার্তা’ এক লাখ ফলোয়ারের মাইলফলক স্পর্শ করায় পেজটির প্রতিষ্ঠাতা ও এডমিন সোহাগ মাতুব্বরকে সংবর্ধনা দিয়েছেন উপজেলার কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভাঙ্গায় জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন কন্টেন্ট ক্রিয়েটর, সামাজিক ব্যক্তিত্ব ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানটি ছিল উৎসবমুখর ও প্রাণবন্ত।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিলেন জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর রাফেজ মাহমুদ, সোহেল রানা, তুহিন মুন্সী, সাগর মাহমুদ ও রাসেল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নূরুল ইসলাম, রেজাউল শেখ, সোহাগ মোল্লা, জিয়া শিকদার, ফারুক তালুকদার, হারুন-অর-রশীদ তালুকদার, সুমন মোল্লাসহ উপজেলার বিভিন্ন কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং তথ্যপ্রচার, জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাই দায়িত্বশীল, তথ্যভিত্তিক ও মানসম্মত কন্টেন্ট তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের সৃজনশীলতা বিকাশ এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে সমাজকল্যাণে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।

সংবর্ধনা গ্রহণকালে ‘আগমনী বার্তা’ পেজের প্রতিষ্ঠাতা ও এডমিন সোহাগ মাতুব্বর বলেন, “এক লাখ ফলোয়ার অর্জন আমার একার সাফল্য নয়। এটি আমার সকল দর্শক, ফলোয়ার, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং সহকর্মীদের ভালোবাসা ও আস্থার ফল। ভবিষ্যতেও ভাঙ্গার মানুষের কথা, স্থানীয় সমস্যা, সম্ভাবনা এবং ইতিবাচক সংবাদ তুলে ধরতে নিরলসভাবে কাজ করে যাব।”

তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায়িত্বশীল কন্টেন্ট তৈরির মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেওয়াই তাঁর মূল লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানের শেষে সংবর্ধনা স্মারক প্রদান, কেক কাটা, শুভেচ্ছা বিনিময় এবং মধ্যাহ্নভোজের মধ্য দিয়ে আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। স্থানীয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও ইতিবাচক প্রতিযোগিতার মনোভাব গড়ে তুলতেও এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন উপস্থিত অতিথিরা।

দোয়া চেয়ে নতুন আন্তর্জাতিক সফরে মাওলানা এমএ করিম ইবনে মছব্বির

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৮:৫৭ অপরাহ্ণ
দোয়া চেয়ে নতুন আন্তর্জাতিক সফরে মাওলানা এমএ করিম ইবনে মছব্বির

আন্তর্জাতিক ইসলামি ব্যক্তিত্ব মাওলানা এমএ করিম ইবনে মছব্বির দীর্ঘ কয়েক মাসের সফর শেষে এবার নতুন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছেন।

তিনি জার্মানির ফ্রাঙ্কফুট থেকে লুফথানসা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে উজবেকিস্তানের বুখারা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। উজবেকিস্তানে পৌঁছানোর পর, তিনি পবিত্র বুখারী শরীফের রচয়িতা হযরত ইমাম বুখারী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সমরকন্দে গমন করবেন। উজবেকিস্তানে তিন দিন অবস্থান করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।

​উজবেকিস্তান সফর শেষে তিনি ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায় যাত্রা করবেন। এই সফরের একটি অত্যন্ত আবেগপূর্ণ ও বিশেষ উদ্দেশ্য রয়েছে—ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী এবং শান্তিতে নোবেল বিজয়ী আবি আহমেদের পিতা, মরহুম আলী আহমেদের কবর জিয়ারত করা।

উল্লেখ্য, মাওলানা এমএ করিম ইবনে মছব্বিরের জীবনে মরহুম আলী আহমেদের অবদান অপরিসীম; তিনি এক সময় নিজের জীবন বাজি রেখে মাওলানা করিম ইবনে মছব্বিরের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপকার করেছিলেন। এই কৃতজ্ঞতা থেকেই তিনি মরহুমের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে যাচ্ছেন।

​মাওলানা এমএ করিম ইবনে মছব্বির এই গুরুত্বপূর্ণ সফরের জন্য আপনাদের কাছে দোয়া প্রার্থনা করছি।

সদরপুরে খুঁটি থেকে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়ে প্রাণ গেল যুবকের

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৭:২৩ অপরাহ্ণ
সদরপুরে খুঁটি থেকে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়ে প্রাণ গেল যুবকের

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে তার ছিঁড়ে পড়ে মিলন মাতুব্বর (২৭) নামে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে আরও তিনজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ঠ হয়ে আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের পূর্ব শৌলডুবী গ্রামে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।

নিহত মিলন মাতুব্বর ওই গ্রামের আব্দুর রব মাতুব্বরের ছেলে। আহতরা হলেন মিলনের ভাই মিঠু মাতুব্বর (৩০), মিঠুর স্ত্রী হেনা বেগম (২৪) এবং প্রতিবেশী ওবায়দুর শেখ (৩০)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রামের প্রধান বিদ্যুত লাইনের একটি তার ছিঁড়ে পাশের একটি গোয়ালঘরের ওপর পড়ে। এতে গোয়ালঘর থেকে কাপড় শুকানো জন্য ব্যবহার করা জিই তারের (ধাতব তার) মাধ্যমে তিনটি বসতঘরসহ তিনটি ঘরে বিদ্যুত ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় গোসল শেষে ভেজা কাপড় শুকাতে বাড়ির উঠানে টানানো জিআই তারে কাপড় মেলতে গেলে মিলন মাতুব্বর বিদ্যুৎস্পৃষ্ঠ হন।

তার চিৎকার শুনে তার ভাই মিঠু মাতুব্বর উদ্ধার করতে এগিয়ে এলে একে একে হেনা বেগম ও ওবায়দুর শেখও বিদ্যুৎস্পৃষ্ঠ হয়ে আহত হন। পরে স্থানীয়রা সদরপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে খবর দিলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এরপর চারজনকে উদ্ধার করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মিলন মাতুব্বরকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত তিনজনের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়ার পাশাপাশি ক্ষোভেরও সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কোন ঝড় বৃষ্টি ছাড়াই একা একা কিভাবে বিদ্যুতের তার ছিড়ে পরে?, ত্রুটিপূর্ণ বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার কারণেই এ প্রণহানির ঘটনা ঘটেছে। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, একজনের মৃত্যু ও তিনজন আহত হওয়ার দায় কি পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ নেবে?

এলাকাবাসী ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, নিহতের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ এবং আহতদের চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সদরপুর পল্লী বিদ্যুত সমিতির সহকারী জেনারেল ম্যানেজার মো. শহিদুল ইসলামের সাথে কথা বলতে তার অফিসে গেলে অফিস বন্ধ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে একাধিক বার তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি কল রিসিভি করেননি।

সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন শাহ্ জানান, ঘটনাস্থলে আমাদের ফোর্স পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন এবং লাশ পুলিশ হেফাজতে নেন। তিনি জানায়, ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।