বিদ্যুতের দুর্ভোগ ঘোচাতে ৩৮ শতক জমি দান করলেন শিল্পোদ্যোক্তা আতাউর রহমান
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় দীর্ঘদিনের তীব্র বিদ্যুৎ সমস্যার টেকসই সমাধানে এক অনন্য ও প্রশংসনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন পারফেক্ট গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রতিষ্ঠাতা মো. আতাউর রহমান। এলাকার জনকল্যাণ ও সামাজিক চাহিদার কথা চিন্তা করে স্থানীয় একটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র (স্টেশন) নির্মাণের জন্য তিনি নিজ মালিকানাধীন ৩৮ শতক জমি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দান করেছেন।
মো. আতাউর রহমান পার্শ্ববর্তী সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের কিত্তা গ্রামের সন্তান এবং বিশিষ্ট সমাজসেবক হাজী আব্দুর রহমানের পুত্র।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বোয়ালমারী উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের হাসামদিয়া, কোন্দারদিয়া, নাগদী, আমড়দী, নতিবদিয়াসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। বিশেষ করে প্রতিনিয়ত লো ভোল্টেজ এবং ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে স্থানীয় কৃষি সেচ, পোল্ট্রি শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য ও খুদে শিল্প কারখানাগুলোতে স্থবিরতা নেমে এসেছে। একই সাথে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাতেও মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে।
এলাকাবাসীর এই চরম দুর্ভোগ কাটাতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সম্পদ বিভাগের উদ্যোগে হাসামদিয়া গ্রামে একটি নতুন বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কিন্তু প্রকল্পের জন্য উপযুক্ত জমি প্রাপ্তি নিয়ে জটিলতা দেখা দিলে উদ্যোক্তা আতাউর রহমান নিজের ৩৮ শতক মূল্যবান জমি জনস্বার্থে দান করার ঘোষণা দেন। তাঁর এই বদান্যতায় বিদ্যুৎ স্টেশনটি গড়ে ওঠার প্রক্রিয়া দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে।
আতাউর রহমানের এই উদ্যোগকে স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন সমাজ সাধুবাদ জানিয়েছে। বিভাগদী শহীদস্মৃতি মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও স্থানীয় ব্যক্তিত্ব মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, “এই অঞ্চলে বিদ্যুৎ স্টেশনটি বাস্তবায়িত হলে নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত হবে। এতে শুধু কৃষি বা ব্যবসা-বাণিজ্য নয়, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। জনস্বার্থে ব্যক্তিগত সম্পত্তি দানের এই মহান মানসিকতা সমাজকে এক ইতিবাচক বার্তা দেয়।”
নিজের এই উদ্যোগ সম্পর্কে পারফেক্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আতাউর রহমান বলেন, “আমি সবসময় নিজের এলাকার মানুষের উন্নয়নকে প্রাধান্য দেই। হাসামদিয়াসহ আশপাশের এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের বিদ্যুতের কষ্ট আমাকে ব্যথিত করত। নতুন বিদ্যুৎ স্টেশন হলে পুরো এলাকার চিত্র বদলে যাবে—এই ভেবেই জমিটি দান করেছি। ভবিষ্যতে সমাজের যেকোনো ইতিবাচক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সাধ্যমতো পাশে থাকার চেষ্টা করব।”
বর্তমানে জমি সংক্রান্ত প্রাথমিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় দ্রুততম সময়ে বিদ্যুৎ স্টেশনটির নির্মাণকাজ শেষ করে এটি চালু করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, এ উদ্যোগটি শুধু একটি জমি দান নয়, এটি নিজ অঞ্চলের প্রতি গভীর দায়বদ্ধতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

আপনার মতামত লিখুন
Array