খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৯ মাঘ, ১৪৩২

ফরিদপুর-২ আসনে রিকশা মার্কার এজেন্টদের দেওয়া হচ্ছে প্রাণনাশের হুমকি, কেন্দ্র দখলের আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৪১ পিএম
ফরিদপুর-২ আসনে রিকশা মার্কার এজেন্টদের দেওয়া হচ্ছে প্রাণনাশের হুমকি, কেন্দ্র দখলের আশঙ্কা

ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনে ভোটের আগের রাতে কেন্দ্র দখল, এজেন্টদের ওপর হামলা ও বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ তুলে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেছেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী শাহ মো. আকরাম আলী। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, তার রিকশা মার্কার কেন্দ্র এজেন্টদের লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করতে না পারেন।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮ টার দিকে সালথা উপজেলা সদর বাজার এলাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন তিনি। লিখিত বক্তব্যে শাহ মো. আকরাম আলী বলেন, “আমাদের কেন্দ্র এজেন্টদের বলা হচ্ছে—যদি তারা ভোটকেন্দ্রে যায়, তাহলে তাদের বাড়িঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হবে। নির্বাচনের পর এলাকায় থাকতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষের কিছু লোকজন প্রকাশ্যে কেন্দ্র দখলের পরিকল্পনার কথা বলছে। “ধানের শীষ ছাড়া অন্য কোনো প্রার্থীর এজেন্ট কেন্দ্রে থাকলে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হবে—এমন কথাও শোনা যাচ্ছে,” বলেন তিনি। এতে করে তার সমর্থক ও এজেন্টদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বলে দাবি করেন প্রার্থী।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন তার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মুফতি মুস্তাফিজুর রহমান। তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত কয়েকদিন ধরে রিকশা মার্কার কর্মী-সমর্থকদের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। “কিছু এলাকায় আমাদের কর্মীদের বাড়িতে গিয়ে ভয় দেখানো হয়েছে। পোস্টার ছেঁড়া, মাইকিংয়ে বাধা এবং রাতের আঁধারে হুমকি দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে,” দাবি করেন তিনি।

মুফতি মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ না হলে ভোটারদের মধ্যে আস্থাহীনতা তৈরি হবে। তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ভোটের দিন প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করতে হবে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কোনো প্রার্থী বা এজেন্ট ভয়ভীতির শিকার না হন।”

শাহ মো. আকরাম আলী নির্বাচন কমিশন, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথাও জানান। তিনি বলেন, “আমরা চাই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন এবং কোনো পক্ষ যেন প্রভাব বিস্তার করতে না পারে।”

এদিকে স্থানীয় কয়েকজন ভোটার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এলাকায় নির্বাচনী উত্তেজনা বিরাজ করছে। তারা চান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থান নিক এবং সব প্রার্থীর সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হোক।

এ ব্যাপারে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে বলেন, ‘ এব্যাপারে এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানতে চাইলে এব্যাপারে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, ওই প্রার্থী এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ দেননি। এছাড়া উপজেলাটিতে তিন জন ম্যাজিস্ট্রেট রয়েছেন, যারা সার্বক্ষণিক নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের কাছেও কোনো অভিযোগ করেননি। যদি প্রার্থী লিখিত অভিযোগ দেন নির্বাচনী বিধিমালা অনুসারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, ফরিদপুর-২ আসনে এবারের নির্বাচনে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শামা ওবায়েদসহ একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনী প্রচারণার শেষ মুহূর্তে এসে উত্তেজনা বাড়লেও প্রশাসন দাবি করছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ, আনসার ও অন্যান্য বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ভোটের আগের রাতে এমন অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন কত দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেয় এবং ভোটের দিন পরিস্থিতি কতটা শান্তিপূর্ণ থাকে। ভোটারদের প্রত্যাশা—সব ভয়ভীতি উপেক্ষা করে যেন তারা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার নির্বিঘ্নে প্রয়োগ করতে পারেন।

জাল ভোট দিলে কী শাস্তি? জানুন নির্বাচনী আইন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:০৫ এএম
জাল ভোট দিলে কী শাস্তি? জানুন নির্বাচনী আইন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এসেছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এবারের নির্বাচনে একটি নয়, দিতে হবে দুটি ভোট। সংসদ সদস্য নির্বাচিত করার পাশাপাশি ভোটাররা দেবেন গণভোটও। নির্বাচনী ব্যালটে যেখানে বিভিন্ন দলের প্রতীক থাকে, সেখানে গণভোটে থাকবে দুটি অপশন। ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোটের মাধ্যমে ভোটাররা তাদের মত জানাবেন।

ভোট একজন নাগরিকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধিকার। একটি সিল বা বোতাম চাপার মাধ্যমেই নির্ধারিত হয় দেশের নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা। কিন্তু সেই ভোট যদি প্রকৃত ভোটারের পরিবর্তে অন্য কেউ দেয়, অথবা চাপ প্রয়োগ করে আদায় করা হয়, তখনই তা জালভোটে পরিণত হয়। বাংলাদেশের নির্বাচনকে ঘিরে এই বিষয়টি বহুবার আলোচনায় এসেছে, সৃষ্টি করেছে বিতর্ক এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

জালভোট কী?

জালভোট বলতে এমন ভোটকে বোঝায়, যা প্রকৃত ভোটার নিজে স্বেচ্ছায় দেননি। যেমন—কোনো ব্যক্তি অন্যের নাম ব্যবহার করে ভোট দিয়ে দেওয়া, ভোটার কেন্দ্রে উপস্থিত না থাকলেও তার নামে ব্যালট বা ইভিএমে ভোট পড়ে যাওয়া, ভয়ভীতি দেখিয়ে বা জোর করে নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিতে বাধ্য করা, কিংবা একজনের একাধিকবার ভোট দেওয়া। অর্থাৎ যেখানে ভোটারের স্বাধীন সিদ্ধান্ত থাকে না, সেখানেই জালভোটের ঘটনা ঘটে।

বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে জালভোটের অভিযোগ বিভিন্ন সময় সামনে এসেছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ভোটার কেন্দ্রে না গেলেও তার নামে ভোট পড়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে সকালবেলাতেই কিছু কেন্দ্রে ‘ভোট শেষ’ হওয়ার মতো অভিযোগ শোনা গেছে।

কিছু ক্ষেত্রে কোনো একটি পক্ষ ভোটকেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় বলে অভিযোগ ওঠে। তখন সাধারণ ভোটাররা কেন্দ্রে প্রবেশের সুযোগ পান না, তাদের আগেই বিপুলসংখ্যক ভোট দেওয়া হয়ে যায়। অনেক সময় হামলা, হুমকি বা সামাজিক চাপের কারণে ভোটাররা কেন্দ্রে যেতে ভয় পান। এতে প্রকৃত ভোটার অনুপস্থিত থাকায় জালভোট দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। এমনকি মৃত ব্যক্তির নামেও ভোট পড়ে যাওয়ার অভিযোগ বহুবার সামনে এসেছে। ভোটকেন্দ্রে বিরোধী দলের এজেন্ট বা নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক না থাকলে এ ধরনের অভিযোগ আরও বাড়ে।

স্বাধীনতার পর থেকে দেশে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে জালভোটের অভিযোগ শোনা গেছে। বিশেষ করে নব্বইয়ের দশকের পর নির্বাচন ঘিরে এ বিতর্ক আরও বেশি আলোচনায় আসে। কোথাও ভোটার উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, আবার কোথাও ভোট শুরুর আগেই অধিকাংশ ভোট পড়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনা শুধু রাজনৈতিক অঙ্গনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, সাধারণ মানুষের মধ্যেও নির্বাচন নিয়ে অনাস্থা তৈরি করেছে।

জালভোট হলে তার প্রভাব পড়ে শুধু নির্বাচনে নয়, ব্যক্তি থেকে শুরু করে সমাজ ও রাষ্ট্রের সব স্তরে। এটি কেবল একটি অনিয়ম নয়, বরং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর সরাসরি আঘাত। প্রকৃত ভোটের প্রতিফলন না ঘটলে গণতন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ে, মানুষের শাসনের ধারণা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ভোটারদের আগ্রহ কমে যায়, কারণ আস্থা হারালে মানুষ ভোট দিতে অনীহা দেখায়। পাশাপাশি জালভোটের অভিযোগ ঘিরে সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনাও বাড়তে পারে। এতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও মানুষের বিশ্বাস কমে যায়।

জালভোট ঠেকাতে দেশে বিভিন্ন সময়ে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভুয়া ভোটার শনাক্তে ছবি ও তথ্যসম্বলিত ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। একাধিকবার ভোট দেওয়া কঠিন করতে কাগজের ব্যালটের পাশাপাশি ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) চালু করা হয়েছে।

জালভোট দেওয়ার আইন ও শাস্তি সম্পর্কে জানেন কি?

নির্বাচনী আইনে জালভোটকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ধরা হয়েছে। তবে সমালোচকদের মতে, শুধু আইন বা প্রযুক্তি থাকলেই সমস্যার সমাধান হয় না; বড় চ্যালেঞ্জ হলো সেগুলোর কার্যকর প্রয়োগ এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২–এর ৭৩ থেকে ৮৭ ধারায় ভোটকেন্দ্র এলাকায় সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধ ও তার শাস্তির বিধান উল্লেখ রয়েছে।

নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, ভোটকেন্দ্রে বেআইনি আচরণ বা অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। এছাড়া অনধিকার প্রবেশের অপরাধে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। ভোটের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট অপরাধের ধরন বিবেচনা করে শাস্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ এর ৭৪ অনুচ্ছেদে বলা আছে, (১) যদি কোনো ব্যক্তি কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নির্বাচনে সুবিধা প্রদান বা বাধাগ্রস্ত করিবার উদ্দেশ্যে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তির সাহায্য গ্রহণ বা প্ররোচিত করেন বা সাহায্য গ্রহণ বা প্ররোচিত করার চেষ্টা করেন।

(২) ভোট দেওয়ার যোগ্য নন বা অযোগ্য জানা সত্ত্বেও কোনো নির্বাচনে ভোট প্রদান করেন বা ভোট প্রদানের জন্য ব্যালট পেপার চান।

(৩) একই ভোটকেন্দ্রে একাধিকবার ভোট প্রদান করেন বা ভোট প্রদানের জন্য ব্যালট পেপার চান।

(৪) একই নির্বাচনে একাধিক ভোট কেন্দ্রে ভোট প্রদান করেন বা ভোট প্রদানের জন্য ব্যালট পেপার চান। (৫) ভোট চলাকালে কোনো ভোটকেন্দ্র হতে ব্যালট পেপার সরিয়ে ফেলেন।

অথবা (৬) জ্ঞাতসারে এসব কাজ করার জন্য কোনো ব্যক্তিকে প্ররোচিত করেন বা তার সাহায্য চান-তাহলে তিনি বেআইনি কাজের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হবেন এবং তিনি সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডে ও অর্থদন্ডে দণ্ডিত হবেন।

ভোটার হিসেবে ব্যক্তিগত দায়িত্বও কম নয়। জালভোট ঠেকাতে শুধু রাষ্ট্র বা নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়; ভোটারদেরও সচেতন হতে হবে। নিয়ম মেনে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়া, কোনো অনিয়ম দেখলে তা নিয়ে প্রতিবাদ করা এবং নিজের ভোটাধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকা—এসব বিষয় সমানভাবে জরুরি।

জালভোট কেবল ভোট কারচুপি নয়, এটি মানুষের কণ্ঠস্বর কেড়ে নেওয়ার মতো ঘটনা। বাংলাদেশের মতো জনবহুল ও রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা শুধু সাংবিধানিক দায়িত্ব নয়, গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখার অন্যতম শর্ত। জালভোটের অভিযোগ যতদিন থাকবে, ততদিন নির্বাচনের ফলাফল নিয়েও প্রশ্ন থেকে যাবে—এটি কি সত্যিই জনগণের রায়, নাকি ক্ষমতার প্রভাব?

ভোটকেন্দ্রে আচরণবিধি: যা আপনার মানতেই হবে?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২:৫৫ এএম
ভোটকেন্দ্রে আচরণবিধি: যা আপনার মানতেই হবে?

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এসেছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এবারের নির্বাচনে একটি নয়, দিতে হবে দুটি ভোট। সংসদ সদস্য নির্বাচিত করার পাশাপাশি ভোটাররা দেবেন গণভোটও। নির্বাচনী ব্যালটে যেখানে বিভিন্ন দলের প্রতীক থাকে, সেখানে গণভোটে থাকবে দুটি অপশন। ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোটের মাধ্যমে ভোটাররা তাদের মত জানাবেন।

এবারের নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন ভোটার। ইসির তথ্য অনুযায়ী, মোট ভোটারের মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫৪ জন, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২২০ জন।

ভোটের দিন প্রার্থী, পোলিং এজেন্টসহ সংশ্লিষ্ট সবার জন্যই কিছু বিধিনিষেধ থাকবে। ভোটাররাও এর বাইরে নন। ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের পর তাদের করণীয় এবং যেসব কাজ করা যাবে না, সেগুলো হলো—

১. ভোটারদের সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে নির্ধারিত কেন্দ্রে উপস্থিত হতে হবে। বিকেল ৪টার আগে লাইনে দাঁড়াতে পারলে সময় শেষ হলেও ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকবে।

২. কেন্দ্রের ভেতরে পার্স ছাড়া অন্য কোনো ব্যাগ নেওয়া যাবে না।

৩. মোবাইল ফোন সঙ্গে নেওয়া যাবে এবং ছবি তোলাও সম্ভব, তবে গোপন কক্ষে (মার্কিং প্লেসে) মোবাইল ব্যবহার করা যাবে না।

৪. যে কোনো পোশাক পরে ভোট দিতে যাওয়া যাবে। তবে কেউ নেকাব পরলে পোলিং এজেন্টের অনুরোধে একবারের জন্য তা খুলে পরিচয় নিশ্চিত করতে হতে পারে।

৫. কোনো ধরনের দাহ্য পদার্থ বা অস্ত্র নিয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

৬. এনআইডি সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক নয়, তবে থাকলে পরিচয় নিশ্চিত করা সহজ হবে।

৭. ভোটারের নাম ও ক্রমিক নম্বর মিলিয়ে পোলিং অফিসার আঙুলে অমোচনীয় কালি দেবেন। এরপর প্রিসাইডিং বা পোলিং অফিসার দুটি ব্যালট পেপার দেবেন—একটি সংসদ নির্বাচনের জন্য, অন্যটি গণভোটের জন্য।

৮. ব্যালট পেপারের পেছনে অফিসিয়াল সিল ও প্রিসাইডিং অফিসারের স্বাক্ষর আছে কি না, তা অবশ্যই দেখে নিতে হবে। এরপর নির্ধারিত গোপন কক্ষে গিয়ে ভোট দিতে হবে।

৯. ভোটের গোপনীয়তা বজায় রাখতে এবং ভোট বাতিল এড়াতে ব্যালট সঠিকভাবে ভাঁজ করা জরুরি। পছন্দের প্রার্থীর প্রতীকের ওপর রাবার স্ট্যাম্প দিয়ে স্পষ্টভাবে সিল দিতে হবে।

১০. গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’—যেটি পছন্দ, আলাদা ব্যালটে সেটিতে সিল দিতে হবে। সিল দেওয়ার পর ব্যালট এমনভাবে ভাঁজ করতে হবে, যাতে কালি অন্য প্রতীকে না লাগে। সাধারণত লম্বালম্বি ভাঁজ করাই নিরাপদ। এরপর নির্ধারিত স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ব্যালট ফেলতে হবে। ভোট দেওয়া শেষ হলে দ্রুত কেন্দ্র ত্যাগ করতে হবে।

রমজানে ঘুমের সংকট: সুস্থ থাকতে মানুন চিকিৎসকের যে পরামর্শ?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২:৪৪ এএম
রমজানে ঘুমের সংকট: সুস্থ থাকতে মানুন চিকিৎসকের যে পরামর্শ?

শীতের সময়ে পড়ছে রমজান ২০২৬। ফলে অনেক অঞ্চলে রোজার সময় তুলনামূলক কম হওয়ায় শারীরিক দিক থেকে রোজা রাখা কিছুটা সহজ হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে চিকিৎসকদের মতে, একটি বড় সমস্যা প্রায়ই উপেক্ষিত থেকে যায়, তা হলো ঘুমের অনিয়ম ও ঘাটতি।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের মোহাম্মদ বিন জায়েদ সিটির এনএমসি রয়্যাল ফ্যামিলি মেডিকেল সেন্টারের ফ্যামিলি মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মাহেজাবিন মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ বলেন, রমজান মাসে অনেক রোগী ক্লান্তি, মাথাব্যথা, মনমরা ভাব এবং মনোযোগ কমে যাওয়ার অভিযোগ নিয়ে আসেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর মূল কারণ রোজা নয়, বরং অনিয়মিত ঘুম।

তার মতে, কিছু বাস্তবসম্মত অভ্যাস গড়ে তুললে পুরো মাসজুড়ে শক্তি ধরে রাখা এবং শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখা সম্ভব।

ধীরে ধীরে ঘুমের সময় বদলানোর পরামর্শ

রমজান শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হঠাৎ করে ঘুমের সময়সূচি বদলে ফেলতে নিষেধ করেছেন চিকিৎসকরা। ডা. মাহেজাবিন বলেন, মানুষের শরীর একটি স্বাভাবিক জৈবঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম অনুযায়ী চলে। হঠাৎ ঘুমের সময় বদলে গেলে ক্লান্তি, মনোযোগের ঘাটতি ও মেজাজের ওঠানামা দেখা দিতে পারে।

তিনি পরামর্শ দেন, রমজান শুরুর কয়েক দিন আগে থেকেই প্রতিদিন ১৫ থেকে ৩০ মিনিট করে ঘুম ও জাগরণের সময় এগিয়ে আনা উচিত। এতে শরীর স্বাভাবিকভাবেই সেহরির সময় জেগে ওঠার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে।

একটানা অন্তত ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা একই সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। দিনের বেলা প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত ঘুম বা ছোট বিরতি নেওয়া যেতে পারে, তবে রাতের এই মূল ঘুম শরীরের হরমোনের ভারসাম্য, বিপাকক্রিয়া ও শারীরিক পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে।

আলো, খাবার ও স্ক্রিন ব্যবহারের প্রভাব

ঘুমের মান ভালো রাখতে আলোও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সকালে উজ্জ্বল আলো শরীরকে সজাগ করে, আর রাতে কম আলো মেলাটোনিন নিঃসরণে সহায়তা করে, যা ঘুম আনতে সাহায্য করে।

ভারী খাবার, গভীর রাত পর্যন্ত মোবাইল বা স্ক্রিন ব্যবহার এবং ঘুমের আগে অতিরিক্ত উত্তেজনামূলক কাজ কমিয়ে দিলে ঘুমের মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, ঘুম ভেঙে ভেঙে হলেও একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মোট ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন।

ঘুমের অভাবে শরীর ও মনের ক্ষতি

আবুধাবির বুরজিল মেডিকেল সিটির পালমোনোলজি ও স্লিপ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. হুমাম শাকাকি বলেন, রমজানে অনেকেই খাবারের দিকে বেশি গুরুত্ব দেন, কিন্তু ঘুমকে অবহেলা করেন।

তার ভাষায়, ভালো খাবার খেলেও পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ক্লান্তি কাটে না। অনিয়মিত ঘুম শরীরের জৈবঘড়িকে বিভ্রান্ত করে, ফলে শক্তি, মেজাজ ও ক্ষুধার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

ঘুমের ঘাটতি থাকলে মনোযোগ কমে যায়, ধৈর্য কমে, বিরক্তি বাড়ে এবং মানসিক অবসাদও দেখা দিতে পারে। শারীরিকভাবে মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

কার্যকর ঘুমের রুটি

চিকিৎসকদের মতে, একটি কার্যকর রমজান রুটিন হতে পারে—তারাবির পর মূল ঘুম, সেহরির জন্য জাগা, প্রয়োজনে আবার কিছুক্ষণ ঘুম এবং দিনের বেলায় স্বল্প সময়ের ঘুম।

ডা. মাহেজাবিন বলেন, সঠিকভাবে নেওয়া হলে দিনের ছোট ঘুম মনোযোগ, মেজাজ ও শক্তি বাড়াতে সহায়তা করে। বিশেষ করে বিকেলের দিকে ২০ থেকে ৩০ মিনিটের ‘পাওয়ার ন্যাপ’ উপকারী। তবে সন্ধ্যার দিকে দীর্ঘ সময় ঘুমালে রাতে ঘুমাতে সমস্যা হতে পারে।

আগে থেকেই প্রস্তুতি নিন

ডা. শাকাকি পরামর্শ দেন, রমজানের কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই ঘুমের সময়সূচিতে ছোট ছোট পরিবর্তন আনা উচিত। এতে শরীর সহজে মানিয়ে নিতে পারে।

তার মতে, ঘুমের বিষয়ে সচেতন হলে রোজা রাখা সহজ মনে হয়, শক্তি স্থিতিশীল থাকে এবং মানুষ আধ্যাত্মিক ও সামাজিক দিকগুলোর দিকে বেশি মনোযোগ দিতে পারে।

ঘুমের ক্ষেত্রে যেসব ভুল এড়ানো জরুরি

চিকিৎসকদের মতে, রমজানে কিছু সাধারণ অভ্যাস ঘুমের বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়—

১. গভীর রাত পর্যন্ত আড্ডা দেওয়া বা মোবাইল স্ক্রল করা

২. ঘুমের আগে অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার, যা নীল আলোয়ের কারণে ঘুমের হরমোন কমিয়ে দেয়

৩. গভীর রাতে অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত বা ঝাল খাবার খাওয়া

৪. ঘুমের কাছাকাছি সময়ে ক্যাফেইন, নিকোটিন বা এনার্জি ড্রিংক গ্রহণ

এ ছাড়া ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র : গালফ নিউজ