খুঁজুন
সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন, ১৪৩২

সালথায় তরুণ উদ্যোক্তার হাত ধরে পাটশিল্পে ফিরছে পরিবেশবান্ধব স্বর্ণালি সুদিন

জাকির হোসেন, সালথা:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:৫৯ এএম
সালথায় তরুণ উদ্যোক্তার হাত ধরে পাটশিল্পে ফিরছে পরিবেশবান্ধব স্বর্ণালি সুদিন

বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ‘সোনালি আঁশ’ পাটকে নতুনভাবে কাজে লাগিয়ে সালথায় সৃষ্টি হচ্ছে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত। ফরিদপুরের সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের রঘুয়ার কান্দি গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা সোহেল পাটজাত পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে এলাকায় গড়ে তুলেছেন এক ব্যতিক্রমধর্মী পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় নিজের বাড়িতে স্থাপন করা দুটি আধুনিক পাটপণ্য তৈরির মেশিনের মাধ্যমে তিনি নিয়মিত উৎপাদন করছেন বিভিন্ন ধরনের পাটের ব্যাগ, শপিং ব্যাগ, অফিস ব্যাগ ও লোগো সংবলিত আকর্ষণীয় প্যাকেজিং ব্যাগ। বর্তমানে চাল, মুদি দোকান ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য লোগো সংবলিত বিভিন্ন সাইজের ব্যাগ তৈরি করে তিনি ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন।

উৎপাদিত এসব পণ্য সালথা বাজারে তার নিজস্ব দোকানে বিক্রি করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে আশপাশের বিভিন্ন উপজেলাতেও তার পণ্যের চাহিদা বাড়তে শুরু করেছে।

উদ্যোক্তা সোহেল বলেন, প্লাস্টিকের ক্ষতিকর ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি কর্মসংস্থান তৈরিই আমার মূল লক্ষ্য। শুরুটা ছোট হলেও স্বপ্ন অনেক বড়, একদিন সালথার পাটপণ্য দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও যাবে।

এই কারখানায় বর্তমানে কয়েকজন স্থানীয় যুবক কাজ করছেন, যার ফলে বেকারত্ব কমানোর ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে এই উদ্যোগ। উৎপাদন আরও বাড়ানো গেলে এখানে অন্তত ২০ থেকে ৩০ জনের স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল মনে করেন, সরকারি সহযোগিতা, সহজ শর্তে ঋণ ও প্রশিক্ষণ পেলে এই শিল্পটি বৃহৎ পরিসরে সম্প্রসারণ সম্ভব। তারা বলছেন, সালথার পাটজাত পণ্য একদিন ফরিদপুর জেলার একটি পরিচিত ব্র্যান্ডে পরিণত হতে পারে। পরিবেশ রক্ষা, স্থানীয় অর্থনীতি চাঙ্গা করা এবং কর্মসংস্থান এই তিনটি লক্ষ্য একসাথে পূরণ করছে সালথার এই পাটশিল্প উদ্যোগ। নিঃসন্দেহে এটি গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

সালথা উপজেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুল বারী বলেন, বর্তমান সময়ে পাটের বহুমুখী ব্যবহার বাড়ানো সরকারের একটি অগ্রাধিকার কর্মসূচি। সালথার তরুণ উদ্যোক্তা সোহেলের এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। পাটজাত পণ্য পরিবেশবান্ধব হওয়ার পাশাপাশি এর বাজার সম্ভাবনাও অনেক বড়। এ ধরনের উদ্যোক্তারা এগিয়ে এলে একদিকে যেমন পাটের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে গ্রামীণ পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। পাট উন্নয়ন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সালথা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, পাট আমাদের দেশের একটি ঐতিহ্যবাহী ও সম্ভাবনাময় ফসল। কাঁচামাল হিসেবে পাটের পাশাপাশি পাটজাত পণ্য উৎপাদন ও বিপণনে গুরুত্ব বাড়াতে পারলে কৃষক ও উদ্যোক্তা দু’পক্ষই লাভবান হবে। সালথায় একজন তরুণ উদ্যোক্তা যেভাবে পাটকে কেন্দ্র করে শিল্প উদ্যোগ গড়ে তুলেছেন, এটি নিঃসন্দেহে প্রশংসার যোগ্য। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এ ধরনের উদ্যোগে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

 

ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল

সোহাগ মাতুব্বর, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৬:২৫ পিএম
ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের নিয়ে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যায় ভাঙ্গা উপজেলার হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের মিলনায়তনে এ আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে হাসপাতালের চেয়ারম্যান সহিদুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, মানবসেবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। দক্ষ ও মানবিক মনোভাবসম্পন্ন সেবাকর্মী তৈরি করতে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের চর্চাও প্রয়োজন। তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে ভবিষ্যতে মানুষের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করার আহ্বান জানান।

ইফতার মাহফিলে হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের বিভিন্ন ট্রেডের প্রশিক্ষক, প্রশিক্ষণার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন। ইফতারের আগে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে রমজানের তাৎপর্য, সংযম ও মানবিকতার শিক্ষা নিয়ে বক্তব্য রাখেন উপস্থিত অতিথিরা।

পরে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং হাসপাতালের সার্বিক উন্নতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এ সময় বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের কল্যাণ এবং সকলের সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী প্রশিক্ষণার্থীরা জানান, এ ধরনের আয়োজন তাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে। একই সঙ্গে রমজানের পবিত্রতা ও সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে নতুন করে অনুপ্রাণিত হতে সহায়তা করে।

সর্বশেষে উপস্থিত সবাই একসঙ্গে ইফতার গ্রহণ করেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতেও প্রশিক্ষণার্থীদের অংশগ্রহণে এ ধরনের সামাজিক ও ধর্মীয় আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

‘দৃষ্টির চশমা’

গোলাম কিবরিয়া
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৬:১২ পিএম
‘দৃষ্টির চশমা’

নিশুতি রাত, থমথমে ভাব, পুকুর ঘাটের পাড়ে,
দুইটি মানুষ বসলো এসে খুব সাবধানে আড়ে।
এক পাড়ে এক পাকা চোর, অন্য পাড়ে মুমিন,
দুজনারই ব্যস্ততা আজ বেড়েছে অন্তহীন।

​চোর বেচারা হাত ধুয়ে নেয়, পোটলাটি তার পাশে,
ওপার পানে তাকিয়ে সে মুচকি মনে হাসে।
ভাবছে, “আহা! ওই বেটা তো মস্ত বড় চোর,
নিশ্চয় সেও সিঁধ কেটেছে ওস্তাদ বড় জোর!”

​মনেহয় সে কোনো বাড়ির সিন্দুক করেছে ফাঁকা,
আমার চেয়েও বেশি হয়তো মাল রয়েছে রাখা!
বড্ড সেয়ানা চোর তো ওটা, বসলো জলের ধারে,
কাজ সেরে আজ ফুরফুরে সে, শান্তি খোঁজে পাড়ে।

​ওপার পাড়ে ধার্মিক জন করছে ওযু ধীর,
ভাবছে, “আহা! ওই পাড়ে কে? বড্ড খোদাভীর!
আমার চেয়েও মস্ত বড় বুজুর্গ এক পীর,
ইবাদতে মত্ত হতে তাই তো হলেন স্থির।”

​তাহাজ্জুদের এই বেলাতে আমার সাথে জাগে,
খোদার প্রেমে মশগুল সে, মরণ কিসের আগে?
আহা! কপাল আমার ভালো, এমন সাথী পেলাম,
দূর থেকেই সেই বুজুর্গে জানাই হাজার সালাম!

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান,
বরগুনা সরকারি কলেজ

ফরিদপুরে ঈদের প্রধান জামাত কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সকাল ৮ টায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪২ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের প্রধান জামাত কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সকাল ৮ টায়

পবিত্র ঈদুল ফিতর ২০২৬ উদযাপনকে সামনে রেখে ফরিদপুর জেলায় সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণের লক্ষ্যে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বাকাহীদ হোসেন, পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সুস্মিতা সাহা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রামানন্দ পালসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা।

সভায় আসন্ন ঈদুল ফিতর উদযাপন উপলক্ষে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফরিদপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৮টায় জেলার প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল হলে বিকল্প হিসেবে জেলার বিভিন্ন মসজিদে ঈদের জামাত আয়োজনের ব্যবস্থা রাখা হবে।

এছাড়া ঈদ উপলক্ষে অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা না করার বিষয়ে সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ঈদকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনসমাগমস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে বলে জানানো হয়। বিশেষ করে ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।

সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয় যে, ঈদ যাত্রাকে স্বস্তিদায়ক করতে গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি বাস টার্মিনাল ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হবে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যা সভায় বলেন, ঈদ মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। তাই এই উৎসবকে ঘিরে মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। তিনি সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।

সভায় আরও জানানো হয়, ঈদের সময় হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ বিভাগসহ জরুরি সেবাগুলো চালু রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন।