খুঁজুন
শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন, ১৪৩২

সালথায় আগুনে পুড়ে সর্বস্ব হারানো কৃষকের পাশে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৩০ পিএম
সালথায় আগুনে পুড়ে সর্বস্ব হারানো কৃষকের পাশে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব হারানো কৃষক মজিবুর মাতুব্বরের পাশে দাঁড়িয়েছেন ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তিনি উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের খোয়াড় গ্রামে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন।

এর আগে গত ২০ ফেব্রুয়ারি বিকেলে রান্নাঘরের চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে মুহূর্তেই মজিবুর মাতুব্বরের বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আগুনের লেলিহান শিখায় ঘরের সব আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়, খাদ্যসামগ্রীসহ জীবনের সঞ্চয় ধ্বংস হয়ে যায়। এতে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ফায়ার সার্ভিস প্রাথমিকভাবে ধারণা দেয়। ঘটনাটির পর থেকে পরিবারটি খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছিল।

ফরিদপুর প্রতিদিন’-এ “সালথায় আগুনে পুড়ল কৃষকের ঘর, খোলা আকাশের নীচে পরিবার” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তার আশ্বাস দেন।

এসময় তিনি বলেন, “একটি পরিবার হঠাৎ করে সবকিছু হারিয়ে ফেলেছে—এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। আমরা তাদের পাশে আছি। দ্রুত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সরকারি সহায়তার বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।”

প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন- সালথা উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা মামুন সরকার, সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার, সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান খানসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মজিবুর মাতুব্বর প্রতিমন্ত্রীর সহায়তায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “আগুনে সব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম। এখন অন্তত পরিবার নিয়ে মাথা গোঁজার আশাটা আবার জেগেছে।”

এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির পুনর্বাসনে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তারা দ্রুত একটি নতুন ঘর নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে রান্নাঘরে সতর্কতা অবলম্বনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

সৌদি আরবে ফরিদপুরের প্রবাসীর মৃত্যু: লাশ দেশে আনার জন্য সরকারের প্রতি দাবি পরিবারের

বোয়ালমারী প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৫৩ পিএম
সৌদি আরবে ফরিদপুরের প্রবাসীর মৃত্যু: লাশ দেশে আনার জন্য সরকারের প্রতি দাবি পরিবারের

সৌদি আরবে কর্মরত অবস্থায় মারা যাওয়া রবিউল মোল্যা (২৭)-এর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও স্বজনরা।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার রুপাপাত ইউনিয়নের বন্ডপাশা গ্রামে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন নিহতের পরিবার, প্রতিবেশী ও স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

রবিউল মোল্যা বন্ডপাশা গ্রামের মৃত আউল মোল্যার ছেলে। পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করতে ধারদেনা করে মাত্র কিছুদিন আগে সৌদি আরবের রিয়াদ শহরে পাড়ি জমান তিনি। সেখানে একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ শুরু করেন। কিন্তু বিদেশে যাওয়ার মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই গত ২৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে স্ট্রোক করে তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন রবিউল। তার মৃত্যুর খবরে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। রেখে গেছেন ২৮ মাস বয়সী এক শিশু সন্তান, স্ত্রী, মা ও ভাইবোনদের। পরিবারের দাবি, অর্থাভাবে তারা মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে পারছেন না।

নিহতের মা চিনি বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “স্বামী মারা যাওয়ার পর অনেক কষ্টে সন্তানদের মানুষ করেছি। ধার করে ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছিলাম, যেন সংসারের অভাব দূর হয়। এখন তার লাশটা দেশে আনার সামর্থ্যও আমাদের নেই। আমি সরকারের কাছে আকুল আবেদন করছি, যেন আমার ছেলের লাশটা দেশে এনে শেষবারের মতো দেখতে পারি।”

স্ত্রী তাপসী বেগম (২১) ও ছোট ভাই আইয়ুব মোল্যা (২৫) বলেন, “আমাদের একটাই চাওয়া—রবিউলের মরদেহ যেন দেশে আনা হয়। তার ছোট্ট সন্তানটি যেন অন্তত বাবার মুখটি শেষবারের মতো দেখতে পারে।”

মানববন্ধনে উপস্থিত স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সচেতন নাগরিকরা বলেন, প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থে দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হচ্ছে। তাই প্রবাসীদের যেকোনো বিপদে রাষ্ট্রের এগিয়ে আসা উচিত। তারা দ্রুত সরকারি উদ্যোগে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।

এ সময় বক্তারা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান, যাতে অসহায় পরিবারটি শেষ বিদায় জানাতে পারে তাদের প্রিয়জনকে।

ফরিদপুরে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে পদ্মা থেকে বালি কাটায় দুইজনকে আটক, ড্রেজার পাইপ ধ্বংস

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২২ পিএম
ফরিদপুরে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে পদ্মা থেকে বালি কাটায় দুইজনকে আটক, ড্রেজার পাইপ ধ্বংস

ফরিদপুরের সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের পদ্মা নদী থেকে অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু কেটে নেওয়ার সময় অভিযান চালিয়ে দুইজনকে আটক করেছে সদর উপজেলা প্রশাসন। এ সময় প্রায় পাঁচশত মিটার ড্রেজার কাজে ব্যবহৃত পাইপ ধ্বংস করা হয়।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারী) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়ার নেতৃত্বে এ অভিযানে পরিচালনা করা হয়।

সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের মফিজ উদ্দিন মুন্সির ডাংগী হতে রাজাই ব্যাপারীর ডাঙ্গী পর্যন্ত সড়কে এ অভিযান চলে। এ সময় বালু কাটার কাজে অংশ নেওয়া দুই শ্রমিক ফরহাদ শেখ (৩০) ও রুবেলকে (৩১) হাতেনাতে আটক করা হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া বলেন, আমরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের মফিজউদ্দিন মুন্সির ডাঙ্গী হতে মমিন খার হাটে চলাচলের সড়কে অভিযান পরিচালনা করে চালু অবস্থায় একটি অবৈধ ড্রেজারের প্রায় ৫০০ মিটার পাইপ ধ্বংস করি।

এ সময় অবৈধ ড্রেজারে বালুকাটার কাজে নিয়োজিত দুইজন শ্রমিককে আটক করা হয়। আটকৃতরা জানান, রাকিব নামে একজন এই ড্রেজার মেশিন পরিচালনা করেন, সে চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের কাঁঠালতলা সংলগ্ন মগরব মাতুব্বরের পাড়ার জয়নাল মাতব্বরের ছেলে। অবৈধ ড্রেজার মালিককে অফিসে এসে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, অবৈধ ড্রেজারসহ যেকোনো বেআইনি কাজের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান চলমান থাকবে।

অভিযান পরিচালনায় সহযোগিতা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিশেষ সহকারি মোহাম্মদ মামুনুর রশিদ, স্থানীয় মেম্বার মো. ইউনুস আলী বেপারী, আনসার সদস্য ও চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশেরা।

ফরিদপুরে আমগাছে ঝুলন্ত মরদেহ, রাতের আঁধারে মনিরুলের রহস্যময় মৃত্যু

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৪:১১ পিএম
ফরিদপুরে আমগাছে ঝুলন্ত মরদেহ, রাতের আঁধারে মনিরুলের রহস্যময় মৃত্যু

ফরিদপুর সদর উপজেলার শিবরামপুর এলাকায় মনিরুল ইসলাম (৩৬) নামে এক ব্যক্তি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে নিজ বাড়ির উঠান থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত মনিরুল ইসলাম শিবরামপুর এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টা থেকে শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ২টার মধ্যে যেকোনো সময়ে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে আত্মহত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি।

পরিবারের সদস্যরা জানান, বাড়ির উঠানে থাকা একটি আমগাছের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন মনিরুল। সকালে তার ছেলের স্ত্রী উর্মি বেগম প্রথমে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তিনি চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন দ্রুত ছুটে এসে ওড়না কেটে তাকে নিচে নামান। পরে স্থানীয়রা নিশ্চিত হন যে, ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়েছে।

খবর পেয়ে ফরিদপুর কোতয়ালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, “প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা জানান, মনিরুল ইসলাম স্বল্পভাষী ও শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন। তার এমন মৃত্যুর খবরে পরিবার-পরিজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।