খুঁজুন
বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

বিএনপি-আওয়ামী লীগ-জামায়াত-সে যেই হোক—দোষী হলে রেহাই নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

হারুন-অর-রশীদ ও মো. নুর ইসলাম, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৪৪ অপরাহ্ণ
বিএনপি-আওয়ামী লীগ-জামায়াত-সে যেই হোক—দোষী হলে রেহাই নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জেলা প্রশাসনকে উদ্দ্যেশ্য করে বলেছেন, আপনাদের দ্ল-মত দেখার দরকার নেই। কেউ যদি দোষী হয়—সে বিএনপি, আওয়ামী লীগ বা জামায়াত যেই হোক—তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। এটিই আমাদের সরকারের স্ট্যান্ড। নিরপেক্ষভাবে ব্যবস্থা নেবেন। সরকারের পক্ষ থেকে আপনাদের পূর্ণ সহযোগিতা থাকবে।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলার বিভিন্ন দপ্তর প্রধানদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই—আমি আপনাদের সহকর্মী হিসেবে কাজ করতে চাই। আমি এখানে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে বসিনি। আমরা যদি টিমওয়ার্ক করতে পারি, তাহলেই ফরিদপুর জেলাকে সুন্দরভাবে সাজাতে পারব। আপনারা আমাকে সহকর্মী হিসেবে বিবেচনা করবেন। বেশিরভাগের কাছেই আমার ফোন নম্বর আছে। যেকোনো সমস্যা সরাসরি আমাকে জানাতে পারেন।

রমজান মাস নিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, দ্রব্যমূল্য যাতে আর না বাড়ে, সে বিষয়ে সরকার সচেষ্ট আছে। কমার্স মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো ইতিমধ্যে সে বিষয়ে কাজ শুরু করেছে। আপনারা যারা গ্রাউন্ড লেভেলে আছেন, আপনাদের কোনো বিশেষ পরামর্শ থাকলে অবশ্যই দেবেন।

শামা ওবায়েদ বলেন, রমজান মাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জনগণের মনে শান্তি রাখা, যাতে তারা সুন্দরভাবে রোজা পালন করতে পারে এবং ঈদ পালন করতে পারে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে একটি বিষয় দেখিয়ে দিয়েছেন। এই সরকার অনেক যুদ্ধের পরে, অনেক আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে এসেছে। জনগণেরও অনেক আকাঙ্খা এই সরকারের ওপর। সুতরাং এটাকে হেলাফেলা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, বিশেষ করে মাদক নিয়ে ঘরে বসে কথা বললে হবে না। আমাদের কিছু স্ট্র‍্যাটেজিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যারা মাদক সেবন করে, তারা অনেক ক্ষেত্রে ভিকটিম। কিন্তু যারা মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে হবে। শর্ট টার্মে অ্যাকশন দেখাতে হবে, পাশাপাশি লং টার্মে সামাজিক সচেতনতা চালিয়ে যেতে হবে।

শামা ওবায়েদ বলেন, রমজান মাসে সকল জনগণ দল-মত নির্বিশেষে সুন্দরভাবে রোজা ও ঈদ পালন করবে, দ্রব্যমূল্য সহনীয় থাকবে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হবে না। কোনো ষড়যন্ত্র যেন সফল না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

সভায় উপস্থিত ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন উপজেলা) আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, আমরা যে নানান পরিবর্তনের কথা বলছি, সেই পরিবর্তন অবশ্যই হবে। আপনারা ইতোমধ্যেই দেখেছেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই পরিবর্তন নিজে থেকেই শুরু করেছেন। আমরাও চাই এই পরিবর্তনটা সর্বব্যাপী হোক। তবে মানুষের যেমন চাওয়া যে একটা সুইচ দিলে সব পরিবর্তন হয়ে যাবে, এটা ঠিক না। তবে আবার পরিবর্তন যে হবে না, সেটাও না। পরিবর্তন অবশ্যই হবে। সবটুকু যদি অর্জন নাও করতে পারি, অন্তত কিছুটা ভালো অর্জন করতে পারব।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যার সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে এসময় বক্তব্য দেন, পুলিশ সুপার (এসপি) মো. নজরুল ইসলাম, সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান, জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এ.এস.এম. আলী আহসান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শাহাদুজ্জামান, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ফরিদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী আজহারুল ইসলাম, ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছা, সদস্য সচিব একেএম কিবরিয়া স্বপন ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক কাজী রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ প্রমুখ।

ফরিদপুরে চুরি করতে গিয়ে ধরা, খুঁটিতে বেঁধে ন্যাড়া করে চোরকে রাস্তায় ঘোরালো গ্রামবাসী

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৯:১৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে চুরি করতে গিয়ে ধরা, খুঁটিতে বেঁধে ন্যাড়া করে চোরকে রাস্তায় ঘোরালো গ্রামবাসী

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় প্রবাসীর বাড়িতে পানির মটর চুরি করতে গিয়ে গ্রামবাসীর হাতে আটক হয়েছেন এক যুবক। পরে তাকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে মাথা ন্যাড়া করে এলাকায় ঘোরানো হয়।

মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের খামিনারবাগ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত যুবকের নাম ফয়েজ শিকদার (৩০)। তিনি ওই গ্রামের হাবি শিকদারের ছেলে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে সাইপ্রাস প্রবাসী রিপন মোল্লার বাড়িতে থাকা পানির মটর চুরির চেষ্টা করেন ফয়েজ। এসময় বাড়ির লোকজনের চিৎকারে আশপাশের মানুষ ছুটে এসে তাকে হাতেনাতে আটক করেন। পরে উত্তেজিত গ্রামবাসী তাকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে রাখে। একপর্যায়ে তার মাথা ন্যাড়া করে গ্রামের বিভিন্ন সড়কে ঘুরানো হয়।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের এলাকা থেকে উৎসুক মানুষ সেখানে ভিড় জমায়। অনেকেই মোবাইল ফোনে ঘটনার ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন।

গ্রামবাসীর দাবি, ফয়েজ শিকদার দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চুরির সঙ্গে জড়িত। এর আগেও একাধিকবার বিভিন্ন বাড়িতে চুরি করতে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়েছিলেন। বিশেষ করে গভীর রাতে বাড়িঘরে ঢুকে পানির মটর, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য মালামাল চুরির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, “ঘটনার বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ভ্যানচালককে মারধরের জেরে সালথায় দু’পক্ষের সংঘর্ষ: আহত ১০, বাড়িঘর ভাংচুর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৬:১৫ অপরাহ্ণ
ভ্যানচালককে মারধরের জেরে সালথায় দু’পক্ষের সংঘর্ষ: আহত ১০, বাড়িঘর ভাংচুর

ফরিদপুরের সালথায় ভ্যানচালককে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের ১০ থেকে ১৫টি বাড়িঘর ভাংচুর করা হয়। এছাড়া একটি খড়ির গাদা ও একটি ট্রলিতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।

মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকেলে উপজেলার সিংহপ্রতাপ গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, উপজেলার সিংহপ্রতাপ এলাকার বাসিন্দা ও ভ্যানচালক বাবু তালুকদারকে (২২) কাউলিকান্দা স্ট্যান্ড এলাকায় গেলে তাকে মারধর করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাউলিকান্দা এলাকার হাবিবুর রহমানের পক্ষের সঙ্গে ইব্রাহিম মোল্যা ও রফিক মাতুব্বর সমর্থিত গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এসময় বেশ কয়েকটি বাড়িতে হামলা ও ভাংচুর চালানো হয়। এসময় একটি খড়ির গাদা ও একটি ট্রলিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হলে এলাকায় ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা চালান।

আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ফরিদপুরের বিভিন্ন ক্লিনিকে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। ভ্যানচালক বাবু তালুকদারকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেই বিরোধ নতুন করে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, “সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।”

তিনি আরও জানান, ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

‘যেখানে পাখির গান থামে না, ছায়া দেয় শত বছরের বটগাছ’

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৪:০৮ অপরাহ্ণ
‘যেখানে পাখির গান থামে না, ছায়া দেয় শত বছরের বটগাছ’

ফরিদপুরের সালথা উপজেলা-এর আটঘর ইউনিয়নের নিভৃত এক জনপদ খোয়াড় গ্রাম। ব্যস্ত শহরের কোলাহল থেকে অনেক দূরে, সবুজে ঘেরা এই গ্রাম যেন প্রকৃতির এক শান্ত আশ্রয়স্থল। গ্রামের প্রবেশমুখেই চোখে পড়ে শতবর্ষী এক বিশাল বটগাছ, যা শুধু একটি গাছ নয়—এলাকার মানুষের ইতিহাস, ঐতিহ্য আর আবেগের জীবন্ত সাক্ষী। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে দাঁড়িয়ে থাকা এই বটগাছ যেন সময়ের নীরব গল্পকথক হয়ে আজও মাথা উঁচু করে আছে।

বটগাছটির বিশাল ডালপালা চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে ছাতার মতো। ঝুলে থাকা অসংখ্য শিকড় মাটির সঙ্গে মিশে তৈরি করেছে এক অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, প্রকৃতি নিজের হাতে যেন একটি জীবন্ত ভাস্কর্য তৈরি করেছে। গাছটির নিচে দাঁড়ালেই মন ভরে যায় শীতল ছায়া আর নির্মল বাতাসে। দিনের প্রখর রোদেও এখানে পাওয়া যায় এক অন্যরকম প্রশান্তি।

ভোর হতেই বটগাছের চারপাশ মুখর হয়ে ওঠে পাখির কলকাকলিতে। শালিক, দোয়েল, কোকিল আর নানা নাম না জানা পাখির ডাকে গ্রামের সকাল যেন আরও জীবন্ত হয়ে ওঠে। গাছের ডালে ডালে পাখিদের ছোটাছুটি আর কিচিরমিচির শব্দ প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক অপার মুগ্ধতা তৈরি করে। সন্ধ্যা নামলে আবার পাখিরা ফিরে আসে তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে। তখন পুরো পরিবেশজুড়ে তৈরি হয় এক অন্যরকম আবেগঘন দৃশ্য।

এই বটগাছ শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন জীবনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মাঠে কাজ করতে যাওয়া কৃষকরা দুপুরের ক্লান্ত সময়ে এসে বসেন গাছটির ছায়ায়। কেউ বিশ্রাম নেন, কেউ গল্পে মেতে ওঠেন, আবার কেউ একটু জিরিয়ে নিয়ে নতুন উদ্যমে কাজে ফিরে যান। গ্রামের প্রবীণদের কাছেও এটি স্মৃতির এক অমূল্য জায়গা। অনেকে বলেন, ছোটবেলায় তারা এই গাছের নিচেই খেলাধুলা করেছেন, আড্ডা দিয়েছেন, এমনকি গ্রামের নানা সামাজিক বিচার-আচারও একসময় এই গাছতলাতেই বসত।

বর্ষাকালে বটগাছটির চারপাশ আরও মনোমুগ্ধকর হয়ে ওঠে। বৃষ্টিতে ধুয়ে যাওয়া সবুজ পাতাগুলো তখন আরও সতেজ দেখায়। শীতের কুয়াশামাখা সকালেও গাছটি যেন রহস্যময় সৌন্দর্যে দাঁড়িয়ে থাকে গ্রামের বুকজুড়ে। প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের যে নিবিড় সম্পর্ক, এই বটগাছ তারই এক উজ্জ্বল প্রতীক।

স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই শতবর্ষী বটগাছ খোয়াড় গ্রামের ঐতিহ্য ও পরিচয়ের অংশ হয়ে গেছে। তাই গাছটিকে ঘিরে রয়েছে মানুষের গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা। আধুনিকতার ছোঁয়ায় যখন গ্রামবাংলার অনেক পুরোনো নিদর্শন হারিয়ে যাচ্ছে, তখনও খোয়াড় গ্রামের এই বটগাছ অতীত ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রেখে নতুন প্রজন্মকে শেকড়ের গল্প শোনাচ্ছে নীরবে।

লেখক: সংবাদকর্মী, ফরিদপুর।