খুঁজুন
শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

কিডনি পরিষ্কার রাখার সহজ উপায়—এই ৭ খাবারেই সমাধান

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৩৭ পূর্বাহ্ণ
কিডনি পরিষ্কার রাখার সহজ উপায়—এই ৭ খাবারেই সমাধান

আমাদের প্রতিদিনের খাবারই শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের কার্যকারিতাকে সরাসরি প্রভাবিত করে। শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ কিডনি রক্ত পরিষ্কার করে, বর্জ্য অপসারণ করে এবং শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু নির্দিষ্ট খাবার নিয়মিত খেলে কিডনির কার্যকারিতা ভালো থাকে এবং কিডনি পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে।

চলুন এবার জেনে নেওয়া যাক কিডনির সুস্থ রাখে যেসব খাবার-

সামুদ্রিক মাছ

স্যামন, টুনা ও অন্যান্য চর্বিযুক্ত সামুদ্রিক মাছ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডে সমৃদ্ধ। এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, যা কিডনি রোগের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এছাড়া এসব মাছ উচ্চমানের প্রোটিন সরবরাহ করে।

লাল আঙুর

লাল আঙুরে রিসভারিট্রল, পলিফেনল ও ফ্ল্যাভোনয়েড নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এসব উপাদান রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং কিডনির ওপর চাপ কমায়।

ফুলকপি

ফুলকপি ভিটামিন কে, ফোলেট ও ফাইবারের ভালো উৎস। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান কিডনির সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কম পটাসিয়াম থাকায় এটি কিডনি রোগীদের জন্যও উপযোগী।

সাইট্রাস জাতীয় ফল

লেবু ও কমলার মতো সাইট্রাস ফল শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে এবং কিডনি থেকে টক্সিন বের করতে সাহায্য করে। এতে থাকা সাইট্রেট কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমায়।

ব্লুবেরি

ব্লুবেরিতে অ্যান্থোসায়ানিন নামক শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা শরীরের কোষ সুরক্ষায় সহায়তা করে। এতে সোডিয়াম, পটাসিয়াম ও ফসফরাস কম থাকায় এটি কিডনির জন্য নিরাপদ ও উপকারী।

মাশরুম

মাশরুম বি ভিটামিন, সেলেনিয়াম ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিতে সমৃদ্ধ। এটি উদ্ভিদভিত্তিক প্রোটিনের ভালো উৎস এবং কিডনি রোগীদের জন্য নিরাপদ খাদ্য হিসেবে বিবেচিত।

ক্র্যানবেরি

ক্র্যানবেরিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মূত্রনালীর সংক্রমণ প্রতিরোধে সহায়তা করে। এটি কিডনিকে সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করে এবং কিডনি সুস্থ রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব খাবার নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে কিডনির কার্যকারিতা ভালো থাকে। তবে কারও কিডনি রোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করা উচিত।

ফরিদপুরে হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ৬:১৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১

ফরিদপুরে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তানহা (১৮ মাস) নামে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় হামের উপসর্গে মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ জনে। একই সঙ্গে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬২ জন রোগী জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (০৪ জুন) হামের উপসর্গ নিয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তানহাকে। সে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার হাসানদিয়া গ্রামের দ্বীন ইসলামের মেয়ে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার তার মৃত্যু হয়।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ৬২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪১ জন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে হামের উপসর্গে আক্রান্ত ১৭৮ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু।

তিনি আরও বলেন, হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় অভিভাবকদের শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বর, সর্দি, কাশি ও শরীরে লালচে দাগ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মাদক ব্যবসায়ীর বাড়িতে আগুন দিল জনতা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ৫:৪৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মাদক ব্যবসায়ীর বাড়িতে আগুন দিল জনতা

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের সোনাখোলা গ্রামের চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী আয়ুব আলী ও ময়না বেগমের বাড়িঘর ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা। দীর্ঘদিন ধরে তারা স্বামী-স্ত্রী মিলে এলাকায় মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

শুক্রবার (০৫ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার আলগী ইউনিয়নের সোনাখোলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সোনাখোলা গ্রামের বাসিন্দা আয়ুব আলী ও ময়না বেগম (স্বামী-স্ত্রী) দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের মাদক ব্যবসা করে আসছিলেন। কয়েকদিন আগে এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে তাদের বসতঘরে তল্লাশি চালিয়ে মাদকদ্রব্য ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে। পরে উদ্ধারকৃত মাদক ও অস্ত্র ধ্বংস করা হয়। তাদের মাদক ব্যবসা থেকে বিরত থাকতে বারবার অনুরোধ জানান। কিন্তু তারা এলাকাবাসীর অনুরোধ কর্ণপাত না করে তাদের মাদককারবারী চালিয়ে আসছিল। এ ঘটনার জের ধরে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তদের এলাকা থেকে উচ্ছেদের দাবিতে তাদের বাড়িঘরে ভাঙচুর চালায় বলে জানা গেছে।

একাধিক এলাকাবাসী বলেন, বারবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ দিয়েও তাদের মাদক ব্যবসা বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। ফলে এলাকার যুবসমাজ ও সাধারণ মানুষ মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিয়েছে।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, মাদক সমাজকে ধ্বংস করে। আমরা চাই আমাদের সন্তানরা সুন্দর পরিবেশে বেড়ে উঠুক। তাই মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে একযোগে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সোনাখোলার মতো প্রতিটি এলাকায় সচেতন জনগণ ঐক্যবদ্ধ হলে মাদকমুক্ত সমাজ গড়া সম্ভব।

এ বিষয়ে জানতে আলগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ম.ম.সিদ্দিক মিঞার মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে জানানো সম্ভব হবে।

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে রাতভর নিখোঁজ, সকালে পদ্মায় মিলল ট্রাক্টরচালকের মরদেহ

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ৫:০৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে রাতভর নিখোঁজ, সকালে পদ্মায় মিলল ট্রাক্টরচালকের মরদেহ

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে পদ্মা নদীর পাড়ের আমন ধানের জমিতে চাষ গিতে গিয়ে ট্যাফে ট্রাক্টর উল্টে জয় বিশ্বাস (২০) নামের এক ড্রাইভারের মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (০৫ জুন) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার চর ঝাউকান্দা ইউনিয়নের বালুরঘাট গ্রামের পদ্মা নদীর পাড় থেকে ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের সহায়তায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত জয় বিশ্বাস ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার শাহবাজপুর গ্রামের বাসিন্দা গোলাম আলী বিশ্বাসের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (৩ মে) চরভদ্রাসন উপজেলার চর ঝাউকান্দা ইউনিয়নের বালুরঘাট গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলীর মাহিন্দ্র ট্রাক্টরের চালক ছিলেন জয়।
গত দুইদিনই  জয় বিশ্বাস মোহাম্মদ আলীর ট্যাফে ট্রাক্টর দিয়ে কৃষিজমি চাষাবাদের কাজ করছিলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে ট্রাক্টর দিয়ে জয় নদীর তীরবর্তী জমিতে চাষ দিচ্ছিল। এসময় সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পরে প্রায় পুরোটাই ডুবে যায়।এতে ট্রাক্টরের  চালক জয় বিশ্বাস ট্রাক্টরের নিচে আটকা পড়েন। রাতে তার সাথে আর কেউ না থাকায় বিষয়টি টের পাওয়া যায়নি।

শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে  স্থানীয় লোকজন নদীতে ট্রাক্টরের চাকা ও অন্যান্য অংশ ভাসতে দেখে থানায় খবর দেন। পরে চরভদ্রাসন ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে বেলা ১১টার দিকে ওই চালকের মরদেহ উদ্ধার করে।

চরভদ্রাসন ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা ওহিদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন। ট্রাক্টরটি নদীর পাড়ে কিছুটা তলিয়ে গিয়েছিল পুরোটা ডুবে ছিল না।

তিনি বলেন, আমরা ধারণা করছি চালকের ঘুম এসে যাওয়ায় বা নদীর পাড়ের মাটি ভেঙে এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চরভদ্রাসন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোজাম্মেল হক বিশ্বাস বলেন, আমরা লাশ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছি। নিহতের স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে। তাদের সাথে আলাপ করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।