খুঁজুন
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২১ মাঘ, ১৪৩২

ভারত কেন শেখ হাসিনার রেকর্ড করা ভাষণ বাজাতে দিল?

অমিতাভ ভট্টশালী
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:৩২ এএম
ভারত কেন শেখ হাসিনার রেকর্ড করা ভাষণ বাজাতে দিল?

দিল্লিতে গত শুক্রবার একটি সেমিনারে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রেকর্ড করা অডিও বাজানো নিয়ে ঢাকার প্রবল আপত্তির প্রেক্ষিতে ভারতের একাধিক বিশ্লেষক বলছেন যে তাদের দেশে বাক্-স্বাধীনতা আছে, তাই কে কখন মুখ খুলবেন, সেটা ভারতের সরকার ঠিক করে দিতে পারে না।

তারা এ-ও বলছেন, যদি ভারতের সরকার চাইত, তাহলে শেখ হাসিনার রেকর্ড করা অডিও ভাষণ বাজানোর ক্ষেত্রে বাধা দিতে পারত, কিন্তু দিল্লি তাতে বিশেষ আগ্রহী নয় বলেই তাদের ধারণা।

‘ফরেন করেস্পডেন্টস ক্লাব অফ সাউথ এশিয়া’ দিল্লিতে ২৩শে জানুয়ারি ‘সেভ ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি সেমিনার আয়োজন করেছিল। সেখানে সশরীরে এবং ভার্চুয়াল মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের একাধিক প্রাক্তন মন্ত্রী ও নেতা হাজির ছিলেন। ওই অনুষ্ঠানেই শেখ হাসিনার একটি রেকর্ড করা অডিও ভাষণ বাজানো হয়েছিল।

এর আগে ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমকে ইমেইলের মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন শেখ হাসিনা। তিনি সামাজিক প্ল্যাটফর্মগুলি ব্যবহার করে নিয়মিতই তার নিজের দলের নেতা-কর্মীদের সামনে ভাষন দিয়ে থাকেন। তবে সব ক্ষেত্রেই সেগুলি শুধুই অডিও। তবে ভিডিও বা ভারতে অবস্থানকালে তার কোনও ছবি প্রকাশ করা হয় না।

ওইসব সাক্ষাৎকার এবং শেখ হাসিনার ভাষণ নিয়ে এর আগেও আপত্তি তুলেছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। কিন্তু দিল্লি সেগুলির সরাসরি জবাব দেয়নি কখনোই।

‘ভারতে বাক্-স্বাধীনতা আছে…’

শেখ হাসিনার রেকর্ড করা ভাষণ বাজানো নিয়ে বাংলাদেশের আপত্তির প্রেক্ষিতে এখনও সরকারি ভাবে কোনও মন্তব্য করেনি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

তবে ভারতের একাধিক বিশ্লেষক মনে করেন যে, শেখ হাসিনা কখন, কী বলবেন, সেটা তার নিজস্ব সিদ্ধান্ত। সরকার তাতে হস্তক্ষেপ করতে পারে না বা চায়ও না।

বাংলাদেশে ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, “ভারতে তো বাক্-স্বাধীনতা আছে। ভারত সরকার তা ঠিক করে দিতে পারে না যে কে কী কথা বলবেন।”

বাংলাদেশে নির্বাচনের ঠিক আগে শেখ হাসিনার রেকর্ড করা ভাষণ বাজানো হয়েছে। সেই প্রসঙ্গে মি. চক্রবর্তী আবারও বলেন, “কোন সময়ে কে মুখ খুলবেন, কী বলবেন, সেটা ভারতের সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তো হয় না! যিনি কথা বলতে চাইছেন, সেটা তার নিজের সিদ্ধান্ত।”

কলকাতার রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক সব্যসাচী বসু রায়চৌধুরীও সেই ‘বাক্ স্বাধীনতা’র কথাই বললেন।

তবে তার সংযোজন, “এ দেশে বাক্ স্বাধীনতা রয়েছে। তাই ভারতে অবস্থানকালে শেখ হাসিনা কোন কথা কীভাবে, কখন বলবেন, সেটা নিয়ন্ত্রণ করতে যে ভারত সরকার আগ্রহী নয়, সেটা স্পষ্ট। তবে এটাও ঠিক যে সরকার যদি চাইত তাহলে বাধা দিতে পারত। তারা চায়নি বাধা দিতে।”

বাংলা সংবাদ পোর্টাল ‘দ্য ওয়াল’ এর কার্যনির্বাহী সম্পাদক ও বাংলাদেশের ঘটনাবলির দিকে গভীর নজর রাখেন এমন এক সাংবাদিক অমল সরকার একটু ভিন্ন প্রেক্ষাপটের কথা বলছিলেন।

তার কথায়, “গত শুক্রবারের অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার যে রেকর্ড করা ভাষণ বাজানো হয়েছে, সেখানে তিনি যা বলেছেন, তার সঙ্গে এতদিন ধরে তিনি যে ন্যারেটিভ তুলে ধরছেন – তার বিশেষ ফারাক নেই। বিভিন্ন সামাজিক প্ল্যাটফর্ম বা দলীয় গ্রুপগুলোতে তো তিনি মুহাম্মদ ইউনুসের সরকারের ব্যর্থতা, সংখ্যালঘুদের ওপরে নির্যাতন, মব কালচার ইত্যাদি নিয়ে বলেই আসছেন।

“আবার ভারত সরকারও তো এই একই ন্যারেটিভেই বিশ্বাস করে। সরকার হয়ত কূটনৈতিক শিষ্টাচার থেকে খোলাখুলি বলতে পারে না কথাগুলো। তবে শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ আর ভারত সরকার যে একই ন্যারেটিভে বিশ্বাস করে, সেটা তো স্পষ্ট। সেকারণেই শেখ হাসিনাকে বাধা দিচ্ছে না ভারত,” বিশ্লেষণ অমল সরকারের।

‘অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন’ নিয়ে দিল্লির কথা মানেনি ঢাকা

বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বার বার একই মন্তব্য করেছে যে, তারা চায় বাংলাদেশে স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন হোক।

এখানে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন’ শব্দ বন্ধের মাধ্যমে তারা বলার চেষ্টা করে থাকে যে সব দল যেন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে। যেটা স্পষ্ট করে বলা হয় না, তা হলো বাংলাদেশে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগও যাতে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে, দিল্লির ইচ্ছা সেটাই।

“তবে ঢাকাও তার যুক্তি দেখিয়েছে যে অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনই তো হচ্ছে – যেখানে সব জনগণ শামিল হচ্ছেন,” বলছিলেন অমল সরকার।

তার কথায়, “এখানে তো ভারতের আকাঙ্ক্ষা তো পূরণ হয়নি, ঢাকা তো দিল্লির ইচ্ছা মেনে নিয়ে আওয়ামী লীগ সহ সব দলকে অন্তর্ভুক্ত করে নির্বাচন করছে না। যখন ভারতের ইচ্ছা বাংলাদেশ শোনেনি, তাই দিল্লি এখন চাইছে শেখ হাসিনা তার বক্তব্য তুলে ধরুন।”

অধ্যাপক সব্যসাচী বসু রায় চৌধুরি অবশ্য মনে করেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে দিল্লির সম্পর্ক এখন তলানিতে এসে ঠেকলেও ভোটের পরে যে দলের সরকারই আসুক না কেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে উন্নতে ঘটাতে চাইবে দুটি দেশই।

তার কথায়, “দুই দেশেরই স্বার্থ এতে জড়িত আছে।”

শেখ হাসিনার ভাষণ নিয়ে যে আপত্তি ঢাকার

ভারতে বসে প্রকাশ্যে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘উস্কানিমূলক’ বক্তব্য দিতে দেওয়ায় রোববার এক বিবৃতি দিয়ে বিস্ময় ও হতাশা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তার এসব বক্তব্য বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে দাবি করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ”বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাত করার এবং আসন্ন নির্বাচনকে ব্যাহত করার জন্য আওয়ামী লীগের সমর্থকদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করার জন্য মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত ও পলাতক শেখ হাসিনাকে নয়াদিল্লিতে প্রকাশ্যে যে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তাতে বাংলাদেশের সরকার বিস্মিত ও হতাশ হয়েছে”।

শুক্রবার ভারতের নয়াদিল্লিতে একটি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন আওয়ামী লীগের নেতারা।

‘সেভ ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশ’, অর্থাৎ ‘বাংলাদেশে গণতন্ত্র বাঁচাও’ শীর্ষক ওই সেমিনারে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি রেকর্ড করা অডিও ভাষণ শোনানো হয়।

ওই অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেছে, যার অন্যতম হলো জাতিসংঘকে আমন্ত্রণ করে বিগত বছরের ঘটনাবলির ‘নিরপেক্ষ তদন্তের’ দাবি, যাতে, তাদের ভাষায়, ‘খাঁটি সত্যটা’ জানা যায়।

এছাড়াও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন, মব সন্ত্রাসের সংস্কৃতি, সংখ্যালঘু এবং বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মী আর সাংবাদিকদের ওপরে আক্রমণ ইত্যাদি বিষয় তুলে ধরা হয় “বিশ্বের নজরে” আনার জন্য।

বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের সপ্তাহ দুয়েক আগে পর পর দুই সপ্তাহে ভারতের রাজধানী শহরে আওয়ামী লীগ নেতাদের দুটি সংবাদ সম্মেলনে আসেন আওয়ামী লীগের নেতারা।

এসব প্রসঙ্গ টেনে রোববার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ”দুই দেশের মধ্যে থাকা দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের সরকার বারবার অনুরোধ করার পরেও ভারত শেখ হাসিনাকে হস্তান্তর করেনি, যা বাংলাদেশকে গভীরভাবে ক্ষুব্ধ করেছে। বরং ভারত তাকে নিজেদের মাটিতে বসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এরকম উস্কানিমূূলক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে। এটা পরিষ্কারভাবে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ, শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি”।

ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভারতের রাজধানীতে বসে এরকম বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া দুই দেশের সম্পর্কের জন্য অন্তরায়। বিশেষ করে সার্বভৌমত্বের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, অন্য দেশের বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং প্রতিবেশীসুলভ আচরণ নয়। এর ফলে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ভবিষ্যৎ সম্পর্ককে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, ”আওয়ামী লীগ নেতাদের দেওয়া এরকম উস্কানিমূলক বক্তব্য আবারও প্রমাণ করেছে যে, কেন অন্তর্বর্তী সরকার দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। নির্বাচনের আগে এবং নির্বাচনের দিন সংঘটিত সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য তাদের দায়ী করা হবে এবং তাদের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে”।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

১০ কেজি ধানের শীষ গায়ে ফরিদপুরে সেলিম, তারেক রহমান দেখার অদম্য আকাঙ্ক্ষা

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:০২ পিএম
১০ কেজি ধানের শীষ গায়ে ফরিদপুরে সেলিম, তারেক রহমান দেখার অদম্য আকাঙ্ক্ষা

প্রথমবারের মতো ফরিদপুরে আসছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার এই আগমন ও বিভাগীয় জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুর জেলাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। সকাল থেকেই শহর ও আশপাশের এলাকা পরিণত হয়েছে জনসমুদ্রে। দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের স্লোগান, মিছিল আর পতাকায় মুখরিত পুরো জেলা।

বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিএনপির বিভাগীয় জনসভা। এই জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান। তার বক্তব্য শুনতে ও এক নজর দেখতে ভোর থেকেই বিভিন্ন উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী সমাবেশস্থলে জড়ো হতে শুরু করেন।

সকাল থেকেই ফরিদপুর শহরের প্রবেশপথগুলোতে দেখা যায় খণ্ড খণ্ড মিছিল। কেউ হাতে দলীয় পতাকা, কেউ মাথায় পতাকা সংবলিত টুপি, আবার অনেকেই গায়ে জড়িয়ে নিয়েছেন বিএনপির নির্বাচনী প্রতীক ধানের শীষ। সমাবেশস্থল রাজেন্দ্র কলেজ মাঠ ও আশপাশের সড়কগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

এই ভিড়ের মধ্যেই সবার দৃষ্টি কেড়েছেন শরীয়তপুর থেকে আসা বিএনপি সমর্থক সেলিম মন্ডল। তিনি পুরো শরীরজুড়ে প্রায় ১০ কেজি ধানের শীষ বেঁধে সমাবেশে উপস্থিত হয়েছেন। ব্যতিক্রমী এই উপস্থিতি মুহূর্তেই আকর্ষণ করে আশপাশের মানুষের দৃষ্টি।

সেলিম মন্ডল জানান, শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলা থেকে তিনি বুধবার ভোরেই ফরিদপুরের উদ্দেশে রওনা দেন। তারেক রহমানকে কাছ থেকে দেখবেন এবং সরাসরি তার বক্তব্য শুনবেন—এই আশা নিয়েই কাকডাকা ভোরে রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে প্রবেশ করেন তিনি।

তিনি বলেন, “এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কয়েকবার সরাসরি দেখার সুযোগ হয়েছে। ঢাকায় দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও অংশ নিয়েছি। এবার দলের নতুন কাণ্ডারী তারেক রহমানকে নিজ চোখে দেখতে চাই বলেই এত কষ্ট করে এসেছি।”

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুরসহ আশপাশের জেলাগুলো থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর সমাগম ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মাঠ ও এর আশপাশে পুলিশ, র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে।

বিএনপি নেতারা আশা করছেন, ফরিদপুরের এই বিভাগীয় জনসভা দলের সাংগঠনিক শক্তি ও জনসমর্থনের বড় ধরনের বার্তা দেবে। তারেক রহমানের বক্তব্য ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছে বাড়তি আগ্রহ ও প্রত্যাশা।

তারেক রহমানের জনসভা ঘিরে ফরিদপুরে উৎসবের আমেজ, শহরজুড়ে মিছিল

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
তারেক রহমানের জনসভা ঘিরে ফরিদপুরে উৎসবের আমেজ, শহরজুড়ে মিছিল

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও আশপাশের এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে আসতে শুরু করেন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। দলীয় পতাকা, ব্যানার-ফেস্টুন হাতে নিয়ে ‘তারেক রহমান আসছে, গণতন্ত্র বাঁচছে’, ‘স্বাগতম তারেক রহমান’সহ নানা স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে শহরের প্রধান সড়কগুলো।

বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিতব্য বিভাগীয় জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। জনসভাকে ঘিরে মাঠ ও আশপাশের এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন বলেন, “তারেক রহমানের এই জনসভা শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, এটি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ফরিদপুরবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে মানুষ পরিবর্তন চায়।”

তিনি আরও বলেন, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে জনসভা সফল করতে দলীয় নেতাকর্মীরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।

মিছিল নিয়ে আসা বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী তাদের প্রত্যাশার কথা জানান। সদর উপজেলার বিএনপি কর্মী আব্দুল মালেক বলেন, “দীর্ঘদিন পর তারেক রহমানের এমন সরাসরি বার্তা শোনার সুযোগ পাচ্ছি। আমরা আশা করছি, তিনি দেশ ও দলের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা দেবেন।” একই কথা জানান ছাত্রদলের নেতা রুবেল হোসেন। তিনি বলেন, “তরুণদের জন্য তারেক রহমানের নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজকের জনসভা আমাদের নতুন করে অনুপ্রাণিত করবে।”

এদিকে মহিলা দলের নেত্রী নাজমা বেগম বলেন, “নারীদের অধিকার ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিএনপির ভূমিকা নিয়ে আমরা আশাবাদী। তারেক রহমানের বক্তব্যে আমরা সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখতে চাই।”

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জনসভায় ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জ জেলার বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নিচ্ছেন। জনসভাকে কেন্দ্র করে আশপাশের এলাকায় অস্থায়ী খাবার ও পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাঠে প্রবেশের জন্য একাধিক গেট নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

সব মিলিয়ে তারেক রহমানের এই জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুরে রাজনৈতিক উত্তাপ ও উৎসাহ তুঙ্গে। নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, এই সমাবেশ বিএনপির রাজনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করবে এবং আগামীর আন্দোলনে দিকনির্দেশনা দেবে।

ফরিদপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি, শেষরক্ষা হলো না সাদ্দামের

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:০৯ এএম
ফরিদপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি, শেষরক্ষা হলো না সাদ্দামের

ফরিদপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সাজাপ্রাপ্ত ও দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১০)। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম মো. সাদ্দাম শেখ (২৪)। তিনি ফরিদপুর শহরের খোদাবক্স রোড, কসাই বাড়ি সড়ক এলাকার বাসিন্দা এবং মো. শেখ শহিদের ছেলে।

র‌্যাব-১০, সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্প থেকে বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮টা ৪৫ মিনিটে ফরিদপুর সদরের শিবরামপুর বাজার এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় র‌্যাব-১০-এর একটি চৌকস আভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে কোতয়ালী থানার জিআর মামলা নম্বর- ৫৫৬/১৪ এর আলোকে ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯(১) ধারার টেবিল ২২(গ) অনুযায়ী ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত সাজা পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি মো. সাদ্দাম শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামি স্বীকার করেছে যে, সাজা এড়াতে সে দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিল। র‌্যাবের নিয়মিত নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতার ফলে শেষ পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

র‌্যাব-১০-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মাদক সংক্রান্ত অপরাধ দমনে র‌্যাবের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।

র‌্যাব-১০, সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লীডার তারিকুল ইসলাম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “মাদকদ্রব্য সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের জন্য ভয়াবহ হুমকি। মাদকের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র‌্যাব সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আমাদের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।”