খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন, ১৪৩২

ইতিকাফের সময় নারীদের ঘরের কাজ করা কি জায়েজ? যা বলছে ইসলামের বিধান

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ৭:৪৮ এএম
ইতিকাফের সময় নারীদের ঘরের কাজ করা কি জায়েজ? যা বলছে ইসলামের বিধান

আল্লাহর নৈকট্য লাভ করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল হলো ইতিকাফ। ইসলামে পুরুষের জন্য রমজানের শেষ দশকের ইতিকাফ সুন্নতে মুয়াক্কাদা আলাল কিফায়া। অর্থাৎ মহল্লার মসজিদে পুরুষদের মধ্যে একজনও যদি ইতিকাফ করে, তাহলে পুরো মহল্লাবাসী দায়মুক্ত হয়ে যাবে।

তবে ইতিকাফ শুধু পুরুষের জন্যই নয়; বরং শর্তসাপেক্ষে নারীরাও ইতিকাফ করতে পারবেন। হজরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা.) বর্ণনা করেন, ‘রাসুল (সা.) আজীবন রমজানের শেষ দশকগুলো ইতিকাফ করেছেন। তার ওফাতের পর তার স্ত্রীরাও ইতিকাফ করতেন।’ (আলফিয়্যাতুল হাদিস: ৫৪৬)

কিন্তু নারীদের জন্য ইতিকাফ সুন্নত নয়; বরং মোস্তাহাব। কারণ, রাসুল (সা.) এর স্ত্রীরা ইতিকাফ পালনের জন্য তাঁর অনুমতি চেয়েছেন। এতে প্রমাণ হয়, ইতিকাফের জন্য অভিভাবকের অনুমতি নেওয়া জরুরি। (আলবানি, কিয়ামু রমজান : ২৯)

কিন্তু কোনও নারীর স্বামী যদি এমন অসুস্থ বা অক্ষম হন যে তার নিবিড় শুশ্রূষার প্রয়োজন, তাহলে তার ইতিকাফে বসা উচিত হবে না। কিংবা কারও ছোট ছোট সন্তান থাকলে যদি তাকে দেখার কেউ না থাকে, তবে তারও উচিত হবে না ইতিকাফে বসা। (আহকামে রমজান ও জাকাত : ৬৪)

আর কোনো নারী ইতিকাফ করতে চাইলে তার নিয়ম হলো, সে তার ঘরের মসজিদে (নিজ নামাজের জন্য নির্ধারিত কক্ষ বা জায়গায়) ইতিকাফ করবে। যদি আগ থেকে নামাজের জন্য জায়গা নির্ধারিত না থাকে, তাহলে একটি জায়গা নির্ধারণ করে নেবে এবং সেখানে ইতিকাফে বসবে। এ ক্ষেত্রে সে সুন্নত ইতিকাফের নিয়ত করলে সুন্নাত ইতিকাফের বিধিবিধান তার জন্যও প্রযোজ্য হবে। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ১/২১১)

ইতিকাফকারী নারী ইতিকাফের নির্ধারিত স্থান থেকে মানবিক প্রয়োজন ছাড়া বের হতে পারবেন না, তাহলে ইতিকাফ নষ্ট হয়ে যাবে। খাবার পৌঁছে দেওয়ার লোক না থাকলে খাবার আনার জন্য বাইরে যেতে পারবেন। পানাহারও সেই নির্ধারিত স্থানেই করতে হবে। ( হেদায়া : ১/২৩০)

ইতিকাফের স্থান থেকে অন্যদের সাংসারিক কাজের নির্দেশনা দেওয়া যাবে। তবে বাইরে যাওয়া যাবে না। রান্নার লোক না থাকলে ইতেকাফের স্থানে বসে রান্না করা সম্ভব হলে করা যাবে (ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া: ১৫/৩৩৪)। দরকার হলে সেখানে বাইরের কাউকে ডাকতে পারবেন, কথা বলতে পারবেন। (বাদায়েউস সানায়ে : ২/২৮২)

ইতিকাফ অবস্থায় স্বামীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়া যাবে না। তবে তিনি চাইলে পাশে থাকতে পারবেন (ফাতাওয়ায়ে শামি : ৩/৪৪২)। শিরক বা কুফরি কাজে লিপ্ত হলে এবং অজ্ঞান বা পাগল হয়ে গেলে বা মাতাল হয়ে পড়লে ইতিকাফ নষ্ট হয়ে যাবে এবং ঋতুস্রাব শুরু হলে, সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে কিংবা গর্ভপাত হলে ইতিকাফ বহাল থাকবে না। (আহসানুল ফাতাওয়া : ৪/৫০২)

সূত্র : কালবেলা

সংসদে স্পিকার নির্বাচিত হলেন মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
সংসদে স্পিকার নির্বাচিত হলেন মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন

জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।  

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সংসদ সদস্য মেজর হাফিজ উদ্দিন স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) জাতীয় সংসদে সভাপতি খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে তিনি স্পিকার নির্বাচিত হন।

বিএনপির সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল স্পিকার পদে মেজর হাফিজ উদ্দিনের নাম প্রস্তাব করেন।

 এর আগে বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে অধিবেশন শুরু হয়।

১৯৯১ সালে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র চালুর পর এবারই প্রথম নতুন সংসদের অধিবেশন স্পিকার ছাড়া শুরু হলো। প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর কার্যক্রম শুরু হবে।

স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী ও সাতবারের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ভোলা-৩ আসন থেকে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তার সাহসিকতার জন্য তিনি ‘বীর বিক্রম’ উপাধি লাভ করেন। এক সময়কার তারকা ফুটবলার হাফিজ উদ্দিন বিএনপি সরকারের পানিসম্পদ মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

ফরিদপুরে বাংলাদেশ পুলিশের কনস্টেবল নিয়োগ ১৫–১৭ এপ্রিল, আবেদন অনলাইনে

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ৮:৪০ এএম
ফরিদপুরে বাংলাদেশ পুলিশের কনস্টেবল নিয়োগ ১৫–১৭ এপ্রিল, আবেদন অনলাইনে

বাংলাদেশ পুলিশের কনস্টেবল (টিআরসি) পদে নতুন পদ্ধতিতে নিয়োগ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ফরিদপুর জেলার প্রার্থীদের জন্য আগামী ১৫, ১৬ ও ১৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আগ্রহী প্রার্থীদের অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে এবং নির্ধারিত কয়েকটি ধাপের পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে যোগ্য প্রার্থীদের চূড়ান্তভাবে নিয়োগ দেওয়া হবে। অনলাইন আবেদন শুরু হয়েছে ৫ মার্চ, শেষ হবে ৩১ মার্চ ২০২৬।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) এ বিষয়ে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে ফরিদপুর জেলা পুলিশ।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন নিয়োগ পদ্ধতিতে প্রার্থীদের প্রথমে Physical Endurance Test (PET) বা শারীরিক সক্ষমতা পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। এ পরীক্ষায় মোট সাতটি ইভেন্ট থাকবে। এগুলো হলো—২০০ মিটার দৌড়, লং জাম্প, হাই জাম্প, পুশআপ, ১৬০০/১০০০ মিটার দৌড়, ড্রাগিং এবং রোপ ক্লাইম্বিং। এসব ধাপে উত্তীর্ণ প্রার্থীরা পরবর্তীতে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। সব ধাপ সফলভাবে সম্পন্নকারী প্রার্থীদের মধ্য থেকেই চূড়ান্তভাবে কনস্টেবল পদে নিয়োগ দেওয়া হবে।

প্রার্থীদের প্রস্তুতির সুবিধার্থে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকা একটি বিশেষ নির্দেশনামূলক ভিডিও তৈরি করেছে। সেখানে PET পরীক্ষার প্রতিটি ইভেন্টের নিয়ম-কানুন, প্রস্তুতির পদ্ধতি এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ভিডিওটি বাংলাদেশ পুলিশের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ এবং ইউটিউব চ্যানেলে “নতুন নিয়মে বাংলাদেশ পুলিশে কনস্টেবল পদে নিয়োগ পরীক্ষা” শিরোনামে প্রকাশ করা হয়েছে। নিয়োগে আগ্রহীদের ভিডিওটি দেখে আগেভাগেই প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ফরিদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, নতুন পদ্ধতিতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা হবে। কোনো ধরনের তদবির, অবৈধ প্রভাব বা দুর্নীতির সুযোগ নেই। শুধুমাত্র যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতেই প্রার্থীদের নির্বাচন করা হবে।

এ ছাড়া জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আগ্রহী প্রার্থী ও অভিভাবকদের প্রতারকচক্র বা দালালের প্রলোভনে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে। কেউ যদি নিয়োগের নামে প্রতারণার চেষ্টা করে, তবে সে বিষয়ে দ্রুত নিকটস্থ থানায় অভিযোগ জানানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

ফরিদপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দক্ষ, সৎ ও যোগ্য তরুণদের বাংলাদেশ পুলিশের এই গৌরবময় বাহিনীতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন আজ বৃহস্পতিবার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ৮:১০ এএম
ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন আজ বৃহস্পতিবার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) থেকে শুরু হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন আজ সকাল ১১টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। রাষ্ট্রপতির এই ভাষণ মন্ত্রিসভা অনুমোদন করবে এবং পরে সংসদ সদস্যরা তা নিয়ে আলোচনা করবেন।

এটি ২০২৬ সালেরও প্রথম অধিবেশন। সংসদীয় রীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে রাষ্ট্রপতি প্রতি বছর সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেন। এর আগে, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৭২(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেন।

অধিবেশন শুরুর আগে সংসদের কার্যপ্রণালী নির্ধারণের জন্য সংসদীয় কার্য উপদেষ্টা কমিটির একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে, যেখানে অধিবেশনের সময়কাল ও অ্যাজেন্ডা নির্ধারণ করা হবে।

প্রথম বৈঠকে সরকারি দলের (ট্রেজারি বেঞ্চ) প্রধান কাজ হবে সরকার যে সব অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করতে চায় সেগুলো সংসদের সামনে উপস্থাপন করা। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের ১৮ মাসের মেয়াদকালে মোট ১৩০টি অধ্যাদেশ জারি বা সংশোধন করেছে।

সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতিকে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করতে হয়। প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি এ অধিবেশন আহ্বান করেন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়।

১৩তম জাতীয় সংসদে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইতোমধ্যে সংসদ নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। আর বিরোধী দলের নেতা নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান।

দ্বাদশ সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করায় প্রথম অধিবেশনে একজন জ্যেষ্ঠ বিএনপি নেতা সভাপতিত্ব করবেন বলে সংসদ সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

সংসদের প্রথম বৈঠক শুরু হওয়ার পরপরই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন এবং রাষ্ট্রপতি তাদের শপথপাঠ করাবেন। তাদের নির্বাচনের পর শপথগ্রহণের জন্য অধিবেশন ১৫ থেকে ২০ মিনিটের জন্য মুলতবি করা হতে পারে। এরপর নবনির্বাচিত স্পিকার অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন।

প্রথম বৈঠকেই নতুন সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হবে, যার প্রধান থাকবেন নতুন স্পিকার। এই কমিটিই উদ্বোধনী অধিবেশনের মেয়াদ এবং সংসদের অন্যান্য কার্যসূচি নির্ধারণ করবেন।

এ অধিবেশনেই বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো গঠন করা হতে পারে। প্রথম বৈঠকে সংসদে শোক প্রস্তাবও গৃহীত হবে।

বর্তমান সংসদ গঠিত হয়েছে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে। এতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১২টি আসনে জয়লাভ করে, যার মধ্যে বিএনপি একাই পেয়েছে ২০৯টি আসন।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৭৬টি আসন, যার মধ্যে জামায়াতে ইসলামী একাই পেয়েছে ৬৮টি আসন।

তথ্য সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)