খুঁজুন
শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ১ চৈত্র, ১৪৩২

ঈদের নামাজ কখন শুরু হয়, কখন আদায় করা উত্তম?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ৯:০৭ এএম
ঈদের নামাজ কখন শুরু হয়, কখন আদায় করা উত্তম?

পবিত্র ঈদের দিন মুসলমানদের জন্য আনন্দ, কৃতজ্ঞতা ও ইবাদতের এক বিশেষ মুহূর্ত। এ দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলোর একটি হলো ‘ঈদের নামাজ’।

শরিয়তের ভাষ্যমতে, যাদের ওপর জুমার নামাজ ফরজ, তাদের ওপর ঈদের এই নামাজ ওয়াজিব। অর্থাৎ, প্রাপ্ত বয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন, যেসকল মুসলিম পুরুষ জামাতে উপস্থিত হয়ে ঈদের নামাজ আদায়ের সক্ষমতা রাখে, তাদেরকে ঈদের নামাজ পড়তে হবে। (আলমুহীতুল বুরহানী : ২/৪৭৬, বাদায়েউস সানায়ে : ১/৬১৭, শরহুল মুনইয়া : পৃ. ৫৬৫)

এখন প্রশ্ন জাগে, ‘ঈদেরর ওয়াক্ত কখন শুরু হয়? কখন নামাজ পড়তে হবে?’

এ প্রসঙ্গে সহিহ হাদিস ও ফিকহের কিতাবে বলা হয়েছে, ঈদের নামাজের ওয়াক্ত হচ্ছে সূর্য উদিত হয়ে (নামাজের) নিষিদ্ধ সময় শেষ হওয়ার পর থেকে শুরু করে যাওয়াল তথা সূর্য পশ্চিম আকাশে হেলে পড়ার আগ পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যেই ঈদের নামাজ পড়তে হবে। যাওয়ালের পর আর ঈদের নামাজ সহিহ হবে না। (আবু দাউদ : ১১৩৫, আননুতাফ ফিল ফাতাওয়া : পৃ. ৬৫, আলমুহীতুল বুরহানী : ২/৪৭৭, বাদায়েউস সানায়ে : ১/৬১৯)

কখন নামাজ পড়তে হবে

ঈদুল আজহার নামাজ ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর দেরি না করে একটু তাড়াতাড়ি পড়া মুস্তাহাব। যাতে কোরবানির কাজ দ্রুত শুরু করা যায়। আর ঈদুল ফিতরের নামাজও ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি আদায় করে নেবে। (মুসান্নাফে আব্দুর রাজযাক : বর্ণনা ৫৬৫১, আননুতাফ ফিল ফাতাওয়া : পৃ. ৬৭, আলবাহরুর রায়েক : ২/১৬০, ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/১৫০)

প্রসঙ্গত, ঈদের নামাজ দুই রাকাত। এই নামাজের নিয়ম হলো, নিয়ত করে তাকবিরে তাহরিমা বলে নামাজ শুরু করে ছানা পড়বে। ছানা পড়ার পর ‘আল্লাহু আকবার’ ‘আল্লাহু আকবার’ ‘আল্লাহু আকবার’ বলে আরও তিনটি তাকবির বলবে।

প্রথম দুই তাকবির বলার সময় উভয় হাত কানের লতি পর্যন্ত উঠিয়ে হাত না বেঁধে ছেড়ে দেবে। তৃতীয় তাকবির বলার সময় কানের লতি পর্যন্ত হাত উঠিয়ে বেঁধে নেবে। অতঃপর সুরা-কেরাত পড়ে রুকুতে যাবে এবং প্রথম রাকাত শেষ করবে।

দ্বিতীয় রাকাতে দাঁড়িয়ে সুরা-কেরাত পড়ে রুকুতে যাওয়ার পূর্বে আগের নিয়মে তিনটি তাকবির বলবে। তবে দ্বিতীয় রাকাতে তৃতীয় তাকবির বলার সময়ও হাত না বেঁধে ছেড়ে দেবে। অতঃপর চতুর্থ তাকবির বলে রুকু করবে। এরপর অন্যান্য নামাজের ন্যায় যথারীতি নামাজ শেষ করবে। (কিতাবুল আছল : ১/৩১৯, আলহাবীল কুদসী : ১/২৪৩)

সূত্র : কালবেলা

ফরিদপুরে জুলাই আহত যোদ্ধার ওপর হামলার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ৭:৫৩ পিএম
ফরিদপুরে জুলাই আহত যোদ্ধার ওপর হামলার অভিযোগ

ফরিদপুরের নগরকান্দায় জমির সীমানা ও চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে জুলাই আন্দোলনে আহত এক যুবদল কর্মীর বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে। তবে পুলিশ বলছে, এটি মূলত দুইপক্ষের মধ্যে চলাচলের রাস্তা নিয়ে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা, পরিকল্পিত হামলার প্রমাণ মেলেনি।

শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল ৯টার দিকে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া ইউনিয়নের কল্যাণপটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আহত তরিকুল ইসলাম সুজন (৩২) বর্তমানে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তরিকুল ইসলাম সুজন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানীর মিরপুর-১০ এলাকায় পুলিশের গুলিতে আহত হন। পরে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার আন্দোলন সংক্রান্ত কেস আইডি নম্বর-৯২১৫ বলে জানা গেছে।

সুজন নগরকান্দা উপজেলার কল্যানপট্টি গ্রামের আবু জাফর মোল্লার ছেলে। তিনি মা জয়নব বেগম ও স্ত্রী আলো বেগমকে নিয়ে বাড়িতে বসবাস করেন।

পুলিশ, পরিবার ও অভিযোগপত্র সূত্রে জানা গেছে, বাড়ির পাশের একটি চলাচলের রাস্তার উপর বেড়া নির্মাণকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী হাসেন মাতুব্বর ও বিকুল মাতুব্বরের সঙ্গে সুজনদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। সুজন তখন ঢাকায় সিএমএইচে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ সময় প্রতিবেশীরা ওই রাস্তার একটি অংশে টিন দিয়ে বেড়া নির্মাণের চেষ্টা করলে তার মা জয়নব বেগম বাধা দেন। এ ঘটনায় সুজন গত ৫ মার্চ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগ করার জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিপক্ষরা তার ওপর হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছেন সুজন।

আহত তরিকুল ইসলাম সুজন নিজেকে যুবদল কর্মী দাবি করে জানান, শনিবার সকালে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। এ সময় তার মা ও স্ত্রী এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করা হয়। এমনকি হামলার সময় তার স্ত্রীর ভিডিও করলে মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলার অভিযোগও করেন তিনি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে ফেসবুক লাইভে এসে সুজন বলেন, অভিযোগ করার কারণেই প্রতিবেশী হাসেন মাতুব্বর ও বিকুল মাতুব্বর গংরা তার ওপর হামলা করেছে। তাকে কুপিয়েছে, তার বৃদ্ধ মায়ের গায়েও হাত তুলেছে। এছাড়া সুজনের স্ত্রীকে মারধর করে তার মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলেছে হামলাকারীরা। তবে এ ঘটনায় অভিযুক্ত হাসেন মাতুব্বর ও বিকুল মাতুব্বর গংদের কারো বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ বলেন, বিষয়টি মূলত চলাচলের রাস্তা ও জমির সীমানা নিয়ে দুইপক্ষের বিরোধ। আজকে দুইপক্ষের ধাক্কাধাক্কির সময় সুজনের পা টিনে কেটে যাওয়ার কথা শুনেছি। পরিকল্পিত হামলার ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

তিনি আরো বলেন, দুইপক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। যেহেতু সুজন জুলাই আন্দোলনে আহত একজন যোদ্ধা, তাই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েই দেখা হচ্ছে এবং যাতে ভবিষ্যতে কোনো সমস্যা না থাকে সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

ফরিদপুরে ডেঙ্গু–চিকনগুনিয়া প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, জনসচেতনতা বাড়াতে র‍্যালি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ৪:৩৪ পিএম
ফরিদপুরে ডেঙ্গু–চিকনগুনিয়া প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, জনসচেতনতা বাড়াতে র‍্যালি

ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়ার মতো মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে ফরিদপুরে পরিচ্ছন্নতা অভিযান উপলক্ষে একটি সচেতনতামূলক র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে ফরিদপুর জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় ও ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে সকাল ১০টায় হাসপাতাল চত্বর থেকে র‍্যালিটি শুরু হয়। পরে এটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে পুনরায় হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। র‍্যালিতে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

র‍্যালি শেষে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় বক্তারা ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া প্রতিরোধে সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। এ সময় বক্তব্য দেন- ফরিদপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. গণেশ কুমার আগরওয়াল, কনসালটেন্ট ডা. মোয়াজজেম হোসেন, ডা. আল আমিন সরোয়ার এবং জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. বজলুর রশিদ খান।

বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া বর্তমানে দেশের জন্য একটি বড় জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ দুটি রোগ মূলত এডিস প্রজাতির মশার মাধ্যমে ছড়ায়, যা পরিষ্কার পানিতে জন্মায়। তাই বাড়ির আশপাশে কোথাও তিন দিনের বেশি পানি জমে থাকতে দেওয়া যাবে না। ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার, পানির ট্যাংক, ড্রাম বা খোলা পাত্রে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।

তারা আরও বলেন, শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি। ঘরবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা, মশারি ব্যবহার করা এবং মশা নিধনে স্থানীয় উদ্যোগ জোরদার করতে হবে।

আয়োজকরা জানান, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া প্রতিরোধে সারাদেশের মতো ফরিদপুরেও সচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। জনসাধারণকে সম্পৃক্ত করে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, লিফলেট বিতরণ ও প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।

চরভদ্রাসনে মসজিদের ইমামদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ২:৫৯ পিএম
চরভদ্রাসনে মসজিদের ইমামদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে আমেরিকা প্রবাসী (আমরা বিএনপি পরিবারের উপদেষ্টা ও জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক) মো. আলমগীর কবিরের ব্যাক্তিগত তহবিল থেকে ২৫০টি মসজিদের ইমামদের মাঝে আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার গাজিরটেক ইউনিয়নে ব্যাপারী বাড়ির উঠানে তার পক্ষ থেকে মসজিদের ইমামদের হাতে এ উপহার সামগ্রী তুলেদেন আলমগীর কবিরের পিতা হাজী আব্দুর রহীম ও তার ছোট ভাই মো. মোস্তফা কবির।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- গাজিরটেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইয়াকুব আলী, বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী মো. রফিক ব্যাপারী, উপজেলা বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির সদস্য আব্দুল কুদ্দুস সহ এলাকার স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ভিডিও কনফারেন্সে উপস্থিত সকল ইমামদের সাথে কুশল বিনিময় শেষে সকলের উদ্দ্যেশে আলমগীর কবির বলেন, আমি করোনাকালীন সময় থেকে ইমামদের সহযোগিতায় পাশে আছি। আগামীতেও আল্লাহ আমাকে যতদিন বাঁচিয়ে রাখেন আমি ইমামদের সন্মানে তাদের সহযোগিতায় কাজ করে যাব। আমি চাই আমাকে দেখে দেশের যারা প্রতিষ্ঠিত মানুষ রয়েছেন বিভিন্ন উপজেলায় তারাও এই মহতি কাজে এগিয়ে আসবেন।

জানা যায়, আলমগীর কবিরের ব্যাক্তিগত অর্থায়নে ২০০৬ সাল থেকে বিশেষ করে করোনাকালীন সময় ও বিভিন্ন দুর্যোগকালীন সময়ে উপজেলার অনেক অসহায় মানুষকে সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি দুস্থ মানুষের কল্যাণে নানামূখী কাজ করে যাচ্ছেন আলমগীর কবির।

উপহার সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে প্রত্যেকের জন্য পঁচিশ কেজির ১বস্তা চাল, এক কেজি পেলাওর চাল, চিনি, সেমাই,গুড়া দুধ ও নগদ দুই হাজার টাকা।