খুঁজুন
সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৩০ চৈত্র, ১৪৩২

কুষ্টিয়ায় ‘দরবারে’ হামলা চালিয়ে কথিত পীরকে হত্যা, কী হয়েছিল সেখানে?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৩৬ পূর্বাহ্ণ
কুষ্টিয়ায় ‘দরবারে’ হামলা চালিয়ে কথিত পীরকে হত্যা, কী হয়েছিল সেখানে?

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কোরআন শরিফ অবমাননার অভিযোগ এনে একটি দরবার বা আস্তানায় হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় ওই দরবারের কথিত প্রধান পীর আব্দুর রহমান ওরফে শামীম নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (১১ এপ্রিল) কুষ্টিয়ার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকায় অবস্থিত ‘শামীম বাবার দরবার শরিফ’ এ এই ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছে।

হামলায় আরো দুইজন আহত হয়েছেন বলেও জানিয়েছেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন।

তার দাবি, তিন বছর আগের একটি ভিডিও’র সূত্র ধরে কোরআন অবমাননার অভিযোগ এনে দুপুরের দিকে স্থানীয় একদল লোক একত্রিত হয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায়। পরে আহত অবস্থায় তিনজনকে দৌলতপুরের থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে নেওয়া হয়।

সেখানকার দায়িত্বরত চিকিৎসক জানিয়েছে, আহত অবস্থায় তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মি. শামীম।

হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার কিছু ভিডিও গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

এতে দেখা যায়, হাতে লাঠিসোটা নিয়ে কয়েকশ লোক প্রথমে হামলা ও ভাঙচুর চালায় ওই দরবারে। পরে সেখানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সাংবাদিক আহমেদ রাজু। ঘটনাস্থল থেকে তিনি জানান, হামলার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।

দুপুর থেকে চলা এই হামলা ও ভাংচুরের পর বিকেলের দিকে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে বলে পুলিশ জানায়।

নিহত শামীম ২০২১ সালে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতসহ বিভিন্ন অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় তিন মাস কারাগারে ছিলেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে

এই ঘটনা নিয়ে প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক, পুলিশ ও হাসপাতালের চিকিৎসকদের সাথে কথা বলেছে সাংবাদিকরা।

স্থানীয়রা জানান, কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকায় অবস্থিত ‘শামীম জাহাঙ্গীর দরবার শরিফ’। ওই এলাকার সামসুল ইসলাম মাষ্টারের ছেলে আব্দুর রহমান ওরফে শামীম নিজেকে ওই দরগার পীর দাবি করেন বলে জানান দৌলতপুরের গণমাধ্যমকর্মী আহমেদ রাজু।

শামীমের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে মুসলমানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআন শরিফ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করা হয় বলেও জানান মি. রাজু।

“শামীমের ওই বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখায়। পরে শনিবার দুপুর একটার দিকে স্থানীয়রা জড়ো হয়ে ফিলিপনগরে অবস্থিত শামীমের দরবার শরিফ ঘেরাও করে। এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা দরবারে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও একাধিক কক্ষে অগ্নিসংযোগ করেন,” বলছিলেন মি. রাজু।

এদিকে, পুলিশের দাবি, যেই ভিডিওটি ঘিরে এই হামলার ঘটনাটি ঘটেছে সেই ভিডিওটি এখন থেকে অন্তত তিন বছর আগের, ২০২৩ সালের।

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, “২০২৩ সালের তার একটি ভিডিও এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওকে কেন্দ্র করে আগেও সেখানে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। তারপর ওনার এরকম কার্যক্রম চোখে পড়েনি। আজকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়”।

“সেই আগের ভিডিও দেখে স্থানীয়রা উত্তেজিত অবস্থায় আসে। যারা এই হামলা চালিয়েছে তারা সবাই স্থানীয়,” বলছিলেন মি. উদ্দিন।

পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা

ওই হামলার ঘটনার বেশ কয়েকটি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে দেখা যায়, হাতে লাঠিসোটা নিয়ে শত শত মানুষ ফিলিপনগরের ওই দরবারটিতে ঢুকে হামলা চালাচ্ছে।

হামলায় স্থানীয় তরুণ, শিশু ও কিশোরদেরও অংশ নিতে দেখা যায়। হামলার এক পর্যায়ে তাদের সেখানে আগুন জ্বালিয়ে দিতেও দেখা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক আহমেদ রাজু বলেন, “প্রথমে স্থানীয়রা ওই দরবার শরিফ ঘেরাও করে। সে সময় দরবার শরিফের ভেতরেই ছিলেন মি. শামীম ও তার দুইজন অনুসারী”।

তিনি জানান, হামলাকারীরা লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালিয়ে শামীমসহ তিনজনকে আহত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই তিনজনকে সেখান থেকে উদ্ধার করে নেওয়া হয় দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায় পুলিশের পাশাপাশি সেখানে আগুন নেভানোর কাজে ব্যস্ত ছিলেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

পুলিশ সুপার জানান, দুপুর একটা থেকে প্রায় পৌনে তিনটা পর্যন্ত সেখানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে সেখান থেকে আহত অবস্থায় তিনজনকে হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ।

পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন বলেন, “পুলিশ ঘটনার সাথে সাথে গিয়েছিল। তারা ঠেকানোরও চেষ্টা করেছে। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালেও নিয়ে গেছে পুলিশ”।

পুলিশের দাবি, তিনজনের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর অবস্থা ছিল কথিত পীর শামীমের। তাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করা হয়েছিল।

আহত অবস্থায় ওই তিনজনকে যখন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় তখন বিকেল তিনটা।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মো. তৌহিদুল হাসান তুহিন বলেন, “কথিত পীর শামীমকে যখন হাসপাতালে আনা হয় তখনও তিনি জীবিত ছিলেন। বিকেল ৩টা ২০ মিনিটের দিকে তিনি হাসপাতালে মারা যায়”।

ওই চিকিৎসক জানান, নিহত শামীমের শরীরে জখমের চিহ্ন ছিল।

মি. তুহিন বলেন, “আমাদের ধারণা তাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। বাকি যে দুইজন আহত অবস্থায় ভর্তি রয়েছে তাদের অবস্থা আশঙ্কামুক্ত”।

পুলিশ ও পরিবার যা বলছে

বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত ওই দরবার এলাকায় শত শত মানুষ দরবার শরিফ এলাকায় অবস্থান করছিল। সেখানে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।

তখনও সেখানে বিচ্ছিন্নভাবে দরবারের জিনিসপত্র ভাংচুর চালাতে দেখেছেন স্থানীয় সাংবাদিক আহমেদ রাজু।

তিনি জানান, পুলিশ ফায়ার সার্ভিসের উপস্থিতিতেও সেখানে দফায় দফায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

সন্ধ্যায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, সন্ধ্যায় পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে। আমরা সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছি।

এখন আবারো এই ধরনের হামলার ঘটনা কেন পুলিশ নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলো না সেই প্রশ্নও করা হয়েছিল পুলিশ সুপারের কাছে।

জবাবে তিনি বলেন, “সেখানে সবাই ছিল স্থানীয়। তারা প্রচণ্ড আক্রশ নিয়ে কাজটি করেছে। কোরআন নিয়ে কথাবার্তা বলেছে সে কারণে হয়তো স্থানীয়রা খুব ক্ষুব্ধ ছিল”।

তবে তিনি জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

তবে নিহত শামীমের পরিবার জানিয়েছে এই ঘটনায় তারা মামলা করতে চাচ্ছে না।

নিহতের বড় ভাই গোলাম রহমান বলেন, “আমরা বুঝতে পারতেছি না আসলে কী করবো। আমার ভাই মারা গেছে। আপাতত এতটুকুই। আমরা খুব নির্ঝঞ্ঝাট মানুষ। কোনো ঝামেলায় যেতে চাই না বলে মামলাও করতে চাই না”।

তবে ঠিক কী কারণে মামলায় আগ্রহী নন সেটি তিনি বলতে চাননি।

শামীমের বিরুদ্ধে ২০২১ সালেও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ উঠেছিল এবং বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা ছিল বলে জানান দৌলতপুর থানার ওসি (তদন্ত) শেখ মোহাম্মদ আলী মোর্তুজা। তিনি বলেন, “ওই সময় আমি এই থানায় ছিলাম না। তবে আমরা শুনেছি সে তিন মাস জেল খেটেছিল তখন”।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

“হাদিয়ার প্রলোভন পেরিয়ে এক টুকরো মানবিকতার গল্প”

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৫৪ অপরাহ্ণ
“হাদিয়ার প্রলোভন পেরিয়ে এক টুকরো মানবিকতার গল্প”

অফিসের ব্যস্ততা যেন প্রতিদিনেরই সঙ্গী। তবুও প্রতিটি কাজ আন্তরিকতার সাথে সম্পন্ন করার চেষ্টা সবসময়ই থাকে। কাউকে অযথা ঘোরানো বা দায়িত্বে অবহেলা—এসব থেকে নিজেকে যতটা সম্ভব দূরে রাখার চেষ্টা করি। কতটা পারি বা পেরেছি, সে হিসাব আজ না-ই বা করলাম।

আজও ছিল তেমনই একটি দিন। নির্ধারিত অফিস সময় পেরিয়ে গেলেও এক পুলিশ কর্মকর্তা সেবা নিতে আসেন। নিয়ম অনুযায়ী সময় শেষ হলেও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাকে ফিরিয়ে দিতে মন সায় দিল না। তাকে বসতে দিলাম, ধৈর্য ধরে তার সমস্যার কথা শুনলাম এবং যথাসাধ্য আন্তরিকতার সাথে সমাধানের চেষ্টা করলাম।

আমার এই সামান্য চেষ্টায় তিনি সন্তুষ্ট হলেন। কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অংশ হিসেবে কিছু অর্থ দিতে চাইলেন। বিনয়ের সাথে জানিয়ে দিলাম—এটি আমার নীতি ও পছন্দের বিরুদ্ধে। আমি সেবার বিনিময়ে কোনো ব্যক্তিগত অর্থ গ্রহণ করি না। কারণ, মানুষের সেবা করার জন্যই আমি বেতন পাই—যার মাধ্যমে সাদামাটা ডাল-ভাতেই আমার জীবন চলে যায়, আলহামদুলিল্লাহ।

তিনি বারবার চেষ্টা করেও যখন কিছু দিতে পারলেন না, তখন কিছুটা বিস্ময় আর শ্রদ্ধা মিশ্রিত দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন। শেষে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, “আপনি সত্যিই একজন ভালো মানুষ। আল্লাহ আপনাকে ভালো রাখুন।”

এ ধরনের অভিজ্ঞতা নতুন নয়। প্রায়ই কেউ না কেউ কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য কিছু দিতে চান—কখনো অর্থ, কখনো খাবার। তবে যতটা সম্ভব তা এড়িয়ে গিয়ে বরং তাদের আপ্যায়ন করার চেষ্টা করি। কারণ, আমার বিশ্বাস—সত্যিকারের সন্তুষ্টি আসে দেওয়ার মধ্যে, নেওয়ার মধ্যে নয়।

অনেকে হয়তো এই লেখাকে আত্মপ্রচার বা আত্মপ্রশংসা ভাবতে পারেন। কিন্তু উদ্দেশ্য তা নয়। আমি শুধু একটি বিশ্বাস ভাগ করতে চাই—পৃথিবীতে টাকা-পয়সাই সবকিছু নয়। বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয়টুকু থাকলেই প্রকৃত সুখ খুঁজে পাওয়া যায়। অতিরিক্ত অর্থ কিংবা অযথা প্রাপ্তি অনেক সময় মানুষের জীবনে অশান্তি ডেকে আনে।

আমি সবসময় বিশ্বাস করি—“মানুষ মানুষের জন্য”। মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তাদের সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসা—এটাই সবচেয়ে বড় মানবিক দায়িত্ব। সেবার মাধ্যমে যদি কারো মুখে হাসি ফোটানো যায়, সেটাই জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন।

এই আদর্শ নিয়েই বেঁচে আছি, এবং আজীবন এভাবেই থাকতে চাই। সবাই দোয়া করবেন, যেন সততা ও মানবিকতার এই পথ থেকে কখনো বিচ্যুত না হই।

লেখক: হারুন-অর-রশীদ, সংবাদকর্মী, ফরিদপুর

ফরিদপুরে ডিবির সাঁড়াশি অভিযানে গাঁজা-ইয়াবা-মদসহ ৭ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ডিবির সাঁড়াশি অভিযানে গাঁজা-ইয়াবা-মদসহ ৭ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

ফরিদপুর জেলাজুড়ে মাদকবিরোধী জোরালো অভিযানে গাঁজা, ইয়াবা ও বিদেশি মদসহ নারীসহ ৭ জন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।

শনিবার (১১ এপ্রিল) ও রবিবার (১২ এপ্রিল) জেলার ভাঙ্গা, কোতয়ালী ও নগরকান্দা থানার বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিবি সূত্রে জানা যায়, জেলার গোয়েন্দা পুলিশের ওসি সৈয়দ মো. আলমগীর হোসেনের তত্ত্বাবধানে একাধিক টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সমন্বিতভাবে এসব অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে, যা জেলার সক্রিয় মাদকচক্রের বিস্তৃত নেটওয়ার্কের ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রবিবার ভাঙ্গা থানার পুলিয়ার ব্রাহ্মণপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে রিনা বেগম (৪৫) নামে এক নারীকে ৮ কেজি ২০০ গ্রাম গাঁজাসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে শনিবার কোতয়ালী থানার দক্ষিণ আলীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে জুটন (৩১), জুবায়ের শেখ (২০) ও সাথী বেগম (৫৫)-কে আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে ৪৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির নগদ ৬১ হাজার ৪৫০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

একই দিনে নগরকান্দা থানার কুঞ্জুনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মহসিন শেখ বাবু (৩০) নামে এক মাদক কারবারিকে ২১ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার সহযোগী শেখ জাফরের ঘর থেকে আরও ৯০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হলেও তিনি পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

অপরদিকে রবিবার ভাঙ্গা থানার মানিকদহ কালিবাড়ী এলাকায় পৃথক অভিযানে শিমুল চক্রবর্তী মনা (৪১) ও ওয়াসিম ঘোষ (৩৯)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ২ বোতল বিদেশি মদ (প্রায় ১৫০০ মিলিলিটার) এবং ১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

ডিবি পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক সরবরাহ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত ছিল এবং একটি সংঘবদ্ধ চক্র হিসেবে কাজ করছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা মাদক সংগ্রহ ও বিতরণের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে, যা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে ডিবির ওসি সৈয়দ মো. আলমগীর হোসেন বলেন, “ফরিদপুরকে মাদকমুক্ত করতে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। কোনো মাদক কারবারিকে ছাড় দেওয়া হবে না। সংঘবদ্ধ চক্র ভেঙে দিতে আমাদের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।”

গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

৭ বছর পালিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি, নগরকান্দায় ধরা পড়ল যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত খুনি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৫৭ অপরাহ্ণ
৭ বছর পালিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি, নগরকান্দায় ধরা পড়ল যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত খুনি

ফরিদপুরের নগরকান্দায় দীর্ঘদিন পলাতক থাকা একটি হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি রেজাউল মাতুব্বরকে অবশেষে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির সমন্বয়ে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে তাকে আটক করা হয়।

রবিবার (১২ এপ্রিল) সকালে তাকে ফরিদপুরের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

এর আগে শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে নগরকান্দা থানার বাবুর কাইচাইল এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। রেজাউল মাতুব্বর ওই এলাকার মৃত সাহেদ আলী মাতুব্বরের ছেলে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ১১ আগস্ট দায়ের হওয়া একটি হত্যা মামলায় (এফআইআর নং-০৯/১৯০; জিআর নং-১৯০/১৯) দণ্ডবিধির একাধিক গুরুতর ধারায় অভিযুক্ত ছিলেন রেজাউল। পরবর্তীতে আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করলে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। দীর্ঘ প্রায় সাত বছর ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে পলাতক থাকলেও শেষ পর্যন্ত প্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

অভিযানটি পরিচালনা করেন সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মাহমুদুল হাসান। নগরকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাসূল সামদানী আজাদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এসআই তারক বিশ্বাস, এএসআই মো. জাহাঙ্গীর আলম ও এএসআই মো. শরিফুল ইসলামসহ একটি বিশেষ দল এতে অংশ নেয়।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসূল সামদানী আজাদ জানান, “দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা এই সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে গ্রেফতার করা পুলিশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।”