খুঁজুন
সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন, ১৪৩২

ফরিদপুরে হেলে থাকা নারকেল গাছ আতঙ্ক, ঝড়-বৃষ্টিতে মৃত্যুভয়ে দুটি পরিবার

শফিকুল ইসলাম জনি, নগরকান্দা:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:৫২ এএম
ফরিদপুরে হেলে থাকা নারকেল গাছ আতঙ্ক, ঝড়-বৃষ্টিতে মৃত্যুভয়ে দুটি পরিবার

মাঝে মধ্যেই বিকট শব্দে ভেঙে পড়ছে ডালপালা, ঝরে পড়ছে পচা নারকেল। প্রতিদিনের এমন ঘটনায় চরম আতঙ্ক আর মৃত্যুভয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে দুটি পরিবার। বসতঘরের ওপর হেলে থাকা একটি বিশাল নারকেল গাছ সামান্য ঝড়-বৃষ্টি হলেই যে কোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে—এই আশঙ্কায় দিন-রাত কাটছে তাদের।

প্রবাসী টিটুন মাতুব্বর তার পরিবারের আট সদস্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই এই ভয়াবহ ঝুঁকির মধ্যেই বসবাস করছেন। রাত নামলেই উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়। কখন কী ঘটে—এই শঙ্কায় নির্ঘুম রাত কাটছে পরিবারের সবার।

ঘটনাটি ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার তালমা ইউনিয়নের বিবিরকান্দী গ্রামের। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমি ও সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে প্রতিবেশী কোরবান মাতুব্বর ইচ্ছাকৃতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় গাছটি রেখে ভুক্তভোগী পরিবারকে ভয় ও চাপের মধ্যে রাখছেন বলে অভিযোগ।

ভুক্তভোগীরা একাধিকবার গাছটি অপসারণের অনুরোধ জানালেও কোনো সাড়া মেলেনি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে গিয়েও কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত উপায় না পেয়ে তারা গ্রাম আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এ বিষয়ে টিটুন মাতুব্বর অভিযোগ করে বলেন, “আমরা বহুবার অনুরোধ করেছি গাছটা কাটতে বা সরাতে। কিন্তু সে আমাদের কথা শোনে না। পেশিশক্তির জোরে আমাদের জন্য মৃত্যুর ফাঁদ তৈরি করে রেখেছে। দ্রুত সমাধান না হলে আমাদের পরিবার নিয়ে পথে রাত কাটাতে হতে পারে।”
ভুক্তভোগী পরিবারের আরেক সদস্য, এসএসসি পরীক্ষার্থী মৌ আক্তার বলেন, “রাতে পড়াশোনার সময় হঠাৎ হঠাৎ জোরে নারকেল আর ডালপালা পড়ে। একদিন দেখি টিনের চাল ফুটো হয়ে গেছে। খুব ভয় লাগে—কখন যে গাছটা ভেঙে পড়বে!”

অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে কোরবান মাতুব্বরের স্ত্রী আম্বিয়া বেগম বলেন, “ওরা যা বলছে সব মিথ্যা। আমাদের সঙ্গে সীমানা নিয়ে মামলা চলছে। গাছটা আমাদের জায়গার মধ্যেই আছে। মামলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমরা গাছ কাটবো না।”
কোরবান মাতুব্বরের বোন জিরা খাতুনও একই দাবি করেন।

এ বিষয়ে তালমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন মিয়া বলেন, “দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি ও সীমানা সংক্রান্ত বিরোধ চলছে। স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা সমাধানের চেষ্টা করা হলেও সফল হওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে, দ্রুত দুই পক্ষকে ডেকে বিষয়টি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত প্রশাসনিক ও সামাজিক উদ্যোগ না নেওয়া হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা কিংবা সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে। তাই স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপই এখন ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর একমাত্র ভরসা।

ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল

সোহাগ মাতুব্বর, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৬:২৫ পিএম
ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের নিয়ে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যায় ভাঙ্গা উপজেলার হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের মিলনায়তনে এ আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে হাসপাতালের চেয়ারম্যান সহিদুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, মানবসেবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। দক্ষ ও মানবিক মনোভাবসম্পন্ন সেবাকর্মী তৈরি করতে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের চর্চাও প্রয়োজন। তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে ভবিষ্যতে মানুষের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করার আহ্বান জানান।

ইফতার মাহফিলে হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের বিভিন্ন ট্রেডের প্রশিক্ষক, প্রশিক্ষণার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন। ইফতারের আগে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে রমজানের তাৎপর্য, সংযম ও মানবিকতার শিক্ষা নিয়ে বক্তব্য রাখেন উপস্থিত অতিথিরা।

পরে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং হাসপাতালের সার্বিক উন্নতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এ সময় বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের কল্যাণ এবং সকলের সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী প্রশিক্ষণার্থীরা জানান, এ ধরনের আয়োজন তাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে। একই সঙ্গে রমজানের পবিত্রতা ও সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে নতুন করে অনুপ্রাণিত হতে সহায়তা করে।

সর্বশেষে উপস্থিত সবাই একসঙ্গে ইফতার গ্রহণ করেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতেও প্রশিক্ষণার্থীদের অংশগ্রহণে এ ধরনের সামাজিক ও ধর্মীয় আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

‘দৃষ্টির চশমা’

গোলাম কিবরিয়া
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৬:১২ পিএম
‘দৃষ্টির চশমা’

নিশুতি রাত, থমথমে ভাব, পুকুর ঘাটের পাড়ে,
দুইটি মানুষ বসলো এসে খুব সাবধানে আড়ে।
এক পাড়ে এক পাকা চোর, অন্য পাড়ে মুমিন,
দুজনারই ব্যস্ততা আজ বেড়েছে অন্তহীন।

​চোর বেচারা হাত ধুয়ে নেয়, পোটলাটি তার পাশে,
ওপার পানে তাকিয়ে সে মুচকি মনে হাসে।
ভাবছে, “আহা! ওই বেটা তো মস্ত বড় চোর,
নিশ্চয় সেও সিঁধ কেটেছে ওস্তাদ বড় জোর!”

​মনেহয় সে কোনো বাড়ির সিন্দুক করেছে ফাঁকা,
আমার চেয়েও বেশি হয়তো মাল রয়েছে রাখা!
বড্ড সেয়ানা চোর তো ওটা, বসলো জলের ধারে,
কাজ সেরে আজ ফুরফুরে সে, শান্তি খোঁজে পাড়ে।

​ওপার পাড়ে ধার্মিক জন করছে ওযু ধীর,
ভাবছে, “আহা! ওই পাড়ে কে? বড্ড খোদাভীর!
আমার চেয়েও মস্ত বড় বুজুর্গ এক পীর,
ইবাদতে মত্ত হতে তাই তো হলেন স্থির।”

​তাহাজ্জুদের এই বেলাতে আমার সাথে জাগে,
খোদার প্রেমে মশগুল সে, মরণ কিসের আগে?
আহা! কপাল আমার ভালো, এমন সাথী পেলাম,
দূর থেকেই সেই বুজুর্গে জানাই হাজার সালাম!

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান,
বরগুনা সরকারি কলেজ

ফরিদপুরে ঈদের প্রধান জামাত কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সকাল ৮ টায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪২ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের প্রধান জামাত কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সকাল ৮ টায়

পবিত্র ঈদুল ফিতর ২০২৬ উদযাপনকে সামনে রেখে ফরিদপুর জেলায় সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণের লক্ষ্যে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বাকাহীদ হোসেন, পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সুস্মিতা সাহা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রামানন্দ পালসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা।

সভায় আসন্ন ঈদুল ফিতর উদযাপন উপলক্ষে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফরিদপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৮টায় জেলার প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল হলে বিকল্প হিসেবে জেলার বিভিন্ন মসজিদে ঈদের জামাত আয়োজনের ব্যবস্থা রাখা হবে।

এছাড়া ঈদ উপলক্ষে অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা না করার বিষয়ে সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ঈদকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনসমাগমস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে বলে জানানো হয়। বিশেষ করে ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।

সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয় যে, ঈদ যাত্রাকে স্বস্তিদায়ক করতে গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি বাস টার্মিনাল ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হবে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যা সভায় বলেন, ঈদ মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। তাই এই উৎসবকে ঘিরে মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। তিনি সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।

সভায় আরও জানানো হয়, ঈদের সময় হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ বিভাগসহ জরুরি সেবাগুলো চালু রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন।