খুঁজুন
শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

বাতিলের তালিকায় উঠছে গণভোটসহ যে ২০ অধ্যাদেশ?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৭:৫৭ পূর্বাহ্ণ
বাতিলের তালিকায় উঠছে গণভোটসহ যে ২০ অধ্যাদেশ?

চব্বিশের জুলাই গণআন্দোলনের পর জাতীয় সংসদ কার্যকর না থাকায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জারি করে ১৩৩টি অধ্যাদেশ। এসব অধ্যাদেশের মধ্যে গণভোট অধ্যাদেশসহ অন্তত ২০টি অধ্যাদেশের কপাল পুড়ছে। জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে এসব অধ্যাদেশের অনুমোদন পাওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ের জন্য গঠিত বিশেষ সংসদীয় কমিটি এসব অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

ফলে অধ্যাদেশগুলোর ভবিষ্যৎ অন্ধকার হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে বিশেষ কমিটি এসব অধ্যাদেশের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে না পারলেও বিষয়গুলো নিয়ে সংসদের বৈঠকে আলোচনার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি যেসব অধ্যাদেশ প্রথম অধিবেশনে পাস করা সম্ভব হচ্ছে না সেগুলো নতুন করে যাচাই-বাছাই করে পরবর্তীতে বিল আকারে সংসদে উত্থাপনের কথা সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে।

গণভোট অধ্যাদেশ-২০২৫ ছাড়াও বাতিল করার সুপারিশের তালিকায় রয়েছে বিচার বিভাগের জন্য করা সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ-২০২৫, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ-২০২৫, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ-২০২৫, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) বিলুপ্ত করে রাজস্ব খাতকে দুভাগ করে করা ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ-২০২৫, দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬, বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬, মানবদেহে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন অধ্যাদেশ-২০২৫, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, অর্থ অধ্যাদেশ-২০২৫, অর্থ-সংক্রান্ত কতিপয় আইন (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, দ্য এক্সাইজ অ্যান্ড সল্ট (আমেন্ডমেন্ট) অর্ডিন্যান্স-২০২৫, অর্থ সংক্রান্ত কতিপয় (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫ এবং তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬।’

কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, অধ্যাদেশ পর্যালোচনার ক্ষেত্রে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ এবং ‘সাংবিধানিকতা’ এ দুই বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ-২০২৬সহ জুলাই সুরক্ষা’-সংক্রান্ত চারটি অধ্যাদেশের বিষয়ে সব সদস্য একমত হয়েছেন এবং এগুলো হুবহু সংসদে উপস্থাপন করা হবে। তারা আরও জানান, ১৩৩টি অধ্যাদেশকে তিনটি দিক বিবেচনায় যাচাই-বাছাই করা হয়। প্রথমত, কিছু অধ্যাদেশ যেভাবে আছে, সেভাবেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বিল আকারে এনে পাস করবে। দ্বিতীয়ত, কিছু অধ্যাদেশে প্রয়োজনীয় সংশোধনীসহ বিল উত্থাপন করা হবে। আর তৃতীয়ত, যেসব বিষয়ে একমত হওয়া যাবে না, সেগুলো এ অধিবেশনে ‘ল্যাপস’ (বাতিল) হয়ে যাবে; প্রয়োজনে পরবর্তী অধিবেশনে নতুন বিল আকারে হিসেবে আসবে। সূত্র জানিয়েছে, ২০টি অধ্যাদেশের ব্যাপারে একমত হতে পারেনি কমিটি। ফলে এগুলো বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।

কমিটির সদস্যরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তাড়াহুড়ো করে অনেক অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। এসব অধ্যাদেশে অনেক ত্রুটিবিচ্যুতি রয়েছে। সংসদীয় বিশেষ কমিটির বৈঠকে এসব ত্রুটিবিচ্যুতির বিষয়গুলো উঠে এসেছে। সে কারণে স্পর্শকাতর এসব অধ্যাদেশের ব্যাপারে আরও খতিয়ে দেখে সরকার পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেবে। সে কারণে সংসদীয় বিশেষ কমিটির পক্ষ থেকে আপাতত এসব অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করা হচ্ছে। প্রয়োজন মনে করলে সরকার পরবর্তী সময়ে এসব অধ্যাদেশের ব্যাপারে নতুন করে চিন্তা করবে। কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন জানিয়েছেন, যেসব অধ্যাদেশের বিষয়ে বিশেষ কমিটি ঐকমত্য হতে পারবে না, তা বাতিলের সুপারিশ করবে। সেগুলো নিয়ে সংসদে আলোচনা হতে পারে। তবে কত অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করা হচ্ছে, সে ব্যাপারে তিনি কিছুই বলেননি। বৈঠকের সিদ্ধান্তের পর এ ব্যাপারে জানা যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আইন মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ওই বছরের ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। দায়িত্ব নেওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার ওই বছরে ১৭টি, ২০২৫ সালে ৮০টি এবং ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার শপথ নেওয়ার আগে পর্যন্ত চলতি বছর ৩৬টি অধ্যাদেশ জারি করে। নির্বাচন কমিশন, বিচারব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা, ফৌজদারি অপরাধ, দুর্নীতি দমন, অর্থ পাচার, জনপ্রশাসন ও শৃঙ্খলা, স্থানীয় সরকার, অর্থনীতি, রাজস্ব, কর ও বাজেট, ব্যাংকিং, আর্থিক খাত ও নিয়ন্ত্রণ, ডিজিটাল ও সাইবার নিরাপত্তা, মানবাধিকার, নাগরিক অধিকার ও সুশাসন বিষয়ে এসব অধ্যাদেশ জারি করা হয়। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব পালনের ৫৫৯ দিনে রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ১৯৩ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করেন।

সংবিধানের ৯৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অধ্যাদেশগুলোকে বৈধতা দিতে হলে সংসদের প্রথম বৈঠকে উত্থাপন করতে হয় এবং ৩০ দিনের মধ্যে আইনে রূপান্তর করতে হয়। তা না হলে অধ্যাদেশগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাওয়ার কথা। গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনের বৈঠকে অধ্যাদেশগুলো সংসদে উপস্থাপন করেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। পরে অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয় এবং কমিটিকে ২ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। অধ্যাদেশগুলোর আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যে জাতীয় সংসদের অনুমোদন পেতে হবে। যেগুলো অনুমোদন পাবে না, সেগুলো বাতিল হয়ে যাবে।

সে অনুযায়ী গত ২৪ মার্চ জাতীয় সংসদ গঠিত বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাইয়ের বৈঠক হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদিন এমপি। এ সময় কমিটির সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ড. মুহাম্মদ ওসমান ফারুক, এ এম মাহবুব উদ্দিন, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, মুহাম্মদ নওশাদ জমির, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, মো. মুজিবুর রহমান, মো. রফিকুল ইসলাম খান এবং জি এম নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। ২৫ মার্চ দ্বিতীয় দিনের মতো বিশেষ কমিটির বৈঠক হয়।

গতকাল রোববার রাত সাড়ে ৮টার পর বিশেষ কমিটির তৃতীয় বৈঠক শুরু হয়। রাতে এ রিপোর্ট লেখার সময় বিশেষ কমিটির বৈঠক চলছিল। বৈঠকে মোট ২৬টি অধ্যাদেশ আলোচনার জন্য উঠেছে। এর মধ্যে ২০টি অধ্যাদেশ বাতিলের তালিকায় রয়েছে। এর আগে গতকাল দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের বিষয়ে গতকাল রাতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। যেসব অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করা হচ্ছে—সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অধ্যাদেশগুলো সম্পর্কে তুলে ধরা হলো।

গণভোট অধ্যাদেশ

গত বছরের ২৫ নভেম্বর গণভোট অধ্যাদেশ ২০২৫ জারি করে সরকার। এতে বলা হয়, জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫ অনুসারে সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত কিছু প্রস্তাবের বিষয়ে জনগণের সম্মতি রয়েছে কি না, তা যাচাইয়ে গণভোটের বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত এ অধ্যাদেশ। এতে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার সফল গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রকাশিত জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগের উদ্দেশ্যে জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত কতিপয় প্রস্তাবের বিষয়ে জনগণের সম্মতি রয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের জন্য গণভোটে উপস্থাপন করার লক্ষ্যে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ প্রণয়ন ও জারি করা হয়েছে। জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ অনুসারে গণভোট অনুষ্ঠানের জন্য আইন প্রণয়নের নির্দেশনা রয়েছে। ওই অধ্যাদেশ অনুযায়ী, গত ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের দিনে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। এরই মধ্যে এ গণভোট অধ্যাদেশের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হাইকোর্ট। এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে এর বৈধতায় রুল জারি করেছেন। সে কারণে সরকারও আপাতত এই অধ্যাদেশটি পাসের পক্ষে নন। যদিও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এর বিরোধিতা করা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ

গত বছরের ৩০ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ-২০২৫ জারি করে সরকার। এ অধ্যাদেশের মাধ্যমে অধস্তন আদালতের আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতার সার্বিক নিয়ন্ত্রণ প্রধান বিচারপতির হাতে ন্যস্ত করা হয়। বিচার বিভাগের উন্নয়ন বা কারিগরি প্রকল্পের এবং অনুন্নয়ন বাজেটের আওতায় কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রাক্কলিত ব্যয় সর্বোচ্চ ৫০ কোটি টাকা হলে তার অনুমোদন দিতে পারবেন প্রধান বিচারপতি—এমন বিধান করা হয়। সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সার্ভিস সদস্যদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাবিধান-সংক্রান্ত কাজে রাষ্ট্রপতির পক্ষে প্রয়োজনীয় সব প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবে বলে এতে বলা হয়; কিন্তু বর্তমান সরকার এ অধ্যাদেশের কিছু নেতিবাচক দিক চিহ্নিত করেছে। একক হাতে বিচারকদের বদলি, নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধানের বিষয়টি চলে গেলে তা স্বৈরাচারী হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন কেউ কেউ। এ কারণে এটি বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সংশোধন অধ্যাদেশ

গত বছরের ৮ ডিসেম্বর ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সংশোধন অধ্যাদেশ’ জারি করে সরকার। এই অধ্যাদেশটিও বাতিলের সুপারিশ করছে বিশেষ কমিটি। সংশোধিত অধ্যাদেশে আগের আইনে থাকা কমিশনের ‘চেয়ারম্যান’ পরিবর্তন করে নতুন আইনে ‘চেয়ারপারসন’ করা হয়। এ ছাড়া ‘সদস্য’ পরিবর্তন করে ‘কমিশনার’ পদ যুক্ত করা হয়। অধ্যাদেশে সশস্ত্র বাহিনীর কোনো সদস্য, পুলিশ, র্যাব, বিজিবির সদস্যসহ যে কোনো গোয়েন্দা সংস্থার বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলে এখন থেকে সরাসরি তদন্ত করতে পারবে মানবাধিকার কমিশন, যা আগের আইনে ছিল না। এতে আরও বলা হয়, কোনো সরকারি কর্মচারী কিংবা শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য বা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলাকালে কমিশন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে যে কোনো আইনানুগ অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ বা সুপারিশ করতে পারবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ওই নির্দেশ বা সুপারিশ কার্যকর করবে। অধ্যাদেশে বলা হয়, লিখিত অভিযোগ ছাড়াও গণমাধ্যমে প্রচারিত বা প্রকাশিত প্রতিবেদন বা যে কোনো মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘন সম্পর্কিত তথ্যের ভিত্তিতে কমিশন ঘটনা তদন্ত করতে পারবে। কমিশনের তদন্ত কর্মকর্তা কোনো রাষ্ট্রীয় বা সরকারি প্রতিষ্ঠান বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যে কোনো পর্যায়ের কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন বা তথ্য-প্রমাণ তলব করতে পারবেন। পাশাপাশি কমিশন তার কার্যাবলি সম্পন্ন করার উদ্দেশ্যে যে কোনো সময় যে কোনো স্থান পরিদর্শন করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে ওই স্থান নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের কোনো ধরনের পূর্বানুমতি বা অবহিত করার প্রয়োজন হবে না। অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, কারাগার, হাজতখানাসহ যে কোনো আটক কেন্দ্র, নিরাপত্তা হেফাজত, শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র পরিদর্শন করতে পারবে কমিশন। এ ছাড়াও কমিশনের আরও বেশ কিছু বিষয়ে ক্ষমতা বৃদ্ধিসহ কমিশন ৫ সদস্যের করার বিধান করা হয়।

সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি নিয়োগ অধ্যাদেশ

গত বছরের ২১ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর গেজেট জারি করা হয়। এই অধ্যাদেশটির ব্যাপারেও একমত হতে পারেননি অংশীজনরা। ফলে এটি বাতিলের সুপারিশের তালিকায় রয়েছে। অধ্যাদেশে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগের লক্ষ্যে উপযুক্ত ব্যক্তিকে বাছাইপূর্বক প্রধান বিচারপতি কর্তৃক রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ প্রদানের উদ্দেশ্যে প্রণীত অধ্যাদেশ এটি। এই পরামর্শ বা সুপারিশ প্রদানে একটি স্থায়ী কাউন্সিল থাকবে এবং এটির নাম হবে ‘সুপ্রিম জুডিসিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল’। সাত সদস্যের এই কাউন্সিলের চেয়ারপারসন হবেন প্রধান বিচারপতি। হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্য ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে কাউন্সিল। এ ছাড়া আবেদন চেয়ে গণবিজ্ঞপ্তি দেবে। সংগৃহীত তথ্য এবং জমা পড়া আবেদন যাচাই-বাছাই করবে। কাউন্সিলের বিবেচনায় যথাযথ প্রার্থীদের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রস্তুত করবে। প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেবে। নিয়োগযোগ্য বিচারকের সংখ্যার অতিরিক্ত যুক্তিসংগত সংখ্যক প্রার্থীর নামসহ একটি তালিকা সুপারিশ আকারে প্রণয়ন ও প্রধান বিচারপতির কাছে উপস্থাপন করবে। অতিরিক্ত বিচারকদের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারক নিয়োগ করা হবে। এজন্য কাউন্সিল সুপারিশ প্রণয়ন করে তা প্রধান বিচারপতির কাছে দেবে। চাইলে কাউন্সিল সুপ্রিম কোর্টের কোনো অতিরিক্ত বিচারকের মেয়াদ বাড়ানোর সুপারিশ করতে পারবে। আবার কোনো অতিরিক্ত বিচারক স্থায়ী নিয়োগে অনুপযুক্ত হলে কাউন্সিল তাকে সুপারিশে বিরত থাকতে পারবে। শূন্যপদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে কর্মরত জ্যেষ্ঠদের আপিল বিভাগে বিচারক হিসেবে নিয়োগ করা হবে। এজন্য নির্ধারিত নিয়োগযোগ্য বিচারকের সংখ্যার অতিরিক্ত যুক্তিসংগত সংখ্যক নামসহ একটি তালিকা সুপারিশ আকারে প্রণয়ন ও প্রধান বিচারপতির কাছে দেবে। প্রধান বিচারপতি সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদ অনুসারে তার পরামর্শ রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাবেন।

দুদক (সংশোধন) অধ্যাদেশ

দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার। অধ্যাদেশে কমিশনের সদস্য সংখ্যা তিন থেকে বাড়িয়ে পাঁচ করা এবং কমিশনের মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে চার বছর নির্ধারণ করা হয়। অধ্যাদেশে বলা হয়, কমিশনে অন্তত একজন নারী কমিশনার এবং অন্তত একজন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে দক্ষ ও অভিজ্ঞ কমিশনার থাকতে হবে। কমিশনের সদস্যদের মধ্য থেকে রাষ্ট্রপতি একজনকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেবেন। তবে বিদ্যমান কমিশনের ক্ষেত্রে এই সংশোধিত অধ্যাদেশ কার্যকর হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত সরকারের ওপর ন্যস্ত রাখা হয়েছে। অধ্যাদেশে আরও বলা হয়, এখন থেকে প্রতি ছয় মাস পরপর দুদককে তাদের কার্যক্রমের হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। পাশাপাশি দুদকের সব কর্মকর্তার জন্য সম্পদের হিসাব জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়। এ ছাড়া বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের ক্ষমতাও দুদককে দেওয়া হয়। এই অধ্যাদেশটিও সংসদীয় কমিটির বাতিলের সুপারিশের তালিকায় রয়েছে।

রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) বিলুপ্ত করে রাজস্ব খাতকে ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ নামে দুটি পৃথক বিভাগে ভাগ করে গত বছরের ১২ মে অধ্যাদেশ জারি করে সরকার। এর ফলে বিলুপ্ত হয় ‘এনবিআর’ ও ‘আইআরডি’ নামক প্রতিষ্ঠান। এটিকে এনবিআরের ৫০ বছরের ইতিহাসে প্রথম বড় প্রশাসনিক বিভাজন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। সংসদীয় বিশেষ কমিটি এই অধ্যাদেশটিও বাতিলের তালিকায় রেখেছে।

বেসামরিক বিমান চলাচল অধ্যাদেশ

দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল ব্যবস্থায় যাত্রীসেবা নিশ্চিতকরণ, টিকিটিং ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা এবং বিমান ভাড়া (ট্যারিফ) যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার লক্ষ্যে গত ২ জানুয়ারি ‘বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করে সরকার। এই অধ্যাদেশটিও বাতিলের সুপারিশের তালিকায় রেখেছে সংসদীয় কমিটি। অধ্যাদেশ অনুযায়ী, বিমান ভাড়া ও বিভিন্ন চার্জ নির্ধারণে স্বচ্ছতা আনতে সরকার একটি উচ্চপর্যায়ের ‘উপদেষ্টা পর্ষদ’ গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়। এই পর্ষদ দেশি ও বিদেশি এয়ার অপারেটর এবং গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং অপারেটরদের জন্য ফি, চার্জ, রয়্যালটি এবং ভাড়ার হার নির্ধারণের জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ করবে। এয়ার অপারেটরদের তাদের সব রুটের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ ভাড়ার তালিকা (ট্যারিফ) কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করতে হবে। কোনো রুটে কৃত্রিম সংকট বা অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি দেখা দিলে চেয়ারম্যান সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারবেন। নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, কোনো বিদেশি এয়ারলাইন্স বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা করতে চাইলে তাকে নিজস্ব কার্যালয় স্থাপন করতে হবে অথবা শতভাগ বাংলাদেশি মালিকানাধীন সংস্থাকে সাধারণ বিক্রয় প্রতিনিধি (জিএসএ) হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে। এ ছাড়া কোনো এয়ার অপারেটর সরাসরি ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসা বা জিএসএ হিসেবে কাজ করতে পারবে না, যা বাজারে অসম প্রতিযোগিতা রোধে সহায়ক হবে।

মানবদেহে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন অধ্যাদেশ

গত বছরের ১৯ নভেম্বর মানবদেহে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করে সরকার। অধ্যাদেশে বলা হয়, মানবদেহে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন ও প্রতিস্থাপনের জন্য আগের আইনের বিধান অপ্রতুল। মানবদেহে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন ও প্রতিস্থাপন সহজীকরণ, ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ব্যবহার রোধ ও অবৈধ পাচার রোধ করতে আগের আইন রহিত করে একটি যুগোপযোগী অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা সমীচীন। নতুন এই অধ্যাদেশের ফলে অঙ্গ প্রতিস্থাপনটা খুব সহজ হবে। আগে যেমন ছিল অঙ্গ প্রতিস্থাপনের জন্য খুবই কাছের যেমন ভাইবোন, বাবা-মা থেকে নিতে পারতেন, এখন এটাকে একটু সম্প্রসারণ করা হয়েছে। অঙ্গ দান করার ক্ষেত্রে পরিধি বাড়ানো হয়েছে। নতুন করে ভাতিজা, ভাগিনা যুক্ত করা হয়েছে। তারাও অঙ্গদান করতে পারবে না। এর ফলে বাংলাদেশের অনেককেই এখন কিডনি ট্রান্সপ্লান্টের জন্য আর বিদেশে যাওয়া লাগবে না। বাংলাদেশের হাসপাতালগুলোও এই সার্ভিস দিতে পারবে। তবে এই অধ্যাদেশের বিরোধিতা করেছে বিরোধী দল। ফলে এই অধ্যাদেশটিও বাতিলের তালিকায় থাকছে।

সূত্র : কালবেলা

ফরিদপুরে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের নামে থানা-উপজেলার দাবি

মো. ইনামুল খন্দকার, মধুখালী:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৮:১০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের নামে থানা-উপজেলার দাবি

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলে পৃথক থানা ও উপজেলা প্রতিষ্ঠার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের স্মৃতিকে ধারণ করে “রউফনগর থানা” ও “রউফনগর উপজেলা” বাস্তবায়নের দাবিতে এ কর্মসূচিতে কয়েকশ মানুষ অংশ নেন।

শনিবার (১৬ মে) সকালে কামারখালী বাজার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে বাগাট, কামারখালী, ডুমাইন, আড়পাড়া ও ওমেক্স ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন রউফনগর থানা বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও আড়পাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জাকির হোসেন মোল্লা। বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী মতিউল মুরাদ, কামারখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাকিব হোসেন চৌধুরী ইরান, আড়পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদ, বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ কলেজের সাবেক সদস্য দাউদ হোসেন, প্রফেসর এহেতশাম, সদস্য সচিব প্রফেসর কাজী কামাল, অ্যাডভোকেট খসরুল আলম, বিএনপি নেতা ফরিদুল ইসলাম ফরহাদ এবং উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ওমর ফারুখসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, দক্ষিণ মধুখালীর বিস্তীর্ণ জনপদ দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক নানা সেবা থেকে বঞ্চিত। সাধারণ মানুষকে থানা ও উপজেলা পর্যায়ের সেবা নিতে দূরবর্তী এলাকায় যেতে হয়, ফলে সময় ও অর্থ—দুইই অপচয় হচ্ছে। তারা জানান, এ অঞ্চলে সরকারি কলেজ, শতবর্ষী ডাকবাংলো, বৃহৎ রেল জংশন, নদীবন্দর, মিল-কারখানা ও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। জনসংখ্যা ও অবকাঠামোগত দিক থেকেও এলাকাটি একটি স্বতন্ত্র থানা ও উপজেলা হওয়ার যোগ্যতা রাখে।

মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের নামে “রউফনগর” নামকরণ করা হলে তা নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও দেশপ্রেমের প্রতীক হয়ে থাকবে। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারকে রউফনগর থানা ও উপজেলা ঘোষণার দাবি জানান।

মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে সংক্ষিপ্ত মিছিল বের করেন এবং দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

টিকটকে প্রেম-বিয়ে: ফরিদপুরে পাটক্ষেতে রাতভর নির্যাতনের শিকার নববধূ

মো. ইনামুল খন্দকার, মধুখালী:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৭:৪৮ অপরাহ্ণ
টিকটকে প্রেম-বিয়ে: ফরিদপুরে পাটক্ষেতে রাতভর নির্যাতনের শিকার নববধূ

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় টিকটকে পরিচয়ের পর বিয়ে করা এক কিশোরী গৃহবধূকে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে এনে পাটক্ষেতে নিয়ে রাতভর নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই তরুণীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের কুরানিয়ার চর এলাকায়। অভিযুক্ত প্রান্ত শেখ (২২) ওই এলাকার মুজিবর শেখের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকের মাধ্যমে পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার টেপ্পিগঞ্জ ইউনিয়নের রশিদ শেখের মেয়ে রোকিয়া বেগমের সঙ্গে গাজীপুরে পরিচয় হয় প্রান্ত শেখের। পরিচয়ের একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে প্রায় দেড় মাস আগে তারা পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী রোকিয়া বেগম জানান, শুক্রবার (১৫ মে) রাতে প্রান্ত তাকে গাজীপুর থেকে নিজ বাড়িতে নেওয়ার কথা বলে ফরিদপুরের মধুখালীতে নিয়ে আসে। রাত আনুমানিক ২টার দিকে মধুখালী রেলগেট এলাকায় বাস থেকে নামার পর প্রান্ত তাকে কুরানিয়ার চর গ্রামের একটি পাটক্ষেতে নিয়ে যায়। সেখানে রাতভর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়।

রোকিয়ার অভিযোগ, একপর্যায়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড়ে জখম করা হয়। এমনকি তার চোখ উপড়ে ফেলারও চেষ্টা করা হয়। প্রাণ বাঁচাতে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন।

শনিবার (১৬ মে) সকালে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি জানতে পেরে গ্রাম পুলিশকে খবর দেন। পরে গ্রাম পুলিশ তাকে নওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যায়। সেখানে সাংবাদিকদের কাছে নিজের ওপর চালানো নির্যাতনের বর্ণনা দেন রোকিয়া। এ সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য, গ্রাম পুলিশ ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।

বর্তমানে ভুক্তভোগী তরুণী মধুখালী থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।

এ বিষয়ে মধুখালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তন্ময় কুমার বলেন, “খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করি। তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে নির্যাতনের আলামত পাওয়া গেছে। ঘটনায় জড়িত অভিযুক্তকে আটকের চেষ্টা চলছে এবং মামলার প্রস্তুতি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

সালথায় বিকল্প পথ ছাড়াই চলছে ব্রিজ নির্মাণ, ভোগান্তিতে কয়েক হাজার মানুষ

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৫:০১ অপরাহ্ণ
সালথায় বিকল্প পথ ছাড়াই চলছে ব্রিজ নির্মাণ, ভোগান্তিতে কয়েক হাজার মানুষ

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কে নির্মাণাধীন দুটি ব্রিজকে কেন্দ্র করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। উপজেলার বালিয়াগট্টি বাজার ও সালথা বাজার এলাকায় চলমান ব্রিজ নির্মাণকাজের কারণে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাজারো যাত্রী, পরিবহন চালক ও ব্যবসায়ীদের। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিকল্প যাতায়াত ব্যবস্থা ছাড়াই কাজ শুরু করায় জনদুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।

ফরিদপুর-সালথা সড়কটি জেলার অন্যতম ব্যস্ত সড়ক হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন এ পথ ব্যবহার করে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যাতায়াত করেন। কিন্তু ব্রিজ নির্মাণের কারণে সরাসরি যান চলাচল বন্ধ থাকায় এখন যাত্রীদের চার থেকে পাঁচ কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প ও সংকীর্ণ সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে একদিকে সময় নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়াও।

সালথা বাজারের ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম মারুফ বলেন, “আগে কয়েক মিনিটে বাজারে আসা যেত, এখন ঘুরে আসতে অনেক সময় লাগে। পরিবহন খরচও বেড়ে গেছে। এতে ব্যবসায় বড় ক্ষতি হচ্ছে।”

স্থানীয় কলেজছাত্রী সুমাইয়া আক্তার জানান, প্রতিদিন কলেজে যেতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তিনি বলেন, “সকালে সময়মতো বের হলেও যানজটের কারণে ক্লাসে পৌঁছাতে দেরি হয়। বৃষ্টির দিনে কাঁচা বিকল্প রাস্তা দিয়ে চলাচল আরও কষ্টকর হয়ে পড়ে।”

এদিকে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন বাস ও পণ্যবাহী যানবাহনের চালকরা। সরু বিকল্প রাস্তায় বড় যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকছে ট্রাক ও বাস। স্থানীয়দের অভিযোগ, জরুরি রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সও বিকল্প সড়কের কারণে দ্রুত চলাচল করতে পারছে না।

পণ্যবাহী ট্রাকচালক আব্দুল কাদের বলেন, “রাস্তা সরু হওয়ায় গাড়ি ঘোরাতে সমস্যা হয়। একটু বৃষ্টি হলেই কাদায় আটকে যেতে হয়। এতে সময় নষ্টের পাশাপাশি অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ হচ্ছে।”

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, উন্নয়ন কাজ অবশ্যই প্রয়োজন। তবে জনদুর্ভোগ কমাতে আগে বিকল্প রাস্তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা উচিত ছিল। তারা দ্রুত সাময়িক চলাচলের উপযোগী রাস্তা নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন বলেন, “নির্মাণাধীন ব্রিজের আশপাশে বিকল্প রাস্তার জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা পাওয়া যায়নি। স্থানীয়ভাবে কেউ জায়গা দিলে দ্রুত বিকল্প পথের ব্যবস্থা করা হবে।”