খুঁজুন
শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬, ৬ চৈত্র, ১৪৩২

‘গাঁয়ের পথের বাঁকে’

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬, ১২:২২ পিএম
‘গাঁয়ের পথের বাঁকে’

গাঁয়ের পথের বাঁকে দাঁড়িয়ে থাকে বিকেল,
ধানক্ষেতে হাওয়ার সুরে বাজে নীরব বীণার খেল।
কাঁচা রাস্তা মাটির গন্ধে ভরে ওঠে মন,
দূর আকাশে মেঘের ভেলায় স্বপ্ন দেখে ক্ষণ।

গরুর গাড়ি ধীরে চলে, টুংটাং ঘণ্টা বাজে,
শিশুরা দৌড়ে হাসে খেলে কাদামাটির মাঝে।
পুকুর পাড়ে তালগাছ নীরব গল্প কয়,
জোনাকির আলোয় রাতে গাঁ যেন জেগে রয়।

বউ কথা কও পাখির ডাক ভোরের আকাশ ছুঁয়ে,
সূর্য উঠে সোনার হাসি ছড়িয়ে দেয় বুকে।
কৃষকের ঘামে ভেজা মাটি ফসল আনে ঘরে,
কষ্টগুলো হাসি হয়ে ধরা দেয় তার পরে।

নদীর জলে নৌকা ভাসে, বাঁশির সুরে ভোর,
জীবনের গান গেয়ে চলে জেলে দিনের পর দিন ঘোর।
মাঠের ধারে কিশোরীরা ফুল তোলে নীরবে,
হাসির রেশ ছড়িয়ে পড়ে বাতাসেরই তীরে।

দুপুর বেলায় খেজুর ছায়ায় ক্লান্ত শরীর ঢাকে,
গল্প জুড়ে দেয় সময়কে গাঁয়ের মানুষ ডাকে।
চুলোর ধোঁয়া উঠতে থাকে সন্ধ্যার আভায় মিশে,
মায়ের ডাকে শিশুরা ফেরে খেলার শেষে হেসে।

গ্রামের মেলা, বাঁশির তান, নাগরদোলার ঘূর্ণি,
স্মৃতির খাতায় রঙিন ছবি আঁকে অগণিত বর্ণি।
আকাশভরা তারা দেখে স্বপ্ন বোনে প্রাণ,
গাঁয়ের সরল জীবনে মেলে সুখেরই সন্ধান।

ঝড় এলে সবাই মিলে ধরে হাতের হাত,
দুঃখ ভোলে, ভালোবাসায় কাটায় জীবনের রাত।
ভোরের শিশির পায়ে মেখে দিন শুরু হয় আবার,
গাঁয়ের পথে বাঁকে বাঁকে লেখা জীবনের ভার।

সেই পথ ধরে হাঁটলে মনে শান্তির ঢেউ লাগে,
নগর জীবনের কোলাহল দূরে সরে ভাগে।
গাঁয়ের মানুষ, গাঁয়ের গান, গাঁয়ের সেই টান,
প্রকৃতির কোলে লুকিয়ে আছে জীবনের আসল মান।

 

লেখক: সংবাদকর্মী, ফরিদপুর

বিএনপির শীর্ষ নেতারা কে কোথায় ঈদ করবেন?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৪ পিএম
বিএনপির শীর্ষ নেতারা কে কোথায় ঈদ করবেন?

বছর ঘুরে আবার এলো ঈদ। ক্ষমতাসীন দল বিএনপির শীর্ষ নেতারা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকা ও পারিবারিক পরিমণ্ডলে ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতি নিয়েছেন। কেউ ঢাকায় থেকে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন, আবার কেউ যাবেন নিজ জেলায়, সেখানে স্থানীয়দের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেবেন। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, এবারের ঈদে রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি তৃণমূলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন নেতারা।

বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকায় জাতীয় ঈদগাহে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাতে অংশ নেবেন। আগামী শনিবার (২১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টায় রাজধানীর সুপ্রিম কোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠেয় এই জামাতে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, ঈদের দিন সকাল ১০টায় রাজধানীর যমুনায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। এ অনুষ্ঠানে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের কেউ কেউ যোগ দিতে পারেন।

সকালে জাতীয় ঈদগাহে নামাজ আদায়ের পর এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।

ঈদের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সমাধিতে জিয়ারত করবেন দলটির নেতারা। এরপর অনেকেই নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

এদিকে বিএনপি শীর্ষ নেতাদের ঈদ উদযাপনের পরিকল্পনা প্রায় চূড়ান্ত। কেউ ঢাকায় থেকে কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে অংশ নেবেন, আবার অনেকেই নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঈদের দিন ঢাকাতেই থাকবেন। তার সঙ্গে রাজধানীতে থাকবেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সেলিমা রহমান এবং সমাজল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। ঈদের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তারা নিজ নিজ এলাকায় যাবেন বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা নিজ নিজ এলাকায় ঈদ করবেন। স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় কেরানীগঞ্জে, আব্দুল মঈন খান নরসিংদীর পলাশে এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কক্সবাজারে ঈদ উদযাপন করবেন।

এ ছাড়া অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রামে থাকবেন এবং জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ঢাকাতেই ঈদের সময় কাটাবেন।

তবে এবারের ঈদে দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে দেশে দেখা যাবে না। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস অসুস্থ হয়ে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য নজরুল ইসলাম খানও দেশের বাইরে চিকিৎসার কারণে ঈদের সময় দেশে থাকছেন না।

রাজধানীতে আরও থাকছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তারা ঢাকায় বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।

এদিকে জেলার নেতারাও নিজ নিজ এলাকায় ঈদের দিন নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ কুমিল্লার মুরাদনগরে, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু রাজশাহীতে এবং সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী মাগুরায় ঈদ করবেন। এ ছাড়া সিলেটে থাকবেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, বরিশালে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং লক্ষ্মীপুরে থাকবেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

সব মিলিয়ে এবারের ঈদে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের একাংশ ঢাকায় এবং অন্যরা দেশের বিভিন্ন জেলায় থেকে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।

সূত্র : বাংলানিউজ২৪

ফরিদপুরে মাঠে কাজ করতে গিয়ে বজ্রাঘাতে প্রাণ গেল বিএনপি নেতার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬, ৬:০৯ পিএম
ফরিদপুরে মাঠে কাজ করতে গিয়ে বজ্রাঘাতে প্রাণ গেল বিএনপি নেতার

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতে মো. লুৎফর রহমান (৪৬) নামে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (২০ মার্চ) দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে উপজেলার আড়পাড়া ইউনিয়নের মধ্য আড়পাড়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত লুৎফর রহমান আড়পাড়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পাশাপাশি তিনি পেশায় একজন পরিশ্রমী কৃষক হিসেবে এলাকায় সুপরিচিত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, শুক্রবার দুপুরে হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এবং ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বজ্রপাত শুরু হয়। এ সময় বাড়ির পাশের জমিতে কৃষিকাজ করছিলেন লুৎফর রহমান। আকস্মিক বজ্রপাতে তিনি গুরুতরভাবে আহত হন। বজ্রাঘাতে তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়।

ঘটনার পরপরই পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে পথেই তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।

আড়পাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. বদরুজ্জামান বাবু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “লুৎফর রহমান একজন পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। বজ্রপাতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।”

মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির মো. তাইজুর রহমান বলেন, “বজ্রপাতে একজনের মৃত্যুর খবর আমরা মৌখিকভাবে পেয়েছি। বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে শোকের পাশাপাশি আতঙ্ক বিরাজ করছে। আবহাওয়া পরিবর্তনের এ সময়ে খোলা মাঠে কাজ করার ঝুঁকি নিয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গা, গাছের নিচে বা পানির কাছে অবস্থান করা অত্যন্ত বিপজ্জনক—এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

উল্লেখ্য, প্রতি বছর বর্ষা ও কালবৈশাখী মৌসুমে দেশে বজ্রপাতে হতাহতের ঘটনা বেড়ে যায়, যা গ্রামীণ কৃষকদের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ফরিদপুরে ৫ দিনব্যাপী বাসন্তী পূজা শুরু হচ্ছে ২৩ মার্চ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬, ৫:০১ পিএম
ফরিদপুরে ৫ দিনব্যাপী বাসন্তী পূজা শুরু হচ্ছে ২৩ মার্চ

ফরিদপুরে আগামী ২৩ মার্চ থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শ্রী শ্রী বাসন্তী পূজা শুরু হচ্ছে। এ উপলক্ষে আয়োজক কমিটির উদ্যোগে পাঁচদিনব্যাপী নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানসূচি অনুযায়ী, ২৩ মার্চ সোমবার (পঞ্চমী) রাত ৮টায় দেবীর নৌকায় আগমনের মধ্য দিয়ে পূজার সূচনা হবে। আয়োজকদের মতে, নৌকায় দেবীর আগমন শস্যবৃদ্ধি ও জলবৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।

২৪ মার্চ মঙ্গলবার (মহাষষ্ঠী) থেকে পূজার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে। ২৫ মার্চ বুধবার (মহাসপ্তমী) সায়ংকালে দেবীর আমন্ত্রণ, অধিবাস ও শ্রীমদ্ভগবদগীতা পাঠ অনুষ্ঠিত হবে। একইদিন সন্ধ্যা ৭টা ও রাত ৮টায় রামায়ণ গানের আয়োজন রাখা হয়েছে।

২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার (মহাঅষ্টমী) নবপত্রিকা প্রবেশ, স্থাপন, কল্পারম্ভ এবং অষ্টমী বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হবে এবং রাত ৮টায় পূজা প্রশস্তা অনুষ্ঠিত হবে।

২৭ মার্চ শুক্রবার (মহানবমী) রাত ৮টায় পূজা প্রশস্তা অনুষ্ঠিত হবে। একইদিনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন রাখা হয়েছে।

সবশেষে ২৮ মার্চ শনিবার (মহাদশমী) দশমী বিহিত পূজা শেষে দেবীর বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পাঁচদিনব্যাপী এই ধর্মীয় উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।

আয়োজকরা জানান, শাস্ত্রমতে এবারের বাসন্তী পূজার বিশেষ তাৎপর্য হচ্ছে দেবীর নৌকায় আগমন ও ঘোটকে গমন, যা দেশ, জাতি ও বিশ্বমানবতার শান্তি ও মঙ্গল কামনার প্রতীক। তারা সকল ভক্তবৃন্দকে এ উৎসবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।