‘গাঁয়ের পথের বাঁকে’
গাঁয়ের পথের বাঁকে দাঁড়িয়ে থাকে বিকেল,
ধানক্ষেতে হাওয়ার সুরে বাজে নীরব বীণার খেল।
কাঁচা রাস্তা মাটির গন্ধে ভরে ওঠে মন,
দূর আকাশে মেঘের ভেলায় স্বপ্ন দেখে ক্ষণ।
গরুর গাড়ি ধীরে চলে, টুংটাং ঘণ্টা বাজে,
শিশুরা দৌড়ে হাসে খেলে কাদামাটির মাঝে।
পুকুর পাড়ে তালগাছ নীরব গল্প কয়,
জোনাকির আলোয় রাতে গাঁ যেন জেগে রয়।
বউ কথা কও পাখির ডাক ভোরের আকাশ ছুঁয়ে,
সূর্য উঠে সোনার হাসি ছড়িয়ে দেয় বুকে।
কৃষকের ঘামে ভেজা মাটি ফসল আনে ঘরে,
কষ্টগুলো হাসি হয়ে ধরা দেয় তার পরে।
নদীর জলে নৌকা ভাসে, বাঁশির সুরে ভোর,
জীবনের গান গেয়ে চলে জেলে দিনের পর দিন ঘোর।
মাঠের ধারে কিশোরীরা ফুল তোলে নীরবে,
হাসির রেশ ছড়িয়ে পড়ে বাতাসেরই তীরে।
দুপুর বেলায় খেজুর ছায়ায় ক্লান্ত শরীর ঢাকে,
গল্প জুড়ে দেয় সময়কে গাঁয়ের মানুষ ডাকে।
চুলোর ধোঁয়া উঠতে থাকে সন্ধ্যার আভায় মিশে,
মায়ের ডাকে শিশুরা ফেরে খেলার শেষে হেসে।
গ্রামের মেলা, বাঁশির তান, নাগরদোলার ঘূর্ণি,
স্মৃতির খাতায় রঙিন ছবি আঁকে অগণিত বর্ণি।
আকাশভরা তারা দেখে স্বপ্ন বোনে প্রাণ,
গাঁয়ের সরল জীবনে মেলে সুখেরই সন্ধান।
ঝড় এলে সবাই মিলে ধরে হাতের হাত,
দুঃখ ভোলে, ভালোবাসায় কাটায় জীবনের রাত।
ভোরের শিশির পায়ে মেখে দিন শুরু হয় আবার,
গাঁয়ের পথে বাঁকে বাঁকে লেখা জীবনের ভার।
সেই পথ ধরে হাঁটলে মনে শান্তির ঢেউ লাগে,
নগর জীবনের কোলাহল দূরে সরে ভাগে।
গাঁয়ের মানুষ, গাঁয়ের গান, গাঁয়ের সেই টান,
প্রকৃতির কোলে লুকিয়ে আছে জীবনের আসল মান।
লেখক: সংবাদকর্মী, ফরিদপুর


আপনার মতামত লিখুন
Array