ফরিদপুরে প্রকাশ্যে খাল-বিল থেকে বালু উত্তোলন, ঝুঁকিতে কৃষিজমি ও সড়ক
ফরিদপুরের সদরপুরে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রকাশ্যে সরকারি খাল ও বিল থেকে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করার তীব্র অভিযোগ উঠেছে। অবাধে বালু তোলার ফলে খালের পাড়, পার্শ্ববর্তী কৃষিজমি ও আশপাশের সড়ক মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। দ্রুত এই অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, সদরপুর উপজেলার আকোটের চর ইউনিয়নের আকোট বাজারসংলগ্ন সরকারি খাল থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু তুলছেন কাজল নামের এক ব্যক্তি। একই খালের কাজীডাঙ্গী এলাকা থেকে মুন্নাফ শেখ নামের আরেক ব্যক্তি একইভাবে বালু উত্তোলন করছেন। এছাড়া চর বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের জরিপের ডাঙ্গ এলাকার ছোট কোল (বিল) থেকে শাহীন নামের এক ব্যক্তি বালু তুলে জরিপের ডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন সড়কের পাশের জমি ভরাট করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান:
পরিবেশ ও কৃষির ক্ষতি: অব্যাহত বালু উত্তোলনের ফলে খালের স্বাভাবিক নাব্যতা নষ্ট হচ্ছে, পাড় ভেঙে সংকুচিত হচ্ছে আবাদি জমি।
অবকাঠামোগত ঝুঁকি: ভারী ড্রেজার ও পাইপলাইনের কারণে স্থানীয় সড়কগুলো ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
প্রভাবশালীদের দাপট: পদ্মা তীরবর্তী এই এলাকায় প্রতিবছর নদীভাঙনে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হন। এর ওপর প্রভাবশালী চক্র দিনের আলোতেই ড্রেজার বসিয়ে সরকারি সম্পত্তি সাবাড় করছে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে ড্রেজার মালিক মুন্নাফ শেখ মোবাইল ফোনে দাবি করেন, তিনি নদীর পাড়ে নিজের ব্যক্তিগত জায়গা থেকে বালু তুলছেন। তবে অপর দুই অভিযুক্ত কাজল ও শাহীনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
ঘটনার সত্যতা যাচাই করে কঠোর ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছেন সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন। তিনি জানান, সরকারি খাল, বিল বা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তোলার কোনো সুযোগ নেই। সরেজমিনে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন
Array