খুঁজুন
, ,

কুয়েতে রহস্যজনক মৃত্যু, ৮ বছর পর প্রবাসীর ঘরে ফিরলো সালথার জামালের লাশ

আবু নাসের হুসাইন, সালথা
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:৪৫ অপরাহ্ণ
কুয়েতে রহস্যজনক মৃত্যু, ৮ বছর পর প্রবাসীর ঘরে ফিরলো সালথার জামালের লাশ

কুয়েতে কর্মরত ফরিদপুরের সালথা উপজেলার প্রবাসী যুবক জামাল মাতুব্বরের রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় শোক ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। কুয়েতের আহমেদী জেলার অপেরা ফার্ম হাউজে কর্মরত অবস্থায় গত পহেলা জানুয়ারি তার মৃত্যু হয়।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে জামাল মাতুব্বরের দাফন সম্পন্ন করা হয়। এ সময় তার বাড়িতে নেমে আসে শোকের ছায়া।

নিহত জামাল মাতুব্বর ফরিদপুর জেলার সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের রাহুতপাড়া গ্রামের মৃত হামেদ মাতুব্বরের ছেলে। তিনি দুই কন্যা সন্তানের জনক।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, সংসারের সুখের জন্য প্রায় আট বছর আগে কুয়েতে পাড়ি জমান জামাল। সেখানেই তিনি কর্মজীবন কাটাচ্ছিলেন। তিন বছর আগে একবার ছুটিতে দেশে এসেছিলেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে আবার দেশে ফেরার কথা ছিল তার। কিন্তু প্রবাসজীবনের সেই প্রত্যাবর্তন আর হলো না—লাশ হয়েই ফিরতে হলো তাকে।

জামালের স্ত্রী কাকোলি বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করে বলেন, “আমার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের জন্যই তাকে হত্যা করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা ধারণা করছি, হত্যাকারীরা তার পরিচিত মানুষ। আমি কুয়েতে বাংলাদেশি দূতাবাসের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করছি।” এ কথা বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

এ বিষয়ে তালেশ্বর গ্রামের বাসিন্দা ও কুয়েতপ্রবাসী মুন্নু ফকির বলেন, “আমি ডিসেম্বর মাসে ছুটিতে দেশে এসেছি। জামাল যেখানে থাকত, সেখান থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরে আমি থাকি। পহেলা জানুয়ারি খবর পাই, জামাল আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা গেছে। কুয়েতের ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়। পরে পুলিশের মাধ্যমে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়।”

তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্ত শেষে কুয়েতে বাংলাদেশি দূতাবাসের সহযোগিতায় মঙ্গলবার জামালের মরদেহ দেশে পাঠানো হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ গ্রামে এনে দাফন সম্পন্ন করেন।

এলাকাবাসী ও স্বজনরা জামাল মাতুব্বরের মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটনে কুয়েতে বাংলাদেশি দূতাবাসের হস্তক্ষেপ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

 

ফরিদপুরে বাথরুমের স্ল্যাবের নিচে মিলল নারীর বস্তাবন্দি কঙ্কাল

মধুখালী প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বাথরুমের স্ল্যাবের নিচে মিলল নারীর বস্তাবন্দি কঙ্কাল

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রীপুর কর্মকারপাড়ায় একটি বসতবাড়ির কাঁচা বাথরুমের স্ল্যাবের নিচ থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় এক নারীর কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রবিবার (২৬ জুলাই) এ ঘটনা জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। কঙ্কালটির পরিচয় ও মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে মধুখালী থানা পুলিশ।

বাড়ির মালিক মৃত মধু মণ্ডলের ছেলে মো. আলী আকবর মণ্ডল (৮০)-এর স্ত্রী মোছা. রওশনা বেগম (৫৫) জানান, ভোর প্রায় ৫টার দিকে তিনি বাথরুম ব্যবহার করতে গিয়ে স্ল্যাবের ওপর দাঁড়ানোর সময় অন্য দিনের তুলনায় অস্বাভাবিক অনুভব করেন। বিষয়টি তিনি স্বামীকে জানালে প্রথমে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। পরে আলী আকবর মণ্ডল নিজে সেখানে গিয়ে স্ল্যাবের নিচে বস্তাবন্দি কিছু রয়েছে বলে সন্দেহ করেন। এরপর পরিবারের অন্য সদস্য ও স্বজনদের বিষয়টি জানানো হয়।

দুপুর ১টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে মধুখালী থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়। সাব-ইন্সপেক্টর মো. মাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ বাথরুমের স্ল্যাব সরিয়ে নিচ থেকে একটি বস্তা উদ্ধার করে। বস্তা খুলে দেখা যায়, ভেতরে এক নারীর কঙ্কাল রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উদ্ধার হওয়া কঙ্কালটির মাথার খুলি মাঝারি আকারের। কঙ্কালের সঙ্গে দীর্ঘ কালো চুলের অংশ পাওয়া গেছে। এছাড়া হাড়গুলোর বিভিন্ন জোড়া বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, মরদেহটি দীর্ঘদিন ধরে সেখানে মাটিচাপা অবস্থায় ছিল। তবে এটি কতদিন আগের এবং কীভাবে সেখানে রাখা হয়েছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। একটি আবাসিক বাড়ির বাথরুমের নিচ থেকে কঙ্কাল উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় নানা ধরনের আলোচনা ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।

মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. মারুফ হাসান বলেন, উদ্ধার হওয়া কঙ্কালটি ময়নাতদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। কঙ্কালের পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরও জানান, থানার প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে মধুখালী উপজেলায় কোনো নারী নিখোঁজ থাকার অভিযোগ নথিভুক্ত নেই। তাই কঙ্কালটির পরিচয় শনাক্তে আশপাশের এলাকা এবং পুরোনো নিখোঁজ সংক্রান্ত তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদন এবং তদন্তের ফলাফল পাওয়ার পরই এ ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন সম্ভব হবে।

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় সমাজসেবা কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ৮:৪২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় সমাজসেবা কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে দুর্বৃত্তদের হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২৬ জুলাই) ভোরে এ ঘটনা ঘটে। এতে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার কক্ষের জানালার কাচ ভেঙে ফেলা হয়। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন ফরিদপুর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ এহিয়াতুজ্জামান।

সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ‘ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬’ কার্যক্রমে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের জন্য আবেদনকারীদের রোববার (২৬ জুলাই) সকাল ১০টায় আলফাডাঙ্গা উপজেলা পরিষদের মিনি কনফারেন্স রুমে উপস্থিত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে এর আগেই সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোয়াম্মদ মাহবুব স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে আবেদন জমার শেষ সময় ২৮ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়। ফলে নির্ধারিত দিনের পরীক্ষা বা বাছাই কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়।

এরই মধ্যে রোববার ভোরে কে বা কারা সমাজসেবা কার্যালয়ে প্রবেশ করে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার কক্ষের জানালার কাচ ভাঙচুর করে পালিয়ে যায়।

সকালে অনেক আবেদনকারী পরীক্ষা দিতে এসে ফিরে যান। আবার অনেকে নতুন সময়সীমার সুযোগে আবেদনপত্র জমা দিতে দেখা যায়। এ কারণে স্থানীয়ভাবে ধারণা করা হচ্ছিল, নিয়োগ কার্যক্রমের সময়সূচি পরিবর্তনকে কেন্দ্র করেই এ ঘটনা ঘটতে পারে।

তবে আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত নূর মৌসুমি এ ধারণা নাকচ করে বলেন, “ফ্যামিলি কার্ড শুমারির আবেদনকারীদের সঙ্গে এ ভাঙচুরের কোনো সম্পর্ক রয়েছে বলে আমরা মনে করছি না। সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে আবেদন জমার সময় ২৮ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানোর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। সেটি পাওয়ার পর আজ সকাল ৮টার দিকে আমি বিষয়টি ফেসবুকে জানিয়ে দিয়েছি। ভাঙচুরের ঘটনায় সমাজসেবা কর্মকর্তাকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

আলফাডাঙ্গা সমাজসেবা কার্যালয়ের নৈশপ্রহরী জাকির হোসেন বলেন, “আমি রাতে অফিসে দায়িত্বে ছিলাম। দায়িত্ব শেষ করে চলে যাওয়ার প্রায় ১৫ মিনিট পর এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানতে পেরেছি।”

অফিস সহকারী আজিজুর রহমান বলেন, “সকাল পৌনে ৯টার দিকে অফিসে এসে দেখি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার কক্ষের জানালার কাচ ভাঙা। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি স্যারকে জানাই।”

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ঝুমুর সরকার বলেন, “অফিসে প্রবেশের আগেই খবর পাই দুর্বৃত্তরা আমার কক্ষের জানালার কাচ ভেঙে ফেলেছে। বিষয়টি জেলা কার্যালয়কে জানিয়েছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি পেলেই থানায় অভিযোগ দিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ফরিদপুর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ এহিয়াতুজ্জামান বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।”

ফরিদপুরে শিক্ষার্থীদের জন্য গণপরিবহনে হাফ ভাড়া কার্যকরের দাবি, স্মারকলিপি প্রদান

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ৬:২১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে শিক্ষার্থীদের জন্য গণপরিবহনে হাফ ভাড়া কার্যকরের দাবি, স্মারকলিপি প্রদান

ফরিদপুরে শিক্ষার্থীদের জন্য গণপরিবহনে হাফ ভাড়া কার্যকরের দাবিতে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে ফরিদপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রদল।

রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা জেলা প্রশাসকের কাছে এ স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন। এ সময় ফরিদপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে শিক্ষার্থীদের জন্য গণপরিবহনে হাফ ভাড়ার সুবিধা চালু থাকলেও ফরিদপুরে তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। ফলে প্রতিদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের পূর্ণ ভাড়া পরিশোধ করতে হচ্ছে, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে।

তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়া শুধু একটি সুবিধা নয়, বরং শিক্ষাবান্ধব ও কল্যাণমূলক উদ্যোগ। এই সুবিধা নিশ্চিত হলে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ সহজ হবে এবং তাদের আর্থিক দুর্ভোগ অনেকাংশে কমে আসবে।

স্মারকলিপিতে ফরিদপুর জেলার সব ধরনের গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়া কার্যকর করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে পরিবহন মালিক সমিতি ও শ্রমিক সংগঠনগুলোকে এ বিষয়ে কার্যকর নির্দেশনা দেওয়ার দাবিও জানানো হয়।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে ছাত্রদলের নেতারা জানান।