খুঁজুন
, ,

সালথায় ‘রিকশা’ বিতর্কে সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি দোষারোপে সরব বিএনপি নেতারা

হারুন-অর-রশীদ ও এহসানুল হক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:১৭ অপরাহ্ণ
সালথায় ‘রিকশা’ বিতর্কে সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি দোষারোপে সরব বিএনপি নেতারা

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় ‘রিকশা’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিএনপির এক এজেন্টকে মারধর, কয়েকটি বাড়িঘরে হামলা ও মিথ্যা প্রচারের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীরা।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় উপজেলার রামকান্তপুর গ্রামে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা যুব জমিয়তে ওলামা ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি মুফতি এনায়েত তালুকদার অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা ও জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার ভাতিজা এসকেন তালুকদারকে কেন্দ্রের এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ভোটগ্রহণ চলাকালে তিনি লক্ষ্য করেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তালুকদারের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ব্যক্তি ‘রিকশা’ প্রতীকে ভোট দিচ্ছেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানালে নির্বাচন শেষে ক্ষুব্ধ হয়ে এসকেন তালুকদারকে ধাওয়া করে মারধর করা হয়। প্রাণভয়ে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

তিনি আরও দাবি করেন, এ সময় ইশারত মোল্লার ছেলে মোস্তাকিনসহ কয়েকজনকে মারধর করে একটি দোকানের ভেতরে আটকে রাখা হয়। এতে তারা আহত হন। বর্তমানে এসকেন তালুকদার অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন বলে জানান তিনি।

মুফতি এনায়েত তালুকদার বলেন, জুমার নামাজের পর হাফিজুর মৃধার ছেলে সিয়াম মসজিদ থেকে বের হলে কয়েকজন তাকে মারধর করে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয় এবং পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। তার অভিযোগ, প্রথমে প্রতিপক্ষ মৃধা বাড়িতে হামলা চালায়। পরে ধানের শীষের সমর্থক রবিউল মৃধার বাড়িসহ শহিদ ও রিপন তালুকদারের বাড়িতে ভাঙচুর করা হয়। বাধা দিতে গেলে তাদের ওপরও হামলা হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, আসন্ন চেয়ারম্যান নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি পক্ষ বাহিরদিয়া গ্রামের সঙ্গে সমঝোতা করে ‘রিকশা’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার চেষ্টা করছিল। বিষয়টি প্রকাশ পেয়ে গেলে উল্টো তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার চালানো হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের সহ-দপ্তর সম্পাদক তালুকদার আমান হুসাইন বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিজয় মিছিল না করার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং কেন্দ্রীয় নেতা শামা ওবায়েদও সংঘাতে না জড়াতে পরামর্শ দেন। তারা সেই নির্দেশনা মেনে পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করলেও নির্বাচনের দিন ও পরবর্তী সময়ে হুমকি, মারধর ও ভাঙচুরের ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

অভিযোগের বিষয়ে সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার বলেন, সংবাদ সম্মেলনে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তার দাবি, যারা অভিযোগ তুলেছেন তারা আ.লীগের কর্মী এবং ‘রিকশা’ প্রতীকের পক্ষে কাজ করেছেন। তিনি আরও বলেন, গলায় ধানের শীষ ঝুলিয়ে রিকশায় ভোট দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে এবং এদের আশ্রয় দিয়েছেন বিএনপি নেতা আছাদ মাতুব্বর।

তবে আছাদ মাতুব্বর এসব অভিযোগ নাকচ করে বলেন, সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সবাই বিএনপির কর্মী এবং তারা ধানের শীষে ভোট দিয়েছেন। সিদ্দিকুর রহমান তালুকদারের বক্তব্য বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, একই গোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব থেকেই এ বিরোধের সৃষ্টি।

এদিকে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই স্থানীয় নেতৃত্বের কোন্দল প্রকাশ্যে আসায় সালথার রাজনীতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

ফরিদপুর মেডিকেলে অনিয়ম ও দালাল উৎখাতে জিরো টলারেন্সের নির্দেশ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৪৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুর মেডিকেলে অনিয়ম ও দালাল উৎখাতে জিরো টলারেন্সের নির্দেশ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দালালচক্র উৎখাতে প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

​শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল সাড় ১১টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

​প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, “ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দালালদের মারাত্মক উৎপাত রয়েছে। প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দ্রুততম সময়ে এই দালালচক্র শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে। হাসপাতালে তাদের নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

​তিনি আরও বলেন, “হাসপাতালের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর জানলাম, দীর্ঘ সাত বছর পর আজ ম্যানেজিং কমিটির মিটিং অনুষ্ঠিত হলো। এটি আমাদের জন্য একটি বড় অর্জন। তবে এই মেডিকেলে বরাদ্দের সংকটসহ অনেক সমস্যা রয়ে গেছে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে কেনা অনেক যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে পড়ে আছে, রয়েছে ক্যাথল্যাবের সমস্যা ও স্টোরেজ ঘাটতি। ১ হাজার শয্যার কথা থাকলেও বাস্তবে সেই সুবিধা নেই, অথচ প্রতিদিন দুই থেকে তিন হাজার রোগী সেবা নিতে আসেন। লোকবল সংকটও অনেক প্রকট। আজকের সভায় এসব সমস্যা সমাধানের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে।”

​সভায় অন্যান্যের মধ্যে ব্যবস্থাপনা কমিটির সহ-সভাপতি ও ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ বক্তব্য রাখেন।

​এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মিন্টু বিশ্বাস, ফরিদপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমীর হোসেন, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক মানস কুমার কুন্ডু, সহকারী পরিচালক মো. ওমর ফয়সাল এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আসিফ উল আলমসহ হাসপাতালের অন্যান্য চিকিৎসকবৃন্দ।

ফরিদপুরের সালথায় ডোবায় ডুবে শিশুর মৃত্যু

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৪২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের সালথায় ডোবায় ডুবে শিশুর মৃত্যু

ফরিদপুরের সালথায় ডোবায় ডুবে সিফাত (৮) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

​শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ইউসুবদিয়া উত্তরপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

​নিহত সিফাত ঢাকার মোহাম্মদপুর থানার শংকর এলাকার ইমরানের ছেলে। গত ২৩ আগস্ট ফুফু ও দাদির সঙ্গে সালথার ইউসুবদিয়া উত্তরপাড়ায় ফুফার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল সে।

​স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে অন্য শিশুদের সঙ্গে বাড়ির পাশে খেলাধুলা করতে যায় সিফাত। একপর্যায়ে তাকে দেখতে না পেয়ে স্বজন ও স্থানীয়রা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে ইউসুবদিয়া উত্তরপাড়ার নুরুল ইসলাম ফুরান মাতুব্বরের বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় সালথা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

​বিষয়টি নিশ্চিত করে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

ফরিদপুরে পর্যাপ্ত সারের মজুত আছে, কৃত্রিম সংকট করলে ব্যবস্থা: কৃষিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে পর্যাপ্ত সারের মজুত আছে, কৃত্রিম সংকট করলে ব্যবস্থা: কৃষিমন্ত্রী

দেশে সারের কোনো সংকট নেই উল্লেখ করে কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, ‘কিছু দুষ্কৃতিকারী সংকট তৈরি করছে। পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরও কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করলে তা সহ্য করা হবে না।’

​শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

​কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সময়মতো সার ও কৃষি উপকরণ বিতরণ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। আগামী দিনে কৃষি পণ্য আমদানি নয়, বরং দেশ থেকে কৃষি পণ্য রপ্তানি করা হবে।’

​ফরিদপুরের মৎস্য ও কৃষি সম্ভাবনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘ফরিদপুর জেলায় দেশীয় মাছ উৎপাদনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পরিকল্পিত ও সঠিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করতে হবে। এছাড়া এ অঞ্চলের মাটির বৈশিষ্ট্য অত্যন্ত ভালো হওয়ায় অন্যান্য অনেক এলাকার তুলনায় চাষাবাদে সার কম লাগে। মাটি ও আবহাওয়ার কারণেই এ এলাকায় পেঁয়াজ ও পাটের ফলন অনেক ভালো হয়।’

​জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কর্মসূচি শেষে মন্ত্রী ফরিদপুর সদর উপজেলা মিলনায়তনে স্থানীয় পেঁয়াজ ও পাট চাষীদের সঙ্গে পৃথক এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। পৃথক এসব সভায় জেলার কৃষি ও মৎস্য খাতের সার্বিক উন্নয়ন, সম্ভাবনা এবং কৃষকদের নানা সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

​জেলা প্রশাসক মো. মাজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে এসব মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ, শহিদুল ইসলাম বাবুল ও মো. ইলিয়াস আলী মোল্লা।

​অন্যদের মধ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আফজাল হোসেন খান পলাশ ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।