সালথায় সরকারি হালট দখল করে ওয়াল্টন শোরুম, উদ্বোধন করলেন চিত্রনায়ক আমিন খান!
ফরিদপুরের সালথা উপজেলার সালথা সদর বাজারে ওয়াল্টন কোম্পানির তামিম ইলেকট্রনিক্স নামের একটি নতুন শোরুম উদ্বোধন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে প্রধান অতিথি হিসেবে ফিতা কেটে শোরুমটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ও ওয়াল্টন কোম্পানির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর আমিন খান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- সালথা উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. আসাদ মাতুব্বর, সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি শাহিন মাতুব্বর, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, ব্যবসায়ী, ওয়াল্টন কোম্পানির কর্মকর্তাসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ। শোরুমটির মালিক হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয় মো. সাহেব মাতুব্বর ওরফে সাহেব আলীকে, যিনি সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মো. শাহিন মাতুব্বরের ভাই।
উদ্বোধনের পরপরই শোরুমটি নিয়ে এলাকায় বিতর্ক শুরু হয়। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি হালট দখল করে শোরুমটি নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, শোরুমের জায়গাটি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি হালট হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে শোরুমটির মালিক প্রভাবশালী বিএনপি নেতার ভাই হওয়ায় কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার সাহস পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, “এই জায়গাটা সরকারি হালট হিসেবেই আমরা জানি। হঠাৎ করেই সেখানে বড় শোরুম উঠেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার।”
এদিকে, শোরুম মালিক সাহেব আলীর বিরুদ্ধে আরেকটি গুরুতর অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয় উপজেলা পরিষদের সাবেক জনপ্রতিনিধি এক নারী অভিযোগ করে বলেন, “আমার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে সাহেব আলী বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকা নিয়েছেন। টাকা ফেরত চাইলে তিনি রাজনৈতিক প্রভাবের ভয় দেখান। আমি এখন সম্পূর্ণ নিরুপায়।”
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাহেব আলী। তিনি বলেন, “আমার শোরুমটি সরকারি হালটের ওপর নির্মিত—এই অভিযোগ পুরোপুরি সত্য নয়। শোরুমের পাশে একটি সরকারি হালট রয়েছে, যা ফাঁকা রাখা হয়েছে। আগের ইউএনও স্যার এসে জায়গা মেপে দেখেছেন। এখানে কোনো সরকারি জায়গা দখল করা হয়নি।”
নারীদের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রোপাগান্ডা। আমি আঠারো বছর ধরে ব্যবসা করি। তাই অনেকেই ঈর্ষান্বিত হয়ে আমাকে ছোট করার জন্য অভিযোগ করতে পারে।”
সরকারি হালট দখলের অভিযোগের বিষয়ে জানতে সালথা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মামুন সরকারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “ওই প্রোগ্রামের জন্য উপজেলা প্রশাসনের কাছে অনুমতির আবেদন করা হয়েছিল বলে শুনেছি। সম্ভবত জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনো অনুমোদন দেইনি।”
তিনি আরও বলেন, “সরকারি হালট দখল করা হয়েছে কি-না, তা আমি নিশ্চিত নই, কারণ আমি নতুন এসেছি। তবে বিষয়টি জানার পর তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চিত্রনায়ক আমিন খান উপস্থিত থাকলেও অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। তবে এ ঘটনাকে ঘিরে সালথা সদর বাজারে এখন আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে।

আপনার মতামত লিখুন
Array