ফরিদপুরে ছিনতাই হওয়া প্রাইভেটকারসহ তিনজন গ্রেপ্তার
ফরিদপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (০৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ফরিদপুর শহরের প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সংগঠনটির নেতাকর্মীরা সাধারণ মানুষের মাঝে লিফলেট বিতরণ করেন। এ সময় তারা ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আন্দোলনের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও দাবিসমূহ সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করেন।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ফরিদপুর জেলা শাখার মুখপাত্র কাজী জেবা তাহসিন, সংগঠক মো. সোহেল, সহ-মুখপাত্র ফারহান সাদিক নুর, মারুফ আলবিন, ইসরাত জাহান রেখা, ওয়ালিউল ইসলাম রিজভী, ফাতিহা শেফা, শাহরিয়ার মাহিন, সারোয়ার আবরার শয়নসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মীরা।
নেতৃবৃন্দ বলেন, বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং গণমানুষের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ ধরনের প্রচারণামূলক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে সর্বস্তরের জনগণকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান তারা।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জনমত গঠনের মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
ফরিদপুর শহরের আলিপুর এলাকায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ মাদকসহ এক যুবককে আটক করা হয়েছে। আটক যুবকের নাম শুভ মোল্লা (৩০)। অভিযানে তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন, গুলি, খালি কার্তুজ এবং ৫৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
রবিবার (০৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে এ অভিযান পরিচালিত হয়। সেনাবাহিনীর ফরিদপুর ক্যাম্পের নেতৃত্বে ১৫ রিভারাইন ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নের একটি দল এবং কোতয়ালি থানা পুলিশের সদস্যরা যৌথভাবে অভিযানটি পরিচালনা করেন।
সেনা সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার বিকেলে তারা জানতে পারেন যে ফরিদপুর শহরের আলিপুর এলাকায় এক মাদক ব্যবসায়ী অস্ত্রসহ অবস্থান করছে। তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের পর দ্রুত অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নির্দিষ্ট স্থানে অভিযান চালিয়ে শুভ মোল্লাকে আটক করা হয়। পরে তার দেহ তল্লাশি করে একটি ৭.৬৫ এমএম পিস্তল, একটি পিস্তল ম্যাগাজিন, দুটি ৭.৬৫ এমএম পিস্তলের গুলি, একটি খালি কার্তুজ এবং ৫৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে সেনা সূত্র জানিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, উদ্ধারকৃত অস্ত্রটি মাদক কারবার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল। অভিযানের সময় এলাকায় অতিরিক্ত সেনা ও পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
অভিযান শেষে আটক আসামি, উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য কোতয়ালি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
সেনা সূত্র আরও জানায়, বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনী জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
অপরাধ দমনে সাধারণ জনগণের সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে সেনাবাহিনী সকল নাগরিককে তাদের এলাকার সন্দেহজনক কার্যকলাপ সম্পর্কে নিকটস্থ সেনা ক্যাম্প বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের যৌথ অভিযান ফরিদপুরসহ সারা দেশে অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে বাধার মুখে পড়া ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন এক সাংবাদিক।
রবিবার (০৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সালথার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ অভিযোগ করেন সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম।
অভিযোগকারী সাইফুল ইসলাম দৈনিক সমকাল পত্রিকার সালথা উপজেলা প্রতিনিধি এবং সালথা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক। লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, রবিবার (০৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে সালথার আটঘর ইউনিয়নের বিভাগদী গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে করে বের হন। পথে রামকান্তপুর ইউনিয়নের রামকান্তপুর সাকিনের দাসের বাড়ি মোড় এলাকায় পৌঁছালে অজ্ঞাতনামা ৫–৬ জন ব্যক্তি তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে।
অভিযোগে বলা হয়, ওই ব্যক্তিরা তাকে ঘিরে ধরে নানা ধরনের হুমকি দেয় এবং প্রশ্ন তোলে—“তুই শুধু শামা ওবায়েদের নিউজ করিস কেন?” এ সময় তিনি জানান, সাংবাদিক হিসেবে সালথা উপজেলায় ঘটে যাওয়া সব বিষয়েই তিনি সংবাদ করেন। তখন অভিযুক্তরা পাল্টা হুমকি দিয়ে বলে, “কাল রাতে তোর গ্রামে ধলা হুজুরের মিটিং হচ্ছে, সেই নিউজ করিস নাই কেন?”
সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম তাদের জানান, তিনি ওই মিটিং সম্পর্কে অবগত ছিলেন না এবং সেখানে কোনো প্রার্থী বা সমর্থকের পক্ষ থেকে তাকে দাওয়াতও দেওয়া হয়নি। এরপর অভিযুক্তরা অভিযোগ তোলে যে, ফরিদপুর-২ আসনের রিকশা মার্কার প্রার্থী মাওলানা আকরাম আলী ওরফে ধলা হুজুরের পক্ষে বিএনপির প্রার্থী শামা ওবায়েদের সমর্থকরা বিভিন্ন স্থানে হামলা চালাচ্ছে—সে বিষয়ে সংবাদ না করার কারণ জানতে চায়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে ওই ব্যক্তিরা তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে এবং ১২ তারিখের পর “গাড়িচাপা দিয়ে সাংবাদিকতা শেখানো হবে” বলে ভয়ভীতি দেখায়। এতে তিনি গুরুতর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম বলেন, “আমি একজন পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে নিরপেক্ষভাবে সংবাদ সংগ্রহ করি। কিন্তু সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে যদি এভাবে হুমকি ও বাধার মুখে পড়তে হয়, তাহলে তা শুধু আমার জন্য নয়, পুরো সাংবাদিক সমাজের জন্য উদ্বেগজনক।”
এ বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে বলেন, “এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠানো হবে।”
ঘটনার পর স্থানীয় সাংবাদিক মহলে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন
Array