খুঁজুন
সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৬ মাঘ, ১৪৩২

ফরিদপুরে এম-ট্যাবের আঞ্চলিক কমিটির অনুমোদন

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৫, ১:৩৩ পিএম
ফরিদপুরে এম-ট্যাবের আঞ্চলিক কমিটির অনুমোদন

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র অন্যতম পেশাজীবি সংগঠন এম-ট্যাব (মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ) এর ফরিদপুর আঞ্চলিক শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করা হয়েছে।

এম-ট্যাবের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি এ কে এম মুসা লিটন ও মহাসচিব বিপ্লবুজ্জামান বিপ্লব বৃহস্পতিবার (০৬ নভেম্বর) ফরিদপুর, রাজবাড়ি, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, গোপালগঞ্জ জেলা নিয়ে এ আঞ্চলিক কমিটির অনুমোদন দেন।

এতে মোহাম্মদ আকতার হোসেনকে সভাপতি ও আব্দুল হাফিজকে সাধারণ সম্পাদক করে ৩৭ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করা হয়।

এতে বিএমএ ও ড্যাবের জেলা সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান শামীমকে প্রধান করে ৬ জনকে উপদেষ্টা করা হয়েছে। উপদেষ্টাদের অন্যান্যরা হলেন, অধ্যাপক ডা. মোঃ রফিকুল ইসলাম, ডা. তানসিভ জুবায়ের (নাদিম), মো. আক্তারুজ্জামান খান, মো. মোফাজ্জেল হোসেন, মো. ওবায়দুল্লাহ।

কমিটির অন্যান্যরা হলেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি- মো. নুরুল আলম রাসেল, সহ-সভাপতি- মোহাম্মদ আলী, মোঃ ইমরান আলী, বুলবুল হুসাইন, উত্তম কুমার মজুমদার, সঞ্জিত বালা, মোঃ ওমর আলী মনির, মোঃ উজ্জল হোসাইন, আব্দুল হাফিজ ও আবুল হোসাইন রামিম, সহ- সাধারণ সম্পাদক- মোঃ মাহবুব হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক- ইমাম হোসেন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক- মোঃ নাহিদুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক- মোঃ জাহাঙ্গীর আলম তামিম, সহ-প্রচার সম্পাদক- মোঃ আল হাসিব রাব্বি, দপ্তর সম্পাদক- মোঃ শাহিদুল ইসলাম, সহ-দপ্তর সম্পাদক- হাসান মাহমুদ, অর্থ সম্পাদক- মোঃ আসাদুল ইসলাম শান্ত, সহ-অর্থ সম্পাদক- মোঃ মনিরুজ্জামান, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক- মোঃ ওহাব আলী, সমাজকল্যাণ সম্পাদক- ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক- সঞ্জয় মন্ডল, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক- রাইয়ানুর রহমান, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক- মাহমুদা হক, সহ-মহিলা বিষয়ক সম্পাদক- ইতি আক্তার, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক- সৌরভ মল্লিক, সহ-তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক- মোঃ মেহেদী হাসান, শিক্ষা ও ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক- মোঃ হাসান রাসেল, সহ-শিক্ষা ও ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক- বায়েজীদ বোস্তামী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক- মোঃ মুনিবুর রহমান, সহ-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক- মোঃ গোলাম রাব্বী, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক- মোঃ আকাশ কুমার প্রামানিক, সহ-ক্রীডা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক- মোঃ ওয়াসিম শেখ, কার্যকারী সদস্য- মোঃ আনিস শেখ, পারুল আক্তারী, মোঃ জিহাদুল ইসলাম, মোঃ ইমরান নাজির।

বোয়ালমারীতে রহস্যজনকভাবে পড়ে থাকা ৪০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার, তদন্তে নেমেছে যৌথবাহিনী

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৩৮ এএম
বোয়ালমারীতে রহস্যজনকভাবে পড়ে থাকা ৪০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার, তদন্তে নেমেছে যৌথবাহিনী

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার কালিয়ান্দো এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় ৭.৬২ মি.মি. ক্যালিবারের ৪০ রাউন্ড অ্যামোনিশন উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ।

রবিবার (০৮ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে যৌথ অভিযানের মাধ্যমে এসব গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।

সেনা সূত্রে জানা যায়, রবিবার রাত ১০টার দিকে একজন বেসামরিক ব্যক্তি স্থানীয় পুলিশকে ফোন করে জানান, বোয়ালমারী উপজেলার কালিয়ান্দো এলাকার একটি দোকানের সামনে সন্দেহজনকভাবে পড়ে থাকা ৭.৬২×৩৯ মি.মি. ক্যালিবারের গুলির দুটি প্যাকেট দেখতে পেয়েছেন। প্রতিটি প্যাকেটে ২০ রাউন্ড করে মোট ৪০ রাউন্ড গুলি ছিল। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে বোয়ালমারী আর্মি ক্যাম্প স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতায় দ্রুত একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযান চলাকালে দোকানের সামনের স্থান থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় গুলির দুটি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত গোলাবারুদগুলো নিরাপদে জব্দ করে সেনাবাহিনীর হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এলাকাটি ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে যাতে আতঙ্ক ছড়াতে না পারে, সে বিষয়েও সতর্কতা অবলম্বন করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, উদ্ধার হওয়া এসব অ্যামোনিশন সামরিক বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যবহৃত মানের হওয়ায় বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, এগুলো ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কোনো একটি পুলিশ স্টেশন থেকে হারানো অথবা লুট হওয়া গোলাবারুদের অংশ হতে পারে। তবে নিশ্চিত হতে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।

এ ঘটনায় এখনো কাউকে আটক করা হয়নি। কীভাবে এবং কারা এই গোলাবারুদ সেখানে ফেলে গেল—তা উদঘাটনে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো সন্দেহজনক বস্তু বা কার্যকলাপ চোখে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ বা নিকটস্থ সেনা ক্যাম্পকে জানাতে সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

ভোটের পর কী ঘটে? যে গোপন প্রক্রিয়ায় তৈরি করা হয় ফলাফল?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:০৬ এএম
ভোটের পর কী ঘটে? যে গোপন প্রক্রিয়ায় তৈরি করা হয় ফলাফল?

বাংলাদেশে ১২ই ফেব্রুয়ারি একই দিনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের গণভোট। এবারে একই সঙ্গে দুটি ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় নির্বাচনের ফলাফলে দেরি হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে সরকার ও নির্বাচন কমিশন।

বাংলাদেশে নির্বাচন সাধারণত সকাল আটটা থেকে শুরু হয়ে একটানা চলে বিকেল চারটা পর্যন্ত। এবার একই দিনে গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভোটের সময় একঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে।

১২ই ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায় ভোট শুরু হয়ে চলবে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত।

নির্বাচন কমিশন বলছে, দুটি ব্যালটে ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় এবারের নির্বাচনে ফলাফল তৈরিতেও সময় বেশি লাগবে।

অন্যদিকে, এবার প্রথমবারের মতো প্রবাসী ভোটার ও দেশের সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারীরা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার কারণে সেই ব্যালটও গণনা করতে হবে ইসিকে।

তিনশো সংসদীয় আসনের সাধারণ নির্বাচন, পোস্টাল ব্যালট ও গণভোট ফলাফল আলাদাভাবে গণনা করে তা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন।

বর্তমানে অনেকেই প্রশ্ন করছেন, ভোটের রেজাল্ট পরিবর্তন করে আরেকজনকে বিজয়ী ঘোষণা করার সুযোগ আছে কি না অথবা রেজাল্টে কারচুপির সুযোগ আছে কি না?

জবাবে নির্বাচন কমিশনের সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলী বিবিসি বাংলাকে বলেন, “নির্বাচনের ফলাফল কয়েকটি ধাপে প্রস্তুত করতে হয়। প্রতিটি কেন্দ্রের প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টদের সামনে ফলাফল গণনা ও ঘোষণা করা হয়। কন্ট্রোল রুমেও আলাদাভাবে ঘোষণা করা হয় প্রার্থীদের এজেন্টদের সামনে”।

নির্বাচন কমিশনের আইন অনুযায়ী, ভোটকেন্দ্র ও ফলাফল ঘোষণা কেন্দ্রে প্রার্থীদের এজেন্ট উপস্থিত থাকলে কারচুপি বা রেজাল্ট পরিবর্তন কেউ করতে চাইলেও সম্ভব হবে না। তবে অতীতে অনেক সময় বিরোধী এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে কারচুপির অভিযোগ উঠেছে।

একটি নির্বাচনের ফলাফল গণনা, কেন্দ্রভিত্তিক রেজাল্ট প্রস্তুতি কিংবা তা ঘোষণা করা হয় তা তুলে ধরা হলো ফরিদপুর প্রতিদিনের পাঠকদের জন্য।

ভোট শেষে যেভাবে গণনা শুরু

একই দিনে গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় এবারের নির্বাচনে ভোটগ্রহণের সময় একঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। সে অনুযায়ী ভোট শেষ হবে বিকেল সাড়ে চারটায়।

সাড়ে চারটার পরও যদি কোন কেন্দ্রের ভেতরে ভোটার থাকে, তাহলে সেই কেন্দ্রে ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে।

ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর প্রতিটি কক্ষের ব্যালট বাক্সগুলো প্রার্থীদের এজেন্টদের সামনেই লক করেন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং অথবা সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা। প্রার্থীদের এজেন্টদের সামনেই লক করা ওই ভোটের ব্যালট বাক্স ভোটকেন্দ্রের পূর্বনির্ধারিত গণনা কক্ষে নেওয়া হবে।

ভোটগ্রহণের সময় একটি ভোটকেন্দ্রে নারী পুরুষ আলাদা কয়েকটি কক্ষে ভোট অনুষ্ঠিত হলেও ভোট গণনার জন্য একটি কক্ষ নির্দিষ্টভাবে প্রস্তুত করা হয়।

সেই গণনা কক্ষে ওই আসনের প্রতি প্রার্থীর একজন করে পোলিং এজেন্ট উপস্থিত থাকতে পারবে। সেই সাথে সাংবাদিক, পর্যবেক্ষকরাও উপস্থিত থাকতে পারবেন। তাদের সামনেই যে ব্যালট বাক্সগুলোতে ভোট দেওয়া হয়েছে সেগুলো খোলা হবে, তাদের সামনেই বক্স নম্বর ও লক নম্বর মিলিয়ে নেয়া হবে।

এরপর প্রতি কক্ষের ব্যালট বাক্সগুলো একটা একটা করে লক খুলে ব্যালট পেপারগুলো মেঝেতে ঢালা হবে। এরপর পোলিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ভোট গণনা শুরু করবেন।

এরপর সংসদ নির্বাচনের সাদা ব্যালট আর গণভোটের গোলাপি ব্যালট আলাদা করে ফেলবেন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা।

নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র অতিরিক্ত সচিব মতিয়ূর রহমান বলেন, “আলাদা দুই ধরনের ব্যালট বান্ডিল করতে যদি দেখা যায় যে কোনোটি ছেড়া বা সঠিকভাবে সিল দেওয়া হয়নি, সেই ব্যালটগুলো আলাদা করা হবে। এছাড়াও যদি কোনো ব্যালটে সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তার স্বাক্ষর না থাকে, সেগুলোও বাতিল ব্যালট হিসেবে গণ্য হবে”।

এরপর প্রতীক ভিত্তিক আলাদাভাবে টালি করে গণনা করা হবে ব্যালট। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা নির্ভুলভাবে গণনা করা।

একই সময় গণভোটের আলাদা ব্যালটগুলোও হ্যাঁ এবং না- দুই ভাগে আলাদা করে সেগুলো সঠিকভাবে গণনা করবেন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা।

নির্বাচন বিশ্লেষক ও সাবেক ইসি কর্মকর্তা জেসমিন টুলী বলেন, “এবারের নির্বাচনে দুইটি ব্যালট থাকায় গণনা ও ফলাফল ঘোষণায় দেরি হতে পারে বলে বলা হচ্ছে। কিন্তু একই সাথে যদি দুই ধরনের ব্যালট দুইটি টিম করে গণনা করা হয় তাহলে এক্ষেত্রে খুব একটা দেরি হওয়ার সুযোগ নেই”।

কেন্দ্রে ভোট গণনার পর

দুইটি ব্যালট আলাদাভাবে গণনা শেষে নির্বাচন কমিশনের সুনির্দিষ্ট ফরমে কেন্দ্রভিত্তিক রেজাল্ট শিট প্রস্তুত করা হবে।

সংসদ নির্বাচনের জন্য ১৬ নম্বর ফরমের যে রেজাল্ট শিটে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম, ভোটের সংখ্যা, বাতিল ভোটের সংখ্যা, মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা স্পষ্ট করে লিখতে হয়।

নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তা মতিয়ূর রহমান বলেন, “রেজাল্ট শিটে ভোটের সংখ্যা অংকে ও কথায় দুইভাবেই লিখতে হয়। কোনভাবেই শুধুমাত্র অংকে লেখা যাবে না; কোনভাবেই কাঁটাছেড়া করা যাবে না। এতে রেজাল্ট নিয়ে সন্দেহ তৈরি হতে পারে”।

এই রেজাল্ট শিটে মোট ভোট সংখ্যা, বাতিল ভোটের সংখ্যা, বৈধ ভোটের সংখ্যা ও প্রার্থীদের ভোটের সংখ্যা সব কিছুর মোট প্রদত্ত ভোটের সাথে মিল থাকতে হবে।

এই রেজাল্ট শিট প্রস্তুত হওয়ার পর তাতে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও পোলিং এজেন্টরা স্বাক্ষর করবেন। এরপর চূড়ান্ত ফলাফলের সাতটি সেট প্রস্তুত করতে হয়।

সেখান থেকে একটি কপি ভোটকেন্দ্রের নোটিশ বোর্ড কিংবা কেন্দ্রের উন্মুক্ত স্থানে টানিয়ে দিবেন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা।

বাকি সেটগুলোর মধ্যে দুইটি সেট কেন্দ্রের ব্যালট ও নির্বাচনী সরঞ্জাম যে বস্তায় রাখা হয়, সেই বস্তার মধ্যে দুইটি কপি রেখে বস্তাটি সিলগালা করা হবে। দুইটি কপি প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হাতে করে নিয়ে যাবেন সংশ্লিষ্ট আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তার (জেলা প্রশাসক/বিভাগীয় কমিশনার/আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা) কাছে।

কেন্দ্রের রেজাল্টের আরেকটি কপি প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নিজের কাছে রাখবেন, আরেকটি সেট তিনি নির্দিষ্ট খামে পাঠিয়ে দেবেন নির্বাচন কমিশনে।

এর বাইরেও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর এজেন্ট, সাংবাদিক কিংবা পর্যবেক্ষকদের কেউ যদি কেন্দ্রের ফলাফলের কপি চান, সেটি তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়ে থাকে।

এভাবে বিভিন্ন কেন্দ্রের ফলাফল সংগ্রহ করে নির্বাচনী অংশগ্রহণকারী প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণার আগেই জয়-পরাজয় সম্পর্কে একটা ধারণা পেয়ে থাকেন।

এই কার্যক্রম শেষে সরাসরি কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও অন্তত দুইজন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও পুলিশ ও আনসারের নিরাপত্তায় সংশ্লিষ্ট আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়/নির্বাচনী কন্ট্রোল রুমে চলে যাবেন।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার (উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা/উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা) কার্যালয়ে ফলাফলের কপি এবং গণনাকৃত ব্যালট জমা দিবেন। এই রেজাল্ট পাওয়ার পর সেটি সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের কন্ট্রোল রুম থেকে কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল প্রার্থীর এজেন্টদের উপস্থিতিতে মাইকে ঘোষণা করবেন।

কোনো কেন্দ্রের ফলাফল মাইকে ঘোষণার আগে পর্যন্ত সেখানে ওই কেন্দ্রে থাকতে হবে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে।

একইভাবে গণনা করে আসনভিত্তিক চূড়ান্ত ফলাফল প্রস্তুত করা হবে।

চূড়ান্ত ফলাফল রিটার্নিং কর্মকর্তা ফলাফল ঘোষণা কেন্দ্র থেকে ঘোষণা করবেন। সেখানে প্রার্থীদের এজেন্ট কিংবা প্রার্থীরাও উপস্থিত থাকতে পারবেন।

যদি গণনা বা রেজাল্ট নিয়ে কোন প্রার্থীর আপত্তি থাকে তাহলে তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে পুনঃগণনার আবেদন করতে পারেন। যদি কমিশন অনুমতি দেয় তাহলেই কেবলমাত্র পুনঃগণনা করা হতে পারে।

এছাড়া যদি কোনো প্রার্থীর এই ফলাফল নিয়ে আপত্তি থাকে, তাহলে ভোট শেষ হওয়ার পরেই নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে এ নিয়ে মামলা করতে পারবেন।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

ফরিদপুর-২: ভোটের মঞ্চে অঝোর কান্না—বাবার স্মৃতিতে ভেঙে পড়লেন শামা ওবায়েদ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৪৬ এএম
ফরিদপুর-২: ভোটের মঞ্চে অঝোর কান্না—বাবার স্মৃতিতে ভেঙে পড়লেন শামা ওবায়েদ

ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা–সালথা) নির্বাচনী এলাকার নগরকান্দায় এক আবেগঘন জনসভায় বিএনপির সাবেক মহাসচিব প্রয়াত কে এম ওবায়দুর রহমানের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু। ভোট চাওয়ার মুহূর্তে তাঁর চোখের জল ছুঁয়ে যায় হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থকের হৃদয়।

রবিবার (০৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলা সদরের মাহেন্দ্র নারায়ণ একাডেমী (এমএন একাডেমী) মাঠে উপজেলা ও পৌর বিএনপির আয়োজনে এ নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। বিকাল ৪ টার আগেই মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। নেতাকর্মীদের স্লোগান ও উপস্থিত জনতার ভিড়ে পুরো এলাকা উৎসবমুখর পরিবেশে রূপ নেয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শামা ওবায়েদ বলেন, “আমার বাবা কে এম ওবায়দুর রহমান এই অঞ্চলের মানুষের জন্য আজীবন কাজ করেছেন। দল-মত, ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি নগরকান্দা-সালথার মানুষকে আগলে রেখেছিলেন। এই এলাকার মানুষ তাঁকে তাদের সর্বোচ্চ ভালোবাসা দিয়ে সম্মান করেছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমি যদি আপনাদের ভোটে এমপি নির্বাচিত হতে পারি, তাহলে বাবার আদর্শ বুকে ধারণ করে সবার সঙ্গে নিয়ে চলতে চাই। দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলবো।”

বিএনপির সম্ভাব্য রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সরাসরি সরকারি সেবা পাবেন। কোনো দুর্নীতিবাজ যেন আপনাদের প্রাপ্য অধিকার কেড়ে নিতে না পারে, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।”

নিজের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে শামা ওবায়েদ বলেন, “আমি নগরকান্দাকে দুর্নীতিমুক্ত নগরকান্দা, দুর্নীতিমুক্ত পৌরসভা এবং চাঁদাবাজমুক্ত এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। আমরা সবাই মিলে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়বো।”

নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “রাত ১২টার পর যারা গ্রামে ঢোকে, তারা ভালো উদ্দেশ্যে আসে না। আপনারা নিজ নিজ গ্রাম ও ঘর পাহাড়া দেবেন। আমি আপনাদেরই একজন বোন। যদি আমি বিজয়ী হই, আমি একা সংসদে যাব না—আপনারাও আমার সঙ্গে সংসদে যাবেন।”

বক্তব্যের একপর্যায়ে বাবার স্মৃতি স্মরণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলেন শামা ওবায়েদ। এ সময় মাঠজুড়ে নেমে আসে নীরবতা, অনেকের চোখেও জল দেখা যায়।

জনসভায় উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বাবুল তালুকদারের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন- জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোদাররেছ আলী ইছা, যুগ্ম-আহ্বায়ক জুলফিকার হোসেন জুয়েল, যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রবিউল ইসলাম রবি এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত শরীফ।

জনসভা শেষে নেতাকর্মীরা বলেন, শামা ওবায়েদের এই আবেগঘন বক্তব্য নির্বাচনী মাঠে নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে বলে ধারণা করছে সংশ্লিষ্টরা।