খুঁজুন
, ,

ভোটের পর কী ঘটে? যে গোপন প্রক্রিয়ায় তৈরি করা হয় ফলাফল?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:০৬ পূর্বাহ্ণ
ভোটের পর কী ঘটে? যে গোপন প্রক্রিয়ায় তৈরি করা হয় ফলাফল?

বাংলাদেশে ১২ই ফেব্রুয়ারি একই দিনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের গণভোট। এবারে একই সঙ্গে দুটি ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় নির্বাচনের ফলাফলে দেরি হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে সরকার ও নির্বাচন কমিশন।

বাংলাদেশে নির্বাচন সাধারণত সকাল আটটা থেকে শুরু হয়ে একটানা চলে বিকেল চারটা পর্যন্ত। এবার একই দিনে গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভোটের সময় একঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে।

১২ই ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায় ভোট শুরু হয়ে চলবে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত।

নির্বাচন কমিশন বলছে, দুটি ব্যালটে ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় এবারের নির্বাচনে ফলাফল তৈরিতেও সময় বেশি লাগবে।

অন্যদিকে, এবার প্রথমবারের মতো প্রবাসী ভোটার ও দেশের সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারীরা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার কারণে সেই ব্যালটও গণনা করতে হবে ইসিকে।

তিনশো সংসদীয় আসনের সাধারণ নির্বাচন, পোস্টাল ব্যালট ও গণভোট ফলাফল আলাদাভাবে গণনা করে তা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন।

বর্তমানে অনেকেই প্রশ্ন করছেন, ভোটের রেজাল্ট পরিবর্তন করে আরেকজনকে বিজয়ী ঘোষণা করার সুযোগ আছে কি না অথবা রেজাল্টে কারচুপির সুযোগ আছে কি না?

জবাবে নির্বাচন কমিশনের সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলী বিবিসি বাংলাকে বলেন, “নির্বাচনের ফলাফল কয়েকটি ধাপে প্রস্তুত করতে হয়। প্রতিটি কেন্দ্রের প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টদের সামনে ফলাফল গণনা ও ঘোষণা করা হয়। কন্ট্রোল রুমেও আলাদাভাবে ঘোষণা করা হয় প্রার্থীদের এজেন্টদের সামনে”।

নির্বাচন কমিশনের আইন অনুযায়ী, ভোটকেন্দ্র ও ফলাফল ঘোষণা কেন্দ্রে প্রার্থীদের এজেন্ট উপস্থিত থাকলে কারচুপি বা রেজাল্ট পরিবর্তন কেউ করতে চাইলেও সম্ভব হবে না। তবে অতীতে অনেক সময় বিরোধী এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে কারচুপির অভিযোগ উঠেছে।

একটি নির্বাচনের ফলাফল গণনা, কেন্দ্রভিত্তিক রেজাল্ট প্রস্তুতি কিংবা তা ঘোষণা করা হয় তা তুলে ধরা হলো ফরিদপুর প্রতিদিনের পাঠকদের জন্য।

ভোট শেষে যেভাবে গণনা শুরু

একই দিনে গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় এবারের নির্বাচনে ভোটগ্রহণের সময় একঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। সে অনুযায়ী ভোট শেষ হবে বিকেল সাড়ে চারটায়।

সাড়ে চারটার পরও যদি কোন কেন্দ্রের ভেতরে ভোটার থাকে, তাহলে সেই কেন্দ্রে ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে।

ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর প্রতিটি কক্ষের ব্যালট বাক্সগুলো প্রার্থীদের এজেন্টদের সামনেই লক করেন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং অথবা সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা। প্রার্থীদের এজেন্টদের সামনেই লক করা ওই ভোটের ব্যালট বাক্স ভোটকেন্দ্রের পূর্বনির্ধারিত গণনা কক্ষে নেওয়া হবে।

ভোটগ্রহণের সময় একটি ভোটকেন্দ্রে নারী পুরুষ আলাদা কয়েকটি কক্ষে ভোট অনুষ্ঠিত হলেও ভোট গণনার জন্য একটি কক্ষ নির্দিষ্টভাবে প্রস্তুত করা হয়।

সেই গণনা কক্ষে ওই আসনের প্রতি প্রার্থীর একজন করে পোলিং এজেন্ট উপস্থিত থাকতে পারবে। সেই সাথে সাংবাদিক, পর্যবেক্ষকরাও উপস্থিত থাকতে পারবেন। তাদের সামনেই যে ব্যালট বাক্সগুলোতে ভোট দেওয়া হয়েছে সেগুলো খোলা হবে, তাদের সামনেই বক্স নম্বর ও লক নম্বর মিলিয়ে নেয়া হবে।

এরপর প্রতি কক্ষের ব্যালট বাক্সগুলো একটা একটা করে লক খুলে ব্যালট পেপারগুলো মেঝেতে ঢালা হবে। এরপর পোলিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ভোট গণনা শুরু করবেন।

এরপর সংসদ নির্বাচনের সাদা ব্যালট আর গণভোটের গোলাপি ব্যালট আলাদা করে ফেলবেন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা।

নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র অতিরিক্ত সচিব মতিয়ূর রহমান বলেন, “আলাদা দুই ধরনের ব্যালট বান্ডিল করতে যদি দেখা যায় যে কোনোটি ছেড়া বা সঠিকভাবে সিল দেওয়া হয়নি, সেই ব্যালটগুলো আলাদা করা হবে। এছাড়াও যদি কোনো ব্যালটে সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তার স্বাক্ষর না থাকে, সেগুলোও বাতিল ব্যালট হিসেবে গণ্য হবে”।

এরপর প্রতীক ভিত্তিক আলাদাভাবে টালি করে গণনা করা হবে ব্যালট। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা নির্ভুলভাবে গণনা করা।

একই সময় গণভোটের আলাদা ব্যালটগুলোও হ্যাঁ এবং না- দুই ভাগে আলাদা করে সেগুলো সঠিকভাবে গণনা করবেন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা।

নির্বাচন বিশ্লেষক ও সাবেক ইসি কর্মকর্তা জেসমিন টুলী বলেন, “এবারের নির্বাচনে দুইটি ব্যালট থাকায় গণনা ও ফলাফল ঘোষণায় দেরি হতে পারে বলে বলা হচ্ছে। কিন্তু একই সাথে যদি দুই ধরনের ব্যালট দুইটি টিম করে গণনা করা হয় তাহলে এক্ষেত্রে খুব একটা দেরি হওয়ার সুযোগ নেই”।

কেন্দ্রে ভোট গণনার পর

দুইটি ব্যালট আলাদাভাবে গণনা শেষে নির্বাচন কমিশনের সুনির্দিষ্ট ফরমে কেন্দ্রভিত্তিক রেজাল্ট শিট প্রস্তুত করা হবে।

সংসদ নির্বাচনের জন্য ১৬ নম্বর ফরমের যে রেজাল্ট শিটে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম, ভোটের সংখ্যা, বাতিল ভোটের সংখ্যা, মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা স্পষ্ট করে লিখতে হয়।

নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তা মতিয়ূর রহমান বলেন, “রেজাল্ট শিটে ভোটের সংখ্যা অংকে ও কথায় দুইভাবেই লিখতে হয়। কোনভাবেই শুধুমাত্র অংকে লেখা যাবে না; কোনভাবেই কাঁটাছেড়া করা যাবে না। এতে রেজাল্ট নিয়ে সন্দেহ তৈরি হতে পারে”।

এই রেজাল্ট শিটে মোট ভোট সংখ্যা, বাতিল ভোটের সংখ্যা, বৈধ ভোটের সংখ্যা ও প্রার্থীদের ভোটের সংখ্যা সব কিছুর মোট প্রদত্ত ভোটের সাথে মিল থাকতে হবে।

এই রেজাল্ট শিট প্রস্তুত হওয়ার পর তাতে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও পোলিং এজেন্টরা স্বাক্ষর করবেন। এরপর চূড়ান্ত ফলাফলের সাতটি সেট প্রস্তুত করতে হয়।

সেখান থেকে একটি কপি ভোটকেন্দ্রের নোটিশ বোর্ড কিংবা কেন্দ্রের উন্মুক্ত স্থানে টানিয়ে দিবেন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা।

বাকি সেটগুলোর মধ্যে দুইটি সেট কেন্দ্রের ব্যালট ও নির্বাচনী সরঞ্জাম যে বস্তায় রাখা হয়, সেই বস্তার মধ্যে দুইটি কপি রেখে বস্তাটি সিলগালা করা হবে। দুইটি কপি প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হাতে করে নিয়ে যাবেন সংশ্লিষ্ট আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তার (জেলা প্রশাসক/বিভাগীয় কমিশনার/আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা) কাছে।

কেন্দ্রের রেজাল্টের আরেকটি কপি প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নিজের কাছে রাখবেন, আরেকটি সেট তিনি নির্দিষ্ট খামে পাঠিয়ে দেবেন নির্বাচন কমিশনে।

এর বাইরেও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর এজেন্ট, সাংবাদিক কিংবা পর্যবেক্ষকদের কেউ যদি কেন্দ্রের ফলাফলের কপি চান, সেটি তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়ে থাকে।

এভাবে বিভিন্ন কেন্দ্রের ফলাফল সংগ্রহ করে নির্বাচনী অংশগ্রহণকারী প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণার আগেই জয়-পরাজয় সম্পর্কে একটা ধারণা পেয়ে থাকেন।

এই কার্যক্রম শেষে সরাসরি কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও অন্তত দুইজন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও পুলিশ ও আনসারের নিরাপত্তায় সংশ্লিষ্ট আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়/নির্বাচনী কন্ট্রোল রুমে চলে যাবেন।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার (উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা/উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা) কার্যালয়ে ফলাফলের কপি এবং গণনাকৃত ব্যালট জমা দিবেন। এই রেজাল্ট পাওয়ার পর সেটি সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের কন্ট্রোল রুম থেকে কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল প্রার্থীর এজেন্টদের উপস্থিতিতে মাইকে ঘোষণা করবেন।

কোনো কেন্দ্রের ফলাফল মাইকে ঘোষণার আগে পর্যন্ত সেখানে ওই কেন্দ্রে থাকতে হবে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে।

একইভাবে গণনা করে আসনভিত্তিক চূড়ান্ত ফলাফল প্রস্তুত করা হবে।

চূড়ান্ত ফলাফল রিটার্নিং কর্মকর্তা ফলাফল ঘোষণা কেন্দ্র থেকে ঘোষণা করবেন। সেখানে প্রার্থীদের এজেন্ট কিংবা প্রার্থীরাও উপস্থিত থাকতে পারবেন।

যদি গণনা বা রেজাল্ট নিয়ে কোন প্রার্থীর আপত্তি থাকে তাহলে তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে পুনঃগণনার আবেদন করতে পারেন। যদি কমিশন অনুমতি দেয় তাহলেই কেবলমাত্র পুনঃগণনা করা হতে পারে।

এছাড়া যদি কোনো প্রার্থীর এই ফলাফল নিয়ে আপত্তি থাকে, তাহলে ভোট শেষ হওয়ার পরেই নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে এ নিয়ে মামলা করতে পারবেন।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

গোপন তথ্য ফাঁস করা কি গুনাহ?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২১ অপরাহ্ণ
গোপন তথ্য ফাঁস করা কি গুনাহ?

মানুষের সম্মান, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মর্যাদা রক্ষা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। অন্যের ব্যক্তিগত বিষয় অনুসন্ধান করা, গোপন দোষ প্রকাশ করা কিংবা একান্তে বলা কথা অনুমতি ছাড়া ছড়িয়ে দেওয়া ইসলামের দৃষ্টিতে নিন্দনীয় কাজ।

এতে শুধু ব্যক্তির সম্মানহানি হয় না, বরং পারিবারিক সম্পর্ক, সামাজিক বন্ধন ও পারস্পরিক বিশ্বাসও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

পবিত্র কোরআন ও হাদিসে মানুষের গোপনীয়তা রক্ষা, অন্যের দোষ অনুসন্ধান থেকে বিরত থাকা এবং গোপন কথা আমানত হিসেবে সংরক্ষণের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এ যুগে ব্যক্তিগত বার্তা, ছবি ও কথোপকথনের স্ক্রিনশট ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা নতুন করে এ শিক্ষার গুরুত্ব সামনে এনেছে।

গোপনীয়তা অনুসন্ধানে কোরআনের নিষেধাজ্ঞা

পবিত্র কোরআনের সূরা আল-হুজুরাতের ১২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা মুমিনদের অন্যের গোপন বিষয় অনুসন্ধান করতে নিষেধ করেছেন।

একই আয়াতে ভিত্তিহীন ধারণা ও পরনিন্দা থেকেও দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা একে অপরের গোপনীয় বিষয় অনুসন্ধান করো না এবং একে অপরের গিবত করো না।

’ (সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত: ১২)

এ নির্দেশনা থেকে স্পষ্ট হয়, অন্যের ব্যক্তিগত বিষয় জানার কৌতূহল মেটাতে তার গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। কারও ভুলত্রুটি খুঁজে বেড়ানো কিংবা তার ব্যক্তিগত দুর্বলতা নিয়ে আলোচনা করাও ইসলামের নৈতিক শিক্ষার পরিপন্থী।

এ ছাড়া সূরা আন-নূরের ১৯ নম্বর আয়াতে মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়া পছন্দ করে, এমন ব্যক্তিদের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির কথা বলা হয়েছে। আয়াতটির শিক্ষা হলো, সমাজে অনৈতিকতা ও অশ্লীলতা ছড়িয়ে দেওয়ার মানসিকতা থেকে বিরত থাকা জরুরি।

অন্যের গোপন দোষ খুঁজলে কঠিন সতর্কবার্তা

অন্যের গোপন বিষয় অনুসন্ধান ও প্রচারের পরিণতি সম্পর্কে হাদিসেও কঠোর সতর্কবার্তা এসেছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা মুসলমানদের গিবত করো না এবং তাদের গোপন দোষ অনুসন্ধান করো না। যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের গোপন দোষ অনুসন্ধান করে, আল্লাহ তার দোষ প্রকাশ করে দেন। আর আল্লাহ যার দোষ প্রকাশ করেন, তাকে তার ঘরের মধ্যেও অপদস্থ করেন।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৮৮০)

এ হাদিসে অন্যের গোপন দোষ খুঁজে বেড়ানো এবং তা প্রকাশ করার পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে। একজন মুমিনের দায়িত্ব হলো অন্যের দুর্বলতা নিয়ে ব্যস্ত না থেকে নিজের চরিত্র ও আমল সংশোধনের দিকে মনোযোগ দেওয়া।

একান্ত কথাও আমানত

ইসলামে আমানতদারিতার পরিধি শুধু অর্থসম্পদ বা মূল্যবান বস্তুতে সীমাবদ্ধ নয়। পরিস্থিতি ও কথার ধরন অনুযায়ী ব্যক্তিগত আলাপ এবং গোপন তথ্যও আমানতের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোনো ব্যক্তি কথা বলার পর চারদিকে তাকালে, তা আমানত।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৮৬৮)

অর্থাৎ, কেউ কোনো কথা গোপন রাখার প্রত্যাশায় বললে তা অনুমতি ছাড়া অন্যের কাছে প্রকাশ করা আমানতের খেয়ানত হতে পারে। বিশেষ করে ব্যক্তিগত সমস্যা, পারিবারিক বিষয় কিংবা আস্থার সম্পর্কের মধ্যে জানা তথ্য প্রকাশের আগে এর সম্ভাব্য পরিণতি বিবেচনা করা জরুরি।

অন্যের দোষ গোপন রাখার প্রতিদান

ইসলাম শুধু অন্যের গোপনীয়তা নষ্ট করতে নিষেধ করেনি; বরং মানুষের দোষত্রুটি গোপন রাখার জন্যও সুসংবাদ দিয়েছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের দোষ গোপন রাখবে, আল্লাহ দুনিয়া ও আখেরাতে তার দোষ গোপন রাখবেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৬৯৯)

এ শিক্ষা মানুষকে অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে উৎসাহিত করে। কেউ ভুল করলে তাকে অপমানিত করার পরিবর্তে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া এবং তার সম্মান রক্ষার চেষ্টা করা উত্তম আচরণ।

তবে কারও অপরাধের কারণে অন্যের জীবন, নিরাপত্তা বা অধিকার হুমকির মুখে পড়লে বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানো ভিন্ন বিষয়। অপরাধ আড়াল করা এবং অকারণে ব্যক্তিগত দোষ ছড়িয়ে বেড়ানো এক নয়।

ডিজিটাল যুগে গোপনীয়তা রক্ষার দায়িত্ব

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত বার্তা, ফোনালাপ, ছবি ও স্ক্রিনশট অনুমতি ছাড়া প্রকাশ করার ঘটনা দেখা যায়। কখনো ব্যক্তিগত বিরোধ, প্রতিশোধ কিংবা কাউকে সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে এসব তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

এ ধরনের কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্মানহানি, পারিবারিক অশান্তি ও মানসিক কষ্ট তৈরি হতে পারে। একবার কোনো তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে পড়লে তা প্রত্যাহার করাও কঠিন হয়ে পড়ে। তাই কোনো ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের আগে তার সত্যতা, প্রয়োজনীয়তা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্মতি এবং সম্ভাব্য ক্ষতি বিবেচনা করা উচিত।

ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, অন্যের সম্মান রক্ষা করা, গোপনীয়তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং জিহ্বা ও আচরণ সংযত রাখা একজন মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ গুণ। নিজের ভুল সংশোধন এবং অন্যকে অপমানের হাত থেকে রক্ষা করার মানসিকতা ব্যক্তিগত জীবনের পাশাপাশি সমাজেও শান্তি ও পারস্পরিক বিশ্বাস প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখে।

মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সালথা গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে যুবদলের বিশাল আনন্দ মিছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩১ অপরাহ্ণ
মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সালথা গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে যুবদলের বিশাল আনন্দ মিছিল

ফরিদপুরের সালথায় মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন উপজেলা যুবদলের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির নেতাকর্মীরা। দীর্ঘ ১৭ বছর পর নতুন কমিটি পাওয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।

​রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে সালথা উপজেলা পরিষদের সামনে থেকে আনন্দ মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সালথা বাজারে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

​সমাবেশে বক্তারা বলেন, সাধারণ জনগণের পাশে থেকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠনে মাঠে থাকবে যুবদল। তরুণ প্রজন্মকে ইতিবাচক ও গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন নেতারা।

​সম্প্রতি ৩৫ সদস্যবিশিষ্ট সালথা উপজেলা যুবদলের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে মো. হাসান আশরাফকে আহ্বায়ক, কামরুল ইসলামকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং মো. এনায়েত হোসেনকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর কমিটি গঠিত হওয়ায় আনন্দ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদার হবে বলে মনে করছেন তাঁরা।

​সালথা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. হাসান আশরাফের সভাপতিত্বে ও সদস্যসচিব মো. এনায়েত হোসেনের পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক মিরান হোসেন, মাহফুজুর রহমান খান, সাফিকুল ইসলাম ও হাবিবুর রহমান হাবিবসহ দলের জেলা ও স্থানীয় নেতারা।

​এ সময় নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসহ বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। আনন্দ মিছিলের আগে নতুন কমিটির নেতাদের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেন আহ্বায়ক মো. হাসান আশরাফ।

​কর্মসূচি শেষে নবগঠিত কমিটির নেতারা বিএনপির সাবেক মহাসচিব কে এম ওবায়দুর রহমানের কবর জিয়ারত ও মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন।

 

ফরিদপুরে আগুনে পুড়ে ছাই ৩ দোকান, ক্ষয়ক্ষতি ৪০ লাখ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে আগুনে পুড়ে ছাই ৩ দোকান, ক্ষয়ক্ষতি ৪০ লাখ টাকা

ফরিদপুরের সালথায় অগ্নিকাণ্ডে তিনটি দোকান পুড়ে ভস্মীভূত হয়েছে। এতে অন্তত ৪০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। তবে ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক হিসাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০ লাখ টাকা।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) বেলা ২টার দিকে উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের বড়দিয়া বাজারে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দোকানগুলো বন্ধ থাকা অবস্থায় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রথমে একটি দোকানের ভেতর থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে স্থানীয়রা বাজারের মসজিদের মাইকে আগুন লাগার খবর প্রচার করেন। পরে স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এর আগেই আগুনে তিনটি দোকানের মালামাল পুড়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর মধ্যে রয়েছে একটি সার ও কীটনাশকের দোকান, একটি হার্ডওয়্যারের দোকান এবং একটি রাইস মিল।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন লাগার খবর পেয়ে তাঁরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সঙ্গে স্থানীয়রা সম্মিলিতভাবে প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে আগুনে দোকানগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

সালথা ফায়ার স্টেশনের সাব-অফিসার মো. আব্দুল জলিল বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে ও জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আগুনে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রায় ৫০ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন।